21/06/2024
গতকাল আমার বেতন হলো। সেলফোনে ম্যাসেজটি পেতেই, বরের কাছে ছুটে গিয়ে বলেছিলাম─ "আমার বেতন হয়েছে, সংসার-খরচে আমি সহযোগিতা করতে চাই, কতো দেবো?"
সে হয়তো ভেবেছিলো আমি মজা করছি, কিম্বা তার সাথে প্রতিযোগিতায় নামতে চাইছি; খুব সম্ভবত এই কারণেই, আমার কাছ থেকে সহযোগিতা চেয়ে টাকার এমন একটি অঙ্ক বললো সে, যেটা আমার মোট বেতনের প্রায় সমান।
আমি সেলফোনটি হাতে নিলাম, এবং বিনাবাক্যব্যয়েই ওর চাওয়া অর্থের পুরোটাই ওর অ্যাকাউন্টে ট্রান্সফার করে দিলাম।
ওর মুখ দেখে আমি বুঝতে পেরেছিলাম─ সে সত্যিই বিস্মিত হয়েছে, যেন নাটকীয় কিছু ঘটছে! এরপর, বাকি যা ছিল আমার কাছে, ওখান থেকে বাচ্চাদের স্কুলের বেতন দিলাম, যাতে সংসারের এতো-এতো খরচের চিন্তার মধ্যে এসব ছোটখাটো বিষয় নিয়ে ওকে আর দুশ্চিন্তায় থাকতে না-হয়।
তারপর, আমি যখন অন্যান্য খরচগুলোতেও সহযোগিতা করতে পারি কিনা দেখছিলাম, তখনই উপলব্ধি করলাম─ কী ভীষণ খরচের চাপ সইতে হয় আমার বরকে, প্রত্যেক মাসেই, এমনকি রোজই! এবং, সেই ভার, সেই চাপ, সে চুপচাপই বয়ে চলছে আমাদের সংসারের শুরু থেকেই! এইসবকে সে নিজের দায়িত্ব মেনেই করে যাচ্ছে, এমনকি যখন মাঝেমধ্যে আর্থিক অনটন দেখা দেয়, তখনও সে এই দায়িত্ব পালন করে যায়, প্রচন্ড কষ্ট হওয়া সত্ত্বেও; আমাকে একটিবারও না-জানিয়ে─ আমি নিশ্চিত হলাম।
বুঝতে পারলাম─ প্রথমে বিস্মিত হলেও, সে খুব খুশিই হয়েছে─ সংসারে আমার সাহায্য তার উপার্জনের তুলনায় যৎসামান্য হলেও─ তাকে আমি সহযোগিতা করছি দেখে। দেখলাম─ আমার টাকার দিকে এমন দৃষ্টিতে তাকিয়ে ছিল সে, যেন সামান্য ওই টাকা পরিমাণে মিলিয়নের সমান! তার চোখে আমি বিপদের দিনে একজন ভরসার সাথী পাওয়ার অনুভূতি লক্ষ্য করেছিলাম।
ওকে বললাম, সংসার-খরচ নিয়ে ওর উদ্বেগ যাতে কিছুটা কমে, সেজন্য আমি চেষ্টা করবো যেন আরো বেশি উপার্জন করতে পারি। আমি এটি আবেগের বশে বা ওকে খুশি করতে বলিনি; বলেছি, কারণ, আমি উপলব্ধি করেছি─ সে নিশ্চয়ই একটি দায়কে বিয়ে করেনি, করেছে একজন সহযোগীকে; এবং বিয়ের পরে তাকে অবশ্যই অবিবাহিত সময়ের চেয়ে বেশি চাপমুক্ত থাকা উচিৎ। তা না-হলে কেন একটি সংসার গড়া? কোনো কারণই নেই।
আমি, নিজে কখনো, অন্যের উপার্জনের মুখাপেক্ষী হতে চাইনি, অন্যের পকেটের দাসী আমি নই। আর, আমি চাই না─ আমার বরও অন্যের কাছ থেকে ঋণ করে দাসে পরিণত হোক।
সেদিন, আমার বর, সেই বিস্মিত অবস্থাতেই, আমাকে কিছু না-বলেই, বেরিয়ে গিয়েছিলো। যখন ফিরে এলো, সাথে