15/09/2024
🌠 আইয়ামে বীজ দুটি আরবি শব্দের সমন্বয়ে গঠিত।
আইয়ামে বীজের অর্থ হলো শুভ্র, সাদা, জোছনাময়।
প্রতি চন্দ্র মাসের ১৩,১৪,১৫ তারিখকে আইয়ামে বীজ বলা হয়, কারণ এই তিনদিন জোছনাময় রাত চাঁদের শুভ্র আলোয় আলোকোজ্জ্বল হয়ে উঠে পৃথিবী।
:: বাংলাদেশে রবিউল আউয়াল মাসের আইয়ামে বীজের রোজা আগামী ১৭, ১৮ এবং ১৯ সেপ্টেম্বর (রোজ মঙ্গল, বুধ ও বৃহস্পতিবার)।
অর্থ্যাৎ সোমবার দিবাগত রাতে সাহরি খেয়ে পরপর তিনটি রোজা রাখতে হবে ইনশা আল্লাহ।
🌠 আইয়ামে বীজের রোজা ফরজ নয়। এটি নফল রোজা। আমাদের উচিত ফরজ ইবাদতের সাথে নফল ইবাদতেও মনোনিবেশ করা। কেননা, যদি ফরজ ইবাদতে ত্রুটি থাকে বিচার দিবসে আল্লাহ তাআ'লা নফল ইবাদাতের মাধ্যমে পূর্ণ করে জান্নাতুল ফেরদৌসে স্থান দিবেন ইনশা আল্লাহ।
রোজা রাখার মাধ্যমে আল্লাহর প্রতি তাক্বওয়া, ভয় ও আনুগত্য করা হয়। রোজা এমন একটি ইবাদত যা শুধুমাত্র আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্যই রাখা হয়।
🌠 আইয়ামে বীজের রোজার ফজিলত
আবূ যার (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ
তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন,
প্রতি মাসে যে লোক তিন দিন রোযা পালন করে, তা যেন সারা বছরই রোযা পালনের সমান।
আল্লাহ তা’আলা এর সমর্থনে তার কিতাবে আয়াত অবতীর্ণ করেছেন “কোন লোক যদি একটি সাওয়াবের কাজ করে তাহলে তার প্রতিদান হচ্ছে এর দশ গুণ” (সূরাঃ আন‘আম- ১৬০)।
সুতরাং এক দিন দশ দিনের সমান।[ তিরমিজি-৭৬২]
আবু হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ
তিনি বলেন, আমার বন্ধু নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আমাকে তিনটি কাজের ওসিয়্যত করে গেছেন।
এক: বিতরের সালাত আদায় করে নিদ্রায় যাওয়া।
দুই: প্রত্যেক মাসে (আইয়ামে বীযের) তিন দিন সাওম পালন করা।
তিন: চাশতের দুই রাকআত সালাত আদায় করা,[সুনানে আন-নাসায়ী,-১৬৭৭]
ইবনু মিলহান আল-ক্বায়সী (রহঃ) হতে, তিনি তার পিতা থেকে বর্ণনা করেন,
তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আইয়ামে বীজ অর্থৎ চাদেঁর ১৩, ১৪ ও ১৫ তারিখে সাওম পালনে আমাদেরকে নির্দেশ দিয়েছেন। বর্ণনাকারী বলেন, তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন এগুলো সারা বছর সাওম রাখার সমতুল্য।
[সুনানে আবু দাউদ,-২৪৪৯]
🌠 গুরুত্বপূর্ণ কিছু মাসআলা
১: রোজায় সাহরি খাওয়া সুন্নাহ। কিন্তু আবশ্যক নয়।
কেউ যদি ঘুম হতে জাগ্রত হতে না পারেন অর্থ্যাৎ সাহরি না খাইলেও রোজার নিয়ত করে থাকলে রোজা আদায় হয়ে যাবে ইনশা আল্লাহ।