15/09/2026
❗ খুবই জটিল দেখা যায় মধ্যপ্রাচ্যের খেলা।
এখন আর ইসরায়েলে হামলা করে না ইরান। যখন করেছে, তখনও এখনকার আরবদের ওপরে করা হামলাগুলোর মতো ভয়াবহ হামলা করেনি।
এত সামুদ্রিক অবরোধ, এত বন্দর ধ্বংস, তাহলে ইসরায়েলের হাইফা কিংবা অ্যাশকেলন বন্দরে ইরান জোটের অ্যাকশন কোথায় ছিল? কতটুকু ট্রাফিক কমাতে পেরেছে ওরা হাইফা আর অ্যাশকেলন বন্দরের?
আবার ইসরায়েলের আরেক মিত্র আরব আমিরাতেরও ইরান তেমন কিছু করেনি। অনেস্টলি, বুর্জ খলিফার গায়ে এখনো একটা ফুলের টোকাও লাগলো না! এখানে একটা টোকা দিলে, আমিরাতের ভাবমূর্তি অর্ধেক শেষ হয়ে যেত।
এলএনজি পাওয়ার হারিয়ে কাতারের আজ পথে বসার দশা। গ্যাস রপ্তানিকারক দেশ, এখন নাকি গ্যাস আমদানি করতে বাধ্য হচ্ছে! রাস লাফান গ্যাসক্ষেত্র এখন শুধুই অতীত। অর্ধ যুগ লাগবে আগের মতো সার্ভিসে আসতে।
হুথীর মিসাইলে সৌদিরও সেইম দশা। আরামকো নাই। জাযান তেল ক্ষেত্রের ধোঁয়া এখনো বের হচ্ছে। হরমুজ বন্ধ, পূব দিক দিয়ে তেল যায় না। পাইপ লাইনে করে যে পশ্চিম দিকের লোহিত সাগর দিয়ে তেল দিবে, সেই পাইপ লাইনেও মিসাইল হামলা। কমে গেছে সৌদির প্রায় অর্ধেকের মতো তেল সরবরাহ!
বাব আল মান্দেব আটকে রাখতে পারে, সৌদির ইয়ানবু' বন্দরে অ্যাটাক করতে পারে, কিন্তু এর থেকে মাত্র সাত/আট শ' কিলোমিটার দূরের ইসরায়েলের অ্যাশকেলন বন্দর দেখে না হুথীর মিসাইল। দেখে না হাইফা বন্দর। যুদ্ধে ইসরায়েলের কয়টা গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা ডিমোলিশড করেছে এখন পর্যন্ত শিয়া জোট? কয়টা বন্দর? ঈলাত বন্দরে তো ট্রাফিকই ছিল না বলতে গেলে কোনো কালে।
আমি বলছি না, সৌদি-কাতার দুধে ধোয়া তুলসীপাতা। আমেরিকার গোলাম ওরা। ওদের শাস্তি হওয়া উচিত।
তবে, আমাদের জাতশত্রু ইসরায়েলের চেয়েও যখন ওদের দিকেই বেশি তাক হয়ে থাকে কারও বন্দুক, তার উপর তখন সন্দেহ করতেই হয়।
বলতেই হয় "শিয়া-ইহুদী ভাই ভাই, মুসলমানদের রক্ষা নাই"।
অথবা বলতে হয়, মধ্যপ্রাচ্যে দুই পরাশক্তি—ইরান ও ইসরায়েল। আর বাকি মুসলিম রাষ্ট্রগুলো হচ্ছে জাস্ট মুরগী। শক্তিহীন, অথর্ব কিছু বিড়াল। মাঝেমধ্যে দুই আঞ্চলিক পরাশক্তির মধ্যে টুকটাক ঠোকাঠুকি হয়, এতে ওদের দুইজনের না যা হয়, বেশি ক্ষতি হয়ে যায় এই মুরগীগুলোর। যেমন স্নায়ু যুদ্ধের সময়ের কিউবা কিংবা তুরস্ক।