31/03/2026
ব্রিটেনের ব্রেক্সিট গণভোটের কথা মনে আছে? যেখানে মাত্র ৫১.৯% মানুষ ইউরোপীয় ইউনিয়ন ছাড়ার পক্ষে রায় দিয়েছিল। মাত্র ৩.৮ শতাংশের সামান্য ব্যবধান! অথচ সেই সামান্য সংখ্যাকেই ব্রিটেন তাদের 'জনগণের পবিত্র রায়' হিসেবে মেনে নিয়ে পুরো রাষ্ট্রের দিক পরিবর্তন করে ফেলেছিল।
এবার তাকান ২০২৬ সালের বাংলাদেশের দিকে। নির্বাচন কমিশনের চূড়ান্ত গেজেট (১৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬) অনুযায়ী, আমাদের সংস্কারের পক্ষে 'হ্যাঁ' ভোট পড়েছে ৪,৮২,০০,৬৬০টি, যা মোট প্রদত্ত ভোটের প্রায় ৬৯% (৬৮.২৬%)!
বিপরীতে 'না' ভোট পড়েছে মাত্র ৩১.৭৪%।
তফাৎটা বোঝেন: ব্রিটিশরা যেখানে ৩% ব্যবধানে রাষ্ট্র বদলে দেয়, সেখানে আমরা ৩৬% ব্যবধানের এক বিশাল 'ম্যান্ডেট' দিয়েছি। এই ৬৯ শতাংশের মধ্যে মিশে আছে জুলাই ২০২৪-এর সেই তরুণদের স্বপ্ন, যারা আবু সাঈদের মতো বুক পেতে দিয়েছিল, মুগ্ধর মতো 'পানি লাগবে' বলে মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েছিল। ব্রেক্সিটের চেয়েও কয়েক গুণ শক্তিশালী এই জনমতকে যারা অগ্রাহ্য করার কথা ভাবে, তারা কি জানে তারা কার সাথে খেলছে?
যদি কোনো সরকার বা সংসদ এই গণরায়ের সাথে বেইমানি করে তা বাতিল করে, তবে সংবিধানের ৭(ক) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী তাদের পরিণাম হবে ভয়াবহ। এই অনুচ্ছেদে পরিষ্কার বলা আছে:
১. কোনো ব্যক্তি যদি শক্তি প্রয়োগ বা অন্য কোনো অসাংবিধানিক পন্থায় সংবিধানের কোনো বিধান (যেমন গণভোটে পাস হওয়া সংস্কার) বাতিল, স্থগিত বা রহিত করার চেষ্টা বা ষড়যন্ত্র করে, তবে তা হবে রাষ্ট্রদ্রোহিতা।
২. যারা এই কাজে প্ররোচনা দেবে বা সমর্থন করবে (যেমন সংসদে ভোট দেওয়া এমপি-রা), তারাও সমান অপরাধী।
৩. শাস্তি: এই অপরাধের শাস্তি হবে প্রচলিত আইনের 'সর্বোচ্চ শাস্তি'। বাংলাদেশের আইন অনুযায়ী রাষ্ট্রদ্রোহিতার সর্বোচ্চ শাস্তি হলো মৃত্যুদণ্ড বা যাবজ্জীবন কারাদণ্ড।
জুলাইয়ের রাস্তায় তোমরা যারা রক্ত দিয়েছো, এই ৬৯% 'হ্যাঁ' ভোট তোমাদের সেই রক্তের আমানত। কোনো বুড়ো রাজনীতিবিদ বা সুবিধাভোগী এমপি যদি ভাবে এসি রুমে বসে তোমাদের এই রায়কে ফাইলবন্দি করবে, তবে মনে রেখো—সংবিধানের ৭(ক) ধারা কেবল কাগজে লেখার জন্য নয়, এটি বিশ্বাসঘাতকদের ফাঁসিকাষ্ঠে ঝোলানোর হাতিয়ার।
জনগণের এই রায় বাতিল করার অর্থ হলো রাষ্ট্রের ওপর ক্যু করা। আর যারা ক্যু করে, তাদের ক্ষমা নেই!
#গণভোট #জুলাই #ছাত্র