Jannatul Arefin

Jannatul Arefin * ইসলাম মানেই শান্তি সারাদিনে যতই আছে ক্লান্তি, নামাজ আদায় করার পর ভরপুর প্রশান্তি ‌‌‌‌√🕋📖

08/03/2026

🟤 লাইলাতুল কদর কি শুধু বিজোড় রাতেই হতে পারে?
- লাইলাতুল কদর শুধু বিজোড় রাতে নয়, আমি আবারো বলছি শুধু বিজোড় রাতে সীমাবদ্ধ নয়! বরং জোড় রাতেও হতে পারে!
আমরা তো জানিনা কোনটা জোড় আর কোনটা বিজোড় রাত। রমাদান মাস শেষ না হলে আমরা এটা বুঝতেও পারবো না যে কোনটা জোড় রাত ছিলো আর কোনটা বিজোড় রাত!

কারন এক হাদিসে বলা হয়েছে, লাইলাতুল কদর রমাজানের শেষের দিক থেকে ১ দিন আগে তালাশ করো! ৩ দিন আগে তালাশ করো এবং ৫, ৭ ও ৯ দিন আগে তালাশ করো।
আমরা তো আগে থেকে জানিনা রমাদান ২৯ দিন হবে না ৩০ দিন! যদি রমাদান ২৯ দিন হয় তাহলে তো বিজোড় রাত হবে ২২, ২৪,২৬ ও ২৮ রমাদানের রাত্রি!
এজন্যই লাইলাতুল কদর শুধু বিজোড় রাতে সীমাবদ্ধ নয় বরং জোড় রাতেও হতে পারে!

হাদিস দেখুন-
রসুল স. বলেন,তোমরা তা (লাইলাতুল কদর [ক্বদর]) রমাযানের শেষ দশকে অনুসন্ধান কর। লাইলাতুল কদর [ক্বদর] (শেষ দিক হতে গণনায়) নবম, সপ্তম বা পঞ্চম রাত অবশিষ্ট থাকে। (বুখারী ২০২১)

তাই রসুল সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম যেমন শেষ ১০ রাতেই বেশি করে ইবাদত করতেন আমাদেরও তেমন শেষ ১০ রাতেই বেশি করে ইবাদত করা উচিত এবং বিজোড় রাত্রিতে সীমাবদ্ধ থাকা উচিত নয়! কারন আসলেও আমরা জানিনা কোনটা বিজোড় রাত আর কোনটা জোড়! রমাদান শেষ হওয়ার আগে এটা জানা সম্ভব নয়!

রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) রমজানের শেষ দশকে নামায, কুরআন তেলাওয়াত ও দোয়ার মধ্যে এত বেশী সময় দিতেন যা অন্য সময়ে দিতেন না। আয়েশা (রাঃ) থেকে ইমাম বুখারী ও মুসলিম বর্ণনা করেছেন যে, রমজানের শেষ দশরাত্রি শুরু হলে নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) রাত জেগে ইবাদত করতেন তাঁর পরিবারবর্গকে জাগিয়ে তুলতেন এবং স্ত্রী-সহবাস থেকে বিরত থাকতেন। ইমাম আহমাদ ও মুসলিম বর্ণনা করেছেন যে: “তিনি রমজানের শেষ দশকে এত বেশী ইবাদত করতেন যা অন্য সময়ে করতেন না।” তাই আমাদের পুরো শেষ দশকেই ইবাদত করা উচিত!

🟤 লাইলাতুল কদরে কি কি ইবাদত করবো আর কি কি করবো না?

১. ঘুমানো যাবে না! জ্বি এটাই ইবাদতের লিস্টে এক নাম্বার! ঘুমিয়ে গেলে সব শেষ। এই রাত আবার পাবেন কি না আপনি তো জানেন না। তাই ঘুমিয়ে এক সেকেন্ডও নষ্ট করা যাবে না। ইফতারের পর কিছুটা সময় রেস্ট নিয়ে ইবাদতে লেগে পড়তে হবে।

২. নামাজ!
আবু হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন: “যে ব্যক্তি ঈমানের সাথে ও সওয়াবের নিয়তে লাইলাতুল ক্বদরে (ভাগ্য রজনীতে) নামায আদায় করবে তার অতীতের সমস্ত গুনাহ ক্ষমা করে দেয়া হবে।”[সহীহ বুখারী ও সহীহ মুসলিম] এই হাদীস প্রমাণ করে যে, ভাগ্য রজনীতে কিয়ামুল লাইল (রাত্রীকালীন নামায) আদায় করা শরয়ি বিধান।

রাতে একটু পরপর বিরতি নিয়ে নিয়ে সারা রাত ধরেই একটু পর পর নামাজ আদায় করা যায়। নিয়ত হবে কিয়ামুল লাইল/তাহাজ্জুদ এর!

৩. কোরআন তিলাওয়াত!
নামাজ এবং নামাজের বাইরে অনেক বেশি পরিমানে কোরআন তিলাওয়াত করা যায়। যেহেতু রাতে প্রায় ৮ থেকে ১০ ঘন্টা সময় পাওয়া যাবে তাই যতো বেশি পারি কোরআন তিলাওয়াত করা যাবে।

৪. লাইলাতুল ক্বদরে (ভাগ্য রজনীতে) পঠিতব্য সবচেয়ে ভালো দোয়া হচ্ছে- যা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আয়েশা (রাঃ) কে শিক্ষা দিয়েছেন। যেটি তিরমিযি আয়েশা (রাঃ) থেকে সংকলন করেছেন এবং সহীহ আখ্যায়িত করেছেন। দোয়াটি হলো-

اللهمَّ إِنَّكَ عَفُوٌّ تُحِبُّ الْعَفْوَ فَاعْفُ عَنِّي

(অর্থ: হে আল্লাহ আপনি ক্ষমাশীল, ক্ষমা করাকে আপনি ভালবাসেন, অতএব আমাকে ক্ষমা করে দিন।)

এই দোয়া যতো বেশি বেশি পারা যায় পড়তে হবে সারা রাত্রি ধরে!

উল্লেখ্য: এটি একটি দোয়া। এটি জিকির নয়। অতএব দোয়া যেভাবে পড়তে হয় সেভাবে পড়বেন। মোনাজাতে, সিজদায়, সালাম ফিরানোর আগে পড়তে হবে।
জিকিরের মতো করে দোয়া পড়তে হয় না।

৫. জিকির!
যেকোনো জিকির করতে পারেন সহীহ হাদিসের। সেটা হতে পারে সুবহানাল্লাহ, আলহামদুলিল্লাহ, আল্লাহু আকবার, আস্তাগফিরুল্লাহ বা দরুদ পাঠ ইত্যাদি!

৬. ইবাদত করতে ক্লান্ত লাগলে শাইখদের লেকচার শুনা যায় কিছুক্ষন, রিফ্রেশমেন্ট এর জন্য। এটাও আল্লাহর নিকটে যাওয়ার মাধ্যম।

৭. গুনাহ থেকে বেচে থাকা! এবং সময় নষ্ট না করা বিশেষ করে মোবাইলে!

৮. কস্মিনকালেও বিদ‘আত (দ্বীনের মধ্যে নতুন প্রবর্তিত বিষয়) করা জায়েয নেই। রমজানের মধ্যেও না, রমজানের বাইরেও না। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে প্রমাণিত হয়েছে যে তিনি বলেছেন: “যে ব্যক্তি আমাদের এই শরিয়তে এমন কিছু প্রবর্তন করল যা এর অন্তর্ভুক্ত নয় তা প্রত্যাখ্যাত।” অন্য এক রেওয়ায়েতে আছে, “যে ব্যক্তি এমন কোন কাজ করল যা আমাদের শরিয়তের অন্তর্ভুক্ত নয়, তা প্রত্যাখ্যাত।”

৯. বাবা, মায়ের, স্বামী/স্ত্রীর সেবা করাও ইবাদত। উত্তম আচরনও ইবাদত। আল্লাহর জন্য যা করবেন, সবই ইবাদত। অতএব গুনাহ যেনো না হয় সেদিকে খেয়াল রাখা জরুরী।

আল্লাহ আমাদের লাইলাতুল কদর সফলভাবে পাওয়ার তৌফিক দিন!

সাওয়াবের নিয়তে পৌঁছে দিন সবার কাছে

#শবে_কদর #লাইলাতুল_ক্বদর

18/02/2026

প্রিয় দ্বীনি ভাই ও বোনেরা,
আমাদের প্রত্যেকের জীবনেই এমন কিছু চাওয়া থাকে যা পূরণ হওয়া যেন অলৌকিক কিছু। কখনো কি এমন হয়েছে—গভীর রাতে জায়নামাজে বসে অঝোরে কাঁদছেন, মনের কোনো এক অপূর্ণ আকাঙ্ক্ষা আপনাকে ঘুমাতে দিচ্ছে না, অথচ সমাধান খুঁজে পাচ্ছেন না?
যদি আপনার কোনো দোয়া দীর্ঘকাল অপূর্ণ থেকে থাকে, তবে আজই পূর্ণ বিশ্বাস নিয়ে এই "পরীক্ষিত আমলটি" করে দেখুন। রাসুলুল্লাহ (সা.) এই যিকিরকে 'জান্নাতের গুপ্তধন' হিসেবে অভিহিত করেছেন। এর বরকতে বহু মানুষের অসম্ভব হাজত আল্লাহ তাআলা মুহূর্তেই পূরণ করে দিয়েছেন।

আমলটি করার সঠিক নিয়ম (ধাপে ধাপে):
এটি মূলত একাগ্রতা এবং বিশ্বাসের আমল। তাহাজ্জুদের সময়, নিরিবিলি পরিবেশে এটি করা সবচেয়ে বেশি কার্যকরী।
১. ইশার নামাজের পর বা শেষ রাতে তাহাজ্জুদের সময় উত্তমরূপে ওযু করে দুই রাকাত নফল নামাজ আদায় করুন।
২. নামাজের পর মনোযোগ সহকারে ১০০ বার যেকোনো দরূদ শরীফ পড়ুন।
৩. এরপর ৪৯৯ বার পাঠ করুন
لَا حَوْلَ وَلَا قُوَّةَ إِلَّا بِاللّٰهِ
(লা হাওলা ওয়ালা কুয়্যাতা ইল্লা বিল্লাহ)

৪. ৫০০তম বার পাঠ করার সময় নিচের দোয়াটি যুক্ত করে পড়ুন
لَا حَوْلَ وَلَا قُوَّةَ إِلَّا بِاللّٰهِ الْعَلِيِّ الْعَظِيمِ
(লা হাওলা ওয়ালা কুয়্যাতা ইল্লা বিল্লাহিল আলিয়্যিল আজীম)
৫. এরপর পুনরায় ১০০ বার দরূদ শরীফ পাঠ করুন।
৬. পরিশেষে দুহাত তুলে আল্লাহর দরবারে নিজের হাজতের জন্য কায়মনোবাক্যে প্রার্থনা করুন।

কেন এই আমলটি করবেন?
হাদীস শরীফে এসেছে, প্রিয় নবীজি (সা.) বলেছেন "লা হাওলা ওয়ালা কুওয়্যাতা ইল্লা বিল্লাহ" হলো জান্নাতের রত্নভাণ্ডার সমূহের একটি। এটি ৯৯টি রোগের মহৌষধ, যার মধ্যে সর্বনিম্ন হলো 'দুশ্চিন্তা'। (বুখারী ও মুসলিম)
যখন বান্দা তার সমস্ত শক্তি ত্যাগ করে মহান আল্লাহর শক্তির কাছে নিজেকে সঁপে দেয়, তখনই আসমানের দরজাগুলো খুলে যায়। ইনশাআল্লাহ, আপনার চোখের পানি বিফলে যাবে না।
বি.দ্র: আমলটির মূল শক্তি হলো 'একাগ্রতা' এবং 'হালাল রিযিক'। পূর্ণ বিশ্বাস নিয়ে করুন।

সবাই এই পোস্টটি শেয়ার করে অন্য ভাই-বোনদের জানার সুযোগ করে দিন। হয়তো আপনার একটি শেয়ারে কারো জীবনের বড় কোনো মুশকিল আসান হয়ে যাবে।
আল্লাহুম্মা আমীন। আমার জন্য দোয়া করবেন। 🌸

আপনি কি আজ থেকেই এই বিশেষ আমলটি শুরু করতে চান? কমেন্টে 'ইনশাআল্লাহ' লিখে আপনার উপস্থিতি জানান। 😊

☞ ইসলামের যে কোনো বিষয় সুন্দরভাবে জানতে-বুঝতে এবং মহা-জরুরী মাসয়ালাগুলো সহজে পেতে ইসলামিক অনুপ্রেরণা কে ফলো দিয়ে রাখুন!

゚viralシfypシ゚viralシalシ

14/02/2026

একেক সময় মনের অবস্থা একেক রকম থাকে। আমার একটা অভ্যাস আছে। মন বেশি বিক্ষিপ্ত থাকলে, মনের সে অনুভূতি একবাক্যে লিখে তার সাথে IslamQA জুড়ে দিয়ে সার্চ দেই। ধরা যাক, মন খারাপ। তাহলে লিখে ফেলি- Feeling depressed ISlamQA.
এভাবে লিখলে অসংখ্য ফতোয়া চলে আসে। একটার পর একটা পড়তে থাকি। মনে হয় যেন, কোনো এক জ্ঞানসমুদ্রে এসে পড়েছি। পড়তে পড়তে একসময় মন খারাপের অনুভূতিটা চলে যায়।
ফতোয়া ঘাটতে ঘাটতে দুইটি প্রশ্নে চোখ পড়ে গেলো। দুইটা প্রশ্নই দুইজন মেয়ে করেছে। একজন লিখেছে-
“শায়খ! আমার বয়স ২৯ হয়ে গেছে। এখনো বিয়ে হয়নি। আমি সবসময় আল্লাহ্‌র কাছে একজন ভালো স্বামী চাই। কিন্তু এখনো আমার দু‘আ কবুল হয়নি। মাঝে মধ্যে মনে হয় আমি গুনাহগার বলেই হয়তো আল্লাহ্‌ আমার দু‘আ কবুল করছেন না। শায়খ! আমার জন্য একটু দু‘আ করে দিন না, যাতে আল্লাহ্‌ আমাকে একজন ভালো স্বামী দেন।”
আরেকজন প্রশ্ন করেছে-
“আল্লাহ্‌ সুন্দর। তিনি সুন্দর ভালোবাসেন। কিন্তু কালো চেহারা, ব্রণে ভরা মুখ আর এবড়ো-থেবড়ো দাঁতের কারণে আমি নিজেকে কুৎসিত মনে করি। আচ্ছা! আমি তো সুন্দর না। তার মানে কি আল্লাহ্‌ আমাকে ঘৃণা করেন?... বাসায় সবাই আমাকে বোঝা মনে করে। ইসলামে তো সুন্দর মেয়ে বিয়ে করতে বলা হয়েছে। আর আমি পুরুষদের দোষও দেই না। তারা তো কুরআন-সুন্নাহ মেনেই চলছে। কিন্তু আমার দোষ কী? আমি তো কুৎসিত হতে চাইনি! কাউকে সামাজিকভাবে মেনে নেয়া হচ্ছে না, চাকরী দেয়া হচ্ছে না, এমনকি বিয়েও করা হচ্ছে না -শুধু সে সুন্দর না বলে! এটা একজন মেয়ে কীভাবে মেনে নিবে?”
শায়খ দুইজনকে এতো সুন্দর উত্তর দিলেন! উত্তর শুনেই মন ভরে গেলো। সংক্ষেপে তুলে ধরছিঃ
হে আল্লাহ্‌র বান্দী! কুরআনের এই আয়াত নিয়ে ভাবো-
“হয়তো তোমরা কোন একটি বিষয় পছন্দ করো, যা তোমাদের জন্য ভালো না। আবার একটি বিষয় অপছন্দ করো, যা তোমাদের জন্য কল্যাণকর। আসলে, আল্লাহই জানেন আর তোমরা জানো না।” [সূরা বাকারা; আয়াত ২১৬]
কাজেই, আমাদের জন্য কোনটা ভালো, কোনটা খারাপ, সেটা আল্লাহই ভালো জানেন। তিনি আমাদের জন্য জীবনটাকে সেভাবেই সাজিয়েছেন।
হাঁ, দুনিয়ার পরীক্ষার জন্য হয়তো আমাদের কাছে সেটা অবিচার মনে হতে পারে। কিন্তু যদি ধৈর্য ধরতে পারি, তবে তার জন্য আল্লাহ্‌ আমাদেরকে উত্তম প্রতিদান দিবেন। রাসূল (ﷺ) বলেছেন, “মুমিনের ব্যাপারটা বড়ই আজব। যখন তার সাথে ভালো কিছু ঘটে, সে ধৈর্য ধরে আর তা তার জন্য উত্তম। আর যখন খারাপ কিছু ঘটে, সে সবর করে। আর এটাও তার জন্য উত্তম।” [সহীহ্ মুসলিম ২৯৯৯]
তাই আল্লাহকে ধন্যবাদ দাও। যদি তিনি তোমাকে কিছু থেকে দূরে রাখেন, তবে তা তোমার কল্যাণের জন্যেই। শ'য়তানকে ওয়াসওয়াসা দেয়ার সুযোগ দিয়ো না। বরং, আল্লাহ্‌ যেমন চান, তেমন একজন বান্দী হয়ে যাও। তাঁর ফয়সালা হাসিমুখে মেনে নাও। কাদরকে গ্রহণ করতে শিখো। আল্লাহ্‌র ইবাদত দিয়ে নিজেকে ব্যস্ত রাখো। সালাত-সিয়াম, আল্লাহ্‌র যিকিরে নিবিষ্ট হও।
নিজের প্রতি সদয় হও। তাকিয়ে দেখো, তোমার মতো লক্ষ লক্ষ মেয়ে বিয়ে করতে পারছে না। কিন্তু তারা অনেক বিবাহিত দম্পতির চেয়ে সুখে আছে।
কখনো কোনো দম্পতিকে একসাথে দেখলে কি তোমার মন খারাপ হয়ে যায়? মনে হয় আল্লাহ্‌ তোমাকে এই সুখ থেকে বঞ্চিত করেছেন? এক মিনিট দাঁড়াও! তুমি তো কেবল জীবনের একটা দিকই দেখলে!
যদি তুমি সেই স্ত্রীকে দেখতে যে তার স্বামীকে ঘৃণা করে, স্বামীকে একটুও ভালোবাসে না, যার মুখ থেকে কেবল স্বামীর অত্যা'চারের রোমহর্ষক বর্ণনাই পাওয়া যায়, তাহলে হয়তো বিয়ে থেকে তোমাকে দূরে রাখার জন্য তুমি আল্লাহকে ধন্যবাদ দিতে।
এরপর থেকে নিজেকে হতভাগী মনে হলে, তোমার সেই বান্ধবীর কথা মনে করবে, যাকে সারাক্ষণ তার স্বামীর বকা হজম করতে হয়। স্মরণ করবে তোমার সেই প্রতিবেশীর কথা, যাকে স্বামী মে'রে বাসা থেকে তাড়িয়ে দিয়েছে। তাদের ডিভোর্স হয়ে গেছে।
আজ তুমি অসুন্দর হওয়ার ব্যাপারে অভিযোগ করছো। কিন্তু আজ যদি আল্লাহ্‌ তোমাকে যে নিয়ামত দিয়েছে সেটা গুনতে শুরু করো, তবে গুনে শেষ করতে পারবে না।
“যদি তোমরা আল্লাহর নি‘আমত গণনা করো, তবে তার সংখ্যা গুনে শেষ করতে পারবে না। মানুষ অবশ্যই বড়ই যা’লিম। বড়ই অকৃতজ্ঞ।” [সূরা ইব্রাহীম; আয়াত ৩৪]
আজ যদি সবাই তোমার মতো কথা বলতে শুরু করে, তবে যারা অসুস্থ তারা বলবে, “আল্লাহ্‌ কেন আমাকে অসুস্থ রেখেছেন আর সবাইকে সুস্থ রেখেছেন?”
যারা গরীব তারা বলবে, “আল্লাহ্‌ কেন আমাকে গরীব বানিয়েছেন আর অন্যদেরকে ধনী বানিয়েছেন?”
যারা ক্লান্ত তারা বলবে, “আল্লাহ্‌ কেন আমাকে দৌড়ের ওপর রেখেছেন আর সবাইকে এতো ভালো রেখেছেন?”
তুমি কেন এভাবে ভাবছো না যে, আল্লাহ তোমাকে দেখার জন্য দুইটা চোখ দিয়েছেন, অথচ কোটি কোটি মানুষ চোখে দেখতে পায় না। তুমি পা দিয়ে হাঁটতে পারো অথচ লাখ লাখ মানুষ আজ প'ঙ্গু। আল্লাহ তোমাকে ইসলাম দিয়েছেন অথচ কোটি কোটি মানুষ ইসলামের সৌন্দর্য থেকে বঞ্চিত।

একবার ভেবে দেখো, সেসব অমুসলিম মেয়েদের কথা, যাদেরকে আল্লাহ্‌ নজরকাড়া সৌন্দর্য ঢেলে দিয়েছেন। কাল যদি তারা কু'ফরের ওপর মা*রা যায়, তবে তারা কোথায় থাকবে? এই সৌন্দর্য তাদের কী কাজে লাগবে? বরং তারা যদি তাদের অন্তরটাকে ইসলাম দিয়ে সুন্দর করতো, তবে তা তাদের কাজে লাগতো। আমি তোমাকে প্রশ্ন করি, কোনটা তোমাকে খুশি করে? একজন সুন্দরী অমুসলিম হিসেবে থাকা নাকি একজন অসুন্দর মুসলিমা হিসেবে থাকা?
“তুমি কখনো চোখ খুলে তাকিও না ঐ সবের প্রতি যা আমি তাদের বিভিন্ন দলকে পার্থিব জীবনে উপভোগের জন্য সৌন্দর্য স্বরূপ দিয়েছি দিয়েছি। যাতে আমি সে বিষয়ে তাদেরকে পরীক্ষা করে নিতে পারি। আর তোমার রবের দেয়া রিযিকই হলো সবচেয়ে উত্তম। সবচেয়ে বেশি স্থায়ী।” [সূরা ত্ব-হা; আয়াত ১৩১]
মুহাম্মাদ রশীদ একটি বই লিখেছেন। নাম ‘গাইরে মুতাযাওজিয়াত ওয়ালাকিন সা’ঈদাত (বিয়ে না করলেও সুখী)। তিনি সেখানে এক বোনের গল্প এনেছেন। যে বিয়ে করতে না পারায় খুব হতাশ থাকলেও পরবর্তীতে কুরআনের মাধ্যমে জীবনের অর্থ খুঁজে পেয়েছে। তিনি লিখেছেন,
"সকল মেয়েরই বোঝা উচিত, তাদের জীবনের একমাত্র উদ্দেশ্য হচ্ছে, জীবনের সবক্ষেত্রে আল্লাহ্‌ তা‘আলার ইবাদত করতে পারা। তার যদি ঘর-সংসার করার সুযোগ আসে, তবে সে ইসলাম অনুযায়ী ছেলে-মেয়েদেরকে বড়ো করবে। আর যদি সুযোগ না হয়, তবে সে যেন সেসব বোনদেরকে নিজের মেয়ে হিসেবে নিয়ে নেয়, যারা আল্লাহ্‌র পথ থেকে দূরে সরে গিয়েছে। সে তাদেরকে আল্লাহ্‌র রাস্তায় আনার চেষ্টা করবে। তাদের ভালো কাজের অংশীদার সে নিজেও হবে। এভাবে পৃথিবীর সকল মুসলিমকে সে নিজের করে নিবে।"
নিজেকে গড়ে তুলবে একজন ভালো মানুষ হিসেবে। যাকে সবাই অনুসরণ করবে। শ্রদ্ধা করবে। ভালোবাসবে। আর-
“নিশ্চয় আল্লাহ সৎকর্মশীলদের প্রতিদান নষ্ট করেন না।” [সূরা তওবা; ১২০(আয়াতাংশ)]

লেখা : শিহাব আহমেদ তুহিন

#সীরাহ

"দ্বীনদার হওয়ার মানে এই নয় যে আপনি হাসি-খুশি থাকবেন না বা সুন্দর জীবন কাটাবেন না। সাহাবারাও কৌতুক করতেন, হাসতেন। সমস্যা ...
11/02/2026

"দ্বীনদার হওয়ার মানে এই নয় যে আপনি হাসি-খুশি থাকবেন না বা সুন্দর জীবন কাটাবেন না। সাহাবারাও কৌতুক করতেন, হাসতেন। সমস্যা তখনই হয় যখন বিনোদন আপনার জীবনের প্রধান লক্ষ্য হয়ে দাঁড়ায়। বিনোদনকে লবণের মতো ব্যবহার করুন—খাবারের স্বাদের জন্য লবণ প্রয়োজন, কিন্তু কেবল লবণ দিয়ে পেট ভরানো সম্ভব নয়।"

নোমান আলী খান

゚viralシfypシ゚viralシalシ

08/02/2026

"দুআ কোনো রিমোট কন্ট্রোল নয় যে টিপলেই আপনার ইচ্ছা পূরণ হবে। দুআ হলো আপনার সৃষ্টিকর্তার সাথে একটি সম্পর্ক। কখনও কখনও তিনি উত্তর দিতে দেরি করেন কারণ তিনি চান আপনি তাঁর সাথে আরও বেশি সময় কথা বলুন।"

নোমান আলী খান

゚viralシfypシ゚viralシalシ

08/02/2026

ইউসুফ (আ.) তাঁর ভাইকে বলেছিলেন—
'মন খারাপ কোরো না।'

মূসা (আ.) তাঁর ভাইকে বলেছিলেন—
'ভয় পেয়ো না।'

মুহাম্মদ ﷺ তাঁর সঙ্গীকে বলেছিলেন—
'দুঃখ করো না।'

ইবরাহীম (আ.) বলেছিলেন—
'ভয় নেই, আল্লাহ আমার সহায়।'

নূহ (আ.) বলেছিলেন—
'ধৈর্য রাখো, আল্লাহ প্রতিটি বিপদে সহায়।'

নবীরাও শিখিয়েছেন—ভয়, দুঃখ, হতাশা সবই আসলে জীবনের অংশ। এগুলো আসবেই। হতাশ হওয়া যাবে না। আল্লাহর ওপর ভরসা রাখলে, ধৈর্য ধরলে; এই দুঃখ এই দুর্দশা কেটে যাবে।

আপনার-আমার প্রতিটা সমস্যা, প্রতিটা কষ্ট- আল্লাহ দেখছেন। আপনার-আমার জন্য এমন পথ খুলে দিচ্ছেন, যেই পথেই আছে শান্তি ও সমাধান।

তাই, মন খারাপ হলে মনে করুন:

• আল্লাহ সর্বদা আমার পাশে আছেন।
• প্রতিটি সমস্যার পর সমাধান আসবেই।
• নিশ্চয়ই কষ্টের পরেই স্বস্তি।
• নিশ্চয়ই দুঃখের পরেই সুখ।
• দুঃখ, হতাশা, বা ভয়- এগুলো চিরস্থায়ী নয়।

লেখা— মাহমুদ বিন নূর

বিনয়ী হও এবং কখনও নিজেকে অন্যের চেয়ে উত্তম মনে করো না! তুমি আল্লাহর সৃষ্টি,ধুলো থেকে এসেছো, ধুলোতেই মিশে যাবে! রাসুল (...
03/02/2026

বিনয়ী হও এবং কখনও নিজেকে অন্যের চেয়ে উত্তম মনে করো না! তুমি আল্লাহর সৃষ্টি,ধুলো থেকে এসেছো, ধুলোতেই মিশে যাবে! রাসুল (ﷺ)বলেছেন–

لَا يَدْخُلُ الْجَنَّةَ مُكْبِرٌ
অহংকারী জান্নাতে প্রবেশ করতে পারবে না!

সত্যিকার মর্যাদা আসে তাকওয়া ও ভালো আমল থেকে! তাই কৃতজ্ঞ হও,নিজের সীমাবদ্ধতা বোঝো এবং আল্লাহর স্মরণে মন স্থির রাখো! কারণ আল্লাহ'ই সত্যিকার মর্যাদা প্রদানকারী!



゚viralシfypシ゚viralシalシ

01/02/2026

"জান্নাতে যাওয়ার জন্য আপনাকে অনেক বড় বড় কাজ করতে হবে না; বরং ছোট ছোট কাজগুলো অনেক বড় ভালোবাসা ও ইখলাসের সাথে করতে হবে। আল্লাহর কাছে কাজের পরিমাণের চেয়ে কাজের গভীরতা বেশি মূল্যবান।"

নোমান আলী খান

জীবনের প্রতিটা কদমে ধৈর্য্য ধরতে হবে।ঠিক সেইভাবে যেভাবে রোজা রাখি এবং জানি যে অবশ্যই মাগরিবের আজান হবে.!!🌸 ゚viralシfypシ゚v...
26/01/2026

জীবনের প্রতিটা কদমে ধৈর্য্য ধরতে হবে।ঠিক সেইভাবে যেভাবে রোজা রাখি এবং জানি যে অবশ্যই মাগরিবের আজান হবে.!!🌸

゚viralシfypシ゚viralシalシ


কুন ফায়া কুন, কখনোই দু'আ করা ছেড়ে দিও না। তুমি সর্বশক্তিমান আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করছো, আল-মুক্তাদির। যিনি তোমাকে যা ...
25/01/2026

কুন ফায়া কুন, কখনোই দু'আ করা ছেড়ে দিও না।
তুমি সর্বশক্তিমান আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করছো, আল-মুক্তাদির। যিনি তোমাকে যা চাইবে তা দেবেন, এমনকি যদি তুমি তা অসম্ভব বলে মনে করো। দয়া করে, তোমার দু'আয় এক সেকেন্ডের জন্যও সন্দেহ করো না। যখন তুমি প্রার্থনা করবে, তখন আন্তরিকতার সাথে করো..!'💙

21/01/2026

Address

Sunamganj

Website

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when Jannatul Arefin posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Contact The Business

Send a message to Jannatul Arefin:

Share