24/05/2021
ফিলিস্তিন ইস্যুতে সৌদির ভুমিকা ও ইরানী মিডিয়া।
🇸🇦🇵🇸🇸🇦🇵🇸🇸🇦🇵🇸🇸🇦🇵🇸🇸🇦🇵🇸🇸🇦
বাংলাদেশ ও ভারতের বহু মানুষের প্রশ্ন ইসরাইল ফিলিস্তিনে আক্রমণ করলে সৌদি কেন চুপ থাকে❓
আচ্ছা সৌদিকে নিয়ে ফিলিস্তিনিদের কোন অভিযোগ নেই কেনো?
কেউ দেখাতে পারবেন ফিলিস্তিনের কোন নিউজে সৌদিকে নিয়ে কোন খারাপ মন্তব্য ?❓
তাহলে আপনাদের এত অভিযোগ কেনো❓
মায়ের চেয়ে মাসির দরদ বেশি❓
ফিলিস্তিন নিয়ে আপনাদের এত মায়া❓
সাড়ে ১৬ কোটি মানুষের ৯০ ভাগ মুসলমানের দেশ বাংলাদেশ, কিন্তু এজন্য দলীয় ব্যানারে মিছিল ছাড়া কেউ কি এক বেলা কম খেয়ে সেই খাবার বা অর্থ ফিলিস্তিনের নির্যাতিত মুসলমানের জন্য পাঠিয়েছেন কখনো❓
কিন্তু যে সৌদিকে গালি দেন তারা হাজার হাজার কোটি টাকা ফিলিস্তিনকে দেয়।
ফিলিস্তিন বলতে আপনারা কেবল গাজাকেই বোঝেন, তাই না?
আপনারা কি জানেন ফিলিস্তিন রাষ্ট্রটি টিকে আছে কেবল সৌদির সাহায্যে?
তথ্যটি নতুন লাগছে?
নতুন তো লাগবেই, সারাজীবন ইরানের সংবাদ ও ইরানের সংবাদ কপি পেস্ট করা বাংলাদেশের পত্রিকায় প্রকাশিত সংবাদ পড়ে মগজ নষ্ট করে ফেলেছেন, এখন আমার কথা আর মগজে ঢুকছে না। তাই না?
আমিও সংবাদের মানুষ। প্লিজ আমাকে কেউ সংবাদের সূত্র শেখাবেন না।
বাংলাদেশের সবচেয়ে জনপ্রিয় টেলিভিশনের বার্তা সম্পাদক ছিলাম। আমি বা আমার পর্যায়ের সাংবাদিকরা নিউজ পড়লেই বুঝতে পারে এটা কোন এ্যাজেন্সির নিউজ, এবং উদ্দেশ্য কি?
প্লিজ সৌদির নিউজ সাইট ও ফিলিস্তিনের নিউজ সাইটগুলো বা ফেসবুক পেইজগুলো ফলো করেন, অনেক বিষয়ে ক্লিয়ার হবেন।
জেরুজালেমে ইসরাইলের রাজধানী হস্তান্তর আটকে দিয়েছিলো কে?
তুরস্ক, তাই না?
তুরস্কের এত ক্ষমতা?
যদি এরদোগান সাহেবের এতই ক্ষমতা থাকতো তবে, মার্কিন এক যাজককে রাষ্ট্রবিরোধী কাজে গ্রেপ্তার করেও ট্রাম্পের ভয়ে ছেড়ে দিতো না!
ঐ সময় বিবিসি সিএনএনসহ বড় বড় সংবাদ মাধ্যমগুলো দেখছেন?
সৌদি বাদশা সালমান মার্কিন এ্যাম্বেসি জেরুজালেমে হস্তান্তরের বিষয়ে কী হুংকার দিয়েছিলো?
সেই হুংকারে মার্কিনিরা সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করেছিলো।
যখন জাতিসংঘ ফিলিস্তিন- ইসরাইল ইস্যুতে সদস্যরাষ্ট্রদের ভোটের আয়োজন করে তখন সৌদির টাকার নিচে মার্কিন সরকার পরাজিত হয়, মনে আছে? মার্কিন ও ইসরাইলের বন্ধুরাষ্ট্রগুলোও ইসরাইলের পক্ষে ভোট দেয়নি। বড় ব্যবধানে জয়ী হয় ফিলিস্তিন। কি করে সম্ভব হলো ভাবছেন?
সৌদি অনেকটা নিরবে ভোট দাতা রাষ্ট্রগুলোকে অনেক বড় অংকের টাকার বিনিময়ে কিনে ফেলে। সৌদি আওয়াজ দিয়ে দান করে না, সেবা দেয় না। সৌদি মুসলিম রাষ্ট্রগুলোকে গোপনে সাহায্য করে; সাদকাহ হিসেবে।
যাহোক, মার্কিন সরকার ও ইসরাইল পরাজিত হলে বহু মার্কিন জার্নালে এমন সংবাদ প্রকাশ পায়। স্বয়ং মার্কিন সরকার অভিযোগ তোলেন, সৌদির টাকার কাছে ইসরাইল পরাজিত। এবার বলুন ফিলিস্তিনের জন্য সৌদির অবদান কি?
এখন বলবেন সৌদি আমেরিকার দালাল?
আচ্ছা যদি দালালই হয় তবে মার্কিন দালাল সাংবাদিক জামাল খাশকজিকে সৌদি কেনো হত্যা করবে?
আর যদি সৌদি হত্যা করবে তবে মার্কিনিরা এত ক্ষেপলো কেনো?
আপনারা তো মার্কিন দালাল নন, তাই না?
তাহলে যে খাশকজিকে হত্যার অভিযোগে মার্কিনিরা এত ক্ষেপছে তার জন্য আপনাদের এত দরদ উপছে পড়ছে কেনো? সে তো মার্কিন মদদপুষ্ট ছিলো।
প্লিজ সৌদি বিরোধীরা উত্তর দিয়েন।
আচ্ছা আপনারা সবাইতো এরদোগানকে ভালোবাসেন। সময়ের শ্রেষ্ঠ হিরো ভাবেন। আমিও আপনাদের মতই এরদোগানের ভক্ত। কিন্তু একটা প্রশ্ন আছে।
সৌদিকে ইসরাইলের বন্ধু ও আমেরিকার দালাল বলেন কেনো?
এরদোগান কি মার্কিনিদের দালাল নন?
তাহলে সিরিয়াতে ইরান আসাদ ও রাশিয়ার বিরুদ্ধে আমেরিকার সাথে হাতে হাত মিলিয়ে তুরস্ক যুদ্ধ করছে কি করে? দ্বিতীয় মুসলিম রাষ্ট্র হিসেবে তুরস্কই ন্যাটোর সদস্য।
আপনারা জানেন, সৌদিতে ইসরাইলের কোন এ্যাম্বেসি নেই। কিন্তু তুরস্কে ইসরাইলের এ্যাম্বেসি আছে।
তাহলে এবার বলুন কে কার বন্ধু?
আপনাদের আরো বলি, সৌদি সরকার ইহুদি বা ইসরাইলের নাগরিকদের তার দেশে কখনো ভিসা দেয় না। তার মানে ইহুদিরা কখনো সৌদিতে ঢুকতে পারে না।
এ কেমন বন্ধু সৌদি, যারা নিজের ঘনিষ্ঠ বন্ধুকে তার দেশেই ঢুকতে দেয় না?
তারপরও আপনাদের কেনো মনে হলো সৌদি ইসরাইল বন্ধু?
ইরানের বানানো মিথ্যা সংবাদগুলো মুসলমানদের বিভক্ত করে ফেলছে।
আপনারা জানেন পৃথিবীর যে দেশেই মুসলমান মুসলমান যুদ্ধ করছে সেখানেই শিয়া ও ইরান জড়িত?
একটু বিবেক খুলে মিলিয়ে দেখুন, কারা মুসলমানদের হত্যা করছে?
সিরিয়া ইয়েমেন গাজা সবখানেই শিয়া সুন্নি দ্বন্দ্ব।
অথচ সব দোষ সৌদির?
কতটা বেকুব আমরা। সুন্নি হয়েও শিয়াদের মিথ্যা তথ্যে ভর করে সুন্নিদের গালি দিচ্ছি।
ক'মাস আগে একটি খবর চাউর হয়েছিলো ফিলিস্তিনিরা সৌদির ত্রান গ্রহণ করেনি।
এই খবরটি ইরানী মিডিয়া ঘুরে বাংলাদেশের কিছু মিডিয়াতে প্রকাশ পায়।
পরে জানা গেলো তথ্যটি পুরোপুরি মিথ্যা।
ফিলিস্তিনে দুটি ভাগ আছে। একটি সুন্নি মদদপুষ্ট, আরেকটি শিয়া মদদপুষ্ট। পুরো ফিলিস্তিন রাষ্ট্রটি চলে সৌদি আরবের পরামর্শে। ফিলিস্তিনকে আরবরাষ্ট্রগুলো সৌদির অনুরোধে প্রতিবছর বড় অংকের আর্থিক সহায়তা করে থাকে। সেই টাকায় রাষ্ট্রটি টিকে আছে।
আবার গাজায় হামাসের মধ্যে দুটো ভাগ আছে।
একটি শিয়াপন্থি একটি সুন্নিপন্থি।
শিয়ারা ইরানের মদদে চলে। সুন্নিরা সৌদির মদদে চলে।
যখন ইসরাইলের সাথে গাজায় যুদ্ধ চলে তখন দরিদ্র ইরান কৌশলে হামাসের কাছে জংধরা অস্ত্রগুলো বিক্রি করে দেয়। এই ক্ষেত্রে ঠিক মার্কিনিদের পলিসি গ্রহণ করেছে ইরানীরা।
মার্কিনিরা যেমন বিভিন্ন দেশকে উপ্তপ্ত করে দিয়ে অস্ত্র বিক্রি করে, ইরানও ঠিক তেমনই করে। কলা বেচাও হয় রদ দেখাও হয়।
আর খবরে বড় বড় করে প্রকাশ করে হামাসকে অস্ত্র দিয়ে সাহায্য করছে ইরান!
একটা বিষয় ভাবছেন কখনো?
খুব একটা দেখেছেন বিবিসি,সিএনএন,আল জাজিরা, রয়টার্স, গার্ডিয়ান, নিউইয়র্ক টাইমস ইরান নিয়ে উল্টা পাল্টা বাকওয়াচ নিউজ করেছে কখনো?
কিন্তু তারা প্রায়ই সৌদিকে নিয়ে বাকোয়াচ নিউজ করে।
এবার নিজেকে প্রশ্ন করুন পশ্চিমা মিডিয়া কাদের বন্ধু?
যদি সৌদি মার্কিনিদের দালাল হবে, ইসরাইলের বন্ধু হবে তাহলে তাদের গণমাধ্যে সৌদির বিরুদ্ধে সব সময় মিডিয়া সন্ত্রাস চালায় কেনো?
ইরানতো বরাবরি মার্কিনিদের শত্রু বলে জানি তাহলে মার্কিনা ইরানের বিরুদ্ধে মিডিয়ায় চুপ কেনো?
আমি মিডিয়ার মানুষ, আপনাদের বিবেককে জাগাতে আমার পোস্টে কিছু প্রশ্ন রেখে গেলাম। সেই প্রশ্নগুলো নিয়ে গভীরভাবে ভাববেন। জিততে হবে বলে তর্কে যাবেন না। মনে রাখবেন সত্য প্রতিষ্ঠায় নিজের ভুল স্বীকার করে পরাজিত হওয়ার মাঝেও অনেক বড় বিজয় থাকে। তার নাম সত্যের বিজয়।
আমারও জানাতে ভুল হতে পারে, পারলে সেই ভুল ধরিয়ে দিবেন।
পুরো পৃথিবীর সব মিডিয়াই কোন না কোন উদ্দেশ্যে পরিচালিত হয়। তাদের নিজস্ব পলিসি থাকে।
সেই পলিসির কারনে কখনো কখনো তারা সত্যকে মিথ্যা আর মিথ্যাকে সত্য বানায়।
বাকিটা পরের পর্বে.........ইন-শা-আল্লাহ।
*লেখকঃ মাসুম মাহবুব।*
⤴️ *শেয়ার করুন সবার সাথে।*