01/10/2025
বর্তমান স্যোশাল মিডিয়ার প্রভাব ও ছাত্র-ছাত্রীদের অবস্থা;
বর্তমান যুগকে বলা হয় ডিজিটাল যুগ। এর সবচেয়ে শক্তিশালী ও সহজলভ্য হাতিয়ার হলো সোশ্যাল মিডিয়া। ফেসবুক, ইউটিউব, ইনস্টাগ্রাম, টিকটক কিংবা হোয়াটসঅ্যাপ—প্রতিদিনের জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশে পরিণত হয়েছে। ছাত্র-ছাত্রীদের ক্ষেত্রেও এর প্রভাব এখন সবচেয়ে বেশি। এই প্রভাবের কিছু দিক ইতিবাচক হলেও বেশিরভাগ ক্ষেত্রে তা নেতিবাচক চ্যালেঞ্জ তৈরি করছে।
ইতিবাচক প্রভাব;
শিক্ষায় সহায়তা – ইউটিউব লেকচার, অনলাইন ক্লাস, ই-বুক বা নোটস সহজেই পাওয়া যায়। ফলে ছাত্র-ছাত্রীরা ঘরে বসেই নতুন বিষয় শিখতে পারছে।
তথ্যের সহজ প্রাপ্যতা – সোশ্যাল মিডিয়ার মাধ্যমে বিশ্বব্যাপী খবর, গবেষণা ও নতুন আবিষ্কারের তথ্য পাওয়া যায় মুহূর্তের মধ্যে।
সৃজনশীলতার বিকাশ – লেখালেখি, ভিডিও বানানো, ছবি আঁকা, সংগীত বা ছোট ছোট প্রজেক্ট শেয়ার করার মাধ্যমে প্রতিভা প্রকাশের সুযোগ তৈরি হয়েছে।
নেতিবাচক প্রভাব;
সময় নষ্ট হওয়া – পড়াশোনার সময় ছাত্ররা টিকটক, রিল বা গেমে মগ্ন হয়ে ঘন্টার পর ঘন্টা নষ্ট করছে।
মানসিক চাপ ও হতাশা – লাইক, কমেন্ট, ফলোয়ার সংখ্যা নিয়ে অতিরিক্ত চিন্তা অনেককে হতাশ করছে, আত্মবিশ্বাস কমাচ্ছে।
অশ্লীলতা ও বিভ্রান্তি – অনিয়ন্ত্রিত কনটেন্টে সহজেই আসক্ত হয়ে পড়ছে কিশোর-তরুণরা। এতে নৈতিকতা ও মনোভাবের অবনতি ঘটছে।
সামাজিক বিচ্ছিন্নতা – পরিবার বা বন্ধুদের সাথে সময় না কাটিয়ে অনলাইনে বেশি সময় কাটানোয় বাস্তব জীবনের সম্পর্ক দুর্বল হচ্ছে।
করণীয়;
অভিভাবক ও শিক্ষকদের সচেতন থাকতে হবে, যেন ছাত্র-ছাত্রীরা সীমিত ও সঠিকভাবে সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহার করে।
পড়াশোনার পাশাপাশি শখ, খেলাধুলা ও বাস্তব সামাজিক কার্যক্রমে যুক্ত হতে উৎসাহিত করা দরকার।
শিক্ষার্থীদের মনে করিয়ে দিতে হবে যে সোশ্যাল মিডিয়া একটি সহায়ক মাধ্যম, মূল জীবন নয়।
👉 সব মিলিয়ে, সোশ্যাল মিডিয়া ছাত্র-ছাত্রীদের জন্য আশীর্বাদও বটে আবার অভিশাপও বটে। ব্যবহার কতটা নিয়ন্ত্রিত ও ইতিবাচক হবে, তা নির্ভর করে তাদের সচেতনতা ও দিকনির্দেশনার উপর।
এ বিষয়ে সবার সচেতন থাকা অত্যন্ত জরুরি।