02/06/2026
গল্প: "গোপালভোগের বিকেল"
সকাল ছয়টায় রংপুর বাস টার্মিনাল থেকে বসুন্ধরা পরিবহনের বাস ছাড়ল। ভোরের শীতল বাতাস আর আধো ঘুমে ঢাকা চোখ নিয়ে আমরা কয়েকজন রাজশাহীর পথে যাত্রা শুরু করলাম। ছেলে, মেয়ে, ছেলের বউ আর আমার জীবনসঙ্গী—সবাই মিলে যেন এক ছোট্ট পারিবারিক অভিযানে বেরিয়েছি।
পাঁচ ঘণ্টা পর ভদ্রার মোড়ে নেমেই মনে হলো, কেউ যেন আগুনের চাদর মুড়িয়ে দিল শরীরে। রংপুরের গরমকে তখন বেশ মায়াবীই মনে হচ্ছিল। রাজশাহীর রোদ যেন বলল, "স্বাগতম, আমার শক্তি আগে অনুভব করো!"
এই তীব্র গরম উপেক্ষা করেই আসা। কারণ, ফুফাতো ভাইয়ের বিয়ে। অনেক সময় না পেলেও সম্পর্কের টান মানুষকে পথ দেখায়। তাই নানা অজুহাত, অনিচ্ছা আর গরমের ভয় পেরিয়ে আমরা এসেছি।
বিকেলের দিকে বাড়ির পরিবেশ বদলে গেল। মা তাঁর জামাই, নাতি-নাতনি আর আমাদের জন্য যত্ন করে গোপালভোগ আম কেটে দিলেন। পাকা আমের মিষ্টি গন্ধে ঘর ভরে উঠল। গল্পের পর গল্প, হাসির পর হাসি। মুহূর্তের জন্য যেন বাইরের দাবদাহ হার মেনে গেল।
আমি চুপচাপ মায়ের দিকে তাকিয়ে রইলাম। বয়স বেড়েছে, চুলে রুপালি রেখা ফুটেছে, কিন্তু সন্তানের জন্য তাঁর স্নেহের রঙ একটুও ফিকে হয়নি। হাতে কাটা আমের ফালি যেন শুধু ফল নয়, মায়ের মমতার টুকরো।
সেদিন বুঝলাম, পৃথিবীর সব গরমকে হার মানাতে পারে একটি পরিবারের একসাথে বসে কাটানো বিকেল। কিছু স্মৃতি বড় কোনো ঘটনার জন্য নয়, ছোট ছোট মুহূর্তের জন্য হৃদয়ে বেঁচে থাকে।
রাজশাহীর সেই প্রচণ্ড গরমের দিনটির কথা হয়তো একদিন ভুলে যাব। কিন্তু মায়ের হাতে কাটা গোপালভোগ আম, সন্তানের হাসি আর পরিবারের সেই বিকেল—স্মৃতির উঠোনে অনেক দিন ধরে পাকা আমের মিষ্টি গন্ধের মতোই রয়ে যাবে।
"ছোট গল্প, ছোট কথা, ছোট ছোট সুখ-দুঃখ—শেষ হয়েও যেন শেষ হয় না; কারণ সেগুলোই জীবনের সবচেয়ে বড় সম্পদ হয়ে থাকে।"