29/12/2021
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ফেসবুক চালাচ্ছিলেন। তার মেজাজ খুব খারাপ। নেট খুব স্লো, কোন পিক বা ভিডিও দেখতে পারছে না।
তিনি রবি সীম ব্যবহার করেন
এই সীমে, নিজের কোন শক্তি নাই। অথচ সবাইকে বলে, জ্বলে উঠো আপন শক্তিতে।
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ইচ্ছে করছে, গ্যাসের চুলায় রবি সীমটি দিয়ে আপন শক্তিতে জ্বালিয়ে দিতে। কিন্তু সেটাও সম্ভব না। সকালে ৪৫০ টাকা দিয়ে, ৩০জিবি আর ৭০০ মিনিট কেনা হয়েছে।
মনের দুঃখে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ফেসবুকে স্ট্যাটাস দিলেন,
"কখনোই কারো প্রিয় ছিলাম না
না অফলাইনে, না অনলাইনে"
স্ট্যাটাস দিয়ে অপেক্ষা করতে লাগলেন, কয়টা কমেন্ট আসে...
তিন মিনিট পর, বঙ্কিম চন্দ্র চট্টোপাধ্যায় লাভ রিয়েক্ট দিয়ে কমেন্ট করল, "দাদা, সেম"
আরও এক মিনিট পর, বেগম সুফিয়া কামাল, একটা পিক কমেন্ট করল।
রবীন্দ্রনাথের মেজাজ তো আরও খারাপ হয়ে গেল। কমেন্টের পিক দেখতে পারছেনা বলে। যতক্ষন কমেন্টের পিক না দেখতে পারছে, ততক্ষন শান্তি পাচ্ছে না। কিন্তু কি করে দেখবে, নেট যে একদম স্লো।
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর কি করবে বুঝতে পারছেনা। নজরুলকে নেটে দেখতে পেল। নজরুল সব সময়ই নেটে এ্যাকটিভ থাকে। নজরুল যে হোটেলে কাজ করে, সেই হোটেলে ওয়াইফাই আছে। নজরুল ফি ওয়াইফাই চালায়।
কোন উপায় না পেয়ে নজরুলকে ম্যাসেজ করলো,
"ভাই নজরুল, একটু হেল্প করতে পারবি?"
নজরুল রিপ্লাই দিলো,
"দাদা, হাতে একদম সময় নেই?"
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর বলল,
"ভাই, তোর পোস্টে ১০টা কমেন্ট করুমানি, তবুও একটু হেল্প কর।"
নজরুল রিপ্লাই করল,
"দাদা, খুবই বিজি আছি। সিঙ্গারা আর সমুচা বানাচ্ছি। ভাজা শেষ হলে কথা হবে।"
রবীন্দ্রনাথ মনে মনে তিন চারটা গালী দিল,
শালা ভাব দেখাও, করো হোটেলে দুই টাকার চাকরি।
শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়কে নেটে দেখতে পেয়ে ম্যাসেজ করলো,
"ভাই শরৎ, খুবই বিপদে পড়েছি। একটু হেল্প করা যায়।"
শরৎচন্দ্র রিপ্লাই দিলো, "কি বিপদ?"
রবীন্দ্রনাথ বলল,
"লজ্জার কথা কি বলবো! একটু আগে একটা স্ট্যাটাস দিছি। ওখানে, বেগম সুফিয়া কামাল একটা পিক কমেন্ট করছে। আমার নেট স্লো তাই পিকটা কিসের দেখতে পারছি না। যদি একটু পিকটা দেখে বলতে, কিসের পিক, তাহলে বড়ই উপকার হতো।"
শরৎচন্দ্র রিপ্লাই দিলো,
"এখন তো পারবনা। একটা স্ট্যাটাস লিখতেছি। লেখা শেষ হলে দেখে বলতেছি।"
শরৎচন্দ্রের ব্যবহারও যে, নজরুলের মতো হবে, তাহা জানলে রবীন্দ্রনাথ কখনোই শরৎকে নক করত না।
আর কাকে নক করা যায়, ভাবতে ভাবতেই, ঈশ্বর চন্দ্র বিদ্যাসাগরকে অনলাইলে দেখলেন।
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, ঈশ্বর চন্দ্র বিদ্যাসাগরকে মোটেই সহ্য করতে পারে না। মুখে কোন হাসি নাই, রগ চটা টাইপের, গুরু গম্ভীম হয়ে থাকে, শুধু শুধু উপদেশ দেয়। ভাবটা এমন করে, যেন সে মহাজ্ঞানী। মনে হয়, সবসময় আকাশ পাতাল নিয়ে ভাবতে থাকে। বজ্জাত কোথাকার, নিজের বিয়ে করার ইচ্ছে করেনা বলে, বেটা বহুবিবাহ প্রথা বন্ধ করিয়াছে। ইহা কি সহ্য করা যায়।
কোন উপায় না পেয়ে, ঈশ্বর চন্দ্র বিদ্যাসাগরকে ম্যাসেজ দিলো, "Hi দাদা"
প্রায় দশ মিনিট হয়ে গেল। ঈশ্বর চন্দ্র কোন রিপ্লাই দিলো না।
রবীন্দ্রনাথ আগেই বুঝেছিল, ঈশ্বর চন্দ্র ঘাউরা টাইপের, রিপ্লাই দিবে না।
এভাবে কেটে গেল বেশকিছুক্ষন। রবীন্দ্রনাথ মনমরা হয়ে বসে আছে। কি করবে বুঝতে পারছে না।
হঠাৎ করে নজরুলের ম্যাসেজ আসলো,
"দাদা, এবার বলো? কি সমস্যায় পড়েছ?"
রবীন্দ্রনাথ দ্রুত রিপ্লাই দিল,
"একটা স্ট্যাটাস দিছি। ওখানে, বেগম সুফিয়া কামাল একটা পিক কমেন্ট করছে। আমার নেট স্লো তাই পিকটা দেখতে পারছি না। পিকটা দেখে বল, কিসের পিক"
নজরুল রিপ্লাই দিলো,
"ওকে, দাদা। জাস্ট একটু ওয়েট করেন।"
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর অপেক্ষা করতে লাগল, নজরুলের ম্যাসেজের......
দুই মিনিট পর নজরুল ম্যাসেজ দিলো,
"দাদা, আছেন?
রবীন্দ্রনাথ রিপ্লাই দিলো,
"দেখছ, কিসের পিক ওটা?"
নজরুল রিপ্লাই দিল, "হ্যাঁ দাদা"
রবীন্দ্রনাথ, কিসের পিক ওটা?
নজরুল রিপ্লাই দিল,
"দাদা, আপনি যে লেখাটা স্ট্যাটাস দিছেন,
"কখনোই কারো প্রিয় ছিলাম না
না অফলাইনে, না অনলাইনে"
এই লেখাটা, উইলিয়াম শেক্সপিয়ার ৫ বছর আগে স্ট্যাটাস দিছিল। উইলিয়াম শেক্সপিয়ারের সেই স্ট্যাটাসটি, বেগম সুফিয়া কামাল স্কীন শর্ট মেরে কমেন্ট করছে।"
হায় হায় করতে করতে, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর দ্রুত স্ট্যাটাস ডিলিট করতে গিয়ে দেখে, মাইকেল মধূসুদন দত্ত কমেন্ট করছে, "কপিবাজ"।
😃😀😃😀😍😍😍জ্ঞানীদের ব্যবহার এমনই হয়।