29/12/2022
জীবন থেকে নেওয়া..
রাত্রি তখন ২টা বাজে । আপনারা জাগিয়া থাকিলেও থাকিতে পারেন কিন্তু যাহাদিগোর মাল চুরি করিবো দুঃখিত না বলিয়া লহিবো তাহারা জাগিয়া নাই। দিনেই মধ্যরাতের মিশন সমন্ধে মেসের সকলকে অবগত করা হইয়াছিলো এবং সকলেই অধীর আগ্রহে সহমত পোষণ করে।সেই মোতাবেক একটি খসড়াও প্রণয়ন করা হয় এবং সকলেই ইহাতে তাহার প্রাণ-মূল্যবান সাক্ষর দিয়ে সম্মতি জানায়। ইহার বিশেষ গুনটি হলো কোনো ভাবে কেউ ধরা পরিলে তাহার মুখখানা বন্ধ রাখিতে বাধ্য থাকিবে। যাক্ সে কথা বাদ দিন। রাতের ঘটনায় ফিরিয়া আসি । মধ্যরাতে সকলে আমার ঘরে চোর-ডাকাতের বেশভূষা ধারণ করিয়া আসিলো। প্রথমে আমি মিশনে যোগ দিতে ইচ্ছুক ছিলাম না। পরবর্তীতে তাহাদের জেদাজেদিতে আমিও মিশনে অন্তভূক্ত হইবার সিদ্ধান্ত নিলাম।তৎক্ষনাৎ মিশনের প্লান-পরিকল্পনা ভালোই চলিলো।
আপনাদিগোকে হয়তো নতুন করিয়া জানানোর প্রয়োজন পড়িবে না পূর্বের সফল মিশন সমন্ধে, ইহার প্রমান গ্রুপের ছবিতেই পাইয়াছিলেন । অতএব,পরিকল্পনা মোতাবেক যাহারা অভিজ্ঞা তাহাদের মূল মূল ভূমিকায় রাখা হইলো। যথারীতি প্রতিদিনের ন্যায় সেদিনও মেসের মূল ফটক টপকাইতে হইলো। কি করিবো বলেন, স্যারের লাগানো তালা ভাঙ্গার স্পর্ধা তো আমাদিগো কাহারো নেই। তার উপর স্যারের অত্যন্ত প্রিয় পোষা প্রাণীও আমাদিগোর বিরুদ্ধে। ইহা আপনারা না বুঝিলেও মেসের সকলেই বুঝিবে। তবে একটি কথা বলি, মানুষকে প্রাণী বলা যায়,ইহাতে দোষের তেমন কিছু নেই। এসব কথা না বলি। ততক্ষনে বাঁশ আনা হইলো এবং বাঁশের মাথায় ধারালো কাটারিও লাগানো সম্পন্ন করিলাম। আপনাদিগোকে বলিয়া রাখি আপনারা হয়তো ভাবিয়া বসিলেন সামান্য ডাব বা নারিকেলের জন্য এত বড় চুরি!
না চোরের অপবাদ আমাদিগোকে দিবেন না।যাহাকে আপনারা নারিকেল বা ডাব বলিলেন,তাহা আমাদিগোর কাছে সোনা বা হীরার তুলনায় কম নয়।ইহাতে আমাদিগো অনেক আবেগ-অনুভূতি জড়ানো। গাছের ফল সকলেই খাওয়ার অধিকার রাখে মোরা না হয় না বলিয়ায় খাইলাম ।যাইহোক, সকলেই নিজ নিজ অবস্থান নিয়ে চারিদিক ঘিরিয়া রাখিলাম, যেন ধরা পড়িতে না হয়।তখন দ্রুতই ৪টি হীরা ঘেচাং ঘেচাং কাটিয়া মাটিতে ফেলিলাম । তবে আমাদিগোর পঞ্চম হীরাটি মাটিতে পড়িবার কালে একটু বেশীই বিকট শব্দ করিয়া ফেলে। তাছাড়া গৃহপালিত পশুরাও অনেক বিরক্ত করিতে লাগিলো, উহাদের ঘেউ ঘেউ মধুর শব্দে আমাদিগোকে পালাইয়া আসিতে হইলো।ফলশ্রুতিতে, ৫টি হীরা লইয়ায় আমাদিগোকে মেসে ঢুকিতে হইলো। কারণ ধরা পড়িবার ঝুঁকি নিতে চাইবো কেন।ইহাতেও আবার অনেকেই চোরের উপর বাটপারি করিবার উপক্রম।আমি প্রধান ফটকের বাইরে থাকাতেই একটি হীরা আগেই হজম করিলো।আর আমাদিগো দুই দুইটি হীরা উধাও, পরে অনেক খুঁজিবার পর উহাদের দেখা মিলিলো।
রাত্রি তখন ৩টা বাজে। আমাদিগো কিচির-মিচির আওয়াজে স্যারেদের ঘুম ঠিক থাকিবার কথা নয়। তবুও উহা কেউ খেয়াল না করিয়া হীরা ও হীরার পানি খাওয়ার জন্য উঠে পড়ে লাগিলাম । অনেক যত্নসহিত হীরাগুলো কুচি কুচি করে কাটা হইতেছিলো মুড়ি দিয়ে খাইবো বলিয়া।এমন অবস্থায় দুষ্টু দুষ্টু গালিগালাজ করিতে করিতে হঠাৎ স্যার দরজা ঠেলিয়া আমাদিগো আসর ঘরে ঢুকিয়া পরিলো,যাহা কেউ কল্পনাতেও ভাবিয়া দেখি নাই। তৎক্ষনাৎ সকলে হীরা কাড়াকাড়ি বাদ দিয়ে মুখ লুকাইতে ব্যতিব্যস্ত হইয়া পড়িলো। স্যার সবকিছু উপলব্ধি করিয়া আল্লা্ আল্লা্ বলিয়া ঘর ত্যাগ করিয়া, নিজের ঘরে ঘুমাইতে গেইলেন। হয়তো স্যার নিজের আত্মসম্মানের কথা ভাবিয়া তেমন কিছু বলিয়া গেইলেন না, তবে আমাদিগোর মাঝে পরের দিনের বিচারের কথা ভাবিয়া সকলেই কষ্ট পাইলাম।কি আর করার, উপস্থিত সকলেই হীরা ভাগা-ভাগী করিয়া একটু অশান্তিতেই খাইলাম।তবে পরের দিন কিভাবে সামাল দেওয়া যায় ইহা ভাবিয়া একখানা ছোট বৈঠকও সারিলাম। সকলেই অনুতপ্ত হইয়া পরের দিন স্যারের কাছে ক্ষমা প্রার্থনার সিদ্ধান্তও নিলাম। কিন্তু পরের দিনে সকাল হইতে দুপুর পর্যন্ত স্যার রাতের সেই স্মৃতিবিদারক ঘটনার বিষয়ে মেসের কাউকে কোনো ইঙ্গিত না দেওয়ায়, আমরাও আর স্যারের কাছে ভুল স্বীকার করিতে গেইলাম না।
এভাবে ১ দিন, ২ দিন কেটে গেলো স্যার কিছুই বলিলো না--- এখান থেকে আমরা অনেক বড় শিক্ষা অর্জন করিলাম তাহা হইলো এই যে, পরবর্তী মিশনে অবশ্যই আমাদিগোকে সম্মতিপত্রে স্যারের মূল্যবান সাক্ষর লইতে হইবে। কারন স্যার আমাদিগোর পক্ষে আছে।🥰😂