30/03/2026
হামের টিকা দিলেও হামে আক্রান্ত হতে পারে শিশু ।
হাম (Measles) একটি অত্যন্ত সংক্রামক ভাইরাসজনিত রোগ, তবে সঠিক সচেতনতা এবং পদক্ষেপে এর ঝুঁকি কমানো সম্ভব। আতঙ্কিত না হয়ে নিচের পদক্ষেপগুলো গ্রহণ করা জরুরি:
১. দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নিন
যদি শরীরে লালচে দানা বা র্যাশ দেখা দেয় এবং সাথে প্রবল জ্বর থাকে, তবে দেরি না করে নিকটস্থ স্বাস্থ্যকেন্দ্র বা চিকিৎসকের সাথে যোগাযোগ করুন। বিশেষ করে শিশু, অন্তঃসত্ত্বা নারী বা রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা কম এমন ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে দ্রুত চিকিৎসা শুরু করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
২. আক্রান্ত ব্যক্তিকে আলাদা রাখা (Isolation)
হাম অত্যন্ত দ্রুত ছড়ায় (হাঁচি-কাশির মাধ্যমে)। তাই:
আক্রান্ত রোগীকে অন্তত ৭ থেকে ১০ দিন একটি আলাদা রুমে রাখুন।
রোগীর ব্যবহৃত থালা-বাসন, তোয়ালে বা কাপড় অন্য কেউ ব্যবহার করবেন না।
পরিবারের সুস্থ সদস্যদের, বিশেষ করে শিশুদের রোগীর সংস্পর্শ থেকে দূরে রাখুন।
৩. পুষ্টি ও তরল খাবার
জ্বরে শরীর পানিশূন্য হয়ে যায়, তাই রোগীকে প্রচুর পরিমাণে পানি, ফলের রস, ডাবের পানি বা স্যুপ খেতে দিন।
ভিটামিন-এ (Vitamin A): হামের জটিলতা কমাতে চিকিৎসকরা সাধারণত ভিটামিন-এ ক্যাপসুল সাজেস্ট করেন। এটি অন্ধত্ব বা নিউমোনিয়ার ঝুঁকি কমায়। চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী ডোজ নিশ্চিত করুন।
সহজে হজম হয় এমন পুষ্টিকর খাবার খেতে দিন।
৪. জ্বর ও র্যাশের যত্ন
জ্বর কমানোর জন্য চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী প্যারাসিটামল জাতীয় ওষুধ সেবন করা যেতে পারে।
শরীর ভেজা কাপড় দিয়ে আলতো করে মুছে দিন (Sponge bathing)।
র্যাশ বা দানার চুলকানি কমাতে ক্যালামাইন লোশন ব্যবহার করা যেতে পারে, তবে যেকোনো মলম ব্যবহারের আগে ডাক্তারকে জিজ্ঞেস করে নিন।
৫. প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা (টিকাদান)
হামের সবচেয়ে কার্যকর প্রতিরোধ হলো এমআর (MR) টিকা। আপনার বা আপনার শিশুর যদি টিকার ডোজ বাকি থাকে, তবে দ্রুত তা সম্পন্ন করুন।
আশেপাশে কেউ আক্রান্ত হলে বাড়ির অন্য সদস্যদের (যাদের টিকা দেওয়া নেই) দ্রুত টিকার আওতায় আনা প্রয়োজন।
৬. বিপদাশঙ্কা বা রেড ফ্ল্যাগ
নিচের লক্ষণগুলো দেখা দিলে দ্রুত হাসপাতালে নিতে হবে:
শ্বাসকষ্ট বা দ্রুত শ্বাস নেওয়া।
প্রবল মাথাব্যথা বা ঘাড় শক্ত হয়ে যাওয়া।
অজ্ঞান হয়ে যাওয়া বা খিঁচুনি হওয়া।
কান দিয়ে পুঁজ পড়া বা চোখের মণি সাদা হয়ে যাওয়া।
সতর্কতা: কোনো অবস্থাতেই চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া অ্যান্টিবায়োটিক বা অন্য কোনো কড়া ওষুধ সেবন করবেন না। ব্যক্তিগত পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখুন এবং বাইরে বের হলে মাস্ক ব্যবহার করুন।