20/06/2025
ভ*য়ংক*র মৃ*ত্যুরকূপ: ড্রাম ট্রাক!
বাংলাদেশের সড়ক দুর্ঘটনার ভয়াবহতা ক্রমেই বাড়ছে। বিশেষ করে বালুবাহী ড্রাম ট্রাকের বেপরোয়া চলাচল একের পর এক প্রাণ কেড়ে নিচ্ছে। সর্বশেষ ২০ জানুয়ারি সোমবার দুপুর ১২টার দিকে চর আলী হাসান থেকে একটি অটোরিকশা যাত্রী নিয়ে মজুচৌধুরী হাট সড়কে প্রবেশ করার সময় দ্রুতগতির বালুভর্তি একটি ড্রাম ট্রাক অটোরিকশাটিকে চাপা দেয়। এতে ঘটনাস্থলেই যাত্রী মুরাদ হোসেনের মৃত্যু হয়। গুরুতর আহত অবস্থায় আনোয়ার ও আরেক যাত্রীকে উদ্ধার করে সদর হাসপাতালে নেয়া হলে আনোয়ারকে মৃত ঘোষণা করেন চিকিৎসক।
একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি ছিলেন, যার মৃত্যু শুধু একটি জীবন নয়, পুরো একটি পরিবারকে অনিশ্চয়তার অন্ধকারে ঠেলে দিয়েছে।
ড্রাম ট্রাক: চলন্ত মৃত্যুফাঁদ?:
ড্রাম ট্রাক যেন রাস্তায় চলমান মৃত্যুকূপ হয়ে উঠেছে। চালকদের বেপরোয়া মনোভাব, অনিয়ন্ত্রিত গতি, অনভিজ্ঞতা, লাইসেন্সের অনুপস্থিতি, এমনকি মাদকাসক্ত অবস্থায় ট্রাক চালানো—এসব কারণে প্রতিনিয়ত দুর্ঘটনা ঘটছে। অধিকাংশ ক্ষেত্রে ট্রাকের ফিটনেস সনদই থাকে না, অথচ প্রশাসনের গাফিলতিতে তারা দিব্যি রাস্তায় চলছে।
কে দায়ী? শুধু চালক, নাকি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষও:
প্রতিটি দুর্ঘটনার দায় শুধুমাত্র চালকের ওপর চাপালে সড়কের চিত্র বদলাবে না। প্রশ্ন হলো—এই ট্রাকগুলো অনুমোদন পাচ্ছে কার কাছ থেকে? রুট পারমিট কে দিচ্ছে? ফিটনেসবিহীন ট্রাক চলতে দিচ্ছে কারা? পুলিশ ও প্রশাসনের কঠোর নজরদারি থাকলে কি এত অনিয়ম সম্ভব হতো?
এই অনিয়মের লাগাম টানতে হলে কেবল চালকের নয়, সংশ্লিষ্ট মালিক ও প্রশাসনের দায়িত্বও কঠোরভাবে নির্ধারণ করতে হবে।
আইনের আওতায় আনতে হবে সবাইকে: একটি দুর্ঘটনা শুধু একজন মানুষের জীবন কাড়ে না, তার পরিবারের স্বপ্নও ধূলিসাৎ করে দেয়। তাই, দুর্ঘটনা ঘটলেই শুধুমাত্র চালককে গ্রেপ্তার করলেই সমাধান হবে না—মূল উৎস বন্ধ করতে হবে।
Credit :Joynal Abdin