18/06/2026
ভুক্তভোগী অসহায় মা বলেন আমার ছেলে একটি মেয়েকে বিয়ে করবে আমার আত্মীয়স্বজন, এমনকি আমার ছেলের বন্ধু-বান্ধবও এই মেয়েকে বিয়ে করার পক্ষে ছিল না। কিন্তু আমার ছেলে আমার পা ধরে কান্নাকাটি করে বলেছিল, এই মেয়েকে বিয়ে করবে না পারলে সে আ/ত্মহ/ত্যা করবে। একজন মা হিসেবে সন্তানের সেই কথা উপেক্ষা করতে পারিনি। আজ আমার এই পরিণতির জন্য সেই সিদ্ধান্তই দায়ী।
আজ আমার ছবি ও ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। আমার ছেলে বেকার হয়েও ঢাকায় স্ত্রীকে নিয়ে থাকে তাদের খরচ চালাতে গিয়ে আমি নিঃস্ব হয়ে গেছি। প্রতি মাসে ঋণ করে, ধার করে, এমনকি ভাড়ার টাকা বাঁচিয়ে তাদের কাছে টাকা পাঠাই। তারপরও ঢাকায় গেলে এমন কোনো সময় যায় নি কাঁদতে কাঁদতে ফিরে আসতে হয় নাই। যখনই ঢাকায় গিয়েছি তখনই কাঁদতে কাঁদতে বাসায় ফিরেছি
ছেলের স্ত্রী আমাকে দিয়ে জোর করে বিভিন্ন হাস্যরসাত্মক ভিডিও বানিয়েছে, যা “টোটো ফ্যামিলি” নামের আইডিতে প্রকাশ করা হয়েছে। সেই ভিডিওগুলো দেখে আত্মীয়স্বজন ও পরিচিতজনেরা আমাকে নানা কথা শুনিয়েছেন এবং অপমান করেছেন।
গত মে মাসে আমার ছোট মেয়ে তাকে ২৮ হাজার টাকা পাঠিয়েছিল। এরপর আমি ধার করে আরও ১৫ হাজার টাকা পাঠাই সেই টাকা নিয়ে তারা বাড়িতে আসে নাতি-নাতনিদের নিয়ে ছেলে ও ছেলের বউ বাড়িতে এসেছে দেখে আমি খুব খুশি হয়েছিলাম। কিন্তু বাড়িতে আসার মাত্র ১০ মিনিটের মধ্যেই আমার নাতি-নাতনি ও ছোট মেয়ের সন্তানদের অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ শুরু করে। আমি বাধা দিতে গেলে আমাকে বিভিন্নভাবে অপমান করা হয়। একপর্যায়ে আমাকে মারতে উদ্যত হয়। আমার ছেলে বাধা দিতে গেলে তার স্ত্রী চেয়ার তুলে মারতে গিয়ে শোকেসের কাচ ভেঙে চুরমার করে ফেলে।
এরপর আমাকে আমার ৪৯ বছরের সংসার থেকে বের করে দেওয়ার হুমকি দেয়। আমি তখন বাধ্য হয়ে আমার চাচাতো দেবর টুকুম মিয়াকে ডাকি। এছাড়া আরও অনেক মানুষ সেখানে উপস্থিত ছিলেন এবং পুরো ঘটনা প্রত্যক্ষ করেছেন। সবাই জানেন কী ঘটেছে।
তাদের দাবি, বাড়ির তৃতীয় তলা শুধু তাদের জন্য ছেড়ে দিতে হবে। অথচ আমি নিজের জন্য একটি চার হাজার টাকার ফ্যান পর্যন্ত কিনতে পারিনি। আমি যে টাকা পাঠিয়েছি, সেই টাকা দিয়ে তারা এসির নিচে আরাম করে থাকে। এমনকি ছেলের বউ যে ভিডিও বানায়, সেই ক্যামেরাটিও আমি কিনে দিয়েছি।
তার ভিডিওগুলোর অধিকাংশই আমার মেয়েদের নিয়ে। সব দোষ যেন আমার মেয়েদের। অথচ আমার ছোট মেয়ে চাকরি করে নিজের ঘর তৈরি করে সেখানে থাকে। আমি বর্তমানে তার কাছেই থাকি এবং তার কাছেই আদর-যত্ন পাই। আমার মেয়েরাই আমার দেখাশোনা করে। কিন্তু আমার ছেলের বউ আমাকে সম্মান তো দেয়ই না, বরং আমাকে এবং আমার মেয়েদের অপমান করে।
টুকুম মিয়া এবং আরও অনেকে এই ঘটনার সাক্ষী। তারা সব জানেন। এমনকি যাদের আমি একসময় আপনজন মনে করতাম, তারাও আজ আমার খোঁজ নেয় না। আমার ফোন পর্যন্ত ধরতে চায় না।
এক সময় আমি আমার ছেলেকে নিয়ে খুব গর্ব করতাম। রাজাপুরে সবাই তাকে সোনার ছেলে বলত। কিন্তু আজ সেই সোনার ছেলে যেন সম্পূর্ণ বদলে গেছে সে এখন শুধু তার স্ত্রীর কথাই বোঝে মায়ের কষ্ট, মায়ের ত্যাগ, মায়ের চোখের জল কোনো কিছুরই যেন তার কাছে মূল্য নেই।
আমি চেয়েছিলাম সবাই মিলে একসঙ্গে থাকব, সুখে-শান্তিতে জীবন কাটাব। সেই আশায় টাকা খরচ করে তাদের বাড়িতে এনেছি। কিন্তু বাড়িতে আসার পর আমাকে যে ভাষায় গালিগালাজ করা হয়েছে, তা মুখে বলা যায় না।
আমি সবার কাছে বিচার চাই না, শুধু দোয়া চাই। আল্লাহ যেন আমাকে ধৈর্য ধরার শক্তি দেন। আমি আল্লাহর কাছে দোয়া করি, তিনি আমার ছেলেকে ভালো রাখুন। তবে একজন মায়ের চোখের পানির মূল্য যেন তিনি অবশ্যই বিবেচনা করেন।
আমি আমার নাতি-নাতনিদের ভালোবাসি বলেই বারবার ঢাকায় যাই। নিজের খরচে, ধার করে তাদের কাছে যাই। কিন্তু বিনিময়ে আমি শুধু অপমানই পেয়েছি। আমাকে এমন সব কথা বলা হয়েছে, যা কোনো মায়ের প্রাপ্য নয়।
আজ আমি আপনাদের কাছে আমার কষ্টের কথা তুলে ধরলাম। একজন মায়ের একমাত্র সন্তান যদি তার কাছ থেকে দূরে সরে যায়, তাহলে সেই কষ্ট ভাষায় প্রকাশ করা যায় না।
সবার কাছে আমার একটাই অনুরোধ আমার জন্য দোয়া করবেন, যেন জীবনের বাকি সময়টুকু একটু শান্তিতে কাটাতে পারি। আল্লাহ হাফেজ। ঘটনাটি ঝালকাঠি জেলার রাজাপুর উপজেলার সদরে।