27/09/2025
দূর্গাপূজা নিয়ে লোকমুখে নানা কুসংস্কার ও বিশ্বাস প্রচলিত আছে, যেগুলো শাস্ত্রে বাধ্যতামূলক নয়, বরং সময়ের সাথে লোকাচার ও অন্ধবিশ্বাস হিসেবে গড়ে উঠেছে। কয়েকটি প্রচলিত কুসংস্কার হলো-
1. বেশ্যার বাড়ির মাটি ছাড়া প্রতিমা হবে না – আসলে শাস্ত্রে এমন বাধ্যবাধকতা নেই, এটি এক ধরনের লোকবিশ্বাস। মূলত "সর্বত্র সমান শক্তি বিরাজমান" বোঝাতে এই প্রতীকী প্রথার ব্যাখ্যা দেওয়া হয়।
-
2. অশুভ শক্তি দূর করতে নির্দিষ্ট মন্ত্র না পড়লে পূজা সফল হবে না – অথচ পূজার মূল উদ্দেশ্য ভক্তি ও মনোসংযোগ, মন্ত্র উচ্চারণ ভুল হলেও দেবী রুষ্ট হন না।
-
3. পূজার সময় নির্দিষ্ট দিনে মাছ বা মাংস খেলে সর্বনাশ হবে – অনেক পরিবারে একেবারে নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়। যদিও শাস্ত্রে পূজার দিনে ভোগে নিরামিষ দেওয়ার নিয়ম বলা হয়েছে, কিন্তু গৃহস্থরা কী খাবেন তা ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত।
-
4. কুমারী পূজা না করলে পরিবারে অমঙ্গল হয় – শাস্ত্রে কুমারী পূজা ঐচ্ছিক, বাধ্যতামূলক নয়। এটিকে দেবীর শক্তির প্রতীক হিসেবে মানা হয়, কিন্তু না করলে অমঙ্গল হবে — এ ধারণা কুসংস্কার।
-
5. অষ্টমী বা নবমীতে শাঁখ ভাঙলে বা বাতি নিভে গেলে দেবী রুষ্ট হন – এগুলো নিছক ভয়ের কাহিনি, ধর্মীয় শাস্ত্রে এর কোনো ভিত্তি নেই।
-
6. দেবী বিসর্জনের সময় কেউ কাঁদলে তার পরিবারে মৃত্যু বা অশুভ ঘটে – আসলে এটা আবেগের প্রকাশ, কোনো শাস্ত্রীয় নিষেধ নেই।
-
7. বিসর্জনের পর প্রতিমার মাটি ঘরে আনলে অশুভ হয় – বাস্তবে প্রতিমার মাটিতে কোনো অশুভ শক্তি নেই। বরং অনেক শিল্পী সেই মাটি দিয়ে নতুন প্রতিমা গড়েন।
আসলে, দূর্গাপূজা মূলত আনন্দ, ভক্তি আর মিলনের উৎসব। কুসংস্কারগুলো মানুষের ভীতি আর লোকাচারের ফসল।
#দুর্গা_পুজা_২০২৫ #মায়ের_আগমনী_২০২৫ #কুসংষ্কার #সামাজিকতা #পুজার_লোকচার fans সনাতন ধর্ম সম্প্রদায়