07/12/2025
✦ ডায়েরির পাতা ✦
সকাল—
সাতটা ত্রিশে এলার্ম বাজে।
আসলে ওটা এলার্ম নয়—প্রতিদিনকার বন্দিত্বের তালা খোলার নিষ্প্রাণ চাবি।
ঝরনার ফোঁটায় রাতভর জেগে থাকা ক্লান্তি ধুয়ে যায়,
আর আমি সিঁড়ি বেয়ে নেমে যাই—
কিন্তু মনে প্রশ্ন জাগে, উঠে দাঁড়াবো কবে?
অফিস—
দরজায় ঢুকেই পাঞ্চ।
কার্ড ছোঁয়ার সাথে সাথে বুঝে ফেলি—
আজকের দিনটাও আগের দিনের মতোই
কারও নির্দেশে কাটবে।
লিফটে ওঠা মানে মনে হয়,
কোনো অজানা তদন্তের দিকে এগিয়ে চলেছি—
ক্লান্তিহীন কর্মব্যস্ততা মাথার ওপর ঝুলে থাকে,
আর অনবরত এক কণ্ঠ বলে যায়,
“অপেক্ষা করো… এটাই কেবল শুরু।”
দুপুর—
ল্যাপটপ খুলতেই দেখি—
মেইলের পর মেইল,
বাক্যগুলো এমন—যেন অচেনা কারও গুলিতে
বুকে এসে জমা হচ্ছে ক্লান্তি আর চাপ।
তারাপরা কমেন্ট, একের পর এক এক্সকিউজ,
কাগজের গলি পেরোতেই মনে হয়—
শ্বাসটাও যেন ধার করে নিতে হচ্ছে।
সাদা পরোটা প্রায়ই ঠান্ডা হয়ে যায়,
লাল চায়ের তিন চুমুকে
দিনটা যেন আত্মসমর্পণ করে বসে।
বায়ারের আবদার মানিয়ে
সাপ্লায়ারকে রাজি করাই—
প্রতিটা শব্দ যেন দর কষাকষির অদৃশ্য যুদ্ধ।
তারপর কমার্শিয়ালের প্রশ্নে নিজেকে মনে হয়
একটা প্রতিষ্ঠানের কর্মচারী নয়,
কারো অদৃশ্য রহস্য ফাঁসের সাক্ষী।
লাঞ্চ—
ডান পকেটে ফোন কেঁপে ওঠে।
গলায় ভাত আটকে যায়।
ছুটতে ছুটতে হঠাৎ মনে হয়—
আমার খাবারও আর আমার হয়ে থাকে না।
ব্যক্তিগত কল পাঁচটা—
তারও আগের দিন থেকে দুটি প্রতীক্ষায়।
ফিরে ফোন দেবো?
নাকি ফোনের ওই দিকটাও অফিসের মতোই বন্দী হয়ে আছে?
সন্ধ্যা—
ল্যাপটপের আলো জ্বলতেই থাকে,
বাইরের আলো নিভে গেছে—
কিন্তু কোন সময় তা খেয়াল করিনি।
আটটা বাজে—
আমি থেমে দাঁড়াই,
মনে হয় বারোটা ঘণ্টা কেড়ে নিয়েছে
শুধু সময় নয়—
আমার চারপাশের মানুষগুলোকেও।
রাত—
ডায়েরির পাতার শেষ লাইন লেখার আগে
একটা প্রশ্ন মাথায় ঘুরে—
“আজকের দিনটা কি আমি বেঁচে ছিলাম,
না কি শুধুই কাজ করে গেছি?”
তারপর হঠাৎ উপলব্ধি—
আমার স্বাভাবিক জীবন নিঃশেষ হয়ে গেছে,
আর চোখের সামনে জ্বলা
এই অফিস স্ক্রিনটাই
তার মৃত্যুসনদ হিসেবে দাঁড়িয়ে আছে।