27/09/2025
দিদিমনিকে(আমার মায়ের মা) আজ খুব মনে পড়ছে।এতো হাসি কোথায় পেয়েছিলেন এই মানুষটি!আমি বিস্ময়বোধ করি আজও।পরিষ্কার গায়ের রঙ,গুরিয়ানা গড়ন,হাসিলেপ্টানো মুখশ্রী।মনটা ভরে যায় এমন চেহারায় চোখ পড়লে।খুব ভালোবাসতেন তিনি আমাদের।যখনই আমাদের বাড়িতে আসতেন,কতো কি যে নিয়ে আসতেন আমাদের জন্যে।হাতের তৈরি খাবার,বিশেষ করে মুড়ির লাড়ুটা বেশিই আনতেন।মুড়ি নিয়ে আসতেন এক ব্যাগ।বাঁশবেত দিয়ে তৈরি হাতপাখা নিয়ে আসতেন গরমকালে।শীতের দিনে এলে ঘরের পুরনো কাপড় দিয়ে বানিয়ে দিতেন সেলাই করা কাঁথা।নকশিকাঁথা বানিয়ে দিতেন সাদা ধূতি দিয়ে।অনেক রঙের সূতো দিয়ে সেলাই করতেন সেই কাঁথা।কাঁথা সেলাই করার সময় আমরা ভাইবোন সেই কাঁথায় গড়াগড়ি করে দিদিমনিকে রাগিয়ে দিতাম।কাঁথা কুচকুচ হয়ে যেতো।তখন দিদিমনি মা'কে ডেকে বলতেন,কি লো তোর ছেলেমেয়েগুলা একেকটা হয়েছে শয়তানের গুরুঠাকুর,আমি আর পারছিনা এদের জ্বালাতন,এদের ডেকে নিয়ে যা।শীতের দিনে উঠানে শীতল পাটি বিছিয়ে তার উপরে কাঁথা সেলাই করতেন।শীতের নরম রোদে অনেকেই এসে বসে তার পাশে গল্প করতো।আর অনেকেই তার কাছে আবদার করতো,একটা কাঁথা সেলাই করে দেওয়ার জন্য।হাসিখুশি মানুষটিকে আমাদের হাটির সবাই পছন্দ করতো,ভালবাসতো।অনেক ধরনের কিচ্ছাও জানতেন আমার দিদিমনি।বিশেষ করে রাতে রাক্ষস খোক্ষসের কিচ্ছাটা শোনাতেন আমাদের।বিস্ময় নিয়ে শোনতাম।
বাড়ি যখন ফিরতেন তখন কাপড়ের কোণে গিট্রু দেওয়া ২ /৫ টাকার নোট বের করে আমাদের হাতে দিয়ে যেতেন,চুপিচুপি।কপালে চুমু দিয়ে বলতেন,আসি গো ভাই,তোমার মা'রে নিয়া বেড়াইতে যাইও।তখন খুব আনন্দ হতো আমাদের।তখন আনন্দটা ম্লান হয়ে যেতো,দিদিমনি চলে যাচ্ছেন এই ভেবে।আমার দিদিমনির এক সন্তান ই ছিলেন।তিনি আমার মা।
হঠাৎ এক শীতের দুপুরে তার অন্তিম যাত্রা হল।আমরা খুবই মর্মাহত হলাম তাকে হারিয়ে।
দিদিমনি জীবনের শেষ সময়টুকু আমাদের বাড়িতেই কাটিয়েছেন।আমার বাবার সৌভাগ্য হয়েছিল তার শেষকৃত্যসহ সামাজিক অনুষ্ঠানাদি সম্পন্ন করতে।বাবা সেটা করেছেন উনার ছেলের মতো করে।আমরাও পেরেছিলাম আমাদের প্রিয় দিদিমনিকে কাঁধে করে নিয়ে থাকে শেষ বিদায় জানাতে।যদিও সে স্মৃতি আজ সুখ ও শোক মেশানে।
(আমার বড় বোনের হাতে সেলাই করা আমাকে দেওয়া একটা কাঁথা আমার বিছানায় থাকে।সবসময়।কাঁথাটা আজ ভাঁজ করতে গিয়ে আমার দিদিমনিকে(আমার মায়ের মা) খুব মনে পড়ে গেল)