16/01/2026
#তুই_শুধুই_আমার
#পর্ব_০৫
❌❌ কপি করা সম্পূর্ণ ভাবে নিষিদ্ধ ❌❌
চারপাশে অনেক টাই অন্ধকার পরে গেছে,রাস্তা টাও কেমন যেনো শূনশান হয়ে আছে, বাইরের ঝড়ের বেগ ধেয়ে আসছে,সেই সাথে ঝিমঝিম বৃষ্টি পরছে,মনে হচ্ছে কিছু খনের মধ্যে ঝড় শুরু হয়ে যাবে!
রাত বারো টা নাগাদ,আদি ঘুমিয়ে গিয়েছে মিহুর কোলে সেই কখন! ইশা গাড়ি ডাইব করছে, বডিগার্ড রা পেছনে ঘুমিয়েছে গেছে একজন, আরেক জন সজাগ, ইতিমধ্যে বাসায় থেকে হাজার টা কল এসেছে! মনির শেখ পচন্ড রেগে আছেন!
বিয়ের দাওয়াত খাবে ভালো কথা,খাওয়া শেষ করে গিফট দিয়ে চলে আসলেই হয়,তাছাড়া সাথে আদি ও আছে, ছোট মানুষ, বাইরের শএুর অভাব নেই!কেউ এ্যাটাক করলে দুইজন বডিগার্ড কি পেরে উঠবে তাদের সাথে!!
প্রায় এিশ মিনিট পর, ইশার বড় গাড়ি টি ঠিক গিয়ে থামলো শেখ বাড়ির বাগানে!! ইশা মিহুর থেকে আদি কে কোলে তুলে নেয়,আর বডিগার্ড গুলোকে বলে গাড়ি গ্যাড়েজে বাকি সব গাড়ির সাথে রাখতে!বডিগার্ড গুলো সেটাই করে!!
বাড়ির বড় মেন গেটে কলিং বেল চাপতেই মনির শেখ বড় গেট টা খোলে দেয়,ইশা আর মিহু বাবাকে উপেক্ষা করে চলে যায় ভেতরে!! কেয়া শেখ ছুটে আসে ছেলেকে নিজের কোলে তুলে নেন!হামিদা শেখ এগিয়ে আসেন মেয়ে দের দিকে,দুই জন প্রায় সেম শাড়ি পরছে একদম পুতুল এর মতোন দেখতে লাগছে তাদের কে!
ইশা আর মিহু চেয়ার টেনে বসলো,হামিদা শেখ মেয়েদের সামনে পানির গ্লাস এগিয়ে দিলেন, ইশা মিহু ঢকঢক করে এক গ্লাস পানি শেষ করে ফেললো!তার পর আর কি উঠে চলে গেলো রুমের দিকে!!
মনির শেখ এত রাত পর্যন্ত জেগে ছিলেন মেয়ে দের কে শাসন করবেন বলে, আর এই মেয়েরা কথা বলার আগেই চলে গেলো, মেয়ের রাগ গুলো মনির শেখ নিজের ওয়াইফ এর উপর দেখালেন,।
___তোমাকে আমি লাস্ট ওয়ার্নিং দিয়ে দিলাম, কালকে থেকে যদি এরা টৈটৈ করে চলা ফেরা করে আমি সোজা ঠাং কেটে ঘরে বসিয়ে দিবো! পড়াশোনার কোনো নাম গন্ধ পর্যন্ত নেই!এরা নাকি ভবিষ্যত প্রজন্ম!
হামিদা শেখ কিছু বললেন না,মাথা নত করে রাখলেন, মনির শেখ আরও রেগে চোয়াল শক্ত করে বললেন!!
___আমি মেয়ে দের কে আর পড়াশোনা ও করাবো না সোজা বিয়ে দিয়ে দিবো, আর যদি এবার আমার কথার অবাধ্য হয়, তাহলে বাসা থেকে বের করে দিবো!!
ইশা সিড়ি বেয়ে উপরের দিকে উঠছিলো বাসা থেকে বের করে দিবে এই কথা টা কানে প্রবেশ করার সাথে সাথে, শান্ত মস্তিষ্ক টাও কেমন সজাগ হয়ে উঠলো, সিড়ি থেকে দাঁড়িয়ে বাবার প্রশ্নের উত্তর করে বললো,
___আমি অবশ্যই বিয়ে করতাম, কেনো করবো না জানো???
মনির শেখ ভেবে ছিলেন ইশা হয়তো রুমে চলে গেছে, তবে ইশা যে দুইতলা থেকে কথা শুনে আবার উওর করবে এটা আশা করেননি, হামিদা শেখ বার বার মেয়ে কে ইশারা করে বলছেন,
___চুপ করার জন্য!
কিন্তু ইশা শোনার পাএী নয়,উওর দিবেই একটা নয় হাজার টা, বরং বলতে শুরু করলো,
____যদি বিয়ে করার পর সুখ টাই না থাকে জীবনে, তাহলে বিয়ে করে হবে টা কি??? জীবনসঙ্গী হবে আমরার, তবে তোমার মতোন টাকাওয়ালা না গরীব ঘরের কেউ,যে উঠতে বসতে সারা খন নিজের ওয়াইফ এর সাথে খারাপ ব্যবহার করবে না!!
মনির শেখ সোজা ইসতব্দ হয়ে গেলেন মেয়ের মুখে এমন কথা শুনে, ইশার কপাল ভালো সামনে দাড়িয়ে এই কথা বলেনি, তাহলে এতখনে হামিদা শেখ পরপর কয়েক টা থাপ্পড় বসিয়ে দিতেন! মিহু বিষয় টা জটিল করতে চাইলো না, তাই ইশার হাত টেনে রুমের দিকে নিয়ে যেতে চাইলো,ইশা তবুও শান্ত নয়,।
___আমি সেদিন বিয়ে করবো সেদিন তোমরা সুখি হবা! তার আগে বিয়ে কেনো আমি কোনো পাএর সামনেও বসবো না!!! তুমি আমাকে চেনো না আব্বু!!
মনির শেখ এর মাথায় এক মূহুর্তে একটাই কথা আসছে!!
____জন্ম তোমাকে আমি দিয়েছি তুমি নও!
"ছেলে মানুষ ও যে জন্ম দেয়! জীবনে প্রথম শুনলাম! মনে হচ্ছে চোখ থাকতে ও আমি অন্ধ হয়ে গেলাম!
"বাবা হয় তোমার মুখে লাগাম দিয়ে কথা বলো!
"লাগাম হীন বাবার মেয়ের মুখে লাগাম থাকবে না এই টাই স্বাভাবিক!
ইশা!
"চিৎকার করো না আব্বু, সম্মান পেতে গেলে আগে সম্মান দিতে শিখতে হয়! !
ইশা রাগে ফুসতে ফুসতে রুমে চলে যায়, মনির শেখ ইসতব্দ হয়ে বসে পরলেন চেয়ারে!তাহলে তার মেয়ের বিয়ে না করার মেন কারন এইটা!! যে তাদের বাবা মা সুখি নয়!হামিদা শেখ স্বামীর হাত টেনে নিজের কাছে নিয়ে ঝরঝর করে কেঁদে উঠলেন!!
___প্লিজ আপনি ওর কথায় কিছু মনে করবেন না, ছোট মানুষ বুঝতে পারে নি! আপনি এতটা হার্ট হবেন! প্লিজ আমার মেয়ে কে বাসা থেকে বের করে দিবেন না!!
মনির শেখ মুখ থেকে টু শব্দ টাও বের করলেন না! সোজা চলে গেলেন নিজের রুমে!! মেয়ের এমন আচরণ হামিদা শেখ একদম মেনে নিতে পারলেন না, সোজা চলে গেলেন দুইতলায় বড় বড় সিঁড়ি ডেঙ্গিয়ে! ইশা চেয়ারে বসে আছে, মিহু ওয়াশরুমে শাড়ি চেন্স করে গিয়েছে!! হামিদা শেখ দ্রুত চলে গেলেন ইশার সামনে সজোরে একটা থাপ্পড় বসিয়ে দিলেন মেয়ের গালে, থাপ্পড় টা মারার সাথে সাথে ইশার ঠোঁট ফেটে একটা ফোঁটা রক্ত ঝরলো মাটিতে,
হঠাৎ হামিদা শেখ নিচ তলা থেকে উপর তলায় আসবেন থাপড় দিতে এই বিষয় টা ইশা একদম ধারনা তেও রাখে নি!
হামিদা শেখ মেয়ের সামনে দাড়িয়ে আরেক টা থাপ্পড় মারতে এগিয়ে আসছেন, রুমের হট্টগোলের আওয়াজ পেয়ে বেরিয়ে আসে মিহু!! মায়ের দ্বিতীয় থাপ্পড় টাকে আটকায়!মিহু দ্বিগুণ গলা উঁচিয়ে মাকে বললো!!
____আম্মু তুমি ইশার শরীরে হাত তোলার মতোন সাহস দেখিও না!! আমরা বাচ্চা নয়,
হামিদা শেখ হাত নামালেন, দুই মেয়ের দিকে তীক্ষ্ণ দৃষ্টিতে তাকালেন,হামিদা শেখ এর এই মূহতে হাসতে ইচ্ছে করলেন, বড্ড বেশি হাসতে ইচ্ছে করলো, তাই তিনি আর হাসি থামাতে পারলেন না! শব্দ করে হেসে উঠলেন! মাকে এমন পাগলের মতোন হাসতে দেখে ইশা মিহু দুইজনি মায়ের দুই বাহুর পাশে গিয়ে দাড়ায়! ইশা মায়ের বাহুর উপর এক হাত রেখে শান্ত গলাই বললো!!
___সরি আম্মু, আমি তোমাদের কে হার্ট করতে চাই নি!
হামিদা শেখ মেয়ের হাত দরে নিচে বসালেন ঠিক তার সামনে, মেয়ের কপালে ছোট ছোট অজস্র চুমু একে খুবি মলিন কন্ঠে বললেন!!!
____মানুষ সব সময় যা চোখে দেখে, সেটা সত্যি নাও হতে পারে!!
"মানে,???
মানে এইটাই, তোমারা যাকে দেখো কঠিন মানবের মানুষ,সে ওতটাও কঠিন নয়,সে শুধু উপর থেকে তার ফেক রুপ টাই তোমাদের সামনে তুলে দরেছে! কারন তোমরা বড্ড উসস্নেহখুল! না কাউকে মানো আর না কারোর কথা শুনো!!
ইশা মিহু মায়ের দিকে তাকিয়ে রইলো বেশ কিছু সময়, হামিদা শেখ এক হাতে চোখের পানি মুছে,ফের আবারো বললেন!!
____আদি কে ঠিক যতটা ভালোবাসে তোমাদের আব্বু! ঠিক ততটাই তোমাদের কেও ভালোবাসে! আদির ভালোবাসা টা প্রকাশিত আর তোমাদের ভালোবাসা টা অপ্রকাশিত!
আম্মু!
"বাবা কে অসম্মান করার শিক্ষা টা অনন্ত পরিবার থেকে তোমাদের কে দেয়া হয় নি! তাই পরে বার থেকে আর এই রকম ভুল করার দুঃসাহস দেখিও না!
হামিদা শেখ নিজের কথা শেষ করেছে দোতলার সিড়ি বেয়ে নিয়ে চলে গেলেন!! ইশার মন খারাপ করছে অনেক বেশি! এত দিন কিনা তারা দুই বোন শুধু বাবা কে ভুল বুঝে এসেছে!! বাবা নাকি সুপারম্যান হয়, মেয়ে দের জন্য রিয়েল হিরো হয়, আমাদের বাবা ও কি তাহলে???
প্রায় ঘন্টা খানেক পর ,
মিহু ইশা সুয়ে পরেছে,রাত প্রায় দুই টার দিকে, ইশা সবসময় কানে ব্লুটুথ গুঁজে গুমিয়ে পরে! গান কিংবা ভূতের কিছু ইন্টারেস্টিং কাহিনি শুনে! ইশা বরাবরি বেশ সাহসি!! মিহুর ফোন টা সাইলেন্স করে রেখেছে,হঠাৎ করে ফোনটা ভাইব্রেশ হচ্ছে! বেশ কিছু সময় দরে! মিহু বিরক্তি টেনে ফোন টা রিসিভ করে কানে দরতেই,
___আদি আমি তোমার বন্ধু রাফিন বলছি!!
মিহু চোখ ভর্তি ঘুম নিয়ে উওর করলো,
___আদি ঘুমিয়েছে আপনি পরে কল করবেন! আল্লাহ হাফেজ!।
সাথে সাথে মিহু মুখের উপর কল টা কেটে দিলো, রাফিন মুখ টা গোমরা করে ফেললো,আদি ঘুমিয়েছে তো কি হয়েছে, আপনি ও তো কথা বলতে পারতেন! যতটা দেখতে মিষ্টি খেতে হয়তো এতটা ও মিষ্টি হবে না!!!
দেখতে দেখতে কেটে গেলো দুইটি দিন,
মনির শেখ সহ সপরিবারের সবাই একসাথে দুপুরের খাবার খাচ্ছেন! ইশা আর মিহু ও পাশের চেয়ারে নিজে দের মতোন খাবার খাচ্ছে! আদির দুইদিন যাবত বেশ গা কাপিয়ে জ্বর এসেছে,সেই সাথে ঠান্ডা কাশি! কেয়া শেখ ছেলেকে চিকেন সুপ খাইয়ে দিচ্ছেন! রাইহান শেখ নিজের কোম্পানিতে চলে গেছেন! আজকাল রাজনৈতিক কাজে খুব একটা বাইরে বের হতে হয় না মনির শেখ কে! বাসায় বসেই স্লোফ করে ফেলেন,
আর যদি বেশি সমস্যা হয় তখন চলে যান রাজনীতি মেন উপজেলায়! ইশা সবার উদ্দেশ্য বললো,
____আমার জন্য যেনো কেউ টেনশন না করে, আমি চলে যাবো!!
মনির শেখ তীক্ষ্ণ দৃষ্টিতে তাকালেন,হামিদা শেখ কপাল কুঁচকে চাইলেন, মিহু তো কিছু জানেই না! সবার রাগের মধ্যে আদি চট করে বলে উঠলো!!
___আমি যাবো তোমার সাথে বাবুই ওয়ান!!
"কোথায় যাবা জানো??
"তুমি যেখানে যাবে আমি ও সেখানেই যাবো!
"আমি জাহান্নামের চৌরাস্তায় যাবো,
আমি ও যাবো জাহান্নাম এর চৌরাস্তায় , ওই খানে কি চকলেট পাওয়া যায়!
"না!
"থাক! আইসক্রিম তো পাওয়া যায়, আর পাওয়া গেলেও সমস্যা নেই, আমি সাথে করে তো নিয়েই যাবো!!
মিহু সবার কথা বাদ দিয়ে সোজা জিজ্ঞেস করলো ইশা কে,
__কোথায় যাবি???
"লং ডাইবে!
ওকে দ্রুত চলে আসিস!!
বাডিতে গার্জেন থাকার পর ও পারমিশন দিচ্ছে বাড়ীর ছোট মেয়ে, বিষয় টা হচ্ছে এমন দুইজন কথা বলবে বাকি রা শুনবে, মুখে বলে বুঝানো যায় না এসব গার্জেন দের! মনির শেখ খাওয়া ছেড়ে পিলেটে হাত ধুয়ে চলে গেলেন রুমের দিকে,
হামিদা শেখ রাগে কর্কট গলায় বললেন!!
___মানুষ টাকে একটু শান্তি ও দিবি না তোরা???
"আমি তো শান্তি কিনতে যাচ্ছি আম্মু, আমরা আগে শান্তি পায়, তারপর না হয় এক্টা বোনাস হিসাবে তোমাদের কেও দিবো!!!
"আমাকে হাত তুলতে বাধ্য করিস না!আমি বলে ছিলাম বাবার সামনে অনন্ত একটু সভ্য হয়ে চল!
"অসভ্যরা কখনো সভ্য হয় না আম্মু, তুমি আবোল তাবোল স্বপ্ন দেখা বন্ধ করো!!
ইশা!
"এত মায়া করে ডেকো না আম্মু, তোমার প্রতি আমরা বড্ড দূর্বল!
"হতে পারি আমি তোমাদের দূর্বলতা, তবে তোমরা ভুলে যাচ্ছো, যে তোমার আম্মুর ও একটা দূর্বলতা আছে!
"মানে কি বলতে চাইছো???
"তোমাদের দূর্বলতা যেমন আমি, ঠিক তেমনি আমার দূর্বলতা তোমার বাবা! আমার দূর্বলতা কে আঘাত করার চেষ্টা করো না!!
"তাহলে কি বলতে চাইছো আমরা তোমার দূর্বলতা নয়, শুধু বাবাই তোমার দূর্বলতা!!
হ্যা, তোমরা তো আমার নারী ছেড়া ধন,আজকে যে কঠিন প্রশ্নের সম্মুখিন আমাকে করলে, ঠিক একদিন তোমরা নিজে রাই তার উওর পেয়ে যাবে, আমি তোমাদের মা, তোমাদের ভালো রাখা আমাদের দায়িত্ব, তোমাদের কে হার্ট করা নয়! আর সেম কথাটা এইটাই তোমাদের কোনো রাইট নেই আমার দূর্বলতা কে হার্ট করার!!
হামিদা শেখ খাবারের উপর পানি ডেলে চলে গেলেন রুমে, ড্রয়িংরুমের পাশের রুম টাই মনির শেখ এর, মনির শেখ ওয়াইফ এর সম্পূর্ণ কথা টা তিনি শুনেছেন, তবে সেটাও ওয়াইফ কে বুঝতে দিলেন না!!!
আদি কেয়া শেখ এর কাছে আবদার করছে,
___আমি বাবুই ওয়ান এর সাথে জাহান্নামে যেতে চাই আম্মু!!
মিহু ইশার দিকে তাকিয়ে মলিন হাসলো,আদি এমনি তেই পাকা, তাকে কিনা আবার ফরমালিন দিয়ে পাকানো হচ্ছে! আদি কে উদ্দেশ্য করে মিহু বললো!!
___জাহান্নামে যেতে হবে না জানো, চলো আমরা বিকেলে ঘুরতে যাবো!!
আদি কে নিয়ে মিহু ঘুরতে বের না হলে তো আদি ইশার পিছু ছারবে না! ইশার দুদিন যাবত মুড সুইং চলছে! বাড়িতে বসে বসে বোর হচ্ছে! তাছাড়া বাইরে অল্প ঘুরাঘুরি করলে মন টাও ফ্রেশ থাকবে! আদির শরীরে জ্বর তবুও ঘুরতে যাওয়ার কথা শুনে লাফিয়ে উঠেছে!
___আমরা কোথায় যাবো বাবুই টু!!
মিহু খাওয়া শেষ করে আদি কে কোলে তুলে নিয়ে হাটলো রুমের দিকে, সিঁড়ি দিয়ে রুমের দিকে উঠতে উঠতে বললো,
___তোমার জিজু তো তোমাকে ঘুরতে নিয়ে যাবে, সাথে আমাকেও! তুমি যদি বিষয় টা সিক্রেট রাখো তাহলে তোমাকে মাঝে মাঝে সারপ্রাইস দিবে তোমার হান্ডসাম জিজু টু টা!!
মিহুর কথা শুনে আদি খুশিতে গদগদ হয়ে গেলো, তার বন্ধু তাকে এখনো মনে রেখেছে আবার ঘুরতেও নিয়ে যাবে!
_________________তালুকদার ভিলা________________
ইকরাম তালুকদার খবরের কাগজ পরছেন, রাফিন দুপুরে কোম্পানি থেকে চলে এসেছে,আজকে রাতে কারান এর ফ্লাইট,ডুবাই যাবে কিছু প্রয়োজনীয় কাজ এর জন্য!কারান বাংলাদেশ থেকে একাই যাবে তবে ডুবাই থেকে তার জন্য স্পেশাল রুম থেকে শুরু করে সবকিছু বুকিং করে রাখা হয়েছে ,আপাতত গিয়ে একটা এ্যাপাটমেন্টে উঠবে! বাংলাদেশ সব প্রয়োজনীয় কাজ আর কোম্পানি সব কিছু রাফিন সামলাবে, সাথে থাকবে ইকরাম তালুকদার এর ছোট ভাই রফিক তালুকদার!
রফিক তালুকদার এর দুইটি মেয়ে একজন তানহা তো আরেক জন মাহা, মাহা কলেজে ফাস্ট ইয়ারে পরে, আর তানহা ছোট বয়স মাএ পাঁচ বছর, ছোট ছোট করে বলে সেই সাথে দেখতেও পুরো আমেরিকান দের মতোন!!
কারান আর রাফিন এর সাথে বেশ ভালো বন্ডিং, তবে কারান এবং রাফিন সময় সল্পতার জন্য খুব বেশি সময় দিতে পারে না!! আর যখন এদের সময়,হয় তখন বেশ রাত হয়ে যায়, তখন এই ছোট তানহা ঘুমিয়ে পরে!!
রফিক তালুকদার এর ওয়াইফ মিসেস মোহনা তালুকদার বিকেলে সবার জন্য হালকা নাস্তা রেডি করছেন, আশে পাশে সারবেন্ট দের অভাব নেই! তারা সব কিছু হাতে হাতে এগিয়ে দিচ্ছেন!! তানহা রাফিন এর কাছে, দুপুরে বাসায় ফেরার পর থেকে রাফিন তানহা কে নিয়ে বসে আছে,
মূলত বসে আছে বলতে গেলেই ভুল, বরং নিজের স্বার্থহাছিল করছে,ছোট মেয়ে টাকে দিয়ে পিঠ কোমর সব পাড়িয়ে নিচ্ছে! অফিসে লং টাইম বসে থাকতে থাকতে কোমর দরে যায়,তানহা কে দিয়ে মাথায় তেল পর্যন্ত দেয়ায় এই বদমাইশ রাফিন!! শুধু মাএ চকলেট এর লোভ দেখিয়ে!!
তানহা বিরক্ত হচ্ছে তাই রাফিন কে বললো,
____আমি যায় গা!!
রাফিন বিছানার উপর সুয়ে সুয়ে তানহার গাড় অবধি স্লিক চুল গুলো কে ঠিক করতে করতে বললো,
____তোমার আম্মু কে বলো, তোমাকে পুতুল এর মতোন করে সাজিয়ে দিতে, আমরা আজকে ঘুরতে যাবো না সুইটহার্ট!!
তানহা এক গাল হেসে, মাথা নেড়ে চেরে সম্মতি দিয়ে হেলে দুলে রুম থেকে চলে যায়!যার মানে সে ও যাবে ঘুরতে!!
রানিং...!
[ গল্প ভালো লাগলে শেয়ার করবেন, নিজে পরুন এবং অন্য কে পরার সুযোগ করে দিন ]