08/03/2026
🟤 লাইলাতুল কদর কি শুধু বিজোড় রাতেই হতে পারে?
- লাইলাতুল কদর শুধু বিজোড় রাতে নয়, আমি আবারো বলছি শুধু বিজোড় রাতে সীমাবদ্ধ নয়! বরং জোড় রাতেও হতে পারে!
আমরা তো জানিনা কোনটা জোড় আর কোনটা বিজোড় রাত। রমাদান মাস শেষ না হলে আমরা এটা বুঝতেও পারবো না যে কোনটা জোড় রাত ছিলো আর কোনটা বিজোড় রাত!
কারন এক হাদিসে বলা হয়েছে, লাইলাতুল কদর রমাজানের শেষের দিক থেকে ১ দিন আগে তালাশ করো! ৩ দিন আগে তালাশ করো এবং ৫, ৭ ও ৯ দিন আগে তালাশ করো।
আমরা তো আগে থেকে জানিনা রমাদান ২৯ দিন হবে না ৩০ দিন! যদি রমাদান ২৯ দিন হয় তাহলে তো বিজোড় রাত হবে ২২, ২৪,২৬ ও ২৮ রমাদানের রাত্রি!
এজন্যই লাইলাতুল কদর শুধু বিজোড় রাতে সীমাবদ্ধ নয় বরং জোড় রাতেও হতে পারে!
হাদিস দেখুন-
রসুল স. বলেন,তোমরা তা (লাইলাতুল কদর [ক্বদর]) রমাযানের শেষ দশকে অনুসন্ধান কর। লাইলাতুল কদর [ক্বদর] (শেষ দিক হতে গণনায়) নবম, সপ্তম বা পঞ্চম রাত অবশিষ্ট থাকে। (বুখারী ২০২১)
তাই রসুল সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম যেমন শেষ ১০ রাতেই বেশি করে ইবাদত করতেন আমাদেরও তেমন শেষ ১০ রাতেই বেশি করে ইবাদত করা উচিত এবং বিজোড় রাত্রিতে সীমাবদ্ধ থাকা উচিত নয়! কারন আসলেও আমরা জানিনা কোনটা বিজোড় রাত আর কোনটা জোড়! রমাদান শেষ হওয়ার আগে এটা জানা সম্ভব নয়!
রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) রমজানের শেষ দশকে নামায, কুরআন তেলাওয়াত ও দোয়ার মধ্যে এত বেশী সময় দিতেন যা অন্য সময়ে দিতেন না। আয়েশা (রাঃ) থেকে ইমাম বুখারী ও মুসলিম বর্ণনা করেছেন যে, রমজানের শেষ দশরাত্রি শুরু হলে নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) রাত জেগে ইবাদত করতেন তাঁর পরিবারবর্গকে জাগিয়ে তুলতেন এবং স্ত্রী-সহবাস থেকে বিরত থাকতেন। ইমাম আহমাদ ও মুসলিম বর্ণনা করেছেন যে: “তিনি রমজানের শেষ দশকে এত বেশী ইবাদত করতেন যা অন্য সময়ে করতেন না।” তাই আমাদের পুরো শেষ দশকেই ইবাদত করা উচিত!
🟤 লাইলাতুল কদরে কি কি ইবাদত করবো আর কি কি করবো না?
১. ঘুমানো যাবে না! জ্বি এটাই ইবাদতের লিস্টে এক নাম্বার! ঘুমিয়ে গেলে সব শেষ। এই রাত আবার পাবেন কি না আপনি তো জানেন না। তাই ঘুমিয়ে এক সেকেন্ডও নষ্ট করা যাবে না। ইফতারের পর কিছুটা সময় রেস্ট নিয়ে ইবাদতে লেগে পড়তে হবে।
২. নামাজ!
আবু হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন: “যে ব্যক্তি ঈমানের সাথে ও সওয়াবের নিয়তে লাইলাতুল ক্বদরে (ভাগ্য রজনীতে) নামায আদায় করবে তার অতীতের সমস্ত গুনাহ ক্ষমা করে দেয়া হবে।”[সহীহ বুখারী ও সহীহ মুসলিম] এই হাদীস প্রমাণ করে যে, ভাগ্য রজনীতে কিয়ামুল লাইল (রাত্রীকালীন নামায) আদায় করা শরয়ি বিধান।
রাতে একটু পরপর বিরতি নিয়ে নিয়ে সারা রাত ধরেই একটু পর পর নামাজ আদায় করা যায়। নিয়ত হবে কিয়ামুল লাইল/তাহাজ্জুদ এর!
৩. কোরআন তিলাওয়াত!
নামাজ এবং নামাজের বাইরে অনেক বেশি পরিমানে কোরআন তিলাওয়াত করা যায়। যেহেতু রাতে প্রায় ৮ থেকে ১০ ঘন্টা সময় পাওয়া যাবে তাই যতো বেশি পারি কোরআন তিলাওয়াত করা যাবে।
৪. লাইলাতুল ক্বদরে (ভাগ্য রজনীতে) পঠিতব্য সবচেয়ে ভালো দোয়া হচ্ছে- যা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আয়েশা (রাঃ) কে শিক্ষা দিয়েছেন। যেটি তিরমিযি আয়েশা (রাঃ) থেকে সংকলন করেছেন এবং সহীহ আখ্যায়িত করেছেন। দোয়াটি হলো-
اللهمَّ إِنَّكَ عَفُوٌّ تُحِبُّ الْعَفْوَ فَاعْفُ عَنِّي
(অর্থ: হে আল্লাহ আপনি ক্ষমাশীল, ক্ষমা করাকে আপনি ভালবাসেন, অতএব আমাকে ক্ষমা করে দিন।)
এই দোয়া যতো বেশি বেশি পারা যায় পড়তে হবে সারা রাত্রি ধরে!
উল্লেখ্য: এটি একটি দোয়া। এটি জিকির নয়। অতএব দোয়া যেভাবে পড়তে হয় সেভাবে পড়বেন। মোনাজাতে, সিজদায়, সালাম ফিরানোর আগে পড়তে হবে।
জিকিরের মতো করে দোয়া পড়তে হয় না।
৫. জিকির!
যেকোনো জিকির করতে পারেন সহীহ হাদিসের। সেটা হতে পারে সুবহানাল্লাহ, আলহামদুলিল্লাহ, আল্লাহু আকবার, আস্তাগফিরুল্লাহ বা দরুদ পাঠ ইত্যাদি!
৬. ইবাদত করতে ক্লান্ত লাগলে শাইখদের লেকচার শুনা যায় কিছুক্ষন, রিফ্রেশমেন্ট এর জন্য। এটাও আল্লাহর নিকটে যাওয়ার মাধ্যম।
৭. গুনাহ থেকে বেচে থাকা! এবং সময় নষ্ট না করা বিশেষ করে মোবাইলে!
৮. কস্মিনকালেও বিদ‘আত (দ্বীনের মধ্যে নতুন প্রবর্তিত বিষয়) করা জায়েয নেই। রমজানের মধ্যেও না, রমজানের বাইরেও না। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে প্রমাণিত হয়েছে যে তিনি বলেছেন: “যে ব্যক্তি আমাদের এই শরিয়তে এমন কিছু প্রবর্তন করল যা এর অন্তর্ভুক্ত নয় তা প্রত্যাখ্যাত।” অন্য এক রেওয়ায়েতে আছে, “যে ব্যক্তি এমন কোন কাজ করল যা আমাদের শরিয়তের অন্তর্ভুক্ত নয়, তা প্রত্যাখ্যাত।”
৯. বাবা, মায়ের, স্বামী/স্ত্রীর সেবা করাও ইবাদত। উত্তম আচরনও ইবাদত। আল্লাহর জন্য যা করবেন, সবই ইবাদত। অতএব গুনাহ যেনো না হয় সেদিকে খেয়াল রাখা জরুরী।
আল্লাহ আমাদের লাইলাতুল কদর সফলভাবে পাওয়ার তৌফিক দিন!
সাওয়াবের নিয়তে পৌঁছে দিন সবার কাছে
#শবে_কদর #লাইলাতুল_ক্বদর