03/05/2026
আহা জীবন! দুই ভাইয়ের নিথর দেহে থমকে গেল একটি পরিবারের স্বপ্ন
নিজস্ব প্রতিবেদক |
সিলেট তারিখ: ৩ মে, ২০২৬
জীবন যুদ্ধের লড়াইয়ে নেমেছিলেন দুই ভাই— আজির উদ্দিন ও আমির উদ্দিন। স্বপ্ন ছিল হাড়ভাঙা খাটুনি দিয়ে পরিবারের মুখে হাসি ফোটাবেন। কিন্তু বিধাতার নির্মম পরিহাসে সেই স্বপ্ন এখন শ্মশানের নীরবতা। সিলেটের সড়কে এক ভয়াবহ দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন সুনামগঞ্জের বিশ্বম্ভরপুরের এই দুই সহোদর।
স্বপ্ন ছিল ফেরার, ফিরল শুধু লাশ
প্রতিদিনের মতো কাজের উদ্দেশ্যে বাড়ি থেকে বের হয়েছিলেন তারা। ঘামে ভেজা শরীরে সন্ধ্যায় ঘরে ফেরার কথা ছিল। কিন্তু তারা ফিরলেন ঠিকই, তবে নিথর দেহে— খাটিয়ায় চড়ে। দুই ভাইয়ের অকাল মৃত্যুতে শুধু একটি গ্রাম নয়, স্তব্ধ হয়ে গেছে মানবিকতা।
দিশেহারা একটি পরিবার
আজির উদ্দিন ও আমির উদ্দিন ছিলেন পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি। তাদের আয়েই চলত পুরো সংসার। আজির উদ্দিন পেছনে ফেলে গেছেন:
অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রী: যার অনাগত সন্তান আর কোনোদিন তার বাবাকে দেখতে পাবে না।
তিনটি ছোট শিশু: যারা এখনো জানে না 'বাবা' ডাকটি তাদের জন্য আজীবনের মতো হারিয়ে গেছে।
অসুস্থ মা ও বৃদ্ধ বাবা: সন্তানের কাঁধে চড়ে যাদের শেষ বিদায় নেওয়ার কথা ছিল, আজ তারাই বয়ে বেড়াচ্ছেন সন্তানের লাশ।
প্রতিবন্ধী বোন: যার শেষ আশ্রয়টুকুও কেড়ে নিল ঘাতক সড়ক।
সূচনীয় বাসগৃহ, অনিশ্চিত ভবিষ্যৎ
নিহতদের ঘরবাড়ির অবস্থা অত্যন্ত জরাজীর্ণ। নুন আনতে পান্তা ফুরানো এই পরিবারটি এখন পুরোপুরি দিশেহারা। মাথার ওপর ছাদটুকু থাকলেও পেটের ভাত জোগানোর মতো এখন আর কেউ রইল না। শোকে পাথর হয়ে যাওয়া বৃদ্ধ বাবা-মায়ের আহাজারিতে আকাশ-বাতাস ভারী হয়ে উঠছে।
"আহা জীবন! সকালে যে মানুষগুলো জীবিকার তাগিদে হাসিমুখে ঘর থেকে বের হয়, বিকেলে তাদেরই নিথর দেহ যখন উঠোনে এসে নামে, তখন জীবনের মানে খুঁজে পাওয়া ভার হয়ে দাঁড়ায়।"
এই শোকাতুর পরিবারের দিকে সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেওয়া এখন সময়ের দাবি। স্রেফ একটি সড়ক দুর্ঘটনা আজ ধ্বংস করে দিল একটি সাজানো সংসার।
তথ্যসূত্র: কর্ণবাবু