15/09/2025
“বোকা ছেলেটার ভালোবাসা”
ইসমাইল ছিল এক গ্রামের ছেলে — পোদাশিল নামে এক দূর গ্রামের মানুষ, কৃষক পরিবারের সন্তান। পড়াশোনায় খুব ভালো ছিল না, কিন্তু মনের দিক থেকে একেবারে সোনার মানুষ। চেহারায় গড়পড়তা, কথাবার্তায় একটু গম্ভীর, তবে একবার যার সঙ্গে বন্ধুত্ব করত, তার জন্য জীবন দিতে পারত।
মেয়েটার নাম ছিল রুশা। শহর থেকে গ্রামে বেড়াতে এসেছিল মামার বাড়িতে। আধুনিক, শিক্ষিত, মেধাবী — গ্রামের মেয়েদের থেকে একেবারেই আলাদা। ইসমাইল তাকে প্রথম দেখে বাজারে, জলপাই কিনছিল।
ইসমাইল হঠাৎ হোঁচট খেয়ে তার গায়ে ধাক্কা মারে। রুশা রেগে যায়, ভাবে ইসমাইল ইচ্ছা করে করেছে।
— “কি ব্যাপার? রাস্তা দেখতে পাও না?”
ইসমাইল কেমন হাবুডুবু খায়।
— “দেখছিলাম… মানে… না, দুঃখিত আপু।”
রুশা তখনও বুঝতে পারেনি এই ছেলেটা একটু বোকা, কিন্তু একেবারে খারাপ না।
রুশার মামাতো ভাইয়ের বন্ধু ছিল ইসমাইল। ধীরে ধীরে কথা শুরু হয়। রুশা দেখে, ছেলেটা যেন একেবারে পাথরের মতো সৎ। মিথ্যে বলতে পারে না, লজ্জা পায়, কিন্তু প্রয়োজনে অন্যায়ের বিরুদ্ধে দাঁড়ায়।
একদিন নদীর পাড়ে বসে রুশা বলে,
— “তুমি এত চুপচাপ কেন?”
ইসমাইল একটু চুপ থেকে বলে,
— “বুঝি না শহরের মেয়েদের কথা। ভয় হয়। কিন্তু ভালো লাগে তোমার সঙ্গে কথা বলতে।”
ইসমাইল বুঝতে পারে, ও রুশাকে ভালোবেসে ফেলেছে। কিন্তু বলে না। ভাবে,
— “আমি এক বোকা গ্রাম্য ছেলে, ও শহরের মেয়ে। আমি কি ওর যোগ্য?”
রুশা সব বুঝত, কিন্তু আমতা আমতা করে থাকত। মেয়েরা তো আর প্রথমে বলে না, বিশেষ করে যখন ছেলেটা এমন বোকার মতো ভালো হয়।
একদিন হঠাৎ রুশার ফিরে যাওয়ার সময় আসে। শেষ দিন নদীর ধারে দাঁড়িয়ে বলে,
— “তুমি যদি কখনো শহরে আসো, এই ঠিকানায় আসবে।”
ইসমাইল ঠিকানাটা নেয়, কিন্তু কিছু বলে না।
তিন বছর কেটে যায়। ইসমাইল চুপচাপ। কিন্তু সে বদলায় — পড়াশোনা করে, গ্রামে স্কুল তৈরি করে, একটা এনজিওতে কাজ নেয়। অবশেষে সে শহরে আসে একটা কাজে।
এবং হঠাৎ একদিন, রুশার সেই ঠিকানায় পৌঁছায়। অনেক সাহস নিয়ে কলিং বেল টিপে। দরজা খোলে রুশা।
দুজনের চোখে জল। রুশা শুধু বলে,
— “তুমি এলে?”
ইসমাইল মাথা নিচু করে,
— “ভেবেছিলাম, আমি হয়তো তোমার যোগ্য হয়ে গেছি।”
দুজন বসে আছে ছাদের উপর, এক কাপ চা হাতে। রুশা হেসে বলে,
— “তুমি এখনও বোকা আছো।”
ইসমাইল মুচকি হেসে বলে,
— “তোমার ভালোবাসায় বোকাই থাকতে চাই।”
THE END