04/05/2026
মাগরিবের ধূসর আলোয় যখন শহরটা একটু একটু করে ম্লান হতে থাকে, ব্যস্ত রাস্তার রিকশাগুলোতে তখন দেখা যায় এক ভিন্ন চিত্র। সম্পর্কের কোনো নাম নেই, নেই কোনো পবিত্র বন্ধনের স্বীকৃতি; অথচ অধিকারের দাবি সেখানে আকাশছোঁয়া।
যেখানে বিয়ের প্রস্তাব নিয়ে গেলে শুরু হয় আভিজাত্য আর ডিগ্রির চুলচেরা বিশ্লেষণ—"ছেলের ক্যারিয়ার কী?"—সেখানেই তথাকথিত প্রেমের নামে অবাধ বিচরণ আজ যেন এক নিঃশব্দ সমাজনীতি।
কী অদ্ভুত আমাদের এই বৈপরীত্য!
পবিত্র বন্ধনে বাঁধার জন্য আমরা খুঁজি প্রতিষ্ঠিত বর আর উচ্চ মোহরানা, কিন্তু পবিত্রতার দেয়াল ভেঙে যখন নৈতিকতা লুটিয়ে পড়ে রাস্তার মোড়ে, তখন আমাদের আভিজাত্য কি একটুও কেঁপে ওঠে না?
মোহরানা লাগে না, দায়বদ্ধতা লাগে না—স্রেফ 'ভালোবাসার' মোড়কে চলছে এক অবাধ ধ্বংসের উৎসব। যে সন্তানকে আমরা আগলে রাখি উচ্চশিক্ষার দোহাই দিয়ে, সেই সন্তান যখন নৈতিকতার বিসর্জন দেয়, তখন কি আমাদের ডিগ্রিগুলো কোনো কাজে আসে?
বিশ্ববিদ্যালয়, কলেজ বা কোনো শিক্ষাঙ্গনে তাকালে মনে হয়—প্রেম বা ছেলেমেয়ের ফ্রি মিক্সিং যেন অতি সাধারণ কোনো দৃশ্য। কিন্তু আক্ষেপের বিষয় হলো, এই শিক্ষাঙ্গন থেকেই তো আমাদের ভবিষ্যৎ গড়ার কথা ছিল, নৈতিকতা অর্জনের কথা ছিল, অথচ সেখান থেকেই আজ চারিত্রিক অবক্ষয়ের বীজ বপন হচ্ছে।
আশেপাশে তাকিয়ে দেখুন—পাপের মিছিল দীর্ঘ হচ্ছে। সমকামিতার মতো বিকৃতি আজ স্বাভাবিক হতে চাইছে। জাহান্নাম হয়তো পরকালের বিষয়, কিন্তু আমাদের চারপাশের এই অবক্ষয়ের বাস্তবতা তার চেয়েও যেন প্রখর হয়ে বিঁধছে।
বিয়েকে আমরা কঠিন করেছি, তাই পাপ আজ সহজ হয়েছে।
সামাজিক প্রথার দোহাই দিয়ে আমরা কি তবে আমাদের প্রজন্মকে এক অন্ধ গহ্বরের দিকে ঠেলে দিচ্ছি?
সময় এসেছে তাকওয়ার পথে ফেরার। আভিজাত্যের চেয়ে চারিত্রিক পবিত্রতাকে বড় করে দেখার। নয়তো এই তথাকথিত আধুনিকতার বাস্তবতা আমাদের জাহান্নামের দিকে ধাবিত করবে।
— আব্দুল কাইয়ুম