13/05/2026
এই রাতে ৫ দফা দাবিতে উত্তাল জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়। আন্দোলন থেকে প্রক্টরের পদত্যাগের দাবি....
তবে আমার মনে হচ্ছে সুষ্ঠু বিচারের দাবির প্রতি জোর না দিয়ে, ভিসি প্রক্টর এর পদত্যাগ চাওয়ায় জোর দেওয়া একটি স্বার্থান্বেষী গোষ্ঠীর পরিকল্পিত চাল। এখন তারা আন্দোলনকে অন্যদিকে ডায়ভার্ট করার চেষ্টা করছে বলে মনে হচ্ছে।
📌 সিনেট ভবন, জাবি
গত রাতের ঘটনায় ভিক্টিমের লোমহর্ষক বর্ণনা -
মে ১২, ২০২৬ তারিখে দিবাগত রাত আনুমানিক ১১:১৩ মিনিটে পুরাতন ফজিলাতুন্নেছা হল সংলগ্ন (আল বেরুণী এক্সটেনশনের মধ্যবর্তী) রাস্তায় সাদা টিশার্ট, কালো প্যান্ট পরিহিত এক ব্যক্তি আমাকে অনুসরণ করেন। সন্দেহজনক গতিবিধী দেখে আমি তাকে তার পরিচয় জিজ্ঞেস করলে তিনি জানান তিনি ৪৮ তম আবর্তন এর শিক্ষার্থী এবং তার বাসা বিশমাইল। বিশ্ববিদ্যালয়ের ফরমাল পরিচয় জিজ্ঞেস করলে তিনি তা বলতে পারেন না এবং পরক্ষণেই তিনি তার হাতে থাকা কোন দড়িসদৃশ বস্তু আমার গলায় পেঁচিয়ে আমাকে টেনে হিঁচড়ে রাস্তার পাশের অন্ধকার ঝোপঝাড়ে নিয়ে যান। তিনি সেখানে আমার নাক-মুখ চেপে ধরে শ্বাসরোধ করে হত্যা করার চেষ্টা করেন এবং আমাকে বিবস্ত্র করার চেষ্টা করেন । ধস্তাধস্তির এক পর্যায়ে আমার শরীরের বিভিন্ন জায়গায় ছিঁড়ে, কেটে যায়। এক পর্যায়ে আমি তাকে অনুরোধ করি তিনি যা বলবেন আমি তাই করবো কিন্তু তিনি যেনো আমাকে হ/ত্যা না করেন। এতে আশ্বস্ত হয়ে সে বাঁধন কিছুটা শিথীল করলে সেই সুযোগে আমি সাহায্যের জন্য "হেল্প হেল্প" "বাঁচাও বাঁচাও” বলে চিৎকার করি। আমার চিৎকারে পার্শ্ববর্তী রাস্তায় লোক জড়ো হলে সে ঝোপঝাড় এর ভিতরে পালিয়ে যায়। আমি বের হয়ে চিশতী, শফিক ভাই, জাহীদ ভাই সহ কয়েকজনকে ঘটনা সম্পর্কে অবগত করলে তারা তাকে খুঁজতে গিয়ে ব্যর্থ হন।
পরবর্তীতে আমাকে প্রত্যক্ষদর্শীরা বিশ্ববিদ্যালয় মেডিকেল সেন্টারে নিয়ে যান ও আমি প্রাথমিক চিকিৎসা পাই। অতঃপর আমরা সবাই প্রক্টর অফিসে অপরাধী শণাক্তকরণ ও ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য যাই এবং সিসি-টিভি ফুটেজে পুরো ঘটনা ধরা পড়ে।
[ শ্বাস রোধের সময় আমার চোখ মুখ চারদিক অন্ধকার হয়ে যায় , আসামীর বাম কানে ও পাশের গাছে আঁচড় দেই । আর এক সেকেন্ড বেশি চেপে রাখলে আমি মারা যাইতাম । একটা ছেলের জায়গায় দুই টা ছেলে থাকলে বা আমার জায়গায় একটু দুর্বল মেয়ে থাকলে সকালে ন/গ্ন লা/শ পড়ে পাওয়া যেতো । তারপর মশাল জ্বালিয়ে কয়েকজন মিছিল করতো। তারপর কিছুদিন পরে সবাই অন্য ব্যস্ততায় ভুলে যেতো । মাঝখান থেকে শুধু আমার পরিবার সাফার করতো । কিন্তু বেঁচে ফেরার জন্য এই ঘটনাকে ওতোটা গুরুত্ব দেওয়া হলো না কারণ - ইনস্ট্যান্ট বলার পরেও যে- "আসামী জঙ্গলের ভিতর এই আছে" , সজল ভাই সহ যারা ছিলো তারা প্রপারলি খুঁজে নাই । এক মিনিট খুঁজেই বলে যে- পাই না । ১১ টার ঘটনা কিন্তু সব গেট বন্ধ করছে ১২.৩০ টায় । জাকসু এর নারী নেত্রী আসছেন ২.৩০ টায় তাও আসার পরে কোনো দিক নির্দেশনা তো দূরে থাক, আমার সাথেও কথা বলে নাই । কাইন্ড অফ জাস্ট মুখ দেখাইতে বা অ্যাটেনডেন্স দিতে আসছেন । সিসি ক্যামেরা চেক করার জন্য অপারেটর নাকি রাতে থাকে না । আমার প্রশ্ন দুর্ঘটনা কি দিনে বেশি ঘটে নাকি রাতে ? রাতে কেনো থাকবে না একজন ? আবার দুই দিন হলো নাকি সালাম বরকত আর কোয়ার্টার এর মধ্যবর্তী সিসি ক্যামেরা নষ্ট। সাংবাদিক এর কেও একজন পুরো ক্লিপ নিতে চাইলে আমি মানা করি যে শুধু ক্রিমিনাল এর ভিডিও নেন । তিনি তখন তার পরিচয় দেওয়া শুরু করেন । আমি তখন বলি আপনি যে ই হন আমি আমার কোনো কিছু দিতে চাচ্ছি না । অতঃপর আমার নিরাপত্তা, কনসেন্ট এর চেয়ে তার মেল ইগোর প্রায়োরিটি বেশি হয় , তিনি রাগ করে বের হয়ে যান । প্রক্টর স্যার বললেন সকালে নাকি চিঠী দিতে হবে তারপর বিশ্ববিদ্যালয় স্টেপ নিবে । আমার পাশে থাকা শিক্ষার্থী দের চাপে পরে পুলিশ কে কল দিয়েছেন তিনি , তারপর রাতেই কমপ্লেইন দেওয়া হয়েছে। সকাল ৮ টায় নাকি জিডি হবে । আমার সবার কাছে প্রশ্ন - পুরো বিশ্ববিদ্যালয় চুপ কেনো ? আপনাদের ভয়েস রাইজ করার জন্য আমার কী মারা যাওয়াই উচিত ছিলো ? ]
এমতাবস্থায়, আমি শারীরিক ও মানসিকভাবে বিপর্যস্ত এবং আমি ও ক্যাম্পাসের নারী শিক্ষার্থীরা আমাদের নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কিত। বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিতরে পাবলিক স্পেসে এরকম ধর্ষণ ও হত্যাচেষ্টার মতো ভয়াবহ ঘটনার বিরুদ্ধে প্রশাসনকে পূর্ণাঙ্গ এবং সর্বোচ্চ আইনী ব্যবস্থা অতি দ্রুত নিশ্চিত করার জোর দাবী জানাই এবং ভবিষ্যতে এমন ঘটনা যেন না ঘটে সে ব্যবস্থা নিশ্চিতকরণের দাবী জানাই ।
আপুরা যারা ছিলেন তাদেরকে ধন্যবাদ দিয়ে আমি শেষ করতে পারবো না । আপনারা যেভাবে সাপোর্ট, সিকিউরিটি, প্রাইভেসি মেইনটেইন করছেন আর ভয়েস রেইজ করছেন অতুলনীয় । আর ভাই দের ও অনেক ধন্যবাদ পরে হলেও আমার প্রাইভেসি বোঝার জন্য আর এতক্ষণ বাইরে থেকেও ধৈর্য ধারণ করে পাশে থাকার জন্য । যে ভাই রা টহল দিছেন, এভিডেন্স কালেক্ট করছেন তাদেরকে ধন্যবাদ দিয়ে শেষ করতে পারবো না। কিন্তু আপনারা সবাই প্লীজ প্রেশার ক্রিয়েট করুন । আদারওয়াইজ আরো খারাপ দিনের অপেক্ষা করুন ।
(নিরাপত্তাজনিত কারণে ভিক্টিমের নাম, ব্যাচ, ছবি, পরিচয় প্রকাশ করা হচ্ছে না । সব এভিডেন্স প্রক্টর আর পুলিশ এর কাছে আছে । আর ক্রিমিনাল এর ছবি, ভিডিও সবার কাছেই আছে এবং ঘটনার সত্যতা ও ভয়াবহতা সিসিটিভি ফুটেজে উপস্থিত সবাই দেখেছে )
© aesthetic_ju