08/11/2017
জীবন বদলে দেওয়া বিল গেটস এর মহাগুরুত্বপূর্ণ ৭টি উপদেশ.
১. “সাফল্যের একটি মূল উপাদান হল ধৈর্য্য” – বিল গেটস
সফল হওয়ার মূল লক্ষ হলো , আপনাকে ধৈর্য্যশীল হতে হবে। মাইক্রোসফটের যাত্রা শুরু করেছিলেন পল এলেন ও বিল গেটস একটি নড়বড়ে প্রতিষ্ঠান হিসেবে কিন্তু তাদের চেষ্টা ও পরিশ্রমের দরুন বর্তমানে মাইক্রোসফটের বাজারমূল্য ৫০০০০ কোটি ডলারেরও বেশি।বিল গেটস সম্পর্কে অবিশ্বাস্য কিছু তথ্য শুনলে আপনি অবাক হবেন। সফল হতে হবে আপনাকে অবশ্যই কাজ নিয়ে পরিকল্পনা করতে হবে, তরিগরি করে কোনো কাজ করবেন না। সিদ্ধান্ত নেওয়ার জন্য সময় নিন, ঊপযুক্ত সময়ের জন্য অপেক্ষা করুন।তাহলে সফলতা আসবেই।
একটি প্রবাদ আছে যে, There are no shortcuts to success. তাই পরিকল্পনা না করে তড়িৎগতিতে কোন সিদ্ধান্ত নিবেন না।
২. “পৃথিবীর কারো সাথেই নিজেকে তুলনা করবেন না, যদি তা করেন তাহলে আপনি নিজেই নিজেকেই অপমান করছেন” – বিল গেটস
আপনি যা তার জন্যই গর্বিত হোন। আপনি চাইলেই বিল গেটস হতে পারবেন না কিন্তু আপনার এটা জানা উচিত যে, সব মানুষ এক রকম নয় , সবারই ইউনিক কিছু বৈশিষ্ট্য থাকে যা অন্য কারো থাকে না। নিজের এই ইউনিক বৈশিষ্ট্যটি খুঁজে বের করুন এবং এর উপর আস্থা রাখুন সফল আপনি হবেনই। কখনো অন্যের সাথে নিজেকে তুলনা না করে, নিজের উপর আস্থা রেখে আপনার সাধ্য মতো কাজ করে যান।
ব্যবসা করতে গেলে আত্মবিশ্বাস সবচেয়ে বড় শক্তি, বিল গেটস এই আত্মবিশ্বাসের দ্বারাই হার্ভার্ড ছেড়ে দিয়ে মাইক্রোসফট গড়তে পেরেছিলেন।
৩. “ব্যবসা কয়েকটি নিয়ম ও প্রচুর ঝুঁকির সঙ্গে একটি টাকার খেলা” – বিল গেটস।
ঝুঁকি নেওয়ার জন্য নিজেকে প্রস্তুত করেন। আপনি জুয়া খেলার সময় কখনই নিশ্চিত হতে পারেন না যে, সেটি জিতবেন নাকি হারবেন। অনুরূপভাবে আপনি ব্যবসা শুরু ।রতে গেলেও লাভ লোকশানের ব্যাপারে নিশ্চিত হতে পারবেন না। বিল গেটস যখন মাইক্রোসফট শুরু করেন তখন তিনি টেনশনে থাকতেন এই নিয়ে যে, কর্মীদের মাসিক বেতন দিবেন কীভাবে! সুতরাং বুঝতেই পারছেন উনার ঝুঁকিটা কত বড় মাপের ছিল। পৃথিবীর সবকিছুই অনিশ্চিত, এখনে কিছু পেতে হলে কিছু না কিছু ত্যাগ করতে হবেই। আপনি যদি আপনার চলার পথে উৎসাহ এবং সাহস ধরে রাখতে পারেন তাহলে আপনি সফল হবেনই। কোন কিছুই আপনাকে আটকাতে পারবে না।
৪. “সাফল্য একজন উস্কানি দেওয়া শিক্ষকের মত, যা বুদ্ধিমান লোকদের মাথায় এটি ঢুকায় যে, তারা কখনো ব্যর্থ হবে না” -বিল গেটস
আপনি বিশ্বাস করুন আর না করুন, জীবন হল একটি চাকার মত অর্থাৎ আনপ্রেডিকটেবল। আজ আপনার অবস্থান অনেক উপরে, কাল তলানিতে থাকা অসম্ভব কিছু না। অনেকেই সফলতা পেয়ে নিজেকে আকাশ্চুম্বী মনে করা শুরু করে দেয়। যদি আপনিও তা মনে করেন তাহলে আমি বলব আপনি সফলতার তাৎপর্যই বুঝেন না।
আপনি সফলতার যত উপরেই উঠুন না কেন কোনসময়ই ভুলবেন না আপনি কোথায় ছিলেন। আপনার কর্মীদের সাথে সবসময় ভাল আচরণ করুন এতে তারা আপনার কোম্পানিকে সর্বোচ্চ বেনিফিট দিতে উৎসাহিত হবে। আপনার কোম্পানীকে তারা নিজের মনে করবে।
৫. “ আপনার সবচেয়ে অসন্তুষ্ট কাস্টমাররাই আপনার শেখার সর্বোত্তম উৎস” -বিল গেটস
ব্যবসার শুরুতে আমরা যদি সমলোচনা বা খারাপ প্রতিক্রিয়া পাই তাহলে আমরা উৎসাহ হারিয়ে ফেলি। কিন্তু আপনি যদি অন্তর্দৃষ্টি দিয়ে দেখেন তাহলে বুঝতে পারবেন যে কাস্টমারদের সমলোচনাই আপনার শেখার সর্বোত্তম স্থান। বিজনেস স্ট্রেটেজিতে আপনার ভুল কিংবা অসম্পূর্ণতাগুলো সবচেয়ে ভালোভাবে চিহ্নিত করা যায় কাস্টমারদের কাছ থেকে পাওয়া ফিডফ্যাক হতে। কাস্টমারদের কাছ হতে আসা সমলোচনা এবং খারাপ প্রতিক্রিয়াগুলি ইতিবাচকভাবে নিন এবং এগুলোকে আপনার প্রতিষ্ঠানের উন্নয়নের প্রভাবক হিসেবে ব্যবহার করুন।
৬. “সাফল্যকে উদযাপন করা ভাল ,তবে তার চেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হল ব্যর্থতা থেকে পাওয়া শিক্ষাকে মনে রাখা” -বিল গেটস
আপনি যখন সফল হবেন তখন সবাই আপনাকে সম্মান করবে, গুরুত্ব দিবে, সাহায্য করতে চাইবে। আপনার জীবন আনন্দে ভরপুর থাকবে। কিন্তু যখন ব্যর্থতায় পতিত হবেন তখন দেখবেন কেউ আপনাকে চিনবেই না, চারিদিকে অন্ধকার দেখবেন। তখন আপনি বন্ধু, শুভাকাংখী কিংবা ব্যবসার কৌশল প্রভৃতির আসল রূপটা বুঝতে পারবেন। ব্যর্থতা আপনাকে যে শিক্ষা দিবে তা আর কোথাও হতে পাবেন না। আপনি জীবনে সফলতার যত উপরের অবস্থানেই যান না কেন ব্যর্থতা থেকে পাওয়া শিক্ষাগুলি ভুলবেন না, এই শিক্ষাগুলিই আপনার সফলতার প্রতিটা ধাপ গড়ে তুলতে সহয়তা করবে। আর জীবনে ভুল বা ব্যর্থতা আসবেই, বিল গেটসও প্রথমত Traf O data ব্যবসাতে সফলতার মুখ দেখেননি।
৭. “যদি তুমি নিজের স্বপ্ন গড়তে না পার, তাহলে অন্য কেউ তার স্বপ্ন গড়তে তোমাকে ভাড়া করবে” – বিল গেটস
বিল গেটস অল্প বয়সেই তার কোম্পানির বস হয়েছিলেন, যা তাকে আজকের অবস্থানে নিয়ে এসেছে। আপনি যেই ব্যবসাই শুরু করতে চান না কেন, দেরি না করে আজই নেমে পড়ুন। যত দেরি করবেন আপনার মনোবল ততই কমে যাবে।
সর্বশেষ কথা হল, উদোক্তাদের পথ সবসময়ই বাধা-প্রতিবন্ধকতায় পরিপূর্ণ হয় বিল গেটসও এর ব্যতিক্রম ছিলেন না। কী করলে আপনার ব্যবসা্র প্রসার বাড়বে, লক্ষ্যমাত্রার মুনাফা অর্জিত হবে তা খেয়াল করে ব্যবসায়ের সিদ্ধান্তগুলা একে একে নিতে হবে।ব্যবসার শুরু্র আগে ব্যবসার বিষয়টি নিয়ে প্রচুর স্টাডি করুন।
বিগত বছরের ভুলগুলির কারণ খুঁজে বের করুন এবং সেগুলো যাতে আর না হয় সে অনুযায়ী পদক্ষেপ নিন। আর হ্যাঁ পরিশ্রম, মূলত এর উপরই আপনার ব্যবসার বর্তমান-ভবিষত নির্ভর করবে। বিল গেটস বছরের মাত্র দুইদিন পূর্ণ বিশ্রাম নিতেন তাও আবার সারাদিন বই পড়ে কাটাতেন।