09/08/2026
নাটোরের দুলাল মিয়া একটি পাসপোর্ট হাতে পথচলা শুরু করেছিলেন পবিত্র হজের উদ্দেশ্যে। কোনো ভিসা নেই, নেই প্রয়োজনীয় কাগজপত্র—তবুও তাঁর বিশ্বাস ছিল, আল্লাহ পথ খুলে দেবেন।
এই ব্যতিক্রমী যাত্রার খবর ছড়িয়ে পড়তেই বিষয়টি নজরে আসে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের। তাঁরা পথে গিয়ে দুলাল মিয়ার সঙ্গে কথা বলেন।
জিজ্ঞেস করেন, “কোথায় যাচ্ছেন?”
শান্ত কণ্ঠে উত্তর আসে, “আমি হজে যাচ্ছি।”
তখন তাঁকে প্রস্তাব দেওয়া হয়—ভিসা, বিমানের টিকিট—সবকিছু সরকারিভাবে করে দেওয়া হবে, যেন তিনি সহজেই হজে যেতে পারেন।
কিন্তু দুলাল মিয়া নিজের ইচ্ছায় অটল—
“আমি আমার ফরজটা পায়ে হেঁটেই আদায় করতে চাই।”
কিন্তু বাস্তবতার কিছু নিয়ম আছে।
হজের জন্য প্রয়োজন ভিসা, কিছু সরকারি কাগজপত্র, পরিচয় যাচাই—যেগুলো ছাড়া সামনে এগোনো সম্ভব নয়।
আর সেখানেই যেন লুকিয়ে আছে এক অন্য রহস্য…
হয়তো আল্লাহ তাঁর এই ইচ্ছা, এই কষ্টের নিয়ত—ইতোমধ্যেই কবুল করে নিয়েছেন।
যেখানে হেঁটে যেতে হলে লাগতো মাসের পর মাস, অসংখ্য কষ্ট, অনিশ্চয়তা আর বিপদের সম্ভাবনা—
সেখানে আল্লাহ তাঁর জন্য খুলে দিলেন সহজ এক দরজা।
সরকারিভাবে এখন তাঁর হজের ভিসা প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
তাঁর যাত্রা আর কষ্টের পথে নয়—বরং নিরাপদ ও সহজ পথে এগিয়ে যাওয়ার সুযোগ তৈরি হয়েছে।
তাই আপাতত দুলাল মিয়ার সেই পায়ে হেঁটে যাত্রা থেমে গেছে…
তিনি ফিরছেন নিজের গ্রামের বাড়িতে—প্রয়োজনীয় কাগজপত্র প্রস্তুত করতে।
এটা কোনো ব্যর্থতা নয়।
এটা কোনো স্বপ্ন ভেঙে যাওয়া নয়।
এটা হলো—
একজন বান্দার ইমান দেখে আল্লাহর পক্ষ থেকে সহজ করে দেওয়া এক বিশেষ রহমত।
আমরা হয়তো ভাবি, কষ্ট করলেই বেশি সওয়াব…
কিন্তু আল্লাহ যখন চান, তখন সেই কষ্টকেও সহজ করে দেন—আর সেটাই হয় সবচেয়ে বড় নিয়ামত।
দুলাল মিয়ার এই গল্প আমাদের শিখিয়ে দেয়—
নিয়ত যদি খাঁটি হয়, পথ নিজে থেকেই খুলে যায়।
আল্লাহ দুলাল মিয়ার এই পবিত্র ইচ্ছা কবুল করুন, তাঁর হজ কবুল করুন, তাঁর জীবনের পথ সহজ করে দিন এবং নিরাপদে তাঁকে পবিত্র মক্কায় পৌঁছে দিয়ে ফরজ হজ আদায় করার তাওফিক দান করুন।
আমিন।
#দুলাল_মিয়া #হজযাত্রা #পায়ে_হেঁটে_হজ