23/08/2025
ভেবে দেখ শৈশবে যখন একটি শিশু হাঁটা শিখতে শুরু করে, তখন সে কতবারই না মাটিতে পড়ে যায়। একবার নয়, দুইবার নয়—অনেকবারই হোঁচট খায়, মুখ থুবড়ে পড়ে, হাঁটুতে আঘাত পায়। কিন্তু তার মনে কখনোই এই ভয় জন্মায় না যে—“আমি পারব না”। বরং প্রতিবার পড়ে যাওয়ার পর সে উঠে দাঁড়ায়, আবার চেষ্টা করে। অবশেষে সেই শিশুই একদিন দৃঢ়ভাবে হাঁটা শিখে ফেলে।কিন্তু
যদি শিশুটি প্রথম বা দ্বিতীয়বার পড়ে গিয়ে সিদ্ধান্ত নিত—“না, আমি পারব না”—তাহলে কি আজ সে হাঁটতে পারত?ঠিক তেমনই যদি তুমি কোনো কাজ শুরু করার আগে এটা ভেবে নাও যে আমি এটা করতে পারবো নাকি না, তাহলে মনে করে নাও তুমি শুরুতেই হেরে গেছ।কিন্তু যদি মনে বিশ্বাস রাখো হ্যাঁ আমি এটি করতে পারব তাহলে তুমি জেতার জন্য এক ধাপ এগিয়ে গেছ। আর একেই পাওয়ার অফ বিলিফ অর্থাৎ বিশ্বাসই বল The Magic of Thinking Big এ ডেভিড জে. শোয়ার্টজ জোর দিয়ে বলেন তোমার বিশ্বাসই সেই প্রথম স্পার্ক যা তোমার লক্ষ্যভিত্তিক কার্যক্রম শুরু করায়। । সুতরাং বিশ্বাসই মানুষের জীবনের লক্ষ্য অর্জনের শক্তি যোগায়। ঠিক তারই বিপরীতে যখন আমরা বড় হই তখন অতীতের অভিজ্ঞতা, ব্যর্থতা এবং সমাজের চাপ, অন্যের সমালোচনা আমাদের লক্ষ্য অর্জনের বিশ্বাসকে দুর্বল করে দেয় আমরা মনে করি এগুলো সম্ভব না কোন কারনে যদি আমি ব্যর্থ হই তাহলে সমাজ কি বলবে লোকজন কি বলবে আর এ বিশ্বাসই আমাদের সামনে দুর্ভেদ্য দেওয়াল সৃষ্টি করে যা আমাদের পরবর্তীতে অগ্রগতির বড় বাধা হিসেবে দাঁড়ায়
।সন্দেহ হ্যালো ভাইরাসের মত যা আমাদের মনে সাইলেন্টলি প্রবেশ করে এবং আমাদের ভালো চিন্তা গুলোকে নাশ করে ফেলে যখন আমরা কোন কাজের প্রতি সন্দেহ প্রকাশ করি যে আমি সফল হব কিনা এতে আমার জন্য লাভ হবে কিনা তো এই সন্দেহই আমাদের আগ্রহ, মনোযোগ এবং কাজের প্রতি শক্তি আমরা পুরোপুরি ভাবে হারিয়ে ফেলি আর আমাদের প্রগ্রেস সেখানেই থেমে যায়।
শোয়ার্টজ ব্যর্থতার প্রধান কারণ হিসেবে চিহ্নিত করেছেন “এক্সকিউজাইটিস”—অজুহাত রোগ। স্বাস্থ্য নেই, বুদ্ধি কম, বয়স হয়েছে বা ভাগ্য খারাপ—এসব অজুহাত জীবনের অগ্রগতিকে থামিয়ে দেয়। অথচ সত্য হলো, সাফল্য কখনো নিখুঁত পরিস্থিতির ওপর নির্ভর করে না। বরং সফলরা তাঁদের সীমাবদ্ধতাকে মেনে নিয়ে, যা আছে তাই দিয়ে এগিয়ে যায়। এখানে তিনি শেখান—“কেন পারব না” নয়, বরং “কিভাবে পারব?”—এই প্রশ্নই আপনাকে পথ দেখাবে।
ভয়কে জয় করার উপায় একেবারেই সহজ: “Action cures fear”—অর্থাৎ কাজই ভয়ের ওষুধ। আমরা প্রায়ই নিখুঁত সময় বা সুযোগের অপেক্ষায় বসে থাকি, অথচ সেই অপেক্ষাই ভয়কে বাড়িয়ে তোলে। ছোট হোক বা বড়, কোনো একটি পদক্ষেপ নেওয়া—যেমন ফোনে কথা বলা, দরজায় কড়া নাড়া বা একটি প্রস্তাব রাখা—ভয়ের বাঁধ ভেঙে দেয়।
তিনি আরও বলেন, নিজেকে ছোট করে দেখবেন না। আপনি যেমনভাবে নিজেকে উপস্থাপন করবেন, দুনিয়া তেমনভাবেই আপনাকে দেখবে। তাই নিজেকে সম্মান দিন, গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি হিসেবে আচরণ করুন। আশাবাদী শব্দ ব্যবহার করুন, উদ্দীপনাময় ভঙ্গিতে কথা বলুন, সুশৃঙ্খল জীবনযাপন করুন—এগুলো আপনাকে ভেতর থেকে উচ্চতর মর্যাদার মানুষে রূপান্তরিত করবে।
আত্মবিশ্বাস গড়ে তুলতে শোয়ার্টজের একটি চমৎকার কৌশল হলো—“Sell-Yourself-to-Yourself Commercial”। প্রতিদিন নিজের কাছে ৬০ সেকেন্ডের ইতিবাচক বার্তা বলুন—যেমন: “আমি একজন যোগ্য মানুষ। আমি প্রতিদিন নতুন কিছু শিখছি। আমি সাহসী সিদ্ধান্ত নিতে পারি। আমি মানুষের কাছে মূল্যবান।” এই অভ্যাস আপনাকে প্রতিদিন নতুন উদ্যমে ভরিয়ে তুলবে।
মানুষের সাথে সম্পর্ক গড়ার ক্ষেত্রেও তিনি দিয়েছেন দারুণ শিক্ষা। কথা বলার সময় বেশি মনোযোগ দিন অপরজনের প্রতি। তাঁদের সাফল্য, স্বপ্ন, চিন্তা সম্পর্কে আগ্রহী হোন। কারণ মানুষ সেই সঙ্গেই থাকতে ভালোবাসে, যে আন্তরিকভাবে শোনে ও বোঝার চেষ্টা করে।
শোয়ার্টজ জোর দিয়ে বলেন, “পরিবেশই মানুষকে গড়ে তোলে।” আপনি কাদের সাথে মিশছেন, কাদের সাথে সময় দিচ্ছেন—এটাই আপনার মানসিকতা, মানদণ্ড ও স্বপ্নকে প্রভাবিত করে। তাই সাফল্যপ্রত্যাশী, ইতিবাচক ও দৃঢ়চেতা মানুষের সাথে সম্পর্ক গড়ে তুলুন।
সবশেষে বইটির মূল বার্তা একটিই: 👉 বড় করে ভাবুন। বড় করে বিশ্বাস করুন। বড় করে পরিকল্পনা করুন। বড় করে কাজ করুন। আর দেখবেন—জীবনের ফলাফলও বড় হবে।