25/05/2026
শেষ বিকেলের দীর্ঘশ্বাস💔
শহরের ব্যস্ত রাস্তার ধারের এক কোণে বসে ছিল বৃদ্ধ রহমত মিঞা। পরনে একটা মলিন পাঞ্জাবি, চোখের চশমাটা অনেক পুরনো। তার সামনে একটি ছোট কাঠের বাক্সে কিছু দেশি বই আর খবরের কাগজ। ডিজিটাল যুগে এখন আর কেউ খবরের কাগজ বা বই কিনে পড়তে চায় না, তবুও তিনি প্রতিদিন বিকেলে ফুটপাতে বসেন।
পাশ দিয়ে শত শত মানুষ চলে যাচ্ছে—কেউ স্মার্টফোনে ব্যস্ত, কেউবা গন্তব্যের তাড়ায় দৌড়াচ্ছে। কারো একবার চোখও পড়ল না ওই বৃদ্ধের দিকে। রহমত মিঞার কাছে পৃথিবীটা যেন খুব দ্রুত বদলে যাচ্ছে, যে গতির সাথে তিনি নিজেকে মেলাতে পারেননি।
ঠিক তখনই একটি ছোট মেয়ে তার মায়ের হাত ধরে দাঁড়িয়ে পড়ল। মেয়েটি বইয়ের স্তূপ থেকে একটা পুরনো গল্পের বই তুলে নিল। তার মা তাড়া দিচ্ছিল, "চল, দেরি হয়ে যাচ্ছে।" মেয়েটি বইটা উল্টেপাল্টে দেখল, তারপর খুব আগ্রহ নিয়ে জিজ্ঞেস করল, "দাদু, এই বইটা কত?"
রহমত মিঞার চোখ দুটো উজ্জ্বল হয়ে উঠল। অনেকদিন পর কেউ একজন তার দোকানের দিকে তাকাল। তিনি মৃদু হেসে বললেন, "বেশি না মা, মাত্র বিশ টাকা।"
মেয়েটি তার জমানো টাকা থেকে বিশ টাকা বের করে দিল। বইটা হাতে পাওয়ার পর তার মুখে যে আনন্দের ঝিলিক দেখা গেল, তা আধুনিক গ্যাজেটের স্ক্রিনে পাওয়া অসম্ভব। রহমত মিঞা লক্ষ্য করলেন, মেয়েটির মা-ও এখন আর তাড়া দিচ্ছে না, বরং তিনিও দাঁড়িয়ে পড়েছেন। মা আর মেয়ে একসাথে ফুটপাতে বসেই বইয়ের একটা পৃষ্ঠা পড়ল।
সূর্য ডুবছে। ব্যস্ত শহরের কোলাহলে সেই ছোট্ট মুহূর্তটা যেন হঠাৎ করেই থমকে গিয়েছিল। রহমত মিঞা বুঝলেন, পৃথিবীটা যতোই বদলে যাক, এখনো কোথাও না কোথাও এমন কিছু মানুষ আছে, যারা কাগজের গন্ধে আর শব্দের আশ্রয়ে শান্তি খোঁজে।
পুরো দিন কোনো বেচাকেনা না হলেও, সেই শেষ বিকেলে বৃদ্ধের মনে হলো আজ তার দিনটা সার্থক। বাস্তবতার কঠিন রূঢ়তার মাঝেও এই সামান্য প্রাপ্তিই বেঁচে থাকার রসদ জোগায়।
RakibNexia
#গল্প #বাস্তবতা #অনুপ্রেরণা #ছোটগল্প #বাংলাগল্প