10/08/2026
প্রাইভেট টিউটরদের আড্ডায় বা গল্পে একটা অভিজ্ঞতা প্রায় সবারই কমন— অভিভাবক পাশে বসে থেকে টিউটরকে ‘শেখান’ কীভাবে পড়াতে হবে!
অবশ্য সন্তানকে নিয়ে তাদের এই অভিভাবকসুলভ চিন্তাকে একদিক থেকে সাধুবাদ জানানোই যায়। কিন্তু প্রশ্নটা ওঠে অন্য জায়গায়। যখন অভিভাবকের দেওয়া সুনির্দিষ্ট ইন্সট্রাকশন আর কড়া নজরদারির ভিত্তিতে টানা পড়ানোর পরও সন্তান ফেল করে, তখন আসলে দায়টা কার?
যে ছেলেটি বা মেয়েটি টিউশন করাতে যায়, সে কি জানে না কীভাবে পড়াতে হয়? একজন শিক্ষক যখন কোনো ছাত্রকে দু-তিন দিন পড়ান, তখনই তিনি বুঝে যান সেই ছাত্রের শেখার ক্ষমতা কতটা, তার দুর্বলতা কোথায় এবং তাকে কীভাবে বোঝালে পড়া মাথায় ঢুকবে। সেখানে প্রতিদিন পাশে বসে ইন্সট্রাকশন দেওয়া কিংবা নজরদারি করা কি শিক্ষকের যোগ্যতার ওপর অনাস্থা প্রকাশ নয়?
অভিভাবকদের এই নজরদারি আবার শুধু পড়ার নিয়মেই সীমাবদ্ধ থাকে না, ক্যালেন্ডারের পাতাতেও ছড়িয়ে পড়ে। কয়দিন পড়ানো হলো, কয়দিন মিস হলো—সেটার হিসেব থাকে একদম আঙুলের ডগায়। এমনকি ঈদের আগে ১২ দিনের জায়গায় ১১ দিন পড়ানো হলে, বাকি ১ দিনের পড়া ঈদের পর বুঝিয়ে না দেওয়া পর্যন্ত পারিশ্রমিক আটকে রাখা হয়!
সমস্যাটা এখানেই—আমাদের সমাজে অনেকেই চান সর্বনিম্ন পারিশ্রমিকে সর্বোচ্চ ফলাফল। কিন্তু বাস্তব তো অন্য কথা বলে। ৩৫ টাকা কেজি আর ৮০ টাকা কেজি বেগুনের মান কি কখনো এক হয়?
স্বল্প পারিশ্রমিকে শিক্ষককে মানসিক চাপে রেখে, তার নিজস্ব পড়ানোর স্বাধীনতা কেড়ে নিয়ে, আর প্রতিদিন হিসেব মিলিয়ে চলা অভিভাবকত্ব কখনোই কাঙ্ক্ষিত ফলাফল এনে দিতে পারে না। ভালো রেজাল্ট পেতে হলে টিউটরের ওপর আস্থা রাখুন, তাকে তার মতো করে পড়ানোর স্বাধীনতা দিন এবং তার যোগ্যতার সঠিক মূল্যায়ন করুন।