31/10/2025
স্বর্নের পাহাড়ের যুদ্ধ-
ইসলাম শুধু আবেগ দিয়ে নয় কুরআনের সঠিক ব্যাখা, সুন্নাহ গবেষণা দিয়ে ব্যাখা করলে উম্মতের জন্য কল্যাণকর হয়। ঈমাম মাহদী আসার পূর্বের একটি আলামত হল ফোরাত নদীতে স্বর্ণের পাহাড় উঠা। এখন মূল সমস্যা হলো- এগুলো নিয়ে এমন বিভ্রান্তি ছড়িয়ে গেছে সহজ জিনিসটা যেন জটিল মনে হবে।
আগে বুঝতে হবে, কেয়ামতের আলামত ও ফিতনার মধ্যে পার্থক্য কি!? কেয়ামতের পূর্ব পর্যন্ত যত লক্ষন হাদীসে বর্ণিত আছে সবগুলোই আলামত, তবে তার মধ্যে ফিতনাও পড়ে। কিন্তু সব আলামত ফিতনা (বিপদ, বিশৃঙ্খলা, পরীক্ষা) নয় বরং রহমত। যেমন ঈসা (আঃ) ও মাহাদীর (হাফিঃ) আগমন। আবার কিছু আলামত এমন মুমিনের জন্য রহমত আর কাফের, মুনাফেকের জন্য ফিতনা তার মধ্যে স্বর্ণের পাহাড় উঠা অন্যতম।
হযরত আবু হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সাঃ) বলেছেন, “অদূর ভবিষ্যতে ফোরাত সোনার ভান্ডার উন্মুক্ত করে দেবে। সে সময়ে যে ওখানে উপস্থিত থাকবে, সে যেন তার থেকে কিছুই গ্রহণ না করে”। (সহিহ বুখারি,২৬০৫; সুনানে তিরমিজি, ৬৯৮)
❤️হযরত আবু হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সাঃ) বলেছেন, “সেই পর্যন্ত কেয়ামত সংঘটিত হবে না, যতক্ষণ না ফোরাত থেকে সোনার পাহাড় বের হবে। তার জন্য মানুষ যুদ্ধ করবে এবং প্রতি একশ জনে নিরানব্বই জন লোক মারা যাবে। যে কজন জীবনে রক্ষা পাবে, তারা প্রত্যেকে মনে করবে, বোধ হয় একা আমিই জীবিত আছি”। (সহিহ মুসলিম, ৭০০৮-৭০১০)।
এখন প্রশ্ন আসে স্বর্ণের পাহাড় কবে উঠবে বা প্রকৃত স্বর্ণের পাহাড় না অন্যকিছু।
১. রাসূলুল্লাহ (সাঃ) এর হাদীসে তৈল সংক্রান্ত কিছু বোঝাতে তিনি “কাফিসু” শব্দটি ব্যবহার করেছেন। টাকা পয়সার জন্য “দিরহাম” শব্দটি ব্যবহার করেছেন। আর স্বর্ণের জন্য “জাহাবুন” শব্দটি ব্যবহার করেছেন।
সুতরাং এটা তেল, গ্যাস হবে না স্বাভাবিক। কারণ রসুলুল্লাহ (সাঃ) সহজভাবে বর্ণনা করতেন যেন উম্মত বুঝতে পারে। আর অপেক্ষা করুন ইউক্রেনের যুদ্ধ ও দ্বন্দ্ব শামে স্থানান্তরিত হবে এবং এটা আরও বড় হবে। আর আরবে ছোট টিলাযুক্ত পাহাড়কেও জাবাল বলে, তাদের পাহাড়গুলো ভারতবর্ষের মতো বিশালও হয় না। তাই এভারেস্টের মত পাহাড় উঠবে এই ধারণা ভুল হবে, আর পাহাড়ের বেশিরভাগ অংশই থাকে জমিনে। সুতরাং উপরে যতটুকু স্বর্ণ দেখা যাবে হয়তো ভূ-অভ্যন্তরে আরও বেশি থাকবে। আর স্বর্ন পাহাড়ের যুদ্ধে মুসলিমদের অংশগ্রহণ করতে নিষেধ করা হয়েছে, এমনকি ওর (স্বর্ন) হতে কিছু নেওয়া থেকেও নিষেধ করা হয়েছে।
যদি ফুরাতের স্বর্ণ মানে তেল বুঝায় - মুসলিমদের ইরাক, সিরিয়ার ফুরাতের নিকটবর্তী তেল ব্যবহার করা নিষেধ। আর স্বর্নের পাহাড়ের যুদ্ধ হবে ফুরাতের তীরে যা খলিফা মাহাদী (হাফি ) আসার পূর্বে হবে আর মালহামা হবে সিরিয়ার আমাক বা দাবিকে। খলিফা মাহাদী (হাফি) এর নেতৃত্ব দিবেন। (আবু দাউদ, মুসলিম শরীফ)
দুঃখজনক হলো জাহিলরা ওয়াজে বানিজ্য করতে গিয়ে মালহামা আর স্বর্নের যুদ্ধ এক করে ফেলছে। বার বার সতর্ক করার পরও সংশোধন করছে না!?
ওরা ইসরাঈল ভীতি ঢুকাতে সক্ষম হয়েছে ঠিকই কিন্তু মুনাফিক, রাফেজী, নুসাইরিয়া শিয়াদের বিরুদ্ধে লেকচার নেই বরং রাফেজীদের পক্ষে বক্তব্য দিচ্ছে। এসব বক্তারা মূলত সুফিয়ানীকে জনপ্রিয় করার পথ সহজ করছে। খলিফাহ মাহাদী (হাফি:) আসলে তার কালিমার পতাকা ও মক্কা হতে আগত প্রচার করে- ইহুদির দালাল, খারেজী ঘোষণা করবে হয়তো।
সৌদী সরকার জালিম তার বিরোধিতার নামে মক্কা, মদীনার আলেম ও মুসলিমদের বিরুদ্ধে বিদ্বেষ ছড়ানো উচিত নয়। হাজারো আলেম আজও সৌদী কারাবন্দী হক্ব বক্তব্য দিয়ে। অথচ শেষ জমানায় ইসরাঈল নামক রাষ্ট্রের অস্তিত্ব থাকবে না বরং সুফিয়ানী ও তার সেনা যারা বনু কাল্বের নুসাইরিয়া শিয়া তারা হবে বড় শত্রু।
খলিফা মাহাদীর (হাফি) বিরুদ্ধে ১ম সেনা সুফিয়ানী পাঠাবে। সুফিয়ানী ও মুনাফিকদের পতনের পর পশ্চাৎ শক্তি ও রুমের বিরুদ্ধে লড়াই, এরপর ইস্তানবুল বিজয় ও দাজ্জালের সাথে লড়াই।
ইসরাইল সবচেয়ে দুর্বল শক্তি রুমের সাহায্য ছাড়া ওদের পতন নিশ্চিত। কিন্তু রুম দীর্ঘদিন মুসলিমের শত্রু থাকবে। আর খলিফা মাহাদী ও মুসলিমরা জেরুজালেম বিজয় করবে। জেরুজালেম হতে শাসন করবে। আর দাজ্জালের সহযোগী ইহুদি যারা যোগ দিবে তারা হবে ইরানের ইস্পাহানে ইহুদী। যারা বংশগত ইহুদি, ইসরাঈলের মত খাসাফ বা ইউরোপীয় বংশধর ইহুদী নয়।
বংশগত ইহুদিরা ভীতু, যুদ্ধ হতে পালায়। তারা মুসা (আ:) এর সময় লড়াই করতে রাজি হয়নি, আহযাবের যুদ্ধের পরও ওরা মেকাবিলা করতে সাহস পায়নি। দাজ্জালের পতন হলেও ওরা আবারও পাথর, গাছের আড়ালে পালাবে। (মুসলিম শরীফ)
আমাদের উচিত কেয়ামতের ফিতনা অধ্যায় মুসলিম, আবু দাউদের হাদীসগুলো জানা। তাহলে যে কারো বক্তব্য শুনলে গুমরাহ হবেন না। আর দলিলবিহীন আলোচনা গ্রহণযোগ্য নয়। অপরদিকে বর্তমান খাসাফ ইহুদিরা হলো নৃশংস, যুদ্ধ প্রিয় জাতি।
বিশিষ্ট সাহাবী হযরত আবু হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত তিনি বলেন, চতূর্থ ফিৎনা হচ্ছে, অন্ধকার অন্ধত্বপূর্ন ফিৎনা। যা সমুদ্রের ঢেউয়ের ন্যায় উত্তাল হয়ে উঠবে, আরব অনারবের কোনো ঘর বাকি থাকবেনা, যেখানে উক্ত ফিৎনা প্রবেশ করবেনা? এই ফিতনা দ্বারা মুসলমানেরা লাঞ্ছিত অপদস্ত হতে থাকবে।
ফিৎনাটি শাম দেশে (সিরিয়ায়) চক্কর দিতে থাকলেও রাত্রিযাপন করবে ইরাকে। তার হাত পা দ্বারা আরব ভুখন্ডের ভিতরে বিচরন করতে থাকবে।
উক্ত ফিৎনা এ উম্মতের সাথে চামড়ার সাথে চামড়া মিশ্রিত হওয়ার ন্যায় মিশে যাবে, তখন বালা মুসিবত এত ব্যাপক ও মারাত্মক আকার ধারন করবে যা দ্বারা মানুষ ভালো খারাপ নির্ণয় করতে পারবেনা।
ঐ মুহুর্তে কেউ উক্ত ফিৎনা থামানোর সাহসও রাখবেনা। একদিকে একটু শান্তির সুবাতাস বইলেও অন্যদিকে ফিৎনা তীব্র আকার ধারন করবে। সকালবেলা কেউ মুসলমান থাকলেও সন্ধ্যা হতে হতে সে কাফের হয়ে যাবে। উক্ত ফিৎনা থেকে কেউ বাঁচতে পারবেনা।।
কিন্তু শুধু ঐ লোক বাঁচতে পারে, যে সমুদ্রে ডুবন্ত ব্যক্তির ন্যায় করুন সুরে আকুতি জানাতে থাকে। সেটা প্রায় ১২ বৎসর পর্যন্ত স্থায়ী থাকবে এবং এক পর্যায়ে সকলের কাছে সবকিছু স্পষ্ট হয়ে উঠবে।
ইতোমধ্যে ফুরাত নদীতে স্বর্ণের একটি ব্রিজ (পাহাড়) প্রকাশ পাবে। যা দখল করার জন্য সকলে যুদ্ধে জড়িয়ে যাবে এবং প্রতি নয় জনের সাতজন মারা পড়বে।
[ আল ফিতান: নুয়াইম বিন হাম্মাদ – ৬৭৬ ]
** হযরত আবু হুরাইরা (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, তিনি বলেন চতূর্থ ফিতনা বা যুদ্ধ ১২ বছর স্থায়ী হবে। যখন অবসান হবে তখন অবসান হবে। (অর্থাৎ ১২ বছর সময় শেষ হবে তারপর) স্বর্ণের পাহাড় থেকে ফুরাতকে খুলে দেওয়া হবে। অতপর তার উপর প্রত্যেক নয় জনের সাত জনকে হত্যা করা হবে।
[ আল ফিতান: নুয়াইম বিন হাম্মাদ – ৯৭০ ]
সুহায়ল (রহঃ) থেকে এ সূত্র থেকে বর্ণিতঃ
অবিকল বর্ণনা করেছেন। তবে তিনি এতে বর্ধিত বর্ণনা করেছেন যে, আমার পিতা বলেছেন, যদি তোমরা ঐ পাহাড় দেখো তবে তোমরা এর নিকটেও যেও না। (ই.ফা. ৭০০৯, ই.সে. ৭০৬৬)
সহিহ মুসলিম, হাদিস নং ৭১৬৫
হাদিসের মান: সহিহ হাদিস
তার মানে বুঝা যায়, স্বর্ণের পাহাড় উঠবে সিরিয়ার যুদ্ধের ১২ (আরেক হাদীসে ১৮) বছর পর, এর আগে নয়। আর এই স্বর্ণের পাহাড়ের নিকট যেতে মুমিনদের মানা করা হয়েছে, ফলে এই যুদ্ধে কোন মুমিনরা অংশ্রগ্রহণ করবে না। প্রকৃতপক্ষে এই পাহাড় কাফের, মুনাফিকের জন্য ফেতনা। এর মাধ্যমে আল্লাহ তাদের দুর্বল করে মুসলিমদের সাহায্য করবেন। মুনাফিক ও মুমিন চেনা তখন সহজ হবে।