Frada

Frada I am professional digital marketer

18/08/2026

২০১৯/০৫/২৯
গল্পঃ মাফিয়া নাসিম ভাই
রচিয়তাঃ মো: নাসিম হোসেন তুর্জয়🥀

নাসিমের ছোটবেলা শুরু হয়েছিল থানার রান্নাঘরের ধোঁয়া দিয়ে। ভাতের হাঁড়ি ফুটত, ডাল নাড়ানো হতো, আর পাশের ঘরেই কেউ চিৎকার করত। তার মা হাসিনা ছিল থানার সরকারি রাঁধুনি। পুলিশের পেট ভরানোই ছিল তার চাকরি, কিন্তু নিজের ছেলের ভাগ্য ভরানোর মতো শক্তি তার ছিল না। নাসিম ছোটবেলা থেকেই বাবা হারা। বাবার গল্প কেউ ঠিকমতো বলেনি—শুধু বলা হয়েছে, “ছিল, আর নেই।” এই শহরে এটাই শেষ পরিচয়।

নাসিম বড় হয়েছে থানার বারান্দায় বসে। লকআপের দরজা বন্ধ হওয়ার শব্দ, লাঠির আঘাতে শরীর ভাঙার আওয়াজ—এই সবই তার শৈশবের স্বাভাবিক দৃশ্য। খুব অল্প বয়সেই সে বুঝে যায়, এখানে আইন মানে ন্যায় না, আইন মানে ক্ষমতা। আর ক্ষমতা না থাকলে মানুষ নয়—জিনিস।

তবু নাসিম পড়াশোনায় ভালো ছিল। পেইন্টার ও সাহিত্যিক রচিয়তা ছিল। দক্ষ ফুটবলার ও ছিল। স্কুল পর্যায়েও একবার টুর্নামেন্ট খেলে ছিল। চুপচাপ, নিজের ভেতরে থাকা ছেলে। “শিক্ষকরা বলত, একদিন সে অনেক বড় হবে।” আর সে ছিল সুদর্শন—এমন সৌন্দর্য, যা দারিদ্র্যের সাথে বেমানান। এই বেমানানটাই তাকে আলাদা করে তুলেছিল। স্কুলে অনেক চোখ তাকে দেখত, কিন্তু কেউ তাকে নিজের মতো করে জানত না।

আনিকা প্রথম তাকে দেখেছিল আত্মবিশ্বাস নিয়ে। আলী হোসেন দারোগার মেয়ে হওয়ার আত্মবিশ্বাস। আনিকার ভালোবাসায় ভয় ছিল না, ছিল জেদ। নাসিম তার কাছে ছিল নিষিদ্ধ কিছু—যাকে ভালোবাসা যায়, কিন্তু সমাজের সামনে দেখানো যায় না। আনিকা নাসিমকে চেয়েছিল পুরোটা, নিজের শর্তে। বাবার ক্ষমতা তাকে সাহস দিয়েছিল।

সেই সময় থেকে—নাসিমের সিগারেট, গাঁজা ও বিয়ার খাওয়া শুরু গোপনে অল্প স্বল্প__________

নাসিম একটা মেয়েকে স্কুলে সোনা বলে ডাকত। তবে সোনা ডাকের গোপন তথ্য অর্থ কাউকে কখনো প্রকাশ করেনি। সেই মেয়েটা ও নাসিম ছাড়া কেউ জানে না। এই সোনা ডাকের রহস্য?

অর্থি ছিল সম্পূর্ণ ভিন্ন। নুরুল প্রফেসারের মেয়ে অর্থি নাসিমের চোখে জমে থাকা ক্লান্তি দেখেছিল। সে নাসিমকে ভালোবাসত তার সম্ভাবনার জন্য। অর্থি বিশ্বাস করত, এই ছেলে এখনো ঠিক পথে ফিরতে পারে। অর্থির পাশে থাকলে নাসিম নিজেকে মানুষ মনে করত।

দুইটা ভালোবাসা ছিল তার জীবনে।
একটা ছিল জেদ আর নিষিদ্ধ আকর্ষণ,
আরেকটা ছিল শান্ত, গভীর আশা।

কিন্তু এই শহর একসাথে দুইটা স্বপ্ন রাখতে দেয় না।

আলী হোসেন যখন জানতে পারে তার মেয়ে থানার রাঁধুনীর ছেলের প্রেমে পড়েছে, সে চিৎকার করেনি। সে নাসিমকে থানায় ডেকে এনে ঠান্ডা গলায় বলেছিল, “তোর মা এখানে কাজ করে বলেই তোকে সহ্য করছি। আমার মেয়ের জীবনে তোর কোনো জায়গা নেই।” এই কথার ভেতরে কোনো রাগ ছিল না—ছিল সিদ্ধান্ত।

তারপর থেকে—নাসিম প্রকাশ্যেও গোপনে সিগারেট খায়। যে—তার জীবন নিয়ে এতই চাপ মাঝে মাঝে ড্রিংকস। আর বেহাদ ইয়াবা সেবন।

এরপর ঘনালো শারীরিক বিপদ—নাসিমের গলায় রক্তনালিতে টিউমার হয়। সে কঠিন অসুস্থতার সম্মুখীন হয়, তার জীবন বাঁচা মরার। এই বিপদে আনিকা সব বাঁধা ভেঙে সিটি ক্লিনিকে তাকে দেখতে যায়। ওই সময় নাসিমের মা ও মামা—যোদ্ধার মতো লড়েছিল নাসিমের সুস্থতায়।

অর্থির বাবাও নাটক করেনি। সে শুধু মেয়েকে দূরে সরিয়ে নিয়েছিল। অন্য শহর, অন্য কলেজ। কোনো অপমান না, কোনো হুমকি না—শুধু নীরব বিচ্ছেদ। আর এই নীরবতাই নাসিমকে ভেঙে দিয়েছিল সবচেয়ে বেশি।

দশম শ্রেণীর পরীক্ষার ফরম তোলার দিন নাসিম আর স্কুলে যায়নি। সে থানার পেছনের গলিতে বসে প্রথম কোকেন সেবন করেছিল। মাথার ভেতরের শব্দ একটু কমে গিয়েছিল। ব্যথা যায়নি, কিন্তু ব্যথা বোঝা কমে গিয়েছিল। তারপর হেরোইনও মরফিন। পড়াশোনা শেষ। ভবিষ্যৎও।

ভাগ্যের কি নির্মম পরিহাস—এই মরফিন ড্রাগস দেহে নেওয়া”তে নেওয়া”তে ছয় মাস কোমা থাকার কারণে এডিক্টেড হসপিটালে নাসিম ভর্তি ছিল।

হাসিনা সব বুঝত। সে রাতে রান্নাঘরে বসে চুপচাপ কাঁদত। কিন্তু কিছু বলত না। কারণ সে জানত—এই শহরের সাথে লড়ার শক্তি তার নেই। তবে সে নাসিমকে তিন মাস রিহাব কাস্টডি তে কয়েদ করেছিল। কারণ সে মরফিন ড্রাগস আসক্তই নার্ভের সমস্যায় ভোগান্ত হয়।

শহীদ নামের একজন লোক নাসিমকে তুলে নেয়। শহীদ ভাই আন্ডারওয়ার্ল্ডের মানুষ। ড্রাগস, অস্ত্র, চাঁদা, কন্টাক্ট কিলার—সবই তার হাতে। সে বলেছিল, “তুই থানায় বড় হয়েছিস। তোর ভয় নাই। এইটাই দরকার।” নাসিম দ্রুত শিখে ফেলে। নেশা এখন আর আলাদা কিছু না—এটা কাজের অংশ। এখন নতুন আরেকটা কাজের অংশ ও যুক্ত—প্রায় রাতে সুদর্শিনী রমণীদের সাদা মাংসের স্বাদ।

মরফিন ড্রাগস মাফিয়া নাসিম ভাই কে অস্বাভাবিক করে দেয়। প্রায় তিন মাস মানসিকভাবে ক্ষতবিক্ষত ছিল। কিন্তু শহীদ ভাই তার পাশে ছিল। পুনরায় নাসিম ভাইকে স্বাভাবিক করে।

মানুষ ধীরে ধীরে তাকে নতুন নামে ডাকতে শুরু করে—নাসিম ভাই। কারণ সে কথা কম বলত। কারণ সে কাজ শেষ করত। কারণ সে কাউকে অনুরোধ করত না। সে কথা কম বলে, কিন্তু সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত। সেনাবাহিনীও পুলিশবাহিনী তাকে চেনে, কিন্তু এখন আর ছুঁতে পারে না। রাজনীতিবিদরা তার নাম জানে, কিন্তু মুখে আনে না।

অর্থি একদিন শেষবার আসে। নাসিমকে দেখে বুঝে যায়—সে আর আগের মানুষটা নেই। চোখে ঠান্ডা আগুন, মুখে নীরবতা। অর্থি শুধু বলে, “আমি পারছি না। তুমি অনেক দূরে চলে গেছ।” সে চলে যায়। আর ফিরে তাকায় না।

আনিকা যায়নি।

সব জানার পরেও, বাবার ক্ষমতা, সমাজের চোখ—সব কিছুর পরেও আনিকা নাসিম ভাইকে ভুলতে পারেনি। তার ভালোবাসা এখন আর নিষ্পাপ ছিল না। সেটা ছিল অভ্যাসের মতো, নেশার মতো। সে জানত, এই মানুষটা তাকে ধ্বংস করতে পারে, তবু সে টান কাটাতে পারেনি।

২৩ বছর বয়সে নাসিম ভাই আন্ডারওয়ার্ল্ডের পরিচিত নাম। কিন্তু মাফিয়া শহীদ ভাই এক রাতে চুপচাপ মারা যায়। কোনো নাটক হয়নি। কোনো ভিড় হয়নি, কোনো কান্নার মিছিল হয়নি। আনিকা দূর থেকে তাকে দেখে। অর্থি অন্য শহরে, অন্য জীবনে।

রাতে ছাদের উপর দাঁড়িয়ে নাসিম ভাই সিগারেট ধরায়। নিচে শহর, উপরে কালো আকাশ। পকেটে বন্দুক, হাতে সিগারেট। সে জানে—সে প্রেম হারিয়েছে, মানুষত্ব হারিয়েছে, কিন্তু এই শহরের নিয়ম শিখে ফেলেছে। এই শহরে কেউ রাজা না। কেউ শুধু একটু বেশি সময় বেঁচে থাকে।

এই শহরে ভালো মানুষরা টেকে না।
এখানে টিকে থাকে শুধু অন্ধকার।

আর মাফিয়া নাসিম ভাই—
সে সেই অন্ধকারেরই নাম।

কিন্তু অভাবনীয় বিষয়—মৃত মাফিয়া শহীদ ভাই। দীর্ঘ মেয়াদি পুলিশ অফিসার ছিল। তারপর সে আন্ডারওয়ার্ল্ড রাজত্ব শুরু করে। আর সেটা বেহাদ সিদ্ধার্থ। শহীদ আঙ্কেলের মৃত্যুর পর সেটা প্রকাশ পেয়েছিল। নাসিম ভাইও স্বীকার করেছিল। কেননা মাফিয়া নাসিম ভাইকে—সে নিজের সন্তানের মতো অংশীদার। তখন জনগণ বুঝেছিল, এটাকেই বলে পরিপূরক আত্মবিশ্বাস এবং মাফিয়ার ধর্ম!

এই শহরের আন্ডারওয়ার্ল্ডের মাফিয়া নাসিম ভাইয়ের জীবনে প্রেম নতুন কিছু ছিল না—আগেও দু’বার প্রেম এসেছিল, কিন্তু কোনটাই টেকেনি। তৃতীয়বার যখন রিমি তার জীবনে আসে, তখন অনেকেই ভেবেছিল এটাও হয়তো আগের মতোই একদিন শেষ হয়ে যাবে।

কিন্তু শুরু থেকেই নাসিম ভাই আলাদা সিদ্ধান্ত নিল। সে রিমিকে লুকিয়ে রাখেনি, বরং প্রেমের প্রথম দিন থেকেই তাকে নিজের বউয়ের স্বীকৃতি দিয়েছিল। রিমি ছিল ধনী পরিবারের মেয়ে, পড়াশোনায় মেধাবী, আর পেশায় একজন মেডিকেল শিক্ষার্থী। মানুষের জীবন বাঁচানোই তার শিক্ষা। তাই অনেকেই অবাক হয়েছিল—একজন সম্মানিত মেডিকেল শিক্ষার্থী আর একজন মাফিয়া কীভাবে একসাথে জীবন কাটাতে পারে?

সেই থেকে,

আরো একটি মেলা বছরের সম্পর্ক। যা আজও চলমান—

মাফিয়া নাসিম ভাই এক ধনী পরিবারের ভাবিতে মুগ্ধ। এক কথায় একে অপরের প্রতি। কিন্তু ভাবির বরের এটা অজানা না। কারণ সে বুঝত ওরা দেবর ভাবি। ভাবির সাথে মধুর সম্পর্ক প্রায় পাঁচ বছর। রিমি তার জীবনে আসার আগে পরেও। আয়েশা সাব্বির ভাবির সাথে প্রেমের থেকেও বড় কিছু সম্পর্ক। ভাবি পেশায় একজন শিক্ষিকা। ভাবির ড্যাশিং, রূপ ও কন্ঠ নাসিম ভাইয়ের জীবনের একটা অংশ। তবে মধুর প্রেমের সম্পর্ক হলেও তারা দুজন দেবর ভাবিতে সীমাবদ্ধ!

রিমি বলত—নাসিম ভাই তার কৃষ্ণ ও নাসিম ভাইয়ের রাধা রিমি। “নাসিম রিমি” তারা দুজন রাধা কৃষ্ণ।

রিমি প্রথম থেকেই নাসিম ভাইয়ের আসল পরিচয় জানত। তার ক্ষমতা, তার অন্ধকার জগত—সবই তার অজানা ছিল না। তবু সে দূরে সরে যায়নি। বরং ধীরে ধীরে নাসিম ভাইয়ের জীবনের অংশ হয়ে উঠেছিল। ডক্টরী পড়ার ব্যস্ততার মাঝেও সে নাসিম ভাইয়ের পাশে দাঁড়াত, তার কথা শুনত, আর কখনো কখনো তাকে বুঝিয়ে বলত—জীবনে শক্তি শুধু ভয়ের মধ্যে নয়, ভালোবাসার মধ্যেও থাকে।

সময়ের সাথে তাদের সম্পর্ক আরও গভীর হলো। কেননা অভাবনীয় বিষয় এই রিমিই ছিল নাসিম ভাইয়ের জীবনে আনিকা ও অর্থির পরে, রিমিকে প্রকাশ না করা এক মায়া। তখন রিমি ছিল ষষ্ঠ শ্রেণী পড়ুয়া। আর স্কুল জীবনে মাফিয়া নাসিম ভাইয়ের, সোনা ডাকের সেই মেয়েটিই ছিল এই রিমি। তাই শহরের মানুষ একসময় বুঝতে পারল, এই সম্পর্ক শুধু প্রেম নয়—এটা বিশ্বাস আর স্বীকার করার গল্প।

শেষ পর্যন্ত সত্যটা সবার সামনে পরিষ্কার হয়ে গেল—
রিমি মাফিয়া নাসিম ভাইকে মাফিয়া হিসেবেই গ্রহণ করেছে।
আর এখন রিমিই মাফিয়া নাসিম ভাইয়ের মাফিয়া কুইন।

কয়েক মাস পর—

রাত যত গভীর হয়, মানুষ তত নিজের সত্যের সামনে দাঁড়িয়ে যায়। মাফিয়া নাসিম ভাইও একদিন বুঝে গেল—সব সম্পর্কের শেষ গন্তব্য একসাথে থাকা নয়। কিছু সম্পর্ক শুধু হৃদয়ের ভেতর বেঁচে থাকে, কাগজে নয়।

রিমিকে সে নিজের স্ত্রী বলে মেনে নিয়েছিল হৃদয়ে। কিন্তু বাস্তবের পৃথিবীতে সেই স্বীকৃতি আর লেখা হলো না। কোনো কাগজে নাম উঠল না। কোনো আইনি পরিচয় তৈরি হলো না। রিমিও শেষ পর্যন্ত মাফিয়া কুইন হয়ে উঠতে পারল না। কারণ ক্ষমতা, সাহস, ত্যাগ আর অন্ধকারকে বুকে ধারণ করার যে কঠিন মূল্য দিতে হয়, সেই পথ তার জন্য ছিল না।

তাই একদিন কোনো ঝড় ছাড়াই, কোনো অভিযোগ ছাড়াই, কোনো শেষ কথার অপেক্ষা না করেই তারা নীরব হয়ে গেল। বিচ্ছেদ হলো, কিন্তু শব্দহীন। কেউ কাউকে দোষ দিল না। কেউ ফিরে তাকাল না। শুধু দুজন মানুষ নিজেদের ভেতরে একেকটি অসমাপ্ত গল্প নিয়ে আলাদা পথে হাঁটতে শুরু করল।

মাফিয়া নাসিম ভাই চলে গেল। খুব ধীরে। খুব চুপচাপ। যেন সে কখনো ছিলই না। কিন্তু মানুষের চলে যাওয়া মানেই ভালোবাসার মৃত্যু নয়। রিমির জন্য তার ভালোবাসা থেকে গেল—অপূর্ণ, নীরব, অঘোষিত। এমন ভালোবাসা, যার কোনো দাবি নেই; আছে শুধু স্মৃতি।

তবু তার আত্মার ভেতরে দুটি নাম আমৃত্যু জেগে থাকবে—আনিকা এবং অর্থি।

তারা শুধু অতীত নয়। তারা শুধু হারিয়ে যাওয়া প্রেম নয়। তারা তার রুহের স্থায়ী দখলদার। সময় তাদের মুছে দিতে পারেনি। দূরত্ব তাদের হারাতে পারেনি। তবে রিমির প্রেম, নাসিম ভাইয়ের জীবনে শ্রেষ্ঠ প্রেম ছিল। তার রুহের স্থায়ী দখলদার রিমি। কারণ কিছু মানুষ হৃদয় ছেড়ে চলে যায়, কিন্তু আত্মা ছেড়ে কখনো যায় না। তবে নাসিম ভাই যখন অষ্টম শ্রেণীতে ও রিমি যখন ষষ্ঠ শ্রেণীতে পড়ুয়া, সেই সম্পর্ক দীর্ঘ হয়ে জড়িয়ে ছিল বিবাহ বন্ধনে।

রিমি ছিল তার জীবনের অন্তহীন একটা আলো। কিন্তু আনিকা ও অর্থি ছিল তার অন্তহীন ছায়া। তবুও অন্তহীন আলো এক সময় নিভে যায়, অথচ ছায়া থেকে যায় শেষ নিশ্বাস পর্যন্ত।

এরপর মানুষ শুধু গল্প শুনল। কেউ বলল, মাফিয়া নাসিম ভাই অদৃশ্য হয়ে গেছে। কেউ বলল, সে এখনো বেঁচে আছে। কেউ বলল, সে নিজের অতীতকে কবর দিয়ে নতুন জীবন শুরু করেছে। কিন্তু সত্যিটা কেউ জানল না।

শুধু রাত জানত—একজন মানুষ পৃথিবীর সবচেয়ে শক্তিশালী নাম হয়েও নিজের হৃদয়ের কাছে সবচেয়ে অসহায় ছিল।

শেষ পর্যন্ত তার সাম্রাজ্য টিকে থাকুক বা ধ্বংস হয়ে যাক, অস্ত্র মরিচা পড়ুক বা গর্জে উঠুক, ক্ষমতার সিংহাসন ভেঙে যাক বা অটুট থাকুক—এসবের কোনো মূল্য আর তার কাছে রইল না।

কারণ পৃথিবীর সবচেয়ে বড় পরাজয় বন্দুক হারানো নয়। সবচেয়ে বড় পরাজয় হলো সেই মানুষগুলোর কাছে হেরে যাওয়া, যাদের একদিন নিজের পৃথিবী ভেবেছিলে।

আর সেই পরাজয়ের নীরব সাক্ষী হয়ে, মাফিয়া নাসিম ভাই একদিন অন্ধকারের ভেতর মিলিয়ে গেল। রেখে গেল শুধু একটি অসমাপ্ত ভালোবাসার ইতিহাস, কিছু অব্যক্ত কান্না, আর তিনটি নাম—আনিকা, অর্থিও রিমি।

বাকি সবকিছু সময় নিয়ে যাবে।

কিন্তু রুহের দখলদারদের কখনো সময় হারাতে পারে না।

শহরটা আজও আগের মতোই আছে। একই রাস্তা, একই আলো, একই অন্ধকার। শুধু একটি নাম আর আগের মতো শোনা যায় না।

মাফিয়া নাসিম ভাই।

কেউ বলে, সে বহু আগেই মারা গেছে। কোনো অচেনা সীমান্তে, কোনো নামহীন গুলির শব্দে তার গল্প শেষ হয়ে গেছে। কোনো কবর নেই, কোনো জানাজা নেই, কোনো শেষ বিদায়ও নেই। শুধু একটি গুজব আছে—সে আর বেঁচে নেই।

আবার কেউ বলে, সে বেঁচে আছে। নিজের নাম, পরিচয় আর অতীতকে কবর দিয়ে নতুন জীবন শুরু করেছে। ভিন্ন কোনো শহরে, ভিন্ন কোনো মুখ নিয়ে, সাধারণ একজন মানুষ হয়ে হাঁটছে। কেউ তাকে আর চিনতে পারে না। সেও কাউকে নিজের পরিচয় দেয় না।

কিন্তু সত্যিটা কেউ জানে না।

সত্য কখনো মানুষের ভিড়ে হাঁটে না। সত্য লুকিয়ে থাকে নীরবতার ভেতরে।

রাত যত গভীর হয়, শহরের কিছু পুরোনো মানুষ এখনো বলে—মাঝে মাঝে দূর থেকে একটি কালো গাড়ি এসে থামে। একজন মানুষ নেমে কয়েক মুহূর্ত চারপাশে তাকিয়ে আবার চলে যায়। তার মুখ কেউ স্পষ্ট দেখতে পায় না। শুধু তার হাঁটার ভঙ্গিটা অদ্ভুত রকম পরিচিত লাগে।

কেউ সাহস করে কাছে যায় না।

কারণ মাফিয়ারা ফিরে এলেও নিজেদের পরিচয় দেয় না।

মাফিয়া নাসিম ভাইয়ের জীবন ছিল রক্ত, বিশ্বাসঘাতকতা আর নীরবতার ইতিহাস। তার হাতে ছিল অস্ত্র, কিন্তু বুকের ভেতরে ছিল এমন কিছু ক্ষত, যেগুলো কোনো অস্ত্র সারাতে পারেনি। পৃথিবী তাকে ভয় পেয়েছিল, অথচ সে সারাজীবন ভয় পেয়েছিল কেবল একটি জিনিসকে—স্মৃতিকে।

রিমি ছিল তার অসমাপ্ত ভালোবাসা। সে তাকে নিজের হৃদয়ে স্ত্রী হিসেবে গ্রহণ করেছিল, কিন্তু পৃথিবীর কোনো কাগজে সেই সম্পর্ক লেখা হয়নি। তার রুহের দখলদার রিমি। শেষ পর্যন্ত তারা নীরবে বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। তবু ভালোবাসা শেষ হয়নি।

আর আনিকা ও অর্থি...

তারা ছিল তার রুহের দখলদার। সময় তাদের হারাতে পারেনি। দূরত্ব তাদের মুছতে পারেনি। একজন মানুষের জীবনে কিছু নাম থাকে, যেগুলো কখনো অতীত হয় না। শুধু আরও গভীর হয়ে যায়।

সেই তিনটি নামই হয়তো আজও তার নিঃশব্দ রাতের সঙ্গী।

অনেকেই অপেক্ষা করে।

যদি একদিন আবার ফিরে আসে?

যদি আবার এই শহরের বাতাসে তার নাম ফিসফিস করে ভেসে ওঠে?

যদি আবার অন্ধকার কোনো রাতের শেষে কেউ বলে—“নাসিম ভাই ফিরে এসেছে।”

কিন্তু যারা সত্যিই তাকে চিনত, তারা জানত—একজন মানুষ ফিরে আসতে পারে, কিন্তু যে মানুষ একদিন নিজের ভেতরেই হারিয়ে যায়, সে আর আগের মানুষ হয়ে ফিরে আসে না।

হয়তো সে এখনো কোথাও বেঁচে আছে।

হয়তো সে প্রতিদিন অন্য একটি নামে সূর্যোদয় দেখে।

হয়তো প্রতিটি সন্ধ্যায় নিজের অতীতকে ভুলে যাওয়ার চেষ্টা করে।

অথবা হয়তো সত্যিই সে আর নেই।

রহস্যের সবচেয়ে বড় শক্তি হলো—তার কোনো প্রমাণ লাগে না।

বছরের পর বছর কেটে যাবে। নতুন অপরাধী জন্ম নেবে। নতুন ক্ষমতা উঠবে। পুরোনো সাম্রাজ্য ধসে পড়বে। শহর নতুন গল্প লিখবে।

কিন্তু কিছু নাম ইতিহাসের পাতায় নয়, মানুষের ভয়ের মধ্যে বেঁচে থাকে—

মাফিয়া নাসিম ভাই তেমনই একটি নাম। কারণ শিশু থেকে কিশোর বয়সে যে ছিল একজন পেইন্টার। যার পেইন্টিংয়ে মানুষরা হত মুগ্ধ। অন্যের ছবি পেইন্ট করে টাকা রোজগার করত। সে হয়ে যায় মাফিয়া।

তার অস্তিত্বের চেয়ে তার অনুপস্থিতি আরও বড় হয়ে উঠেছে।

কারণ মানুষ মৃত মানুষকে ভুলে যায়, কিন্তু অদৃশ্য হয়ে যাওয়া মানুষকে কখনো পুরোপুরি ভুলতে পারে না।

তাই আজও এই শহরের অন্ধকারে একটি প্রশ্ন ভেসে বেড়ায়—

মাফিয়া নাসিম ভাই কি সত্যিই শেষ হয়ে গেছে?

নাকি সে শুধু সময়ের অপেক্ষায় আছে?

হয়তো একদিন, কোনো বর্ষার গভীর রাতে, শহরের সব আলো নিভে যাবে। দূরে একটি গাড়ির হেডলাইট ধীরে ধীরে অন্ধকার চিরে এগিয়ে আসবে। কেউ একজন দরজা খুলে নামবে। তার মুখ ছায়ায় ঢাকা থাকবে। সে কিছু বলবে না। শুধু চারদিকে একবার তাকাবে।

আর যারা একসময় তার নাম শুনে কেঁপে উঠত, তাদের বুকের ভেতর পুরোনো ভয় আবার জেগে উঠবে।

কিন্তু সেদিনও কেউ নিশ্চিত হতে পারবে না—

সে কি সত্যিই মাফিয়া নাসিম ভাই?

নাকি অন্ধকার আবার মানুষের সঙ্গে একটি খেলা খেলছে?

হয়তো এই প্রশ্নের উত্তর কোনো দিন জানা যাবে না।

কারণ কিছু মানুষ গল্প শেষ করে না।

তারা শুধু অদৃশ্য হয়ে যায়।

আর মাফিয়ারা কখনো মারা যায় না—তারা কেবল অপেক্ষা করে, মানুষ আবার তাদের গল্প বলতে শুরু করার।
_________________সমাপ্ত.....!👑

২০২৬/০৫/২৫জোকস গল্গঃ বিশ্বকাপ জিতেও শান্তি নাই🤣রচিয়তাঃ মো: নাসিম হোসেন তুর্জয়🥀২০২৬ বিশ্বকাপ শুরু হতেই নাটোর শহরের বাতাস...
10/06/2026

২০২৬/০৫/২৫
জোকস গল্গঃ বিশ্বকাপ জিতেও শান্তি নাই🤣
রচিয়তাঃ মো: নাসিম হোসেন তুর্জয়🥀

২০২৬ বিশ্বকাপ শুরু হতেই নাটোর শহরের বাতাস বদলে গেল।
চায়ের দোকানে রাজনীতি বন্ধ।
ফেসবুকে প্রেমের পোস্ট কমে গেছে।
সবখানে শুধু একটাই আলোচনা—
নেদারল্যান্ডস এইবার কাপ নেবে কি না।

নাটোরের কানাইখালী মোড়ে একটা বিখ্যাত চায়ের দোকান ছিল।
দোকানের নাম “মেসি টি-স্টল।”
কিন্তু বিশ্বকাপ শুরু হওয়ার এক সপ্তাহ আগে দোকানের মালিক কুদ্দুস চাচা সকালে এসে দেখে—
দোকানের সাইনবোর্ড রাতের আঁধারে বদলে গেছে।

নতুন নাম—
“অরেঞ্জ কিংডম টি-স্টল।”

নিচে বড় করে লেখা—
“ডাচ ছাড়া বাকি সাপোর্টারদের বাকিতে চা নাই।”

এই কাজ করেছে তিন বন্ধু—
নাসিম, রিপন আর বাবলু।

তিনজনই নেদারল্যান্ডসের এমন ভক্ত যে তাদের দেখলে মনে হয় বাংলাদেশ না, আমস্টারডামের লোক।

নাসিম মাথায় সবসময় কমলা ব্যান্ড পরে ঘুরে।
রিপন তার পুরনো সাইকেলে লিখেছে—
“ফ্লাইং ডাচম্যান।”
আর বাবলু ইউটিউব দেখে ডাচ ভাষা শিখতে গিয়ে এখনো শুধু তিনটা শব্দ জানে—
“হল্যান্ড।”
“ভ্যান ডাইক।”
“পনির।”

বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচের দিন তারা সকাল থেকেই প্রস্তুতি নিল।
চায়ের দোকানে কমলা পতাকা লাগানো হলো।
লাউডস্পিকার আনা হলো।
এমনকি দোকানের সামনে একটা হাঁসও কমলা রঙ করে রাখা হলো।

কুদ্দুস চাচা রেগে বলল—
“হাঁস রঙ করছিস কেন?”

নাসিম গম্ভীর মুখে বলল—
“এটা সাধারণ হাঁস না চাচা।
এটা ডাচ আত্মার প্রতীক।”

চাচা দীর্ঘশ্বাস ফেলল।
“তোরা একদিন জেলে যাবি।”

খেলা শুরু হলো।
নেদারল্যান্ডস গোল দিলো প্রথম দশ মিনিটেই।

পুরো দোকানে এমন চিৎকার শুরু হলো যে পাশের ফার্মেসির রোগী ভয় পেয়ে স্যালাইন খুলে পালিয়ে গেল।

রিপন চেয়ারের ওপর উঠে নাচতে লাগল।
বাবলু উত্তেজনায় চা খেতে গিয়ে বিস্কুট নাকে ঢুকিয়ে ফেলল।

নাসিম দুই হাত তুলে চিৎকার দিল—
“এইবার কাপ আমাদের!”

পাশে বসা আর্জেন্টিনার সাপোর্টার সোহেল বলল—
“এক ম্যাচ জিতেই কাপ নিয়ে গেলি?”

নাসিম শান্তভাবে বলল—
“স্বপ্ন বড় হওয়া লাগে।”

ধীরে ধীরে নেদারল্যান্ডস কোয়ার্টার ফাইনালে উঠল—
ইতালি, ফ্রান্স ও স্পেন কে পরাজিত করে!
পুরো নাটোরে ডাচ জ্বর ছড়িয়ে পড়ল।”

অপরদিকে ক্রোয়েশিয়া ও কোয়ার্টার ফাইনাল নিশ্চিত করল— ইংল্যান্ড, পর্তুগাল, জাপান, উত্তর কোরিয়া ও থাইল্যান্ড কে পরাজিততে উড়াই!”

বিপক্ষ ব্রাকেট প্রতিপক্ষ জার্মানি, দক্ষিণ কোরিয়া, হাঙ্গেরি ও মেক্সিকো কে চায়না বিদায় দিল। কোয়ার্টার ফাইনালে আর্জেন্টিনাকে বিদায় দিয়ে চায়না সেমিফাইনাল নিশ্চিত করল।

উরুগুয়ে, সুইডেন, দক্ষিণ আফ্রিকা, কলম্বিয়া, চেকিয়া ও চিলি কে পরাজিত করে সেমিফাইনাল নিশ্চিত করল— রোনালদিনহো ও কাকার দল ব্রাজিল।

কেউ কমলা গেঞ্জি পরে।
কেউ সাইকেলের বেল বাজায়।
কেউ আবার ফেসবুকে নাম বদলে রেখেছে—
“ফ্রেংকি ডে ইয়ং।”

সবচেয়ে ভয়ংকর কাজটা করল রিপন।

সে তার মুরগির খামারের সব মুরগির নাম ডাচ খেলোয়াড়দের নামে রাখল।

একদিন তার মা ডাক দিল—
“রিপন! ভ্যান ডাইক ডিম দিচ্ছে না কেন?”

পাশের বাড়ির মানুষ তিনদিন হাসতে হাসতে কাশল।

এরপর এলো সেমিফাইনাল।
প্রতিপক্ষ ব্রাজিল।

এই ম্যাচ নিয়ে পুরো বাজারে যুদ্ধের পরিবেশ।
ব্রাজিল সাপোর্টাররা আলাদা টেবিলে বসেছে।
নেদারল্যান্ডস সাপোর্টাররা আলাদা।

কুদ্দুস চাচা আগেই ঘোষণা দিল—
“মারামারি করলে চা বন্ধ।”

খেলা শুরু।

ব্রাজিল আক্রমণ করছে।
নেদারল্যান্ডস রক্ষণ সামলাচ্ছে।

প্রতি পাঁচ মিনিট পরপর নাসিম দাঁড়িয়ে বলে—
“চিন্তা নাই।”

কিন্তু তার কপাল দিয়ে এমন ঘাম পড়ছিল যেন সে নিজেই মাঠে খেলছে।

৮০ মিনিট পর্যন্ত গোল নেই।

“অপরদিকে ভিন্ন প্রতিপক্ষরা। সেমিফাইনালে চায়না কে হারিয়ে ক্রোয়েশিয়া ফাইনাল নিশ্চিত করল!”

টেনশনে বাবলু ভুল করে চায়ের বদলে লবণ খেয়ে ফেলল।
তারপরও বলল—
“স্বাদ আলাদা… কিন্তু দেশপ্রেম আছে।”

৮৮ মিনিটে—
নেদারল্যান্ডস কাউন্টার অ্যাটাক।

একটা পাস।
দুইটা ড্রিবল।
তারপর গোওওওল!

পুরো চায়ের দোকান কেঁপে উঠল।

রিপন আনন্দে লাফ দিতে গিয়ে টেবিল ভেঙে ফেলল।
একজন চা নিয়ে দৌড় দিতে গিয়ে নিজের গায়েই ঢেলে দিল।
আর কুদ্দুস চাচা এত ভয় পেল যে দোকানের ক্যাশবক্স নিয়ে পালাতে শুরু করল।

চাচাকে ধরে আনা হলো।

চাচা বলল—
“আমি ভাবছিলাম ভূমিকম্প!”

নেদারল্যান্ডস ফাইনালে উঠল।

ফাইনালের দিন নাটোরে অদ্ভুত দৃশ্য দেখা গেল।

নাসিম একটা পুরনো মোটরসাইকেল কমলা রঙ করে লিখল—
“ডাচ এক্সপ্রেস।”

রিপন মাথায় গাজর বেঁধে ঘুরছে।
কারণ তার ধারণা—
“কমলা খাবার সৌভাগ্য আনে।”

আর বাবলু ঘোষণা দিল—
“আজ যদি নেদারল্যান্ডস জেতে, আমি বিয়েতে স্যুট না পরে জার্সি পরব।”

ফাইনাল শুরু হলো।
“নেদারল্যান্ডস বনাম ক্রোয়েশিয়া।”

পুরো বাজার নিস্তব্ধ।
মনে হচ্ছিল সবাই শ্বাস বন্ধ করে বসে আছে।

প্রথমার্ধে কোনো গোল নেই।

দ্বিতীয়ার্ধে ক্রোয়েশিয়া গোওওওওল দিল, “লুকা মদ্রিচ।”

পুরো দোকান চুপ।

নাসিম মাথা নিচু করে বলল—
“ফুটবল বড় নিষ্ঠুর।”

ঠিক তখন রিপন নাটকীয় ভঙ্গিতে বলল—
“নায়করা শেষ দৃশ্যে ফিরে আসে।”

পাশে বসা এক বৃদ্ধ বলল—
“চুপ কর, সিনেমা কম দেখ।”

৮৫ মিনিটে নেদারল্যান্ডস সমতা ফেরাল।
দোকানে আবার প্রাণ ফিরল।

অতিরিক্ত সময় চলছে।

সবাই এত টেনশনে যে কুদ্দুস চাচা ভুল করে চায়ে লবণের বদলে চিনি পাঁচবার দিল।

শেষ মিনিট।

নেদারল্যান্ডস আক্রমণে উঠেছে।

পুরো দোকান দাঁড়িয়ে গেছে।

তারপর—
একটা শট।

“গোওওওওল—
তারপর ওই মুহূর্তে কোচ আরিয়েন রোবেনের উদ্দেশ্যে, সেলিব্রেশন করে মাঠে শ্রদ্ধা জানালেন জাভি সিমন্স!”

নাটোর ফেটে পড়ল।

রিপন আনন্দে দৌড়াতে গিয়ে পুকুরে পড়ে গেল।
বাবলু উত্তেজনায় ডাচ ভাষা বলতে গিয়ে বলল—
“ভ্যান ডাইক আলুভর্তা পনির!”

নাসিম কুদ্দুস চাচাকে জড়িয়ে ধরে কাঁদতে লাগল।

চাচা বিরক্ত হয়ে বলল—
“বাবা, কাপ নেদারল্যান্ডস জিতছে…
তুই কেন আমাকে বরের বাবার মতো ধরছিস?”
তুই তোর রিমির সাথে দেখা করে জড়িয়ে ধর, রিমির!”

সেই রাতে পুরো বাজারে উৎসব হলো।
চা ফ্রি।
সাইকেলের বেল বাজছে।
কেউ কমলা আতশবাজি ফাটাচ্ছে।

আর কুদ্দুস চাচা দোকানের সামনে দাঁড়িয়ে একটা কথাই বলছিল—

“ফুটবল মানুষকে কষ্ট, আনন্দ দেয় …
কিন্তু ডাচ সাপোর্টাররা আলাদা লেভেলের ফুটবল গ্রহের জীবনচক্র !” 🧡⚽🤣

02/06/2026

সময় পেলেই আমরা হোয়াটসঅ্যাপে কথা বলি। নিত্যদিনি এমন। মধুর কথা হলেও ভাবিতেই সীমাবদ্ধ। কারণ তিনি আমার ভাবি। বিকজ আই লাভ হিম ভাবি। ক্যাপশনটা ভাবীর জন্য ছিল!🤠🥰

13/05/2026

শত্রুপক্ষ হারাবে তো দূরের কথা। সামনে খাঁড়া পাই না। মূলত হারি ভালোবাসায়। আত্মবিশ্বাসী তে!🤠🥰

10/05/2026

খারাপ মানুষ ভালো হয়ে আবার খারাপ হয়ে গেলে। আরো বেশি খারাপ হয়। বাণী.................?

10/05/2026

তুমি আমার আদাত, অপেক্ষায় রইলাম সোনা//🤠🥰🕝

03/05/2026

মানুষ যেখানে বসে হারামি টাইপ কাব্যগ্রন্থ লিখে। আমি সেখানে মাফিয়া টাইপ কাজ করে আসি!🤠🎯

01/05/2026

কেউ একজন বলছিল ঝগড়ার সময়। তুই যদি মাফিয়া হতে না পারিস। আমার কবরে মাটি দিবি না। আর আমি চাই। তোর মাফিয়া হওয়া দেখেই আমি মৃত্যুর স্বাদ নেব। লেখাপড়া করলি না। যা হবি হ। বাণীটা, আমার মা!🤠

28/04/2026

বরাবরই এমন প্রশ্নের মুখোমুখি হই। চেনা বা অচেনা। নিজগ্রাম বা পার্শ্ববর্তী। ভাই ফ্রেন্ড রিকোয়েস্ট একসেপ্ট করেন। তো আমার কথা, আরে ভাই-আমার ফেইসবুক প্ল্যাটফর্ম ব্লক রাখি না। আমার সমস্ত পোস্টও ছবি দেখতে পাও। ইনবক্স তুলে রাখি নাই, মেসেজ ও আদান প্রদান করা যায়। তার ওপর ভাইরাল হতে চাই না। এজন্যেই আমি ফলোয়ার সিস্টেম চালু করি না। এজন্য ভাই তোমার ফলোয়িং হাওয়ার হেসেলও নেই। স্ক্রীনশট ও অনলি মি করে রাখি নাই। ইনবক্স মেসেঞ্জারও ৮ ঘন্টা অন্তর অন্তর বাতি নিভায় না। এক কথায় স্টিল এন্টিন করি না মেসেঞ্জার, সব সময় অনলাইনে প্রকাশ্যে। তুমি যা ইচ্ছা তাই করতে পারবে আমার মেটা ফেইসবুক প্ল্যাটফর্ম অনুসন্ধানে। তাই অনেকের ফেইসবুক ফ্রেন্ড রিকোয়েস্ট একসেপ্ট করি না!🙏

Address

Assasuni
Satkhira
9460

Website

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when Frada posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Shortcuts

Share