12/08/2026
স্বামীর মর্যাদা ও শেষবারের মতো মুখ দেখার আকুতি লিজার
সৌদি আরবের রিয়াদে একটি সোফা কারখানায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে প্রবাসী কর্মী হাসিবুল হাসান শুভর মৃত্যুতে যখন স্বজনদের মধ্যে শোকের ছায়া নেমে এসেছে, ঠিক তখনই তাঁর কথিত স্ত্রী লিজার করুণ আকুতি সামনে এসেছে। স্বামীর মৃত্যুর শোক কাটিয়ে ওঠার আগেই তাঁকে লড়তে হচ্ছে নিজের স্ত্রী হিসেবে স্বীকৃতি পাওয়ার জন্য।
লিজার অভিযোগ, শুভর পরিবারের সদস্যরা তাঁদের বিয়ের বিষয়টি অস্বীকার করছেন। এমনকি তাঁকে স্বামীর মরদেহ দেখতেও নিষেধ করা হয়েছে বলে দাবি করেছেন তিনি। এ অবস্থায় শেষবারের মতো স্বামীর মুখ দেখার সুযোগ এবং স্ত্রী হিসেবে স্বীকৃতির দাবি জানিয়ে একটি ভিডিও বার্তা দিয়েছেন লিজা।
কান্নাজড়িত কণ্ঠে লিজা জানান, প্রায় দেড় বছর আগে মোবাইল ফোনের মাধ্যমে শুভর সঙ্গে তাঁদের বিয়ে সম্পন্ন হয়। পরিকল্পনা ছিল, শুভ দেশে ফিরে এলে আনুষ্ঠানিকভাবে কাবিনসহ বিয়ের অন্যান্য প্রক্রিয়া সম্পন্ন করবেন তাঁরা। চলতি বছরের ডিসেম্বরের আগেই শুভর দেশে ফেরার কথা ছিল। এরপরই তাঁদের প্রথমবার সামনাসামনি দেখা হওয়ার কথা ছিল।
লিজার ভাষ্য অনুযায়ী, অগ্নিকাণ্ডের দিন সকালেও শুভর সঙ্গে তাঁর কথা হয়েছিল। কিন্তু কিছু সময়ের ব্যবধানে ভয়াবহ সেই দুর্ঘটনা তাঁদের সব স্বপ্নকে চিরতরে শেষ করে দেয়।
শুভর মৃত্যুর পর তাঁর পরিবারের পক্ষ থেকে বিয়ের বিষয়টি অস্বীকার করা হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেছেন লিজা। তাঁকে শুভর গ্রামের বাড়িতে যেতে নিষেধ করার পাশাপাশি ফোনে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করা হচ্ছে বলেও দাবি তাঁর। পরিবারের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, শুভ অবিবাহিত ছিলেন।
একদিকে স্বামী হারানোর শোক, অন্যদিকে স্ত্রী হিসেবে নিজের স্বীকৃতি নিয়ে অনিশ্চয়তা—সব মিলিয়ে চরম অসহায় অবস্থায় রয়েছেন লিজা। তাঁর আকুতি, অন্তত শেষবারের মতো যেন তিনি স্বামীর মুখটি দেখতে পারেন এবং তাঁর সঙ্গে থাকা সম্পর্কের স্বীকৃতি পান।
নিহত হাসিবুল হাসান শুভ নওগাঁর আত্রাই উপজেলার দুবাই গ্রামের চঞ্চলের ছেলে বলে জানা গেছে। :::