11/06/2018
সরকারের ধারাবাহিকতা না থাকলে উন্নয়ন হয় না-প্রধানমন্ত্রী
মায়াবাজার ডেস্ক ॥
সরকারের ধারাবাহিকতা না থাকলে উন্নয়ন হয় না উল্লেখ করে কানাডায় প্রবাসীদের এক অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, স্বাধীনতাবিরোধী ও খুনিদের মদদদাতারা ক্ষমতায় ফিরলে বাংলাদেশ ‘রসাতলে’ যাবে। টরন্টোর ওই অনুষ্ঠানে বক্তব্যে দেশের উন্নয়নের জন্য আওয়ামী লীগের ক্ষমতায় থাকার গুরুত্বের বিষয়টিও প্রবাসীদের কাছে তুলে ধরেন তিনি।
কানাডার কেবেকে জি সেভেন আউটরিচ সম্মেলনে যোগ দেওয়ার পর রোববার টরন্টোয় যান প্রধানমন্ত্রী। সেখানে মেট্রো কনভেনশন সেন্টারে কানাডা আওয়ামী লীগের দেওয়া সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে তিনি যোগ দেন। শেখ হাসিনা বলেন, সরকারের ধারাবাহিকতা না থাকলে উন্নয়ন হয় না। ওই স্বাধীনতা বিরোধী, ওই খুনিদের মদদদানকারী ক্ষমতায় আসলে আবার দেশ রসাতলে যাবে। আওয়ামী লীগ আমলে বাংলাদেশর আর্থ-সামাজিক উন্নয়নের চিত্র তুলে ধরে তিনি বলেন, দেশ এগিয়ে যাচ্ছে, দেশের উন্নয়ন হচ্ছে বলেই জি সেভেন আউটরিচ সম্মেলনে বাংলাদেশকে দাওয়াত করেছে। এই উন্নয়ন অব্যাহত রাখতে আওয়ামী লীগের আবারও ক্ষমতায় থাকার গুরুত্ব প্রবাসীদের বোঝান শেখ হাসিনা। বাংলাদেশে গণতান্ত্রিক ধারাটা আজকে শুরু হয়েছে। সর্বক্ষেত্রে যে উন্নয়ন হচ্ছে, গ্রাম পর্যন্ত যে উন্নয়ন হচ্ছে, এই উন্নয়নের ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে হবে। বিএনপি-জামায়াতের রাজনৈতিক কর্মসূচিতে নেতিবাচক কর্মকা-ের কথাও প্রবাসীদের সামনে তুলে ধরেন তিনি। অনেক চড়াই-উৎরাই পেরিয়ে আমরা গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠিত করেছি। আন্দোলন-সংগ্রাম করে নির্বাচনের সুষ্ঠু ধারা প্রতিষ্ঠিত করেছি।
এই বছরের শেষে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের কথা মনে করিয়ে দিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, আগামী নির্বাচন যেন সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন হয়, দেশের উন্নয়ন অগ্রগতি যেন অব্যাহত থাকে, সবাইকে সে বিষয়টা দেখতে হবে। ২০০৯ সাল থেকে বিভিন্ন সিটি করপোরেশন নির্বাচনসহ প্রায় স্থানীয় সরকার পর্যায়ে প্রায় ছয় হাজার নির্বাচন আয়োজনের বিষয়টি তুলে দরে তিনি বলেন, বিভিন্ন নির্বাচনে তাদের (বিএনপি) প্রার্থীরা জয়ী হয়েছে। আমরা তো জনগণের ভোটের অধিকার নিয়ে ছিনিমিনি খেলতে যাইনি। খালেদা জিয়ার কারাগারে যাওয়া যে সরকারের নয়, আদালতের বিষয়, তা প্রবাসীদের বলেন শেখ হাসিনা। তিনি বলেন, অপরাধীদের একদিন না একদিন সাজা পেতে হয়। আর এতিমের টাকা মেরে খাওয়া আল্লাহও পছন্দ করেন না। আমি তো গ্রেফতার করিনি। আদালত সাজা দিয়েছে। বিএনপির এত বড় বড় আইনজীবী, তারা তো প্রমাণ করতে পারেনি যে খালেদা জিয়া নির্দোষ। ২০১৫ সালের প্রথম দিকে বিএনপির লাগাতার কর্মসূচিতে নাশকতায় অগ্নিদগ্ধ হয়ে শতাধিক মানুষের মৃত্যুর কথা মনে করিয়ে দিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, আমি যদি রাজনৈতিক ভাবে গ্রেফতার করতাম, তবে যখন সন্ত্রাস করেছে, মানুষ খুন করেছে, তখনই গ্রেফতার করতে পারতাম। খালেদা জিয়ার ছোট ছেলে আরাফাত রহমানের মৃত্যুর পর সমবেদনা জানাতে গিয়ে বিএনপি চেয়ারপারসনের কার্যালয় ঢুকতে বাধা পাওয়ার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, আমি চাইলে ওই দিন বাইরে থেকে আরও দুটো তালা মেরে পুলিশ পাহারা বসিয়ে আসতে পারতাম। কানাডা আওয়ামী লীগের সভাপতি গোলাম মোহাম্মদ মাহমুদ মিয়ার সভাপতিত্বে এই অনুষ্ঠানে পররাষ্ট্রমন্ত্রী আবুল হাসান মাহমুদ আলী, আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহাবুব-উল আলম হানিফও বক্তব্য রাখেন।
ট্রুডোর সঙ্গে হাসিনার বৈঠকে নূর চৌধুরীকে ফেরতের আলোচনা ঃ-কানাডার প্রধানমন্ত্রী জাস্টিন ট্রুডোর সঙ্গে বৈঠকে জাতির জনকের খুনি নূর চৌধুরীকে ফেরত পাঠাতে: ফের অনুরোধ করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হত্যাকা-ে মৃত্যুদ-ে দ-িত নূর চৌধুরী দীর্ঘদিন ধরে কানাডায় পালিয়ে আছেন। ফাঁসি হবে বলে তাকে ফেরত দিচ্ছে না কানাডা সরকার। কানাডার সঙ্গে যে কোনো পর্যায়ের আলোচনায় নূর চৌধুরীকে ফেরত দেওয়ার অনুরোধ করা হচ্ছে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে। গত রোববার দেশটির প্রধানমন্ত্রী ট্রুডোর সঙ্গে বৈঠকেও একই অনুরোধ আবার জানান শেখ হাসিনা। জি সেভেন আউটরিচ সম্মেলনে যোগ দিতে কানাডায় বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর এই সফর। কেবেকের হোটেল শ্যাতো ফঁতেনেক-এ রয়েছেন তিনি। ওই হোটেলেই ট্রুডোর সঙ্গে তার বৈঠক হয়। বৈঠকের বিষয়ে পরে প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব ইহসানুল করিম সাংবাদিকদের বলেন, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী কানাডার প্রধানমন্ত্রীকে বলেছেন, জাতির জনকের আত্মস্বীকৃত খুনি নূর চৌধুরী কানাডায় অবস্থান করছে। সে বাংলাদেশের আইনে দোষী সাব্যস্ত হয়েছে’। এসময় ট্রুডো বলেছেন, ‘আমি আপনাদের কষ্টটা বুঝি। নূর চৌধুরী কানাডার নাগরিক না এবং তার এখানে কোনো স্ট্যাটাস নেই’। প্রস সচিব বলেন, কানাডার আইনে মৃত্যুদ- না থাকার কথা বলার পরও ট্রুডো এই বিষয়টি নিয়ে তার কর্মকর্তারা আলোচনা করছে বলে জানিয়েছেন।বৈঠকে রোহিঙ্গা সমস্যা নিয়েও আলোচনা হয়। এ ক্ষেত্রে কানাডার সহায়তা ও সহযোগিতা অব্যাহত থাকায় ট্রুডোকে ধন্যবাদ জানান শেখ হাসিনা। শনিবার বিভিন্ন দেশের সরকার ও রাষ্ট্রপ্রধান এবং বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থার জি-সেভেন আউটরিচ সম্মেলনে রোহিঙ্গা সংকট সমাধানে চার দফা প্রস্তাব তুলে ধরেন শেখ হাসিনা। বৈঠকে প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব ছাড়াও পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ এইচ মাহমুদ আলী, মুখ্য সচিব মো. নজিবুর রহমান এবং পররাষ্ট্র সচিব মো. শহীদুল হক উপস্থিত ছিলেন। বৈঠকের পর প্রধানমন্ত্রীর কেবেক থেকে টরন্টোর উদ্দেশে রওনা হন। টরন্টোতে প্রবাসী বাংলাদেশিদের সঙ্গে মতবিনিময় অনুষ্ঠানে যোগ দেন তিনি। কানাডার প্রধানমন্ত্রীর আমন্ত্রণে জি-সেভেন আউটরিচ সম্মেলনে যোগ দিতে শুক্রবার দুপুরে কেবেকে পৌঁছান শেখ হাসিনা। টরন্টো থেকে দেশের পথে রওনা হবেন প্রধানমন্ত্রী। দুবাইয়ে যাত্রাবিরতি করে মঙ্গলবার রাতে তার ঢাকা পৌঁছানোর কথা রয়েছে।