31/03/2023
বছর ঘুরে ক্ষমার বার্তা নিয়ে হাজির হয় রমজান মাস। নামাজ, কোরআন তেলাওয়াত, দান-সদকা ইত্যাদি ইবাদতের মাধ্যমে আল্লাহতায়ালার নিকটবর্তী বান্দাদের অন্তর্ভুক্ত হওয়ার সুযোগ মেলে রমজান মাসে।
কিন্তু পবিত্র এই মাসের প্রচলিত কিছু মন্দ প্রথা ও নিন্দিত কাজ ক্ষুণ্ণ করছে রমজানের মাহাত্ম্য। তন্মধ্যে একটি হলো- মেয়েদের শ্বশুরালয়ে ইফতারি প্রেরণ। দরিদ্রদের জন্যে এটা এক মহাআতঙ্কের নাম ও ধনবানদের জন্যে এক বিলাসী প্রথা।দেশের বিভিন্ন এলাকায় এই প্রথার প্রচলন রয়েছে। আর এটা এমনভাবে মহামারী আকারে ছড়িয়ে গেছে যে, শ্বশুরবাড়ি থেকে ইফতার না পাঠালে স্বামীর বাড়িতে মেয়েকে শিকার হয় শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের। অনেক সময় দরিদ্র বাবা মেয়ের সুখের জন্যে নিজের কষ্ট লুকিয়ে রেখে হাসিমুখে মেয়ের শ্বশুরবাড়ি ইফতার পাঠায়। অন্যদিকে ইফতার প্রেরণেই যে মেয়ের নিষ্কৃতি মিলবে- এমন নয়। বাড়ির অন্য বউদের শ্বশুরবাড়ি থেকে পাঠানো ইফতারের সঙ্গে তুলনা করা হয়।
পক্ষান্তরে বিত্তশালী পরিবারগুলোতে চলে ইফতার প্রেরণের প্রতিযোগিতা। কে কতো বেশি ইফতার পাঠালো, কতো খরচ করলো- এ জাতীয় হিসাব-নিকাশে চলে যায় রমজান মাস। মাস শেষে থাকে পূণ্যের ভাণ্ডার খালি।
অথচ একজন মুসলিমের কখনই উচিত নয় এমন কাজে অংশ নেওয়া কিংবা এ কাজকে সমর্থন করা। হাদিসে হজরত রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, ‘অন্তরের স্বতঃস্ফূর্ত অনুমোদন ছাড়া এক মুসলমানের সম্পত্তি অন্য মুসলমানের জন্যে হালাল নয়।’
অনেক ইসলামি স্কলার বলেন, বিত্তশালীরা যদি স্বেচ্ছায়ও দিয়ে থাকে; তবুও এতে লুকিয়ে থাকে লৌকিকতা। আর লৌকিকতাকে সূক্ষ্ম শিরক আখ্যা দিয়ে হাদিসে ইরশাদ হয়েছে, শাদ্দাদ ইবনে আওস (রা.) বলেন, ‘আমরা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের জামানায় রিয়াকে ছোট শিরক গণ্য করতাম।’ -মুসনাদে উমার: ২/৭৯৬
এই ইফতার আদান-প্রদানে প্রথা হয়তো জুলুম, নতুবা শিরক। এই দুই প্রকারের কোনো এক প্রকার হবেই। এর যে প্রকারেরই হোক না কেন উভয়টিই কবিরা গোনাহ। আর যদি এটাও না হয়- তবে এটা একটি প্রচলিত কুপ্রথা। যার অনুমোদন ইসলামে নেই।
মোদ্দাকথা, এমন ইফতার প্রথার কোনো ভিত্তি ইসলামে নেই। উপরন্তু এর কারণে যদি কাউকে কোনো প্রকার নির্যাতন বা তাচ্ছিল্য করা হয়- তবে সেটা তো আরও কঠিন গোনাহ। কেননা, জালেমকে আল্লাহ্ পছন্দ করেন না।