20/11/2025
দেশের মোট আমদানি-রপ্তানির প্রায় ৯২ শতাংশই চট্টগ্রাম বন্দরের মাধ্যমে সম্পন্ন হয়!
চিন্তা করেন, বন্দরটা বাংলাদেশের জন্য কতোটা গুরুত্বপূর্ণ।
ইউনূস সরকার মূলত কি চায়?
বন্দরটা আধুনিক করতে চায়, যেখানে একটা পণ্য আসলে আনলোড(নামাইতে) লোড হইতে সময় লাগে মিনিমাম ১৬ দিন।
সরকার চাইছে সেটা যেন মাত্র ৪৮ ঘণ্টার ভিতরে আনলোড করতে পারে।
যেমন ধরেন, বন্দর দিয়া ২ হাজার টন (১২.৫ ব্যারেল ) তেল আসছে ইউক্রেন থেকে।
এদিকে বাংলাদেশের মার্কেটে তেল না থাকার কারণে প্রতি লিটারে দেশের ডাকাত ব্যবসায়ীরা ৩০ টাকা করে বাড়ায় দিছে।
তেলের জাহাজ বন্দরে চলে আসছে কিন্তু ১৬ দিন আগে নামাতে পারছে না।
কারণ আমাদের বন্দর আধুনিক না। বড় বড় জাহাজগুলো বন্দরে ভীড়তে পারে না। উন্নত প্রযুক্তির অভাব।
এই কাজটা বাংলাদেশের মানুষ করতে পারবে না কারণ আমাদের দক্ষ জনবল নাই। না আছে ইঞ্জিনিয়ার না আছে শ্রমিক না আছে উন্নত প্রযুক্তি।
তাই বাধ্য হয়েই বিদেশী কোম্পানীরে দিয়া করাইতে চাইছে!
কোন কোম্পানি? যে কোম্পানিগুলো ভিয়েতনাম ,সিঙ্গাপুর ,চীনসহ বিশ্বের প্রায় ৩৩ টা দেশে ৬০+ বন্দরের কাজ করতেছে।
সরকার চাইছে বিদেশী কোম্পানী প্ল্যান করবে কিন্তু কাজ করবে আমাদের দেশের ইঞ্জিনিয়ার আর শ্রমিকরাও।
উদ্দেশ্য : বাংলাদেশের প্রকৌশলী আর শ্রমিকরা
কাজটা শিখবে, বাংলাদেশের শ্রমিকরা কাজটা শিখে বিশ্বের বড় বড় বন্দরের কাজ করবে।
যদিও আমাদের দেশের কোম্পানী থাকতো আর কাজটা তাদের দিতো তাহলে তো বুঝেনই ৫০০ কোটি টাকার কাজ করলে ৪০০ কোটি মেরে দিতো।
এদিকে আমরা ভাবতেছি বন্দরের কাজ বিদেশীদের দিয়া দিলে দেশের সার্বভৌমত্ব হারাবে!
তাহলে কি ইউরোপের বিভিন্ন দেশসহ ভিয়েতনাম, সিঙ্গাপুর, ও চীনে বন্দরের কাজ বিদেশীদের দিয়া সার্বভৌমত্ব হারিয়ে ফেলছে?
এদিকে সরকার বলতেছে,
"নৌবাহিনী, কোস্টগার্ড, ইমিগ্রেশন, কাস্টমসসহ সংশ্লিষ্ট সব সংস্থার নিরাপত্তা প্রটোকল যথারীতি বলবৎ থাকবে।
লালদিয়া কনটেইনার টার্মিনাল এই নেটওয়ার্কের মধ্যেই অপারেট করবে।
সুজা কথা এই পুরো ব্যবস্থাপনাই সরকারের প্রত্যক্ষ তত্ত্বাবধান ও চূড়ান্ত নিয়ন্ত্রণাধীন থাকবে, ফলে নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগের কোনো সুযোগ নাই।
প্রশ্ন থেকেই যায় বন্দর আধুনিক হলে সব মিলিয়ে দেশের কি কি লাভ হবে!
- প্রতি বছর অতিরিক্ত ৮ লক্ষ TEU ধারণক্ষমতা যুক্ত হবে, যা বর্তমান সক্ষমতার তুলনায় প্রায় ৪৪% বেশি।
- প্রতি ইউনিটে পণ্য পরিবহনের খরচ কমবে।
- আমদানি - রপ্তানি দ্রুততর হবে।
- এখনকার তুলনায় দ্বিগুণ বড় কনটেইনার জাহাজ বন্দরে ভিড়তে পারবে।
- বিশ্বের দূরবর্তী দেশগুলোর সঙ্গে সরাসরি জাহাজ সংযোগের সুযোগ উন্মুক্ত হবে
- ৫০০-৭০০ সরাসরি স্থানীয় কর্মসংস্থান তৈরি হবে নির্মাণ ও পরিচালনা পর্যায়ে। হাজারেরও বেশী পরোক্ষ স্থানীয় কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে পরিবহন, লজিস্টিকস ও বৃহত্তর সাপ্লাই চেইনে।
- এপিএম টার্মিনালসের নিজস্ব ট্রেনিং প্রোগ্রামের মাধ্যমে স্থানীয় প্রকৌশলী ও ব্যবস্থাপকরা বিশ্বমানের প্রশিক্ষণ পাবেন।
- ডিজিটাল টার্মিনাল অপারেশন সিস্টেম, LEAN পদ্ধতি ও FLOW Framework-এর মাধ্যমে প্রযুক্তি ও দক্ষতা স্থানান্তর হবে।
- দুর্নীতি নাই হয়ে যাবে কারণ বিদেশীরা দুর্নীতি করে না।
- আমাদের প্রথম পরিবেশবান্ধব গ্রীন পোর্ট হবে এটি।
তাহলে কারা বাঁধা দিচ্ছে?
উত্তর একেবারে সুজা, অসাধু সিন্ডিকেট মাফিয়ারা।
কাজটা হয়ে গেলে বাংলাদেশের মাফিয়া ব্যবসায়ীদের সিন্ডিকেট বন্ধ হয়ে যাবে। বন্দরের সিন্ডিকেট বন্ধ হয়ে যাবে।
অদক্ষ শ্রমিকরা মোটামুটি অকেজো হয়ে যাবে যারা ৪৮ ঘণ্টার কাজ করতো ১৬ দিনে।
পতিত স্বৈরাচার আর তার দোসররা।
যারা ইউনূসের বিরুদ্ধে ,তারা বন্দর ইস্যু নিয়া দেশে আরেকটা হাউকাউ লাগাতে চাইছে।
তারা বন্দর ইস্যু নিয়া দেশের সাধারণ মানুষকে ভুলবাল তথ্য দিয়ে সরকারের বিরুদ্ধে দাড় করাতে চাইছে।
ঘুষখোর ,আর রাজনৈতিক কিছু নেতারা ,যারা বাংলাদেশের মানুষের সুবিধা থেকে নিজের পকেট ভারি করতে পছন্দ করে।
তারা জানে ,কাজ হয়ে গেলে বিদেশিদের সাথে চুরি ,বাটপারি, চান্দাবাজি ,দুর্নীতি আর করতে পারবে না।
এই কাজটা এমন একটা কাজ যেটা ১০০ বছর পরে করলেও বিদেশী কোম্পানী দিয়ে করাতে হবে এছাড়া আমাদের কোন অপশন নাই!
সরকার দ্রুত করতে চাইছে কেন?
কারণ সরকারের হাতে সময় কম। তাছাড়া যতোদ্রুত করবেন দেশের জিডিপি তত বাড়বে।
ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা সম্পদ যদি দ্রুত ব্যবহার করতে না পারি তাহলে দেশে কখনো যুগান্তকারী উন্নয়ন হবে?
টোটালি না!
সর্বশেষ বলতে চাই, একটা চক্র যারা চায় না বন্দরের দুর্নীতি বন্ধ হোক।
কিন্তু আমরা চাই দেশে নতুন নতুন বিনিয়োগ আসুক।
দক্ষ জনশক্তি তৈরি করে বিশ্বের বড় বড় বন্দরের কাজ বাংলাদেশিরাই করুক।
দেশ সিঙ্গাপুরের মতো প্রকৃত উন্নয়ন হোক!!!
Anisul Islam