02/04/2026
মাশাআল্লাহ, আমাদের প্রিয় জুনিয়র ব্যাচ (PMC-11)-এর এমন সুন্দর ও মানবিক উদ্যোগ সত্যিই অনুপ্রেরণাদায়ক। তাদের জন্য রইলো আন্তরিক শুভকামনা ও দোয়া। আল্লাহ তাদের উত্তম প্রতিদান দিন!!🤍
মেডিকেলে নতুন ভর্তি হওয়া একজন শিক্ষার্থী যখন প্রথমবার এনাটমি ডিপার্টমেন্টে প্রবেশ করে, তার চোখ এক পলকের জন্য থমকে থাকে ক্লাসরুমের কোনো এক কর্ণারের দিকে। সেখানে সবার আগ্রহের কেন্দ্রবিন্দু হিসেবে ঝুলে থাকে এক পূর্ণাঙ্গ মানব কঙ্কাল।
এনাটমি পড়ার স্বাভাবিক প্রক্রিয়ায়, শিক্ষার্থীদের অধিকাংশকেই ফুল বা হাফ সেট কঙ্কাল সংগ্রহ করতে হয়। আমাদের দেশে এখনও আর্টিফিশিয়াল বোনসের যথাযথ প্রচলন নেই, তাই শিক্ষার্থীরা স্বাভাবিকভাবেই আসল মানব কঙ্কালের দিকে ঝুঁকে পড়তে বাধ্য হয়।
কিন্তু এই আগ্রহের কেন্দ্রবিন্দুতে লুকিয়ে থাকে একটি ভিন্ন বাস্তবতা। সিন্ডিকেটের কালো ছায়া, কিংবা বোনস সংগ্রহের জন্য মেডিকেল স্টুডেন্টের নিজেদের মধ্যে অনিচ্ছেকৃতভাবে গড়ে উঠা বোনস কেনা বেচার এক অমানবিক চক্র যা নিজ অজান্তে শিক্ষার্থীকে হারাম এবং অমানবিক কার্যকলাপের সঙ্গে জড়িয়ে দিতে পারে। একটি সাধারণ শিখন ইচ্ছাই কখনো কখনো তাকে একটি নৈতিক সংকটের মধ্যে টেনে আনে।
আমরা যেই বোনস সেটগুলোকে ব্যবহার করে থাকি তার উৎস মূলত...
১) হাসপাতালের বে- ওয়ারিশ লাশ, কিংবা
২) কবর থেকে চুরি করা লাশ।
খুব সাধারণ চিন্তা করলেই বুঝা যায়, দুটি উৎসই স্বাভাবিক চিন্তাধারার বিকৃত এক রূপ। একজন মানুষের সম্মান জীবিত অবস্থায় যেমন ঠিক তেমনি তার মৃত অবস্থায়ও।
হযরত আয়েশা (রাঃ) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ "মৃত ব্যক্তির হাড় ভাঙ্গা, জীবিতকালে তার হাড় ভাঙারই মতো। (আবু দাঊদ ৩২০৭)"
আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ রা. বলেছেন, "কোনো মুমিন ব্যক্তিকে তাঁর মৃত্যুর পর কষ্ট দেওয়া তেমনই যেমন জীবিত অবস্থায় তাকে কষ্ট দেওয়া।" -মুসান্নাফে ইবনে আবী শাইবা, হাদীস: ১১৯৯০
পৃথিবীর সকল আলেম এই ব্যাপারে একমত যে কঙ্কাল বিক্রয় করা হারাম। জিনিসটা খুবই অমানবিক ও ঘৃণ্য এক কাজ। অন্য ধর্মালম্বী ভাই-বোনদের মৃতদেহও তার পরিবারের জন্য অবশ্যই সবকিছুর উর্ধ্বে।
তবে অত্যান্ত দুঃখের বিষয় এই যে এতো সংবেদনশীল এবং অমানবিক একটি ইস্যু সমাধানে সবার খুব বেশি উদাসীনতা। অত্যাধিক চাহিদা এবং লাভজনক ব্যবসা হওয়ায় সিন্ডিকেটের কালো থাবা পড়তে থাকে একের পর এক বেওয়ারিশ লাশ কিংবা আমাদের আপনজনের কবরে। প্রিতিনিয়তই এরকম অনেক খবর পত্র পত্রিকা কিংবা নিউজ চ্যানেলে প্রকাশিত হতে দেখা যায়।
তাই চিরায়ত এসব সমস্যাগুলো সমাধানের যথাসাধ্য প্রচেষ্টার লক্ষ্যে আমাদের এই " Bones Bank Parkview medical college " এর উদ্যোগ।
কেন আপনাকে আমরা বোনস বিক্রি করে আর্থিকভাবে লাভবান না হয়ে, ডোনেট করার কথা বলছি?
- কারণ, মানব কঙ্কাল বিক্রি করা পরিপূর্ণ হারাম হওয়ায় কেউ একবার কঙ্কাল ক্রয় করার পর সেটির ভবিষ্যৎ ব্যবহার নিয়ে সচেতন থাকার ক্ষেত্রে বিজ্ঞ আলেমগণ অত্যন্ত সুন্দর একটি পথনির্দেশনা দিয়েছেন-
"সেটিকে অন্য কোনো শিক্ষার্থীকে বিনামূল্যে দিয়ে দেওয়া।"
এটি নিঃসন্দেহে সবচেয়ে উত্তম ও প্রশংসনীয় সমাধান। এতে একাধিক উপকার সাধিত হয়ঃ
১) ব্যক্তি নিজে বোনসটি বিক্রি না করে একটি হারাম কাজ থেকে বেঁচে থাকতে পারে।
২) অন্যকে জ্ঞানার্জনের উদ্দেশ্যে প্রদান করার মাধ্যমে সে সদকায়ে জারিয়ায় অংশগ্রহণের সৌভাগ্য অর্জন করতে পারে।
৩) যিনি বিনামূল্যে এটি গ্রহণ করবেন, তার জন্যও ভবিষ্যতে এটি বিক্রি করার প্রবণতা কমে যাবে-ফলে তিনিও হারাম থেকে বেঁচে থাকতে পারবেন।
৪) সর্বোপরি, একজন সম্পূর্ণ ভিন্ন মানুষের দেহাবশেষ নিয়ে কোনো প্রকার বাণিজ্য না হওয়ায়, 'আশরাফুল মাখলুকাত' হিসেবে মানুষের মর্যাদা কিছুটা হলেও সংরক্ষিত থাকে।
আসুন, আমরা জ্ঞান অর্জনের পাশাপাশি মানবিকতা ও শরীয়তের সীমারেখকেও সম্মান করি।
বিশেষ দ্রষ্টব্য : বোনস ব্যাংকে দেওয়া আপনার আমানতের যথাসাধ্য রক্ষনাবেক্ষণ এবং যাবতীয় তথ্য নিয়মিত হালনাগাদ এর দায়িত্ব আমরা গ্রহণ করবো ইনশাআল্লাহ।
এক ব্যাচের পড়া শেষ হয়েগেলে, তাদের কাছ থেকে সেটা যথাযথভাবে সংগ্রহ করে সেটা আবার পরবর্তী ব্যাচের হাতে তুলে দেওয়া থাকবে আমাদের দায়িত্ব ও কর্তব্য।
সার্বিক ব্যবস্থাপনায়
পিএমসি : ১১ ব্যাচ