18/08/2026
আমরা আসলে কী শিখছি? 🖤
আজ এই নীরব বিকেলে প্রকৃতির দিকে তাকিয়ে মনে হলো—
জীবন নিয়ে আমরা কত কিছু ভাবি, কত স্বপ্ন দেখি, কত দূর ছুটে চলি।
কখনো টাকার জন্য,
কখনো পরিবারের জন্য,
কখনো ভবিষ্যতের জন্য।
কিন্তু খুব কম সময়ই নিজের কাছে বসে একটা প্রশ্ন করি—
শেষ পর্যন্ত আমরা কী হয়ে বাঁচছি?
মানুষ হিসেবে কতটা বাঁচতে পারছি?
কিছুদিন আগে একটি ঘটনা শুনে সত্যিই বুকের ভেতরটা কেমন যেন করে উঠল।
একজন প্রবাসী মানুষ—দুটি কিডনিই নষ্ট হয়ে গিয়েছিল।
জীবনের শেষ সময়ে দেশে ফিরেছিলেন।
হয়তো মনে হয়েছিল, এতদিন পর নিজের মানুষগুলোর কাছে ফিরবেন…
নিজের ঘরে একটু মাথা রাখবেন…
শেষ সময়টুকু আপনজনদের মাঝেই কাটবে।
কিন্তু ভাগ্যের কী নির্মম পরিহাস!
যে মানুষটা হয়তো জীবনের সবচেয়ে কঠিন সময়েও পরিবারের কথা ভেবে বিদেশের মাটিতে পড়ে ছিলেন, সেই মানুষটাকেই অসুস্থ অবস্থায় নিজের বাড়িতে জায়গা না দিয়ে রাস্তায় ফেলে চলে যাওয়া হলো।
ভাবুন তো…
একজন মানুষ, শরীরে দুটি কিডনি কাজ করছে না,
হয়তো ঠিকমতো দাঁড়ানোর শক্তিটুকুও নেই—
সেই মানুষটা রাস্তায় পড়ে আছে।
তার নিজের মানুষগুলো নেই।
শেষ পর্যন্ত গ্রামের কিছু মানুষ তাকে দেখতে পেলেন।
অচেনা সেই মানুষগুলো নিজেদের সামর্থ্য অনুযায়ী চাঁদা তুলে তাকে হাসপাতালে ভর্তি করলেন।
কী অদ্ভুত না?
যাদের আপন ভাবা হয়েছিল, তারা দূরে সরে গেল।
আর যারা কেউই ছিল না, তারাই শেষ সময়ে মানুষটার পাশে দাঁড়াল।
কিন্তু জীবন তাকে আর বেশি সময় দিল না।
মানুষটা চলে গেলেন…
শুধু রেখে গেলেন আমাদের জন্য একটা কঠিন প্রশ্ন—
আমরা কি সত্যিই শিক্ষিত হচ্ছি?
নাকি শুধু জীবনে সফল হওয়ার দৌড়ে ছুটছি?
আমাদের ডিগ্রি আছে, টাকা আছে, বাড়ি আছে, গাড়ি আছে, বিদেশে যাওয়ার স্বপ্ন আছে…
কিন্তু একজন অসুস্থ মানুষের মাথায় হাত রাখার মতো মানবিকতা কি আছে?
আমরা সন্তানদের ভবিষ্যতের জন্য জীবনভর কষ্ট করি।
প্রবাসে বছরের পর বছর কাটিয়ে দিই।
নিজের সুখ বিসর্জন দিই।
কিন্তু একদিন যদি সেই সন্তান, সেই পরিবার, সেই আপন মানুষগুলোর কাছেই আমরা বোঝা হয়ে যাই—
তাহলে এতদিনের ছুটে চলার মানে কী?
হয়তো জীবনের সবচেয়ে বড় শিক্ষা কোনো বইয়ে লেখা নেই।
শিক্ষা হলো—
যে মানুষটা তোমার ভালো সময়ে তোমার পাশে ছিল,
তার খারাপ সময়ে তুমি যেন তার পাশে থাকো।
কারণ সুস্থ মানুষকে ভালোবাসা খুব সহজ।
সুন্দর মানুষকে আপন করা খুব সহজ।
সফল মানুষের পাশে দাঁড়ানোও সহজ।
কিন্তু একজন অসুস্থ, অসহায়, অক্ষম মানুষকে যখন পৃথিবী বোঝা মনে করে—তখন তার পাশে দাঁড়ানোই আসল মানবিকতা।
আজকের এই নীরব বিকেলে তাই নিজের কাছেই একটা কথা বললাম—
জীবনে যত বড়ই হই,
যত টাকা-পয়সাই করি,
যত দূরেই যাই…
শেষ সময়ে যেন আমার আপন মানুষটাকে আমি “বোঝা” মনে না করি।
কারণ মৃত্যুর আগে একজন মানুষের হয়তো খুব বেশি কিছু প্রয়োজন হয় না।
একটু পানি,
একটু যত্ন,
একটা পরিচিত মুখ…
আর কেউ একজন শুধু বলুক—
“চিন্তা করো না, আমি আছি।”
হয়তো এই ছোট্ট কথাটাই একজন মানুষের জীবনের শেষ আশ্রয় হতে পারে। 🖤