06/06/2026
কী করছে এই যুবক? ভিন্ন কিছু মনে হচ্ছে, তাইনা ? আজ সকালে এই যুবক বাসের হেল্পার ছিল। খুব দ্রুত মুভ করতে পারে। যুবকটাকে দেখলাম কোনোরকম হইচই করছে না ভাড়া নিয়ে। এটাও স্বাভাবিক ব্যাপার। তবে বিশেষ একটা দিক খেয়াল করলাম।
এক যাত্রী বলল, আমি স্টুডেন্ট। হেল্পার এই যুবক উত্তর দিল- আজ ফুল ভাড়া দেয়া যায় কিনা!
সে যাত্রী ফুল ভাড়া দিতে গেল। কিন্তু হেল্পার নিলো না। মাথায় হাত রেখে বলল, মন দিয়ে পড়াশোনা কইরেন ভাইজান। পড়াশোনাটা খুব দরকার।
একই পরিস্থিতি হলো আরেক যাত্রীর কাছে। সেও স্টুডেন্ট। এবারও সে স্টুডেন্ট শুনে যাত্রীর আরো কাছে গিয়ে বলল, ভাইজান অনেক বড় মানুষ হতে হবে কিন্তু। বাবা মার মুখ উজ্জ্বল করতে হবে। খুব মনোযোগ দিয়ে পইড়েন। কোনো বিষয়ে হতাশ হইয়েন না।
আরে কী আজব! এই হেল্পার সব স্টুডেন্টদের এভাবে মোটিভেট করছে কেন ?
ভাবলাম হতেই পারে। তবে তিন নম্বর স্টুডেন্টের কাছে গিয়ে বলল, দোয়া করি অনেক ভালো মানুষ হন। অনেকদূর পড়াশোনা করেন।
দারুণ ক্যারেক্টার । বেশ ভালো লাগলো।
একই সঙ্গে বাসে কিছু লোক দাঁড়িয়ে ছিল। সবাইকে সে চাচা, আংকেল বলে সম্বোধন করছে। এক যাত্রীকে বলল, চাচা আপনি এই জায়গায় দাঁড়ান। ফ্যানের বাতাস লাগবে। বলে সে নিজেই ফ্যানটা ঠিক করে দিল।
আরেক যাত্রী একটু বয়সী, ফার্মগেটে উঠতে যাচ্ছিল এই বাসে। সে দরজা থেকে নেমে ওই যাত্রীকে বলল, চাচা এই বাসেও যাইতে পারবেন। কিন্তু আপনার কষ্ট হইতে পারে। আপনি পেছনের ওই গাড়িতে উঠেন। সিট ফাঁকা আছে।
সাধারণত সিট ফাঁকা থাক বা না থাক জোর করে যেখানে যাত্রীদের তোলে সেখানে এই হেল্পার মানুষের বয়সের কথা বিবেচনা করে দারুণ পরামর্শ দিচ্ছে।
জানিনা এর ব্যক্তিজীবন কেমন। কিন্তু বাসের ভেতর পড়াশোনার প্রতি, ছাত্রদের প্রতি, বৃদ্ধদের প্রতি যে শ্রদ্ধাবোধ দেখলাম তার তা অনন্য।
তার সঙ্গে কথা বলার সুযোগ হলো। আপনাকে দেখলাম কেউ ভাড়া কম দিলেও নিচ্ছেন।
বললেন, জীবনে অনেক ঠকেছি। আমি জানি ঠকার কী যন্ত্রণা। কাউকে তাই ঠকাতে চাই না। পারলে উপকার করব। আমার তিন মেয়ে। তারা অনেক শিক্ষিত হবে এইটাই চাই।
(ছবি তার অজান্তে তুললেও পরে তার অনুমতিতেই পোস্ট দেয়া। নাম রাসেল। সামনা সামনি তোলা ছবি কমেন্টে দেয়া আছে। আরো মজার ব্যপার তার সঙ্গে কাকতালীয় দেখা হয়েছে আবারও শাহবাগে, সন্ধ্যার পরে। সে নিজেও তার পোস্ট দেখেছে। আমার সৌভাগ্য আসলে)