06/08/2026
ভাইরাল দুলালের পায়ে হেঁটে হজ: আবেগ ও বাস্তবতার মুখোমুখি
৮,০০০ কিলোমিটার দীর্ঘ পথ পায়ে হেঁটে পবিত্র হজ পালনের উদ্দেশ্যে যাত্রা শুরু করেছেন দুলাল হোসেন।
তাঁর বাড়ি নাটোর জেলার সিংড়া উপজেলার ডাহিয়া ইউনিয়নের তাড়াই বড়ইচড়া গ্রামে। বয়স ৪৫ বছর। সংসার চলেন চরম অভাব-অনটনে, তবুও মনে লালন করছেন এক বিশাল স্বপ্ন—পায়ে হেঁটে মক্কায় গিয়ে হজ সম্পন্ন করা।
কিন্তু এই স্বপ্নের পথে রয়েছে কঠিন এক বাস্তবতার প্রাচীর। পায়ে হেঁটে সৌদি আরব পৌঁছাতে হলে তাঁকে অতিক্রম করতে হবে ভারত, পাকিস্তান, আফগানিস্তান, ইরান ও ইরাকের মতো দেশগুলো।
যেকোনো দেশ অতিক্রমের জন্য প্রয়োজন বৈধ ট্রানজিট ভিসা, পাসপোর্ট ও প্রয়োজনীয় সরকারি অনুমতিপত্র। প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ও ভিসা ছাড়া যেকোনো সাধারণ মানুষের পক্ষে এভাবে সীমান্ত অতিক্রম করা আইনিভাবে পুরোপুরি অসম্ভব।
ভারত সীমান্ত পার হওয়া থেকেই শুরু হতে পারে প্রথম বড় আইনি জটিলতা। সীমান্ত পারাপার কোনো সাধারণ বিষয় নয়; সঠিক কাগজপত্র না থাকলে বিপদ ঘটা বা কারাবরণের ঝুঁকি শতভাগ। ভারত ও পাকিস্তানের মতো দুই সীমান্ত অতিক্রম করাই যেখানে অত্যন্ত কঠিন, সেখানে পর পর পাঁচটি দেশের সীমানা অতিক্রম করা প্রায় কল্পনাতীত।
স্বপ্নে সাঁতার কাটা আর বাস্তবে সাঁতার কাটার মধ্যে বিশাল ফারাক রয়েছে। কোনো সংস্থা বা ব্যক্তি যদি তাঁকে আইনি ও আর্থিক সহযোগিতা প্রদান না করেন, তবে এই দীর্ঘ পথ অতিক্রম করা প্রায় অসম্ভব।
অনেকে হয়তো বলতে পারেন—এভাবে নেতিবাচক চিন্তা কেন করা হচ্ছে? কিন্তু বাস্তবতার নিরিখে চিন্তা করলে দেখা যাবে, ঝুঁকি ও আইনি বাধা না থাকলে হয়তো প্রতিদিন বহু মানুষ এভাবে যাত্রা করত।
দুলাল ভাইয়ের এই যাত্রার পেছনের মূল উদ্দেশ্য যাই হোক—প্রচার পাওয়ার আকাঙ্ক্ষা, নাকি শুধুই তীব্র ধর্মপ্রেম—তা সময়ই বলে দেবে। কারণ, বাস্তবতা বলে একটা শব্দ আছে, যার একটি নির্দিষ্ট সূচনা ও পরিণতি থাকে।
এখন দেখার বিষয়, দুলাল ভাইয়ের এই রোমাঞ্চকর ও ঝুঁকিপূর্ণ গল্প কোন দিকে মোড় নেয়। সকল বাধা ও দেশ অতিক্রম করে তিনি কি পারবেন তাঁর লক্ষ্যে পৌঁছাতে? নাকি বাস্তবতার কাছে থমকে যাবে এই স্বপ্ন? উত্তর পেতে সময়ের অপেক্ষা।