21/02/2026
আমীরে জামাতের শহীদ মিনারে ফুল দেওয়া নিয়ে অনেকেই সমালোচনা করছেন।
কিন্তু প্রশ্ন হলো—তিনি আগে কবর জিয়ারত করেছেন, সেটা নিয়ে তো কারও আপত্তি নেই।
বাস্তবতা হলো, তিনি ফুল দিলেও সমালোচনা হতো, না দিলেও হতো।
কারণ সমালোচনার উদ্দেশ্য ব্যক্তি নয়—উদ্দেশ্য হলো বিরোধিতা করা।
একটি রাষ্ট্রের বিরোধী দল হিসেবে জাতীয় ইস্যু, জাতীয় দিবস, জাতীয় প্রতীক—এসব জায়গায় উপস্থিত থাকা দায়িত্বের মধ্যেই পড়ে। রাজনীতি মানে শুধু বক্তব্য দেওয়া নয়, রাষ্ট্রীয় পরিসরে অংশগ্রহণও।
শুধু জামায়াত বিরোধীরাই আজ এই বিষয়টিকে বড় করে দেখছেন।
যদি দলটি এতই অগ্রহণযোগ্য হতো, তাহলে অতীতে বড় দলগুলো—বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল এবং বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ—কেন তাদের সাথে জোট বা সমঝোতায় নির্বাচনে অংশ নিয়েছিল? ইতিহাসকে সুবিধামতো ভুলে গেলে সত্য বদলে যায় না।
শিবির নিয়ে অনেক অভিযোগ শোনা যায়। আমি অতীত নিজের চোখে দেখিনি, তাই অন্ধভাবে বিশ্বাসও করতে পারি না।
কিন্তু আমি দেখেছি—বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে তারা নির্বাচিত হয়েছে, সংগঠিতভাবে কাজ করছে। ভালো কাজ দেখলে স্বীকার করতেই হবে।
সমস্যা হলো, কিছু মানুষ সবসময় ট্যাগ লাগিয়ে বিভাজন তৈরি করতে চায়। তারা চায় উত্তেজনা থাকুক, অস্থিরতা থাকুক—কারণ শান্ত ও সচেতন সমাজ তাদের পছন্দ নয়।
আমরা কি কখনও নিজেদের প্রশ্ন করি—
আমরা কি সত্যিই ধর্ম বুঝি?
আমরা কি সত্যিই রাজনীতি বুঝি?
না বুঝে কেবল হিংসা, বিদ্বেষ, গীবত আর পরচর্চা করলে সমাজ এগোয় না।
যারা সমালোচনা করছেন, তাদের অনেকেই না ধর্মের গভীরতা বোঝেন, না রাজনীতির কৌশল। ইসলাম প্রতিষ্ঠার ইতিহাসেও কৌশল ছিল, ধৈর্য ছিল।
Muhammad (সা.) হুদাইবিয়ার সন্ধি মেনে নিয়েছিলেন বৃহত্তর লক্ষ্য অর্জনের জন্য। কাবায় মূর্তি থাকা অবস্থায়ও তিনি নামাজ আদায় করেছেন—কারণ লক্ষ্য ছিল পরিবর্তন, সংঘর্ষ নয়; প্রতিষ্ঠা, ধ্বংস নয়।
রাজনীতি মানে ধৈর্য, কৌশল ও সময়ের অপেক্ষা।
আবেগ দিয়ে রাষ্ট্র চলে না—দূরদর্শিতা দিয়ে চলে।