17/05/2025
সকাল থেকে থেমে থেমে বৃষ্টি পড়ছে। কাল রাতের ক্লান্তি, টেনশন আর পাশের বাড়ির কুকুরটার ডাকাডাকিতে মন-মেজাজ এমনিতেই ভালো না। তার ওপর চিন্তা, হালকা ভিজে যাওয়া ভুট্টাগুলো যদি নষ্ট হয়ে যায়! তাই আমি আর আব্বু সকাল থেকেই ছোটাছুটি করছি—বৃষ্টি থামলেই দৌড়ে গিয়ে ভুট্টাগুলো রোদে দিচ্ছি, আবার বৃষ্টি নামলেই ঢেকে ফেলছি।
এক সময় শরীর আর মন দুই-ই ক্লান্ত হয়ে গেল। হাল ছেড়ে দিয়ে মাটিতে বসে পড়লাম। তখনও বৃষ্টি নামেনি। বসে থাকতে থাকতে হঠাৎ মনে পড়ল ছেলেবেলার কথা—নানুবাড়ি, খালাবাড়ি, ছুটির দিনের দুষ্টুমি, খেলাধুলা, আনন্দ। আর ছুটির দিন শেষ হওয়ার আগেই দাদি এসে আমাকে নিয়ে যেত।
আজ আর দাদি নেই। দাদির কথা মনে হলেই একের পর এক মিষ্টি স্মৃতি চোখের সামনে ভেসে ওঠে। ছোটবেলা থেকেই একটু রাগী ছিলাম—রাগ করে না খেয়ে স্কুলে চলে গেলে দাদি ভাত নিয়ে স্কুলে চলে আসত। তখন খুব বিরক্ত হতাম। এখন বুঝি ওটাই ছিল তার ভালোবাসা।
নানু, নানি, মামা—সবাই আগ্রহ নিয়ে অপেক্ষা করত কখন আমি যাবো। এখন আর কেউ অপেক্ষা করে না। আমি যেমন ব্যস্ত, তারাও সবাই যার যার জীবনে ব্যস্ত হয়ে গেছে।
ভাবতে ভাবতে হঠাৎ মনে হল, সময়ের সঙ্গে সঙ্গে শুধু আমার নয়, সবারই ব্যস্ততা বেড়ে গেছে। আর এখন, আমার জন্য অপেক্ষা করে আছে শুধু সময় আর... হয়তো মৃত্যুই।