13/02/2026
আমি হাসনাত আব্দুল্লাহ।
আমার বাবা একজন রাজমিস্ত্রি ছিলেন। আজ আমি সংসদ সদস্য—এই কথাটা লিখতে গিয়েও হাত কাঁপে।
কারণ আমি জানি, এই জায়গায় পৌঁছানোটা শুধু আমার একার পথ না।
এটা হাজার কষ্টের পথ, হাজার অপমানের পথ, অগণিত মানুষের দোয়ার পথ।
আমি একটা গরিব, অসহায় পরিবারের ছেলে।
ছোটবেলা থেকেই দেখেছি—অভাব কীভাবে মানুষকে নীরব করে দেয়।
অনেক রাত না খেয়ে ঘুমিয়েছি।
অনেক দিন বুকের ভিতরের স্বপ্ন কাউকে বলতেও ভয় পেয়েছি।
কিন্তু একটা জিনিস কখনো ছাড়িনি—
মানুষের পাশে দাঁড়ানোর ইচ্ছা।
ছাত্র আন্দোলনের দিনগুলোতে আমি জানতাম না সামনে কী আছে।
শুধু জানতাম—পেছনে হাজার মানুষ আছে, যারা ন্যায় চায়।
তাদের জন্যই পথে নেমেছি।
তাদের জন্যই আঘাত সয়েছি।
অনেক সময় খুব একা লেগেছে।
পাশে থাকা মানুষও সরে গেছে।
বিশ্বাস ভেঙেছে, অপমান শুনেছি।
তবু থামিনি।
কারণ আমি জানতাম—
আমি থামলে আমার মতো হাজার ছেলের স্বপ্ন থেমে যাবে।
আমার মায়ের চোখের পানি,
আমার বাবার নীরব কষ্ট—
এই দুটোই আমাকে শক্ত করেছে।
আজ ১১৬টি কেন্দ্রে জয়—এটা আমার ব্যক্তিগত সাফল্য না।
এটা সেই দিনগুলোর হিসাব,
যখন আমি ভাবতাম—
“এই দেশটা কি কখনো আমাদের মতো মানুষের হবে?”
আজ আমি জনগণের প্রতিনিধি।
কিন্তু আমি এখনও সেই আগের ছেলেটাই।
আমার শরীরে এখনও অভাবের গন্ধ আছে,
সংগ্রামের দাগ আছে।
আমি এগুলো ভুলতে চাই না।
আমি প্রতিশ্রুতি দিচ্ছি—
এই পদ আমার অহংকার না,
এটা আমার দায়িত্ব।
আমি ক্ষমতার জন্য রাজনীতি করিনি,
মানুষের জন্য করেছি।
যারা আজও কষ্টে আছে,
যারা এখনও কথা বলতে পারে না—
আমি তাদের কণ্ঠ হয়ে থাকতে চাই।
আমার জীবনের সব কষ্ট
যদি মানুষের একটু উপকারে লাগে—
তবেই আমার সফলতা।
আপনারা পাশে ছিলেন বলেই আজ এখানে দাঁড়াতে পেরেছি।
এই জয় আমার না—
এই জয় আপনাদের।
আমার জীবনও আপনাদের জন্য।
দোয়া করবেন—
যেন আমি কখনো আমার শিকড় ভুলে না যাই। 🌿