13/07/2026
কয়েক দশকের মধ্যে ফুটবলে নিজেদের অন্যতম সেরা সময় পার করছে নরওয়ে। স্মরণীয় এক খেলায় ব্রাজিলকে বিদায় করে ফিফা বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে পৌঁছেছে দলটি।
টুর্নামেন্টে ইতোমধ্যে সাত গোল করা আর্লিং হালান্ডের নেতৃত্বে বিশ্বমঞ্চে নতুন ইতিহাসের পেছনে ছুটছে নরওয়ে।
তবে বিশ্বকাপের এই অসাধারণ যাত্রার আগেই ফুটবল মাঠে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছিল স্ক্যান্ডিনেভিয়ার দেশটি।
২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপ বাছাইপর্বের ‘আই’ গ্রুপে দুবার ই/স/রা/য়ে/লের মুখোমুখি হয়ে দুই ম্যাচেই জয় পায় নরওয়ে। আর দ্বিতীয় ম্যাচটি শুধু মাঠের ফলাফলের কারণেই নয়, মানবিক এক সিদ্ধান্তের কারণেও স্মরণীয় হয়ে আছে।
২০২৫ সালের মার্চে প্রথমবার ই/স/রা/য়ে/লের মুখোমুখি হয়ে তাদের মাঠে ৪-২ গোলে জয় পায় নরওয়ে।
কয়েক মাস পর, ২০২৫ সালের ১১ অক্টোবর অসলোতে উলেভাল স্টেডিয়ামে আবারও মুখোমুখি হয় দুই দল। এবার ই/স/রা/য়ে/লকে ৫-০ গোলে বিধ্বস্ত করে নরওয়ে।
ম্যাচের নায়ক ছিলেন আর্লিং হালান্ড।
২৭, ৬৩ ও ৭২ মিনিটে গোল করে হ্যাটট্রিক পূর্ণ করেন নরওয়ের এই তারকা স্ট্রাইকার। পাশাপাশি ই/স/রা/য়ে/লের আনান খালাইলি ও ইদান নাখমিয়াস দুটি আত্মঘাতী গোল করেন। ফলে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বিশ্বকাপ বাছাইপর্বে নিজেদের অন্যতম বড় জয় পায় নরওয়ে।
তবে ম্যাচটি শুধু ফুটবলের কারণেই গুরুত্বপূর্ণ ছিল না।
গা/জা/য় যু*দ্ধ ও মানবিক সংকটের মধ্যে অনুষ্ঠিত এই ম্যাচের আগে অসলোতে ফি/লি/স্তি/নে/র সমর্থনে মিছিল করেন কয়েকশ বিক্ষোভকারী। তাদের হাতে ছিল ফি/লি/স্তি/নের পতাকা ও বিভিন্ন ব্যানার। গা/জার মানবিক সংকটের প্রতি বিশ্ববাসীর দৃষ্টি আকর্ষণের আহ্বান জানান তারা।
ম্যাচ ঘিরে স্টেডিয়ামের নিরাপত্তাও বাড়ানো হয়েছিল।
গ্যালারিতে সমর্থকেরা বড় বড় ফি/লি/স্তি/নি পতাকা প্রদর্শন করেন। সেখানে ‘শিশুদের বাঁচতে দাও’ লেখা ব্যানারও দেখা যায়।
ই/স/রা/য়ে/লের জাতীয় সংগীত বাজানোর সময় গ্যালারি থেকে উচ্চস্বরে দুয়োধ্বনিও শোনা যায়।
তবে বিক্ষোভগুলো বেশিরভাগই শান্তিপূর্ণ ছিল। ফুটবল ও বৈশ্বিক ঘটনাপ্রবাহ কীভাবে একই মঞ্চে এসে মিশে যেতে পারে, সেদিনের দৃশ্যগুলো তারই একটি উদাহরণ হয়ে ওঠে।
কিন্তু ম্যাচটির সবচেয়ে আলোচিত মানবিক ঘটনা ঘটেছিল মাঠের বাইরে।
নরওয়েজিয়ান ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন ঘোষণা দিয়েছিল, ম্যাচের টিকিট বিক্রি থেকে পাওয়া পুরো আয় মানবিক সহায়তায় দান করা হবে।
এই অর্থ দেওয়া হয় নোবেল শান্তি পুরস্কারজয়ী আন্তর্জাতিক চিকিৎসা সংস্থা ‘মেদসাঁ সঁ ফ্রঁতিয়ের’ বা ডক্টরস উইদাউট বর্ডার্সকে।
বিশেষভাবে গা/জা এবং যুদ্ধের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত আশপাশের এলাকায় সংস্থাটির জরুরি ত্রাণ ও চিকিৎসা কার্যক্রমে এই অর্থ ব্যবহারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
উদ্যোগের ঘোষণা দিয়ে নরওয়ের ফুটবল ফেডারেশন জানিয়েছিল, ‘এই অর্থ গা/জা এবং যুদ্ধের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত আশপাশের এলাকায় সংস্থাটির মাঠপর্যায়ের ত্রাণ কার্যক্রমের জন্য নির্ধারিত।’
সিদ্ধান্তটি আন্তর্জাতিক পর্যায়ে ব্যাপক মনোযোগ আকর্ষণ করে। ফলে বিশ্বকাপ বাছাইপর্বের আলোচিত ম্যাচটি শুধু ফলাফলের জন্য নয়, মানবিক অবদানের কারণেও স্মরণীয় হয়ে আছে।