Lazy Busy

Lazy Busy Contact information, map and directions, contact form, opening hours, services, ratings, photos, videos and announcements from Lazy Busy, Digital creator, Rangpur.

17/04/2026
15/03/2026

শহরের এক কোণে ঝাপসা কাঁচের একটা দোকান। সাইনবোর্ডে ধুলো জমা অক্ষরে লেখা— 'বিনিময় কেন্দ্র: হারানো সময় ও বর্তমান'।

ভেতরে ঢুকতেই দেখা গেল মধ্যবয়সী এক লোক। পরনে ইস্ত্রি করা শার্ট, চোখে ক্লান্তির চশমা। সে কাউন্টারের ওপাশে বসা এক বৃদ্ধের দিকে তাকিয়ে খুব নিচু স্বরে বলল, "আমার বড় বেলার কিছু দিন বিক্রি করে, শৈশব এর কয়েকটা দিন কিনতে চাই।"

বৃদ্ধ চশমার ওপর দিয়ে তাকিয়ে হাসলেন। "বড় বেলার দিনগুলোর দাম কিন্তু খুব সস্তা, হে যুবক! বৃদ্ধের কথায় যুবকটি কিছুটা থমকে গেল। সে নিচু স্বরে জিজ্ঞেস করল, "সস্তা কেন? এই দিনগুলো তো অনেক পরিশ্রমের, অনেক লড়াইয়ের।"

বৃদ্ধ একটা বড় খাতা খুলে পালক কলম ডুবিয়ে বললেন, "পরিশ্রম থাকলেই তা মূল্যবান হয় না। তোমার এই বড় বেলার দিনগুলো দুশ্চিন্তা, হিসেব-নিকেশ আর মেকি হাসিতে ঠাসা। এগুলোর বাজারে কোনো চাহিদা নেই। অন্যদিকে, শৈশবের একেকটা দুপুর মানে খাঁটি সোনা। একটা বিকেলের বিনিময়ে তোমাকে হয়তো তোমার যৌবনের পুরো একটা বছর দিয়ে দিতে হবে। রাজি?"

যুবকটি কিছুক্ষণ চুপ করে রইল। তার চোখে ভেসে উঠল ট্রাফিক জ্যাম, ফাইলের স্তূপ আর প্রতি রাতে ঘুমানোর আগে আগামীকালের দুশ্চিন্তা। সে পকেট থেকে মানিব্যাগ নয়, বরং তার বুকের বাম পাশ থেকে কাল্পনিক একটা স্মৃতির ঝাপি বের করল।

"আমি রাজি। আমার আগামী পাঁচ বছরের কর্মব্যস্ত জীবন নিয়ে নিন। বদলে আমাকে শুধু সেই দিনটা ফিরিয়ে দিন, যেদিন প্রথম বৃষ্টির দিনে আমি কদম ফুলের নিচে দাঁড়িয়েছিলাম। কোনো তাড়া ছিল না, শুধু আকাশ দেখার আনন্দ ছিল।"

বৃদ্ধ মুচকি হাসলেন। তিনি কাউন্টারের নিচ থেকে একটা নীল রঙের কাঁচের শিশি বের করলেন। ধুলো মুছে সেটা যুবকের হাতে দিয়ে বললেন, "এই নাও। তবে মনে রেখো, শৈশব কেনা যায়, কিন্তু সেখানে স্থায়ী হওয়া যায় না। এই শিশির ছিপি খুললেই তুমি সেই বৃষ্টিতে পৌঁছে যাবে, কিন্তু সুগন্ধ ফুরিয়ে গেলেই আবার এই ধুলোবালি মাখা শহরে ফিরে আসতে হবে।"

যুবকটি শিশিটা হাতে নিয়ে দোকানের বাইরে পা রাখল। শহরের কোলাহল তখনো তেমনি আছে, কিন্তু তার হাতের মুঠোয় এখন একটা ছোটবেলার বিকেল বন্দি। সে বুঝতে পারল, আমরা আসলে বড় হই কেবল ছোটবেলার সেই সহজ দিনগুলোকে আরও বেশি কদর করতে শেখার জন্য।

28/02/2026

গ্রামের অন্ধকার মেঠো পথ। ঝিঁঝিঁ পোকার একটানা ডাক আর দূর থেকে ভেসে আসা শুকনো পাতার মচমচ শব্দ—সব মিলিয়ে নিমিষেই গা ছমছমে এক পরিবেশ তৈরি করে। ভয়ের শিরশিরানি উপেক্ষা করেই জোর কদমে মন্টুর দোকানের দিকে আগানো। উদ্দেশ্য একটাই: লাল চায়ে গলা ভেজানো আর সাথে সিগারেটে কয়েকটা আয়েশি টান।

সিগারেটের শেষাংশের সেই বিশেষ টানগুলোকে বিশেষজ্ঞরা বলেন ‘সুখটান’। মন্টুর দোকানে ফ্রিতে কিছু না মিললেও এক ডজন ‘সিগারেট বিশেষজ্ঞ’ ঠিকই পাওয়া যায়। মন্টু নিজে কখনো ধূমপান করে না, কিন্তু সিগারেট নিয়ে চুলচেরা বিশ্লেষণে সে এমনভাবে তাল দেয় এক হাতে ধোঁয়া ওঠা চা আর অন্য হাতে সিগারেট নিয়ে দোকানের কোণঘেঁষা এমন একটা জায়গায় বসা, যেখান থেকে সবাইকে স্পষ্ট দেখা যায়। জীবনের যে সময়টুকু নষ্ট হচ্ছে, সেটুকুকে দুহাত ভরে উপভোগ করার এই এক মোক্ষম জায়গা

হাসাহাসি থেকে শুরু করে গল্প একসময় গিয়ে ঠেকে গাম্ভীর্যে। কেউ হয়তো পাশের গ্রামের চুরির খবর দিচ্ছে, তো কেউ দেশের রাজনীতি নিয়ে মন্টুর টিনের চাল কাঁপিয়ে তর্কে মাতছে। এই ছোট দোকানেই যেন আস্ত একটা দুনিয়া এসে ভিড় করে। সিগারেটের নীলচে ধোঁয়ার কুণ্ডলী পাকিয়ে যখন গল্পের আসর জমে ওঠে, তখন সময় কোন দিক দিয়ে পার হয় তা কারো খেয়ালেই থাকে না।

ধীরে ধীরে আড্ডা পাতলা হয়ে আসে। একে একে সবাই উঠতে থাকে। মন্টু তার ছোট রেডিওটা চালু করে খবরের শেষ অংশটুকু শোনার চেষ্টা করে। আমিও চায়ের কাপের শেষ চুমুকটা দিয়ে উঠে দাঁড়াই। শরীর থেকে সিগারেটের কড়া গন্ধ আর মনে একরাশ প্রশান্তি নিয়ে আবার সেই অন্ধকার পথেই পা বাড়াই। আসার সময়ের সেই ভয়টা এখন আর নেই। হয়তো চায়ের ক্যাফেইন আর মন্টুর দোকানের কোলাহল মনের কোণের ভয়টুকুকে একদম মুছে দিয়েছে।

রাত বাড়ে, গ্রামের নিস্তব্ধতা আবার ফিরে আসে। শুধু কানে লেগে থাকে মন্টুর দোকানের সেই হাসি আর চায়ের কাপের টুংটাং শব্দ। এভাবেই নষ্ট হওয়া কিছু সময় আসলে আমাদের বেঁচে থাকার রসদ জুগিয়ে যায়।

04/02/2026

বাহির থেকে দেখে অনুমান করা না গেলেও ভিতরটা একটা রহস্যে ঘেরা। স্বার্থের গল্পটা বরাবর বেশি ভালোবাসি। স্বার্থ বরাবর ভিতরের গল্পটা শুনায়। স্বার্থপরের ভূবন ভুলানি হাসিটা খুব জনপ্রিয় আমার কাছে। সবাই এই হাসি হাসতে পারে না। এই এক হাসিতে কত সর্বনাশ করে ফেলেছে যা জানার কোন উপায় নেই। মন্টুর লাল চায়ের দোকানের টং টা হাসা হাসির জন্য আর্দশ যায়গা। এখানে হাসি শেখানো হয়। অদ্ভুত শোনালেও সত্যি। হাসতে না জানলে সেই আড্ডায় খুব একটা গুরুত পাওয়া যায় না। নতুন মক্কেল আসলে নিজের পয়সা-পাতি খরচ করে হাসির তালিম দেয়া দেয়। একদিন স্বার্থের হাসি শিক্ষবেন। ঠিক ভাবে হাসতে না পারলে আপনি ভাংগারির মত কেন না আপনার হাসিতে মিথ্যা নেই রস কস নাই - এখন খুব জরে হাসার পর চিন্তা করি নিজেই 🤣🤣 হাসিটা স্বার্থের হাসি নয়তো!!!

26/01/2026

- গন্তব্য যখন মাটির নিচেই, তাহলে এতো আকাশ ছোঁয়ার স্বপ্ন কেন?🖤

21/01/2026

পৃথিবীতে আসার আগে উদ্দেশ্য ছিল একটা, গন্তব্য ছিল একটা। পৃথিবীতে আসার পর উদ্দেশ্যটা হয়ে গেছে ব্যক্তিগত। ফেরত যেতে হবে মৃত্যুর স্বাদ গ্রহন করতে হবে জেনেও প্রতিদিনই বেঁচে থাকা মিথ্যা প্রচেষ্টা চালিয়ে যাও।

05/01/2026

নদী যদি হয় রে ভরাট, কানায় কানায়
হয়ে গেলে শূন্য হঠাৎ, তাকে কি মানায়

05/01/2026

শহরে থেকে গ্রামের বাসায় থাকতে গেলে কেমন জানি অদ্ভুদ লাগে এখন। নিজের বাসায় নিজেকে মেহমান মনে হয়। কিছু লোক হ্যা করে থাকায় থাকে হয়তো কোন দিন মানুষ দেখেনি আর না হলে আমার মত কাউকে দেখে নি। গ্রামে সন্ধ্যা আর রাতের মধ্যে পার্থক্য নেই। ৮ টা বাজলেই ঘুমাতে যাইতে হবে। হাজার খুজেও একজন পাওয়া যায় না গল্প করার মত। হঠাৎ মন্টু মামা কারন ছাড়াই একটা চিক্কর দিয়া উঠিয়া বলিল ভাই আপনার একার জন্য আর কতক্ষন দোকান খুলে বসে থাকিব। আবার কাল আসিয়েন। তখন মন্টু মামারে বললাম মামা এই কারন ছাড়াই এমন করে চিল্লাও কেন। তোমার চিল্লানি তে আমি আতকায় উঠেছিলাম। তারপর মামার কাছে বিদায় নিয়ে বাসায় আসে বিচানায় শুয়ে পরলাম। বিচানা বরাবর এর মত অগোছালো সব কাপর চোপর বিচানায়। গায়ে দেয়া চাদর কই কে জানে ঠান্ডা লাগলে যা পাই তাই গায়ে দিয়া ঘুমাই। সকালে অস্পর্শ মাইকের আওয়াজে ঘুম ভেঙ্গে গেল। গ্রামে সকালে মাইকের আওয়াজ মানেই হল আপনজন হারানোর বার্তা প্রদানের একটি মাধ্যম। ঘুম থেকে উঠে লুঙ্গিটা কোন রকম কাচা দিয়ে বাসা থেকে বের হই। আমার লুঙ্গি পড়া দেখতে আমার আম্মায় হাসে আর কয় লুঙ্গি পড়াটা নাকি আমার চাচা বান্না মত। আজ মন্টু দোকান খুলে নাই। মন্টুর দোকান এর সামনের টং এ বসে আছি। এমন সময় পিছন থেকে মন্টু মিয়ার হাত দিলো আমার কাধের ওপর। সেই চির চেনা হাসি। ভাইজান সকাল নাই হইতে চলে আসছেন। তয় আজ আর দোকান খুলমো না। এলাকার এক ভাই মরছে। তার খবর খুরবার যাম। ভাই আপনি ও চলেন দুইজনে মিলে খুরি। জিনিসটা সুন্দর হওয়া লাগবে। কথাটা শুনেই কেমন জানি সন্দেহ হলেও তার কথা মত তার পিছু নিলাম কবর স্থানের দিকে। কোদাল, মাসুন ব্যবহার করে ঘন্টা কয়েক এর মধ্যে একটা কবর খুরেছি। তারপর মন্টু মিয়া বাসায় যাওয়ার সময় মন্টু বলে গেলে ভাইজান জানাযায় আসমেন শেষ বার দেখা হইবে। এই বলেই আবার একটা রহস্যময় হাসি। বেলা গড়িয়ে সন্ধায় জানাযার নামাজ এ গেলাম সব যথা রিথি মত হয়ে গেলে বাসায় চলে আসবো। কিন্তু মন্টুরে কোথাও দেখলাম না। বাসায় যাওয়ার আগে ভাবলাম লাশ খানা কার একবার দেখে যাই। ভীড় থেলে এক পা করে এগিয়ে গেলাম মুখের ওপরের সাদা কাপরটা সরানোর সাথে এক ঝলকে মন্টু মিয়ার মুখ খানা দেখতে পারলাম। মুহূর্তের মধ্যে সব কিছু অন্ধকার দেখতে শুরু করলাম। এই যদি মন্টু হয় সারা দিন কে ছিলো। পর্যাপ্ত পরিমাণ অক্সিজেন অভাবে যা খুব জোরে ঝাঁকুনি দিয়ে আমার ঘুম ভেঙে যায়। উঠে বসে গ্লাসে ডক ডক করে পানি খাই আর ভাবি এটা কি হল।
ঠিক সেই সময় গ্রামের মাইকে ঘোষণা হল মন্টু মিয়া আর বেচে নাই।

Address

Rangpur

Website

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when Lazy Busy posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Share