Usman

Usman আকিদায় আশ'আরি, মাতুরিদী।
মাযহাব "ফিক্বহে হানাফি" অনুসারি।

পেজের পক্ষ থেকে আপনাদের জানাচ্ছি আন্তরিক শুভেচ্ছা ও মোবারকবাদ।

দ্বীন প্রচার এবং ইসলাম সম্পর্কে সঠিক ধারনা পৌঁছে দিতে আমি আপনাদের মাঝে ইসলামিক গুরুত্বপূর্ণ সব বিষয় তুলে ধরবো। এর পাশাপাশি, নিয়মিত শেয়ার করবো:

🔰 ওয়াজ
🔰 মাহফিল
🔰 কুরআন তেলাওয়াত
🔰 সুরা
🔰 কেরাত
🔰 ইসলামিক গান
🔰 গজল
🔰 হামদ
🔰 নাথ
🔰 সহ অন্যান্য ইসলামিক সচেতনতামূলক পোস্ট

দ্বীন ইসলাম সম্পর্কে সঠিকভাবে জানতে এবং ইসলামের প্রতি গভীর ধারণা লাভ করতে, পেজটি লাইক ও ফলো দিয়ে আমাদের সাথে থাকুন।

ধন্যবাদ।

আহলে সুন্নাহ ওয়াল জামাত' বনাম 'আহলে হাদীস': কেন প্রথমটিই আমাদের একমাত্র পরিচয় হওয়া উচিত?​বর্তমান সময়ে 'আহলে হাদীস' নামটি...
03/05/2026

আহলে সুন্নাহ ওয়াল জামাত' বনাম 'আহলে হাদীস': কেন প্রথমটিই আমাদের একমাত্র পরিচয় হওয়া উচিত?

​বর্তমান সময়ে 'আহলে হাদীস' নামটিকে একটি স্বতন্ত্র দলের নাম হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে। কিন্তু গভীর তাত্ত্বিক ও হাদীসভিত্তিক বিশ্লেষণে দেখা যায়, এই নামকরণটি সুন্নাহর মূল চেতনার সাথে সাংঘর্ষিক। নিচে এর কারণসমূহ তুলে ধরা হলো:

​১. 'আহলে হাদীস' পরিচয় কেন দেওয়া যাবে না? (তাত্ত্বিক কারণ)
​হাদীস শাস্ত্রে 'আহলে হাদীস' কোনো ফেরকা বা গোষ্ঠীর নাম নয়, বরং এটি একটি পেশাগত উপাধি। যারা হাদীস সংগ্রহ, সনদ যাচাই এবং তা হিফজ করতেন, তাদের মুহাদ্দিস বা 'আহলে হাদীস' বলা হতো।
​একজন সাধারণ মানুষ যিনি হাদীসের সনদ বোঝেন না, রাবী (বর্ণনাকারী) চেনেন না, তিনি নিজেকে 'আহলে হাদীস' দাবি করাটা হাস্যকর। এটা অনেকটা একজন সাধারণ রোগীর নিজেকে 'ডাক্তার' বা 'মেডিকেল সায়েন্স' পরিচয় দেওয়ার মতো।
​এছাড়া, হাদীসের মধ্যে অনেক 'মানসুখ' (রহিত) হাদীসও আছে। শুধু হাদীস মেনে কেউ সঠিক পথে থাকতে পারে না যতক্ষণ না সে 'সুন্নাহ' (হাদীসের প্রায়োগিক রূপ) জানে। তাই নিজেকে আহলে হাদীস বলা মানে নিজেকে কেবল একটি তথ্যের ভাণ্ডারের সাথে সম্পর্কিত করা, আমলের সাথে নয়।

​২. নবীজী (সা.)-এর নির্দেশিত পরিচয়: 'আল-জামাত' ও 'আহলে সুন্নাহ'
​নবীজী (সা.) ভবিষ্যতে উম্মাহর মধ্যে অনৈক্যের আশঙ্কায় আমাদের যে পরিচয়ের দিকে আহ্বান করেছেন, তার ভিত্তি ছিল 'সুন্নাহ' ও 'ঐক্যবদ্ধ দল'।
​রাসূল (সা.) বলেছেন: "তোমরা বড় দলের (আস-সাওয়াদুল আযম) সাথে থেকো।" (ইবনে মাজাহ)।
​তিনি আরও বলেছেন: "আমার সুন্নাহ এবং আমার পরবর্তী হিদায়েতপ্রাপ্ত খুলাফায়ে রাশেদীনের সুন্নাহকে আঁকড়ে ধরো।" (আবু দাউদ, তিরমিযী)।
নবীজী (সা.) কখনোই বলেননি যে, "তোমরা আমার হাদীসকে আঁকড়ে ধরো", বরং বলেছেন "সুন্নাহকে আঁকড়ে ধরো"। কারণ সুন্নাহ হলো হাদীসের সেই নির্যাস যা সাহাবায়ে কেরাম আমল করে আমাদের দেখিয়ে গেছেন। একারণেই নাজাতপ্রাপ্ত দলের সর্বসম্মত নাম হলো 'আহলে সুন্নাহ ওয়াল জামাত'।

​৩. সাহাবী ও তাবিঈদের মানহাজ থেকে বিচ্যুতি
​সাহাবায়ে কেরামের যুগে বা পরবর্তী শ্রেষ্ঠ যুগগুলোতে (খাইরুল কুরুন) কেউ নিজেকে 'আহলে হাদীস' পরিচয় দিয়ে আলাদা দল গঠন করেননি। ইমাম আবু হানীফা, ইমাম মালেক বা ইমাম শাফেয়ীর যুগেও এমন কোনো দল ছিল না।
​যারা আজ নিজেদের 'আহলে হাদীস' দাবি করছেন, তারা মূলত উম্মাহর ১৪০০ বছরের নিরবচ্ছিন্ন ইজমা ও ফিকহী ঐতিহ্য থেকে নিজেদের বিচ্ছিন্ন করে ফেলেছেন।
​তারা সাহাবীদের ফাহম (বুঝ) এবং আইম্মায়ে মুজতাহিদীনদের ব্যাখ্যাকে 'তাকলীদ' বলে বর্জন করেন, যা নবীজী (সা.)-এর নির্দেশিত 'জামাত' থেকে বের হয়ে যাওয়ার নামান্তর।

​৪. সুন্নাহ ও হাদীসের পার্থক্য না বোঝা
​অনেক হাদীস আছে যা সহীহ, কিন্তু তা আমলযোগ্য নয় (কারণ তা বিশেষ সময়ের জন্য ছিল বা পরবর্তীতে রহিত হয়েছে)।
​উদাহরণস্বরূপ: নবীজী (সা.) জীবনের এক পর্যায়ে দাঁড়িয়ে প্রস্রাব করেছিলেন (সহীহ হাদীস), কিন্তু তাঁর স্থায়ী অভ্যাস বা সুন্নাহ ছিল বসে প্রস্রাব করা। এখন কেউ যদি নিজেকে 'আহলে হাদীস' দাবি করে দাঁড়িয়ে প্রস্রাব করাকে সুন্নাহ বলে প্রচার করে, তবে তা হবে চরম বিভ্রান্তি।
​আহলে সুন্নাহ ওয়াল জামাত হলো তারা, যারা জানে কোন হাদীসটি আমলযোগ্য সুন্নাহ আর কোনটি কেবল তথ্য।

​৫. উপসংহার: বিভ্রান্তি থেকে বাঁচার পথ
​নিজেকে 'আহলে হাদীস' পরিচয় দিয়ে সাহাবায়ে কেরামের বুঝ ও চার ইমামের সুসংগঠিত ফিকহকে অস্বীকার করা মূলত অহংকারের একটি রূপ। মুক্তি কেবল তখনই সম্ভব যখন আমরা নিজেদের সেই 'বড় দল' বা আস-সাওয়াদুল আযমের (আহলে সুন্নাহ ওয়াল জামাত) অন্তর্ভুক্ত রাখব, যাদের কথা নবীজী (সা.) বলে গেছেন।

“আহলে হাদীস” নাকি বৃটিশের দ|লাল?কথিত আহলে হাদীসের জনৈক মৌলবী মুজাফফর বিন মুহসিনের একটি ভিডিও দেখলাম। তিনি দাবী করেছেন—  ...
21/04/2026

“আহলে হাদীস” নাকি বৃটিশের দ|লাল?

কথিত আহলে হাদীসের জনৈক মৌলবী মুজাফফর বিন মুহসিনের একটি ভিডিও দেখলাম। তিনি দাবী করেছেন—
“বৃটিশ বিরোধী আন্দে|লনের সূচনা হয়েছিলো আহলে হাদীসের মাধ্যমেই”

লোকটাকে কি ‘মূ/র্খ’ বলবো নাকি ‘জ্ঞ|নপাপী’ বলবো আমার বুঝে আসছে না।
কারণ, উলামায়ে দেওবন্দ যখন বৃটিশের বিরুদ্ধে জি হা দে র ফাতাওয়া দিয়েছিলেন,
তখন যে-সকল দরবারী আলেমরা বৃটিশদের পক্ষাবলম্বন করেছিলো, তাদের মধ্যে অন্যতম ছিলো আহলে হাদীস নামধারী বৃটিশের দ|লালরা।
শুধুই কী পক্ষাবলম্বন? না। সরাসরি বই পর্যন্ত লিখেছিলো এই খ-বীসগুলোর বাপ-দাদারা। তাদের একটি বই সম্পর্কে আজ আপনাদের জনাবো। মিয়া হুসাইন বাটালভী। তিনি আহলে হাদীস আন্দোলনের অন্যতম মূখপাত্র ছিলেন।

তিনি তখনকার সময়ে হিন্দুস্তানকে “দারুল ইসলাম বা দারুল আমান” ফাতাওয়া দিয়ে উলামায়ে দেওবন্দ ঘোষিত জি হা দকে নাজায়েজ আখ্যায়িত করে “الاقتصاد فى مسائل الجهاد” নামক একটি বই লিখেছিলেন।

সেখানে তিনি লিখেছিলেন—
اس شہر یا ملک پر مسلمانوں کو چڑنائی کرنا اور اسکو جہاد مذہبی سمجھنا جائز نہیں
এই শহর বা দেশে মুসলমানদের অপমান করা এবং এটাকে ধর্মীয় জি হা দ মনে করা জায়েজ নয়। —আল ইকতিসাদ ফি মাসায়িলিল জিহাদ : পৃ. ১৯

এবং সে সময় তারা আরও বুঝাতে চেয়েছিলেন যে, বৃটিশ সরকারের দ্বারা যে সুস্থ পরিবেশ ও শান্তিময় সমাজ চলমান ছিলো তা এই জিহাদের মাধ্যমে ব্যাহত হয়েছে। দেখুন, আহলে হাদীসদের আরেক মুখপাত্র নবাব সিদ্দিক হাসান খান ভূপালী লিখেছিলেন,
درستی ملک اور صفائی راہ اور رفاہ عوام اور امن خلائق اور امان مخلوق اور راحت رسانی رعیت اور آرام وہی بریت مین حکام فرنگ کا مثل اور نظیر اس وقت میں بلکہ اکثر اوقات میں ہرگز نہیں
দেশের ন্যায়পরায়ণতা এবং রাস্তাঘাটের পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা ও মানুষের কল্যাণ ও মানুষের শান্তি ও জীবের শান্তি ও প্রজাদের স্বস্তি ও আরাম-আয়েশ এই সময়ে বৃটিশ কর্তৃপক্ষের দৃষ্টান্ত কিন্তু বেশিরভাগ সময়েই নেই। —তরজুমানে ওয়াহহাবিয়্যাহ : ২৬

তিনি আরও লিখেছিলেন—
اور اس لڑائی کو جہاد ٹھہرایا حالانکہ وہ جہاد نہ تھا سراسر فتنہ تھا... وہ بالکل شریعت کی خلاف عامل ہے
আর এই লড়|ইকে জি হা দ বলা, যদিও এটা জি হা দ ছিল না, এটা ছিল বিশুদ্ধ ফি/তনা। —তরজুমানে ওয়াহাবিয়্যাহ : পৃ. ২৩

وہ ہر گز جہاد شرعی نہیں اور كيونكر وہ جهاد شرعی ہو سکتا ہے کہ جو امن و امان خلائق کا اور راحت و رفاہ مخلوق کا حکومت حکام انگلشیہ سے زمین ہند میں قائم تھا اوسمیں بڑا خلل واقع ہو گیا
এটা কোনোভাবেই ধর্মীয় জি হা দ ছিল না। আর তা কিভাবে ধর্মীয় জি হা দ হতে পারে? অথচ বৃটিশ সরকারের মাধ্যমে হিন্দুস্তানে যে শান্তি, শৃঙ্খলা এবং সৃষ্টিকুলের আরাম ও কল্যাণ প্রতিষ্ঠিত ছিলো, তাতে বিরাট বিঘ্নতার সৃষ্টি হয়ে করেছিলো। —তরজুমানে ওয়াহাবিয়্যাহ : পৃ. ২৬

এরপরও এই জালেমরা দাবী করে, আহলে হাদীসরা নাকি বৃটিশ বিরোধী আন্দোলনের সূচনা করেছিলো! এদের হায়া-লজ্জা বলতে কিছু আছে?

এক মুষ্টি দাড়ি: চার মাযহাবের মতামতদাড়ি ইসলামের শিআর ও পরিচয়-চিহ্ন হিসেবে গণ্য। দাড়ি লম্বা করা এবং গোঁফ খাটো করা দ্বীনে ত...
17/04/2026

এক মুষ্টি দাড়ি: চার মাযহাবের মতামত

দাড়ি ইসলামের শিআর ও পরিচয়-চিহ্ন হিসেবে গণ্য। দাড়ি লম্বা করা এবং গোঁফ খাটো করা দ্বীনে তাওহীদের শিক্ষা; যা সকল নবীর শরীয়তে বিদ্যমান ছিল। দাড়ি লম্বা রাখা ওয়াজিব এবং এক মুষ্ঠি থেকে খাটো করা নাজায়েয।

একাধিক হাদীসে নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম দাড়ি রাখার প্রতি গুরুত্বারোপ করেছেন। হযরত আবদুল্লাহ ইবনে উমর রাযি. থেকে বর্ণিত, নবীজি সা. বলেন—

انْهَكُوا الشَّوَارِبَ، وَأَعْفُوا اللُّحَى
‘তোমরা গোঁফ খুব ছোট করো এবং দাড়ি লম্বা রাখো।
[সহীহ বুখারী, হাদীস ৫৫৫৪]

আরেক হাদীসে নবীজি সা. বলেন—
خُذُوْا مِنَ الشَّوَارِبِ وَأَعْفُوا اللُّحَى.
অর্থ: তোমরা গোঁফ কাটো এবং দাড়ি লম্বা রাখো।
[মুসনাদে আহমাদ, ৯০২৬]

দাড়ি মুণ্ডন করা হারাম; এটি জমহুর ফুকাহায়ে কেরামর মাযহাব—হানাফী, মালিকী ও হাম্বলী মাযহাব এবং শাফেয়ী মাযহাবের একাংশও এ মতের প্রবক্তা। বরং এ বিষয়ে ইজমা সংঘটিত হওয়ার কথাও বর্ণিত হয়েছে। অনুরূপভাবে দাড়ি উপড়ে ফেলা (চেঁছে তুলে ফেলা) এবং অধিকাংশ অংশ কেটে ছোট করা বৈধ নয়।

পবিত্র কুরআনে ইরশাদ হয়েছে—

قَالَ يَا ابْنَ أُمَّ لَا تَأْخُذْ بِلِحْيَتِي وَلَا بِرَأْسِي

সে বলল, “হে আমার মায়ের সন্তান! তুমি আমার দাড়ি ধরো না এবং আমার মাথার চুলও ধরো না।”
আল-কুরআন, সূরা ত্বহা (২০:৯৪)

এ আয়াত দ্বারা একথাও বুঝা যায় যে, হযরত হারুন আ. এর দাড়ি এক মুষ্ঠির চেয়ে কম ছিল না। কারণ এক মুষ্ঠির চেয়ে কম দাড়িতে মুঠ করে ধরা যায় না।

হাদিসে এসেছে—

خالِفوا المُشرِكينَ؛ وفِّروا اللِّحى، وأحفوا الشَّوارِبَ. وكان ابنُ عُمَرَ إذا حَجَّ أوِ اعتَمَرَ قَبَضَ على لحيَتِه، فما فضَلَ أخَذَه

তোমরা মুশরিকদের বিরোধিতা কর; দাড়ি লম্বা রাখো এবং গোঁফ ছোট করো। আর আবদুল্লাহ ইবনে উমর রাযি. হজ বা উমরা আদায় করার সময় দাড়ির ক্ষেত্রে একটি আমল করতেন। তিনি মুঠি দিয়ে দাড়ি ধরতেন, এরপর অতিরিক্ত অংশ (মুঠির বাইরে থাকা অংশ) কেটে ফেলতেন। সহিহ বুখারি, হাদীস নং ৫৮৯২

দাড়ি লম্বা রাখার বিষয়ে হাদীসে বিভিন্ন শব্দ ব্যবহৃত হয়েছে। যেমন—দাড়িকে পূর্ণভাবে ছেড়ে দেওয়া, বৃদ্ধি করা এবং স্বাভাবিকভাবে লম্বা রাখার নির্দেশার্থে বিভিন্ন বর্ণনা এসেছে। এর মধ্যে রয়েছে—

“মুশরিকদের বিরোধিতা কর, দাড়ি বৃদ্ধি কর এবং গোঁফ ছাঁটো।”(আবদুল্লাহ ইবনে উমর রা. সূত্রে—সহীহ বুখারী, ২/৮৭৫)

অন্য বর্ণনায় এসেছে—“মুশরিকদের বিরোধিতা কর, গোঁফ ছাঁটো এবং দাড়ি পূর্ণ কর।” (আবদুল্লাহ ইবনে উমর রা. সূত্রে—সহীহ মুসলিম, ১/১২৯)

আরেক বর্ণনায় এসেছে—“গোঁফ উত্তমভাবে ছোট কর এবং দাড়ি লম্বা কর।” (আবদুল্লাহ ইবনে উমর রা. সূত্রে — সহীহ বুখারী, ২/৮৭৫)

এছাড়া এসেছে—“গোঁফ কেটে ফেল এবং দাড়ি ছেড়ে দাও; অগ্নিপূজকদের বিরোধিতা কর।” (আবু হুরায়রা রা. সূত্রে — সহীহ মুসলিম, ১/১২৯)

নিঃসন্দেহে দাড়ি মুণ্ডন করা এবং একে বৃদ্ধি না করা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের প্রদত্ত এসব নির্দেশনার সম্পূর্ণ বিরোধী। এসব হাদীসে ব্যবহৃত আদেশসূচক ক্রিয়ার মাধ্যমে স্পষ্টভাবে দাড়ি লম্বা রাখা ও এতে হস্তক্ষেপ না করার নির্দেশ প্রদান করা হয়েছে। আর মূলনীতি হলো—শরীয়তের আদেশ সাধারণত ওয়াজিব অর্থে প্রযোজ্য হয়, যতক্ষণ না ভিন্ন কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়।

দ্বিতীয়ত: দাড়ি মুণ্ডন করার মধ্যে কাফিরদের সাদৃশ্য রয়েছে। যেমন আবদুল্লাহ ইবনে উমর এবং আবু হুরায়রা রা. থেকে বর্ণিত হাদীসসমূহে এর ইঙ্গিত পাওয়া যায়।

আর আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস রা. বলেন,
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেছেন—“যে পুরুষ নারীদের সাদৃশ্য গ্রহণ করে এবং যে নারী পুরুষদের সাদৃশ্য গ্রহণ করে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাদের উপর লানত করেছেন।” সহীহ বুখারী ৫৮৮৫

এই বক্তব্যের ভিত্তিতে ফকীহগণ বলেন, দাড়ি মুণ্ডন করা—যা আল্লাহ তাআলা পুরুষের একটি স্বতন্ত্র বৈশিষ্ট্য হিসেবে নির্ধারণ করেছেন—নারীদের সাথে সাদৃশ্যের অন্তর্ভুক্ত হয়ে যায়। আদাবুয যিফাফ, পৃষ্ঠা ২১০, শাইখ আলবানী

হাশিয়াতু ইবনে আবেদীন ২/৪১৮, ফাতহুল কাদীর ২/৩৪৭, হাশিয়াতুল আদাওয়ী ২/৫৮০, আয-যাখীরা ১৩/২৭৮, মাতালিবু উলিন নুহা ১/৮৫, ই‘আনাতুত তালিবীন ২/৩৮৬, মারাতিবুল ইজমা ১৫৭ পৃ. আল ইকনা ফি মাসায়িলিল ইজমা ২/২৯৯, আল-মুফহিম লিমা আশকালা মিন তালখিসে কিতাবি মুসলিম ১/৫১২

এক মুষ্ঠির অতিরিক্ত দাড়ি কাটার শরঈ বিধান

দাড়ি যদি এক মুষ্ঠির বেশি হয়ে যায়, তবে অতিরিক্ত অংশ কাটার অনুমতি রয়েছে। এটি হানাফী ও হাম্বলী মাযহাবের অভিমত। মালিকী মাযহাবের আলেম আল-বাজী-ও এ মত গ্রহণ করেছেন। অনুরূপভাবে ইমাম ইবনে তাইমিয়্যাহ-ও এ মতের পক্ষাবলম্বন করেছেন। এটি সালাফের একদল আলেমের অভিমত হিসেবেও বর্ণিত হয়েছে।

হাদীস ও আছারের কিতাবসমূহে পাওয়া যায় যে, আবদুল্লাহ ইবনে উমর রাযি. এবং আবু হুরায়রা রাযি. এক মুষ্ঠির অতিরিক্ত দাড়ি কেটে ফেলতেন।

সহীহ বুখারীতে এসেছে, আবদুল্লাহ ইবনে উমর রাযি. হজ বা উমরা আদায় করার সময় দাড়ির ক্ষেত্রে একটি আমল করতেন। তিনি মুঠি দিয়ে দাড়ি ধরতেন, এরপর অতিরিক্ত অংশ (মুঠির বাইরে থাকা অংশ) কেটে ফেলতেন। সহিহ বুখারি, হাদীস নং ৫৮৯২

আবু যুরআ রাহ. বলেন, আবু হুরায়রা রা. তাঁর দাড়ি মুঠ করে ধরতেন, এরপর এক মুষ্ঠির অতিরিক্ত অংশ কেটে ফেলতেন। মুসান্নাফ ইবনে আবী শাইবা ১৩/১১২, হাদীস: ২৫৯৯২; ২৫৯৯৯

নাফে রহ. বলেন, আবদুল্লাহ ইবনে উমর রাযি. এক মুষ্ঠির অতিরিক্ত দাড়ি কেটে ফেলতেন। মুসান্নাফ ইবনে আবী শাইবা, হাদীস: ২৫৯৯৭

আর হাসান বসরী রহ. বলেন, সাহাবা ও তাবিয়ীগণ এক মুষ্ঠির অতিরিক্ত দাড়ি কাটার অবকাশ দিতেন।
মুসান্নাফ ইবনে আবী শাইবা ১৩/১১২, হাদীস: ২৫৯৯৫

তবে কোনো সহীহ মারফূ (রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর সরাসরি বর্ণনা) হাদীসে এক মুষ্ঠির ভেতরে দাড়ি কাটার অনুমতি পাওয়া যায় না।

সাহাবা ও তাবিয়ীদের আমল পূর্বোক্ত মারফূ হাদীসের ব্যাখ্যা হিসেবে গণ্য। অতএব হাদীস ও আছারের সমন্বিত দৃষ্টিতে দাড়ি লম্বা রাখা শরঈ নির্দেশ, এবং এক মুষ্ঠির কম রাখা সম্পর্কে সরাসরি মারফূ হাদীসে কোনো অনুমতি পাওয়া যায় না।

وقال الحَصْكَفي: (وأمَّا الأخذُ منها وهي دونَ ذلك [أي: دونَ القَبضةِ] كما يفعَلُه بعضُ المغاربة، ومُخَنَّثةُ الرِّجالِ، فلم يُبِحْه أحَدٌ). ((الدر المختار)) (2/418)

ইমাম হাসকাফী রহ. বলেন: “দাড়ি থেকে এক মুষ্ঠির কম অংশ কেটে ফেলা—যেমন কিছু মাগরিবের লোকজন এবং নারীতুল্য স্বভাবের পুরুষরা করে থাকে—এটি কারো নিকটই বৈধ বলে স্বীকৃত নয়।” আদ-দুররুল মুখতার ২/৪১৮

একমুষ্ঠির কম দাড়ি কাটা বৈধ নয়। সবদিকে সমান ও সুন্দর করার নিয়তেও একমুষ্ঠির কম দাড়ি কাটা যাবে না। চোয়ালের দাড়ি ছোট থাকলেও থুতনির দাড়ি যদি একমুষ্ঠির বেশি হয় তাহলে সেখান থেকে অতিরিক্ত অংশ কাটা যাবে। একমুষ্ঠির বেশি দাড়ি কাটার নিয়ম হল, থুতনির নিচে মুষ্ঠি করে ধরার পর অতিরিক্ত অংশ কেটে নেওয়া।

কিতাবুল আছার, ইমাম মুহাম্মদ ২/৭৬৬; ফাতহুল বারী ১০/৩৬৩; ফাতাওয়া হিন্দিয়া ৫/৩৫৮; আদ্দুররুল মুখতার ৬/৪০৭; ফাতাওয়া তাতারখানিয়া ১৮/২১১; রদ্দুল মুহতার ২/৪১৮, ৬/৪০৭

ঠোঁটের নিচে যেসব পশম গজায় তা মুণ্ডিয়ে বা উপড়ে ফেলা নিষেধ। একে নিমদাড়ি বলে। একাধিক বিশুদ্ধ হাদীস দ্বারা প্রমাণিত, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নিমদাড়ি রাখতেন। হযরত হারীয ইবনে উসমান রাহ. হতে বর্ণিত—

أَنَّهُ سَأَلَ عَبْدَ اللَّهِ بْنَ بُسْرٍ صَاحِبَ النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، قَالَ: أَرَأَيْتَ النَّبِيَّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ كَانَ شَيْخًا؟ قَالَ: كَانَ فِي عَنْفَقَتِهِ شَعَرَاتٌ بِيضٌ.

তিনি সাহাবী আবদুল্লাহ ইবনে বুসরকে
জিজ্ঞেস করলেন, আপনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে কি বৃদ্ধ দেখেছেন? তিনি বললেন,
নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিমদাড়িতে কয়েকটি চুল সাদা ছিল। (সহীহ বুখারী, হাদীস ৩৫৪৬)

অবশ্য গলার নিচে যেসব পশম গজায় তা প্রয়োজনে কাটা যাবে।

শরহু সহীহি মুসলিম, নববী ৩/১৪৯; ফায়যুল বারী ৪/৩৮০; আলইয়ানাবী‘ ২/৪২৪; ফাতাওয়া হিন্দিয়া ৫/৩৫৮; রদ্দুল মুহতার ৬/৪০৭

Khairul Islam 14/4/26
হানাফী ফিকহ-Hanafi Fiqh

15/04/2026

সাহাবিরা নবী স. কে দেখার পরেও কি নবী স. এর তরিকায় নামাজ পরেনি যে সাহাবিদের তরিকায় নামাজ পরলে নামাজ হবে না
খোলাফায়ে রাশেদীন কোন পদ্ধতিতে সালাত আদায় করতো?
তারা কি রাসূলের(স:) দেখানো পদ্ধতি অবলম্বন করে সালাত আদায় করে নাই ?
আপনাদের মত শায়খদের এমন কথায় মানুষ সাহাবী বিদ্বেষী তৈরি হয়!*. চার খুলাফার অনুসরণ করা।
فَعَلَيْكُمْ بِسُنَّتِي وَسُنَّةِ الْخُلَفَاءِ الرَّاشِدِينَ الْمَهْدِيِّينَ عَضُّوا عَلَيْهَا بِالنَّوَاجِذِ وَإِيَّاكُمْ وَالأُمُورَ الْمُحْدَثَاتِ فَإِنَّ كُلَّ بِدْعَةٍ ضَلاَلَةٌ
তোমরা আমার সুন্নাত ও হিদায়াতপ্রাপ্ত খুলাফায়ে রাশিদ্বীনের সুন্নাত অবশ্যই অবলম্বন করবে, তা দাঁত দিয়ে শক্তভাবে কামড়ে ধরবে। অবশ্যই তোমরা বিদআত কাজ পরিহার করবে। কারণ প্রতিটি বিদআতই ভ্রষ্টতা।
সুনানে ইবনে মাজা' হাদীস নং: ৪২, সুনানে দারেমী হাদীস নং: ৯৫, জামে' তিরমিযী হাদীস নং: ২৬৭৬, রিয়াযুস সালিহীন হাদীস নং: ১৫৭, সুনানে আবূ দাউদ, হাদীছ নং ৪৬০৭, মুসনাদে আহমাদ, হাদীছ নং ১৭১৪২, মিশকাতুল মাসাবীহ হাদীস নং: ১৬৫, ত্বহাবী শরীফ হাদীস নং: ১৫৩৭।
*. আবু হুরায়রাহ রা. থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ ﷺ এরশাদ করেন- يَكُونُ فِي آخِرِ الزَّمَانِ دَجَّالُونَ كَذَّابُونَ ، يَأْتُونَكُمْ مِنَ الْأَحَادِيثِ بِمَا لَمْ تَسْمَعُوا أَنْتُمْ، وَلَا آبَاؤُكُمْ، فَإِيَّاكُمْ وَإِيَّاهُمْ، لَا يُضِلُّونَكُمْ، وَلَا يَفْتِنُونَكُمْ . أخرجه مسلم في المقدمة: ٧; مسند أبي يعلى الموصلي: ١١/٢٧٠٠ رقم ٦٣٨٤ إسناده صحيح ; صحيح ابن حبان: ١٥/١٦٩ رقم ٦٧٦٦ صححه شعيب; مسند أحمد: ١٤/١٩ و ١٤/٢٥٢ رقم ٨٢٦٧ و ٨٥٩٦ حسنه شعيب; مسند إسحاق بن راهويه: ١/٣٤٠ رقم ٣٣٢; المستدرك على الصحيحين للحاكم: ١/١٧٣ رقم ٣٥١; شرح السنة للبغوي: ١/٢٢٣ – ‘আখেরী জামানায় চরম-ধোকাবাজ ও চরম-মিথ্যুাবাদী’দের আবির্ভাব হবে। তারা তোমাদের (মুসলমানদের) সামনে এমনসব কথা/বিষয় নিয়ে আসবে -যা না তোমরা কখনো শুনেছো, না তোমাদের বাপ-দাদা-পূর্বপুরুষরা। (ওদের উপস্থাপিত কথা বা বিষয়গুলো হবে একেকটা পথভ্রষ্ঠতা ও ফিতনা’র আখড়া)। সুতরাং তোমরা তাদের ব্যাপারে সতর্ক থেকো, তারা যেন তোমাদেরকে পথভ্রষ্ঠও করতে না পারে, ফিতনা’য়ও ফেলতে না পারে।
[সহিহ মুসলীম, মুকাদ্দমাহ – ৭; মুসনাদে আবু ইয়া’লা- ১১/২৭০ হাদিস ৬২৮৪; সহিহ ইবনে হিব্বান- ১৫/১৬৯ হাদিস ৬৭৬৬; মুসনাদে আহমদ- ১৪/১৯, ১৪/২৫২ হাদিস ৮২৬৭, ৮৫৯৬; মুসনাদে ইসহাক বিন রাহুওয়াই- ১/৩৪০; মুসতাদরাকে হাকিম- ১/১৭৩ হাদিস ৩৫১; শারহুস সুন্নাহ, বাগাভী- ১/১২৩]

٤٠ - ﻋَﻦْ ﺃَﺑِﻲ ﻫُﺮَﻳْﺮَﺓَ، ﻗَﺎﻝَ ﻗَﺎﻝَ ﺭَﺳُﻮﻝُ ﺍﻟﻠَّﻪِ ﺻَﻠَّﻰ ﺍﻟﻠَّﻪُ ﻋَﻠَﻴْﻪِ
ﻭَﺳَﻠَّﻢَ ﻳَﻜُﻮﻥُ ﻓِﻲ ﺁﺧِﺮِ ﺍﻟﺰَّﻣَﺎﻥِ ﺩَﺟَّﺎﻟُﻮﻥَ ﻛَﺬَّﺍﺑُﻮﻥَ ﻳَﺄْﺗُﻮﻧَﻜُﻢْ
ﻣِﻨْﺎﻟْﺄَﺣَﺎﺩِﻱﺙِ ﺑِﻤَﺎ ﻟَﻢْ ﺗَﺴْﻤَﻌُﻮﺍ ﺃَﻧْﺘُﻢْ ﻭَﻟَﺎ ﺁﺑَﺎﺅُﻛُﻢْ ﻓَﺈِﻳَّﺎﻛُﻢْ ﻭَﺇِﻳَّﺎﻫُﻢْ
আবূ হুরায়রাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ শেষ যামানায় এমন মিথ্যুক দাজ্জাল লোক হবে, যারা তোমাদের কাছে এমন সব (মনগড়া) হাদীস নিয়ে উপস্থিত হবে যা তোমরা শুনোনি, তোমাদের বাপ-দাদারাও শুনেননি। অতএব সাবধান! তাদের থেকে দূরে থাকবে, যাতে তারা তোমাদেরকে গুমরাহ করতে বা বিপদে ফেলতে না পারে।
মুসনাদে আহমাদ হাদীস নং- ৮৫৯৬
সহী মুসলিম শরিফ হাদীস নং- ৭
সহী মুসলিম ১/২৪ হাদীস নং - ৮
সহী ইবনে হিব্বান হাদীস নং- ৬৭৬৬
আল্লামা তাহাবী,মুশকিলুল আসার, ৬/৪৪৮, হাঃ২৮৮৪
মিশকাতুল মসাবীহ,১/৩৩ হাঃ ১৫৪
আল মানাবী,ফয়জুল ক্বাদীর ফি শরহে জামে ‘উস্সাগীর,৬/২৫৮,হাঃ ৮৯৩০

আল্লাহ সহিহ বুঝ দান করুন। আমিন।

30/03/2026

কথিত সালাফি শায়খ মুজাফফার বিন মুহসিনের কথার জবাব দিলেন, আরেক সালাফি শায়খ-

দেখুন ভিডিও

শাইখুল ইসলাম ইবনু আব্দিল বার্র (৪৬৩ হি.) বলেন,ولو كانت الطَّهارةُ والصلاةُ وأعمالُ البرِّ مُكَفِّرةً للكبائر، والمُتطَهّ...
29/03/2026

শাইখুল ইসলাম ইবনু আব্দিল বার্র (৪৬৩ হি.) বলেন,

ولو كانت الطَّهارةُ والصلاةُ وأعمالُ البرِّ مُكَفِّرةً للكبائر، والمُتطَهِّرُ المُصَلِّي غير ذاكرٍ لذنبِه الموبِق، ولا قاصدٍ إليه، ولا حضَره في حينِه ذلك الندمُ عليه، ولا خطَرت خَطيئتُه المُحيطةُ به ببالِه - لما كان لأمرِ الله عزَّ وجلَّ بالتوبةِ معنًى، ولكان كلُّ مَن توضَّأ وصلَّى يُشهَدُ له بالجنة بإثرِ سَلامِه من الصلاة، وإن ارتكَب قبلَها ما شاء من الموبقاتِ الكبائر. وهذا لا يقولُه أحدٌ ممّن له فَهْمٌ صحيحٌ. وقد أجمَع المسلمون أنّ التوبةَ على المُذْنب فرضٌ، والفُروضُ لا يَصِحُّ أداءُ شيءٍ منها إلّا بقَصْدٍ ونيّةٍ واعتقادِ أن لا عَوْدةَ، فَأمّا أنْ يُصلِّيَ وهو غيرُ ذاكِر لما ارْتَكَبَ من الكبائر، ولا نادم على ذلك، فمُحالٌ

পবিত্রতা অর্জন, নামাজ এবং অন্যান্য নেক আমল যদি কবিরা গুনাহের কাফফারা হতো—অথচ অজুকারী ও নামাজি ব্যক্তি তার সেই ধ্বংসাত্মক গুনাহের কথা স্মরণ করছে না, তার প্রতি কোনো ঘৃণা পোষণ করছে না, সেই মুহূর্তে তার মনে কোনো অনুশোচনাও জাগছে না এবং তাকে পরিবেষ্টন করে থাকা সেই অপরাধের কথা তার চিন্তায়ও আসছে না—তবে আল্লাহ তাআলার তওবা করার নির্দেশের আর কোনো অর্থ থাকত না। এমতাবস্থায় যে ব্যক্তিই অজু করে নামাজ পড়ত, নামাজের সালাম ফেরানোর পরপরই তার জান্নাতী হওয়ার সাক্ষ্য দেওয়া যেত; যদিও সে নামাজের আগে যত ইচ্ছা ধ্বংসাত্মক কবিরা গুনাহ করে থাকুক না কেন। সঠিক বুঝসম্পন্ন কেউ এমন কথা বলতে পারেন না। মুসলমানদের ইজমা রয়েছে যে, গুনাহগারের ওপর তওবা করা ফরজ; আর কোনো ফরজ কাজই নিয়ত, সংকল্প এবং পুনরায় গুনাহ না করার দৃঢ় ইচ্ছা ব্যতীত সহিহভাবে আদায় হয় না। সুতরাং কোনো ব্যক্তি তার কৃত কবিরা গুনাহের কথা স্মরণ না করে বা অনুতপ্ত না হয়ে কেবল নামাজ পড়বে আর তার তওবা হয়ে যাবে এটি অসম্ভব। (আত তামহীদ, ইবনু আব্দিল বার্র ৩/১৫৩)

কপি নুর হাবীব

হানাফিরা কেন সারা বছর ফজরের নামাজ দেরি করে আদায় করে এবং রমজানে অন্ধকার থাকতে আদায় করে? সালাফদের ইখতেলাফগত মাসলাগুলোর ম...
27/03/2026

হানাফিরা কেন সারা বছর ফজরের নামাজ দেরি করে আদায় করে এবং রমজানে অন্ধকার থাকতে আদায় করে?

সালাফদের ইখতেলাফগত মাসলাগুলোর মধ্যে একটি মাসলা হলো ফজরের সালাত কখন আদায় করা উত্তম। এই সম্পর্কে সালাফদের মধ্য থেকে যে দুইটা মত পাওয়া যায়, তার মধ্যে ইসফার বিল ফজরের প্রবক্তাগনের মত হলো ফজরের সালাত কে ইসফার করা। অর্থাৎ ভোরের আলো প্রকাশিত হলে ফজরের সালাত আদায় করা উত্তম। আর হানাফী মাযহাবের মত এই ইসফার বিল ফজরের পক্ষে। এই মতের পক্ষে ইসফার বিল ফজরের প্রবক্তাগন একাধিক বিশুদ্ধ হাদিস দলিল স্বরূপ উল্লেখ করেন। তার মাঝে কয়েকটি দলিল হলো—

◾ইসফার বিল ফজরের হাদিস—

▪️১. রাসুল সাঃ এর নির্দেশ।

রফিই ইবনে খরিজ রাদিঃ বলেন—

قَالَ رَسُولَ اللهِ ﷺ أَصْبِحُوا بِالصُّبْحِ فَإِنَّهُ أَعْظَمُ لأُجُورِكُمْ ‏.‏ أَوْ أَعْظَمُ لِلأَجْرِ

অর্থাৎ— রসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন, "ভোরের আলো প্রকাশিত হলে ফাজরের সলাত আদায় করবে। কারণ এতে তোমাদের জন্য অত্যাধিক সওয়াব বা অতি উত্তম বিনিময় রয়েছে।"

[সুনানে আবু দাউদ, হাদিস নং ৪২৪; সুনানে ইবনে মাজা, হাদিস নং ৬৭২; মুসনাদে হুমাইদি, হাদিস নং ৪২২; মুসনাদে ইবনে জাদ, হাদিস নং ২৯৫৭; মুসনাদে শাফেয়ি, হাদিস নং ১৩২; মুসান্নাফ আব্দুর রাজ্জাক, হাদিস নং ২২২৭; মুসান্নাফ ইবনে আবি শাইবা, হাদিস নং ৬৪; মুসনাদে তায়ালিসিন, হাদিস নং ১০০১; সুনানে আদ-দারিমি, হাদিস নং ১২৩৭; মুসনাদে সাকাফি, হাদিস নং ৪৫; মুসনাদে আবু নুয়াইম, হাদিস নং ৩১৪; মুসনাদে আহমদ, হাদিস নং ১৭২৭৯; মুসনাদে ইবনে আবু আসিম, হাদিস নং ২০৯০; জামে আত-তিরমিজি, হাদিস নং ১৫৪ ; সুনানে নাসাই, হাদিস নং ১৭২; সহীহ ইবনু হিব্বান, হাদিস নং ১৪৯০ ইত্যাদি ]

হাদিসটি সহীহ

▪️২. জিব্রাইল আঃ নবী ﷺ যেই সময় ফজরের সালাত আদায় করতে বলেছেন।

আবু সাইদ খুদরি রদিঃ বলেছেন—

قَالَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: " أَمَّنِي جِبْرِيلُ فِي الصَّلَاةِ، فَصَلَّى الظُّهْرَ حِينَ زَالَتِ الشَّمْسُ، وَصَلَّى الْعَصْرَ حِينَ كَانَ الْفَيْءُ قَامَةً، وَصَلَّى الْمَغْرِبَ حِينَ غَابَتِ الشَّمْسُ، وَصَلَّى الْعِشَاءَ حِينَ غَابَ الشَّفَقُ، وَصَلَّى الْفَجْرَ حِينَ طَلَعَ الْفَجْرُ، ثُمَّ جَاءَهُ (٢) الْغَدُ، فَصَلَّى الظُّهْرَ وَفَيْءُ كُلِّ شَيْءٍ مِثْلُهُ، وَصَلَّى الْعَصْرَ وَالظِّلُّ قَامَتَانِ، وَصَلَّى الْمَغْرِبَ حِينَ غَابَتِ الشَّمْسُ، وَصَلَّى الْعِشَاءَ إِلَى ثُلُثِ اللَّيْلِ الْأَوَّلِ، وَصَلَّى الصُّبْحَ حِينَ كَادَتِ الشَّمْسُ تَطْلُعُ، ثُمَّ قَالَ: الصَّلَاةُ فِيمَا بَيْنَ هَذَيْنِ الْوَقْتَيْنِ.

অর্থাৎ— রাসূলুল্লাহ্ ﷺ বলেছেন "জিবরাঈল আঃ আমার সালাতে ইমামত করেছেন। তিনি যুহরের সালাত আদায় করেছেন যখন সূর্য ঢলে পড়েছিল, আসরের সালাত আদায় করেছেন যখন সূর্যের ছায়া এক দেহের সমান হয়; মাগরিবের সালাত আদায় করেছেন যখন সূর্য ডুবে যায়; ইশা'র সালাত আদায় করেছেন যখন ‘শাফাক’ বা সূর্য অস্তমিত হওয়ার পর শেষ লালিমার পরবর্তী শুভ্রতা মিলিয়ে যায়; ফজরের সালাত আদায় করেছেন যখন সুবহে সাদিক উদিত হয়।

তারপর দ্বিতীয় দিন তিনি আমার ইমামত করেছেন। যুহরের সালাত আদায় করেছেন যখন প্রতিটি বস্তুর ছায়া তার সমপরিমাণ হয়, আসরের সালাত আদায় করেছেন যখন প্রতিটি বস্তুর ছায়া তার দ্বিগুণ হয়, মাগরিবের সালাত আদায় করেছেন যখন সূর্য ডুবে যায়; ইশার সালাত আদায় করেছেন যখন রাত্রির প্রথম এক-তৃতীয়াংশ অতিক্রান্ত হল, ফজরের সালাত আদায় করেছেন যখন সূর্য উদয় হওয়ার উপক্রম হল । তারপর বললেনঃ এ দু’য়ের মাঝের ওয়াক্তই হল সালাতের ওয়াক্ত।"

[ মুসনাদে আহমদ, হাদিস নং ১১২৪৯; শরহুল আছার আত-তহাবি, হাদিস নং ৮৩২; মুজমাউল কাবির লি তাবারী, হাদিস নং ৫৪৪৩; সুনানে বায়হাকি, হাদিস নং ১১০০; গয়াতুল মাকসিদি ফি জাওয়াইদিল মুসনাদ, হাদিস নং ৪৮৬ ]

আবু সাইদ খুদরি রদিঃ —এর এই হাদিসটি হাসন সহীহ। হাদিসের সনদে বর্ণিত আব্দুল্লাহ ইবনে লাহিয়া ইবনে উকব ثقه বর্ননাকারি। তিনার কিতাব পুড়িয়ে যাওয়ার পূর্বেই এই হাদিস তিনি তিনার ছাত্র ইসহাক ইবনে ইসার নিকট বর্ননা করেছেন।

ব্যাখ্যা: এই হাদিস থেকে প্রমাণিত হয় যে, ফজরের সালাত ইসফার করে আদায় করাটাই উত্তম। কারন সুবহে সাদিকের পর থেকে সূর্যোদয়ের মাঝ বরাবর সময়টি আকাশ আলোকিত হওয়ার সময়। যেমন ধরুন ২৬শে ফেব্রুয়ারি ফজর শুরু হয় ৫:০৭ মিনিটে আর সূর্যাস্ত ৬:২১ মিনিটে। তাহলে এর মধ্যবর্তী সময় হলো ৫: ৪৪ মিনিট বা এর আশপাশের সময়। আর এই সময় উষার আলো চারিদিকে ছড়িয়ে পড়ে। তাই এই হাদিস তাদের বিপক্ষে জোরালো দলিল যারা বলেন অন্ধকারে সালাত শুরু করে অন্ধকার থাকতেই শেষ করতে হবে।

বিশেষ দ্রষ্টব্য:- এই মর্মে একাধিক সাহাবি থেকে এই হাদিস সহীহ ভাবে বর্ণিত হয়েছে। যেমন আবু হুরায়রা রাদিঃ থেকে নাসায়ীর ৫০২ নং হাদিসে। জাবের ইবনে আব্দুল্লাহ রাদিঃ থেকে নাসায়ীর ৫২৬ নং হাদিসে। আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাদিঃ থেকে আবু দাউদের ৩৯৩ নং হাদিসে।

▪️ ৩. সময়টি কখন তাও রাসুল ﷺ শিখিয়ে দিয়েছেন।

আনাস ইবনে মালেক রাদিঃ বলেন—

أَنَّ رَجُلًا أَتَى إِلَى النَّبِيَّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، فَسَأَلَهُ عَنْ وَقْتِ صَلَاةِ الْغَدَاةِ فَلَمَّا أَصْبَحْنَا مِنَ الْغَدِ أَمَرَ حِينَ انْشَقَّ الْفَجْرُ أَنْ تُقَامَ الصَّلَاةُ فَصَلَّى بِنَا فَلَمَّا كَانَ مِنَ الْغَدِ أَسْفَرَ، ثُمَّ أَمَرَ فَأُقِيمَتِ الصَّلَاةُ فَصَلَّى بِنَا، ثُمَّ قَالَ: أَيْنَ السَّائِلُ عَنْ وَقْتِ الصَّلَاةِ؟، مَا بَيْنَ هَذَيْنِ وَقْتٌ.

অর্থাৎ— এক ব্যাক্তি নবী ﷺ এর নিকট উপস্থিত হয়ে তাঁকে ফজরের সালাতের ওয়াক্ত সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলেন। পরবর্তী দিন প্রভাত হওয়ার পরই তিনি ফজরের প্রথম ওয়াক্তে ইকামত দেয়ার জন্য আদেশ করলেন এবং আমাদের নিয়ে দালাত আদায় করলেন।পরদিন ঊষা ফর্সা হওয়ার পর সালাতের ইকামত বলার জন্য আদেশ করলেন। সালাতের ইকামত বলা হলো এবং তিনি আমাদেরকে নিয়ে সালাত আদায় করলেন। তারপর বললেনঃ "সালাতের সময় সম্পর্কে প্রশ্নকারী কোথায়? এ দুই ওয়াক্তের মধ্যখানেই সালাতের সময়।"

[ সুনানে আন-নাসায়ী, হাদিস নং ৫৪৪; মুসান্নাফ ইবনে আবু ইয়ালা, হাদিস নং ৩৮০১; হাদিস আস-সিরাজি, হাদিস নং ১৩২৭; হাদীসু আলী ইবনু হুজরিন, হাদিস নং ৭৭; মুসনাদে আল-হারিস, হাদিস নং ১১৫; মুসনাদে আহমদ, হাদিস নং ১২২৯ ]

হাদিসটি সহীহ।

বিশেষ দ্রষ্টব্য:— এই মর্মে একাধিক সাহাবি থেকে এই হাদিস সহীহ ভাবে বর্ণিত হয়েছে। যেমন বুরায়দা রাদিঃ থেকে। সহিহ মুসলিমের ১২৭৮ নং হাদিস সহ আরো একাধিক গ্রন্থে।

▪️৪. বিলাল রাদিঃ কে নির্দেশ।

রফিই ইবনে খরিজ রাদিঃ বলেন—

سَمِعت رَسُول الله صلى الله عَلَيْهِ وَسلم يَقُول يَا بِلَال نور بِالْفَجْرِ مَا يرى الْقَوْم مواقع نبلهم

অর্থাৎ— আমি রাসুল ﷺ কে বলতে শুনেছি যে, তিনি বলেন "হে বিলাল, ফজর এমন সময় আদায় করো যখন মানুষ তার নিক্ষিপ্ত তীরের পতিত স্থানটি দেখতে পায়।"

[ হাদিস লাওইন আল-মুসাইসী, হদিস নং ৪; আনসাবুল আশরাফ, হাদিস নং ৪৯২; মাজমুয়াল কাবির তাবারি, হাদিস নং ৪৪১৪; আল-ইলাল লি ইবনে হাতিম, হাদিস নং ৪০০; মুজামাস-সাহাবাহ লিল বাগাবি, হাদিস নং ৭২০; মুসান্নাফ ইবনে আবি শাইবা, হাদিস নং ৮৩; আল-হুজ্জাহ আলা আহলুল মাদিনা, ১/৫ ]

হাদিসটির সনদ সহীহ।

▪️ ৫. রাসুল ﷺ এর আমল।

আনাস ইবনে মালেক রাদিঃ বলেন—

كَانَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يُصَلِّي الظُّهْرَ إِذَا زَالَتِ الشَّمْسُ، وَيُصَلِّي الْعَصْرَ بَيْنَ صَلَاتَيْكُمْ هَاتَيْنِ، وَيُصَلِّي الْمَغْرِبَ إِذَا غَرَبَتِ الشَّمْسُ، وَيُصَلِّي الْعِشَاءَ إِذَا غَابَ الشَّفَقُ، ثُمَّ قَالَ: عَلَى إِثْرِهِ، وَيُصَلِّي الصُّبْحَ إِلَى أَنْ يَنْفَسِحَ الْبَصَرُ.

অর্থাৎ— রাসূলুল্লাহ ﷺ যখন সূর্য ঢলে পড়তো তখন যোহরের সালাত আদায় করতেন এবং আসরের সালাত আদায় করতেন তোমাদের যোহর ও আসর উভয় সালাতের মধ্যবর্তী সময়ে। সূর্যাস্তের পর মাগরিবের সালাত আদায় করতেন। আর ‘ইশার সালাত সূর্যাস্তের পর আকাশের শফক অদৃশ্য হলে আদায় করতেন। এরপর তিনি আবার বললেনঃ আর যখন দৃষ্টি বিস্তৃত হতো তখন ফজরের সালাত আদায় করতেন।

[ সুনানে আন-নাসায়ী, হাদিস নং ৫৫২; মুসনাদে আবু ইয়ালা, হাদিস নং ৪০০৪; মুসনাদে আহমদ, হাদিস নং ১২৩১১; মুসনাদে তায়ালিসি, হাদিস নং ২২৫০; হাদিসুস সিরাজ, হাদিস নং ১৬৩৩; আল-আছামি ওয়াল-কুনা, হাদিস নং ২৭০২; ]

হাদিসটি সহীহ

▪️৬. আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ রাদিঃ বলেন—

قَالَ مَا رَأَيْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم صَلَّى صَلاَةً إِلاَّ لِمِيقَاتِهَا إِلاَّ صَلاَتَيْنِ صَلاَةَ الْمَغْرِبِ وَالْعِشَاءِ بِجَمْعٍ وَصَلَّى الْفَجْرَ يَوْمَئِذٍ قَبْلَ مِيقَاتِهَا

অর্থাৎ— "আমি রসূলুল্লাহ ﷺ কে নির্ধারিত ওয়াক্তেই সলাত আদায় করতে দেখেছি। তবে মুযদালিফায় মাগরিব ও ‘ইশার সলাত আদায় করেছেন এবং রাতের ভোরে ফজরের সলাত নির্ধারিত সময়ের পূর্বে অর্থাৎ ওয়াক্ত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই আদায় করেছে।"

[ সহীহ মুসলিম, হাদীস নং ৩০০৭; সহীহ বুখারী, হাদিস নং ১৬৮২; সুনানে আবু দাউদ, হাদিস নং ১৯৩৪; সুনানে আন-নাসায়ী, হাদিস নং ৬০৮; মুসান্নাফ ইবনে আবি শাইবা, হাদিস নং ৮২৪০; মুসনাদে আহমদ, হাদিস নং ৪০৪৬; মুসনাদে বাজ্জার, হাদিস নং ১৯০৬; মুসান্নাফ আব্দুর রাজ্জাক, হাদিস নং ৪৫৩; মুসনাদে আবু আওয়ানা, হাদিস নং ৩৯৬৭; মুসনাদে আশ-শাশি, হাদিস নং ৪৭৫; হাদিস আস-সিরাজি, হাদিস নং ২৪৬৫; মুসনাদে আবু ইয়ালা, হাদিস নং ৫১৭৬ ]

ব্যাখ্যা:— এই হাদিস থেকে জানা যায় যে, রাসুল ﷺ মুজদালিফায় ফজরের নির্ধারিত সময়ের পূর্বে এবং সুবহে সাদিক শেষ হওয়ার সাথে সাথেই ফজর আদায় করেছেন। তাই এই হাদিস থেকে অনুমান করা যায় যে, রাসূল ﷺ সব সময় ফজর আদায় করতেন আলো প্রকাশিত হওয়ার পর। কিন্তু মুজদালিফায় আলো প্রকাশিত হওয়ার জন্য অপেক্ষা না করেই ফজর হওয়ার সাথে সাথে ফজর আদায় করে নিতেন। এই হাদিসের বিস্তারিত বিবরণ সামনে আসবে ইনশাল্লাহ।

▪️৭. আবু বারজাহ রাদি বলেন—

كَانَ النَّبِيُّ ﷺ يُصَلِّي الصُّبْحَ، وَأَحَدُنَا يَعْرِفُ جَلِيسَهُ، وَيَقْرَأُ فِيهَا مَا بَيْنَ السِّتِّينَ إِلَى الْمِائَةِ،

অর্থাৎ— "নবী ﷺ এমন সময় ফজরের সালাত সম্পূর্ণ করতেন, যখন আমাদের একজন তার পার্শ্ববর্তী অপরজনকে চিনতে পারতো। আর এ সালাতে তিনি ষাট হতে একশ’ আয়াত তিলাওয়াত করতেন।"

[ সহিহ বুখারী, হাদিস নং ৫৪১, ৫৪৭; মুসনাদে শাফেয়ি, হাদিস নং ১২৫; মুসনাদে আহমদ , হাদিস নং ১৯৮১১; মুসান্নাফ ইবনে আবি শাইবা, হাদিস নং ৩২২৩; সুনানে আন-নাসাই, হাদিস নং ৫২৫, ৫৩০; সুনানে আবু দাউদ, হাদিস নং ৩৯৮; সুনানে আদ-দারেমি, হাদিস নং ১৩৩৮; মুসনাদে তায়ালিসিন, হাদিস নং ৯৬২; মুসনাদে আস-সিরাজ, হাদিস নং ১৩৯; মুস্তাখরাজ আবু আওয়ানা, হাদিস নং ১১২৩; মুসনাদে আল-রুয়ানি, হাদিস নং ৭৬৭; মুসনাদে আবু ইয়ালা, হাদিস নং ৭৪২৫; সহীহ ইবনে হিব্বান, হাদিস নং ৬৯১৬; ছালাছা আশার মিন ফাওয়াইদি ইবনে মুকরি, হাদিস নং ১৪১; সুনানে কুবর লি বায়হাকি, হাদিস নং ২১১৮]

ব্যাখ্যা— ইসফার বিল ফজরের প্রবক্তাগন এই হাদিস কে দলিল স্বরূপ উল্লেখ করে বলেন যে, মসজিদে নববীর মত একটি আবদ্ধ ছোট্ট মসজিদের ভিতরে যদি সালাত শেষে একজন আরেকজনকে দেখতে পায়, তাহলে তখন বাহিরে কেমন আলো প্রকাশিত হয়? নির্ঘাত তখন চারদিক আলোয় ভরে যায়। তাই এই দলিল তাগলিস বিল ফজরের বিরুদ্ধে মজবুত দলিল।

▪️৮. আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ রাদিঃ এর আমল।

আব্দুর রহমান ইবনে ইয়াজিদ রহিঃ বলেন—

حَجَجْنَا مَعَ ابْنِ مَسْعُودٍ حَتَّى إِذَا طَلَعَ أَوَّلُ الْفَجْرِ قَامَ فَصَلَّى الْغَدَاةَ، قَالَ: فَقُلْتُ لَهُ: مَا كُنْتَ تُصَلِّي هَذِهِ الصَّلَاةَ هَذِهِ السَّاعَةَ؟ وَكَانَ يُسْفِرُ بِالصَّلَاةِ، قَالَ: «إِنِّي رَأَيْتُ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يُصَلِّي فِي هَذَا الْيَوْمِ، فِي هَذَا الْمَكَانِ يُصَلِّي هَذِهِ السَّاعَةَ» يَعْنِي: بِجَمْعٍ

অর্থাৎ— আমরা আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ রাদিঃ এর সাথে হজ করেছিলাম। যখন ফজরের প্রথম আলো ( সুবহে সাদিক ) উদিত হলো, তখন তিনি উঠে ফজরের সালাত আদায় করলেন। আমি তাকে বললাম, "আপনি তো সচরাচর এই সময় সালাত আদায় করেন না।'" কারণ তিনি ফজরের সালাত একটু ফর্সা করে আদায় করতেন। তখন তিনি বললেন, "আমি মুহাম্মদ ﷺ কে এই দিন এই স্থানে এবং এই সময়ে সালাত আদায় করতে দেখেছি।"

[ মুসনাদে আবু ইয়ালা, হাদিস নং ৫৩৬৭; মুসনাদে আহমদ, হাদিস নং ৩৮৯৩; শরহুল আছার আত-তহাবি, হাদিস নং ১৪৭০]

এই হাদিস সহীহ।

▪️৯. আব্দুর রহমান ইবনে ইয়াজিদ রহিঃ বলেন—

عَبْدُ الرَّزَّاقِ، عَنِ الثَّوْرِيِّ، عَنْ أَبِي إِسْحَاقَ، عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ يَزِيدَ قَالَ: كَانَ عَبْدُ اللَّهِ «يُسْفِرُ بِصَلَاةِ الْغَدَاةِ»

অর্থাৎ— "আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ রাদিঃ ফজরের সালাতকে ফর্সা করে আদায় করতেন।"

[ মুসান্নাফ আব্দুর রাজ্জাক, হাদিস নং ২১৬০; আস-সালাতু লি-আবি নুয়াইমিল ফাদ্‌লু ইবনু দুকাইন, হাদিস নং ৩২১; আল মুজামুল কবির আত-তবারী, হাদিস নং ৯২৮১ ]

হাদিসটি সহীহ

▪️১০. আলী রাদিঃ আদেশ—

আলি ইবনে রবিয়া রহিঃ বলেন—

سَمِعْتُ عَلِيًّا، رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ يَقُولُ: «يَا ابْنَ التَّيَّاحِ، أَسْفِرْ أَسْفِرْ بِالْفَجْرِ

অর্থাৎ— আলি রাদিঃ কে বলতে শুনেছি " হে ইবনে তিহায়, ফর্সা কর, ফজরকে ফর্সা করো।

[ আস-সালাতু লি-আবি নুয়াইমিল ফাদ্‌লু ইবনু দুকাইন, হাদিস নং ৩১৮; মুসান্নাফ ইবনে আবী শাইবা, হাদিস নং ৩২৪৪; মুসান্নাফ আব্দুর রাজ্জাক, ২১৬৭, শরহুল আছার আত-তহাবি, হাদিস নং ১০৭৪ ]

হাদিসটি সহীহ

▪️১১. আলি রাদিঃ এর আমল—

ইয়াজিদ ইবনে আওদি রহিঃ থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন—

كُنْتُ أُصَلِّي وَرَاءَ عَلِيٍّ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ الْغَدَاةَ، ثُمَّ أَلْتَفَتُّ فَيُخَيَّلُ إِلَيَّ أَنَّهُ تَطْلُعُ الشَّمْسُ.

অর্থাৎ— "আমি আলি রদিঃ এর পিছনে ফজরের সালাত আদায় করতাম। অতঃপর যখন ফিরে তাকাতাম তখন মনে হতো যে সূর্যাস্ত হতে যাচ্ছে।"

[ আস-সালাতু লি-আবি নুয়াইমিল ফাদ্‌লু ইবনু দুকাইন, হাদিস নং ৩১৯-২০ ]

সনদ সহীহ

▪️১২. তাবেই ইব্রাহিম নাখাই রহি. বলেন —

مَا اجْتَمَعَ أَصْحَابُ مُحَمَّدٍ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ عَلَى شَيْءٍ مَا اجْتَمَعُوا عَلَى التَّنْوِيرِ.

অর্থাৎ— "রাসূলুল্লাহ ﷺ–এর সাহাবীগণ কোনো বিষয়ে ওতটা ঐক্যমত হননাই, যতটা তিনারা ফজরের তানওয়ির (আলো ফোটার পর সালাত আদায় করার ) বিষয়ে একমত হয়েছিলেন।"

[ কিতাবুল আছার আত-তহাবি, হাদিস নং ১০৯৭; কিতাবুল আছার লি ইমাম আবু ইয়ুসুফ, হাদিস নং ৯৮; মুসান্নাফ ইবনে আবি শাইবা, হাদিস নং ৩২৫৬ ]

সনদ সহীহ

এই হাদীসগুলি সহ আরো একাধিক হাদিস ও আছারের উপর ভিত্তি করে ইসফার বিল ফজরের প্রবক্তাগণ ফজরের সালাত আলো প্রকাশিত হওয়ার পর আদায় করেন। কিন্তু তিনারা রমাদান মাসে ফজরকে তাগলিস করেন। অর্থাৎ ফজরের সালাত অন্ধকারে শুরু করে অন্ধকার থাকতে শেষ করেন। এর পক্ষেও তারা একাধিক বিশুদ্ধ হাদিস উল্লেখ করেন। তার মধ্যে কয়েকটি হাদিস উল্লেখ করা হলো।

◾ রমজান মাসে ফজরকে তাগলিস করা—

▪️১. সাহল ইবনে সাদ রাদিঃ থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন—

كُنْتُ أَتَسَحَّرُ فِي أَهْلِي ثُمَّ تَكُونُ سُرْعَتِي أَنْ أُدْرِكَ السُّجُودَ مَعَ رَسُولِ اللهِ صلى الله عليه وسلم

অর্থাৎ— "আমি আমার পরিবার-পরিজনের মাঝে সাহরী খেতাম। এরপর আল্লাহ্‌র রাসূল ﷺ এর সাথে সালাতে অংশ গ্রহণ করার জন্য জলদি করতাম।"

[ সহীহ বুখারী, হাদিস নং ১৯২০; মুসনাদে রুয়ানি, হাদিস নং ১০২০; মাজমুয়াল কাবির তাবারি, হাদিস নং ৫৮৭১; মুসনাদে আবু ইয়ালা, হাদিস নং ৭৫৩৩; সহীহ ইবনে খুজাইমা, হাদিস নং ১৯৪২ ]

হাদিসটি সহীহ

▪️২. আনাস ইবনে মালেক রাদিঃ থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন—

أَنَّ نَبِيَّ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم وَزَيْدَ بْنَ ثَابِتٍ تَسَحَّرَا، فَلَمَّا فَرَغَا مِنْ سَحُورِهِمَا قَامَ نَبِيُّ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم إِلَى الصَّلاَةِ فَصَلَّى‏.‏ قُلْنَا لأَنَسٍ كَمْ كَانَ بَيْنَ فَرَاغِهِمَا مِنْ سَحُورِهِمَا وَدُخُولِهِمَا فِي الصَّلاَةِ قَالَ قَدْرُ مَا يَقْرَأُ الرَّجُلُ خَمْسِينَ آيَةً‏.‏

অর্থাৎ— আল্লাহর নবী ﷺ ও যায়দ ইবনু সাবিত রাদিঃ একসাথে সাহারী খাচ্ছিলেন, যখন তাঁদের খাওয়া হয়ে গেলো আল্লাহর নবী ﷺ সালাতে দাঁড়িয়ে গেলেন এবং সালাত আদায় করলেন। কাতাদা্ বলেন, আমরা আনাস রাদিঃ কে জিজ্ঞেস করলাম, তাঁদের সাহারী খাওয়া হতে অবসর হয়ে সালাত শুরু করার মধ্যে কতটুকু সময়ের ব্যবধান ছিল? তিনি বললেন, একজন লোক পঞ্চাশ আয়াত তিলাওয়াত করতে পারে এতটুকু সময়।

[ সহীহ বুখারী, হাদিস নং ৫৭৬; সহীহ মুসলিম, হাদিস নং২৪৪২; সুনানে আন-নাসায়ী, হাদিস নং ২১৫৫; জামে আত-তিরমিজি, হাদিস নং ৭০৩; সুনানে ইবনে মাজাহ, হাদিস নং ১৬৯৪; মুসনাদে আহমদ , হাদিস নং ২১৬২০; সুনানে কুবরা লি বায়হাকি, হাদিস নং ৮১২৪; সুনানে আদ-দারেমি, হাদিস নং ১৭৩৭; মাআ'রিফাতুস সাহাবা লি আবু নুয়াইম, হাদিস নং ২৯১৭; মুজমাউল কাবির লি তাবারী, হাদিস নং ৪৭৯৩; মুস্তাখর্রজ আবু আওয়ানা, হাদিস নং ২৯৮৪; মাজমুয়া শায়েখ ইবনে আরাবি, হাদিস নং ৬; মুসনাদে বাজ্জার, হাদিস নং ৭০৭৮ ]

হাদিসটি সহীহ

▪️৩. আতিয়া ইবনে মাতার আশ-শাইবানী রহিঃ থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন—
أَتَيْتُ عَبْدَ اللَّهِ فِي دَارِهِ، فَأَخْرَجَ لَنَا فَضْلَ سَحُورِهِ، فَتَسَحَّرْنَا مَعَهُ، فَأُقِيمَتِ الصَّلَاةُ فَخَرَجْنَا فَصَلَّيْنَا مَعَهُ

অর্থাৎ— "আমি আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ রাদিঃ এর বাড়িতে গেলাম। তখন তিনি আমাদেরকে তিনার সাহরির অবশিষ্ট অংশ আমাদেরকে দিলেন। আমরা তিনার সাথে সাহারি করলাম। এরপর সালাতের জন্য ইকামত দেওয়া হলে, আমরা বের হয়ে তিনার সাথে সালাত আদায় করলাম।"

[ মুসান্নাফ ইবনে আবি শাইবা, হাদিস নং ৮৯৩১; মুসান্নাফ আব্দুর রাজ্জাক, হাদিস নং ৭৬১৯; মুজামুল কবির আত-তবারী, হাদিস নং ৯৫৭৭ ]

হাদিসটি সহীহ

▪️ ৪. আবু আকিল হিব্বান ইবনে হারিস রহি থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন—
تَسَحَّرْتُ مَعَ عَلِيٍّ ثُمَّ أَمَرَ الْمُؤَذِّنَ، أَنْ يُقِيمَ

অর্থাৎ— "আমি আলি রাদিঃ এর সাথে সাহরি করেছিলাম, অতঃপর তিনি মুয়াজ্জিন কে ইকামত দেওয়া আদেশ করেন।"

[ মুসান্নাফ ইবনে আবি শাইবা, হাদিস নং ৮৯৩০; মুসান্নাফ আব্দুর রাজ্জাক, হাদিস নং ৭৬০৯; মুসনাদে শাফেয়ি, হাদিস নং ৭৩৩; তারিখুল কাবির লি বুখারী, হাদিস নং ৩০১; শরহুল আছার আত-তহাবি, হাদিস নং ১০৭২; তাফসির আত-তবারী, হাদিস নং ৩০০৮; আল-মুতালিফ তাকমিলাতুল মুতালিফ ওয়াল-মুখতালিফ, হাদিস নং ১৪২৩; আল-মুহাল্লা বিল আছার ৪/৩৭১; আল-মুখলিসিয়াত ২/৩৩৫ ]

এই হাদিসের সনদ সহীহ

এই বিষয়ে আরও একাধিক বিশুদ্ধ হাদিস আছে।

বিশেষ দ্রষ্টব্য:- হানাফী মাযহাবের মতে সারা বছর ফজরের সালাতকে ফর্সাতে আদায় করাই উত্তম। কিন্তু উপ-ভারতবর্ষের হানাফী ওলামায়ে কেরামদের মত হলো রমজান মাসে মানুষের সুবিধার জন্য রমজান মাসে ফজরকে তাগলিস করা উত্তম। কারন উপ-ভারতবর্ষের লোকেরা সেহরির শেষে সালাতের পরপর একটু বিশ্রাম করে। সেই অবস্থায় ইসফার করলে তাদের জন্য সেটা কষ্টসাধ্য হয়ে যায় এবং জামাত এমনকি সালাতো ছুটে যায়। আর রাসুল ﷺ বলেছেন—

لَوْلاَ أَنْ أَشُقَّ عَلَى أُمَّتِي لأَمَرْتُهُمْ أَنْ يُؤَخِّرُوا الْعِشَاءَ إِلَى ثُلُثِ اللَّيْلِ أَوْ نِصْفِهِ

অর্থাৎ— আমি আমার উম্মাতকে কষ্টে ফেলব একথা যদি মনে না করতাম, তবে আমি তাদেরকে ইশার সালাত রাতের এক তৃতীয়াংশ কিংবা অর্ধ রাত পর্যন্ত দেরী করে আদায়ের নির্দেশ দিতাম।

[ জামে আত-তিরমিজি, হাদিস নং ১৬৭; মুসান্নাফ আব্দুর রাজ্জাক, হাদিস নং ২১০৬; মুসনাদে তায়ালিসিন, হাদিস নং ২৪৪৮; মুসান্নাফ ইবনে আবি শাইবা, হাদিস নং ৩৩৭৮; সুনানে দারাকুতনী, হাদিস নং ৩৯; সহীহ ইবনে হিব্বান, হাদিস নং ৫৬৩২; সুনানে ইবনে মাজা, হাদিস নং ৬৯১; মুসনাদে আহমদ, হাদিস নং ৭৪০৬; মুসনাদে বাজ্জার, হাদিস নং ৮৪৫০; সুনানে কুবরা লি বায়হাকি, হাদিস নং ১৫১ ]

হাদিসটি সহীহ।

দ্বিতীয় ফজরের সালাতে কে ইসফার করার মূল কারণ হলো বড়ো জামায়াত করা। যেহেতু রমজান মাসে সুবহে সাদিকের পর পরই সকল মুসল্লি ফজরের জামাতে অংশগ্রহণ করে ফেলে, তাই তখনই ফজরের জামাত আদায় করা হয়। এতে করে উভয় হাদিসের উপর আমল হয়ে যায়। উপরের আলোচনায় দেখা গেছে ইসফার বিল ফজরের প্রবক্তা আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ রাদিঃ ও আলি রাদিঃ উভয়ে সারা বছর ভোরের আলো ফোটার পরে ফজরের সালাত আদায় করতেন, ঠিক তিনারাই আবার রমাদান মাসে ফজরের সালাত ফজরের প্রথম ওয়াক্তে আদায় করতেন। এই জন্যই আল্লামা আনওয়ার শাহ কাশ্মীরী রহিঃ সাহল ইবনে সাদ রাদিঃ এর হাদিসের আলোচনায় বলেন—

دَلَّ الْحَدِيثُ عَلَى تَغْلِيسِهِ عَلَيْهِ الصَّلَاةُ وَالسَّلَامُ فِي رَمَضَانَ وَهُوَ عَمَلُ أَهْلِ دِيُوبَنْدَ.

অর্থাৎ— "এই হাদীস প্রমাণ করে যে, নবী ﷺ রমযান মাসে ফজরের সালাত কে তাগলীস ( ফজরের প্রথম ওয়াক্তে আদায় ) করতেন। আর এটাই দেওবন্দের আলেমদের আমল।"

[ আল-আরফুশ শাসি ২/১৫৩ ]

দারুল উলুম দেওবন্দ থেকে বলা হয়েছে যে—

رمضان المبارک میں اذان فجر کے پندرہ منٹ بعد جماعت کا وقت طے کرلینا درست ہے۔ اگر مثل دیگر ایام کے تاخیر کی جائے تو بہت سے لوگوں کی جماعت بلکہ نماز بھی فوت ہوجانے کا اندیشہ رہتا ہے، اس لئے اول وقت میں اداء کرلینا رمضان المبارک میں بہتر ہے۔ کتب حدیث و فتاویٰ سے اس کا ثبوت ہے

অর্থাৎ— রমাদান মোবারক মাসে ফজরের আজানের ১৫ মিনিট পর জামাতের সময় নির্ধারিত করা সঠিক। যদি অন্যান্য দিনের মতো দেরি করা হয়, তাহলে অনেক মানুষের জামাত বরং নামাজই ছুটে যাওয়ার আশঙ্কা থাকে। এজন্য রামাযান মুবারকে শুরু সময়েই নামাজ আদায় করে নেওয়া উত্তম। এর প্রমাণ হাদিসের কিতাবসমূহ ও ফতোয়ার গ্রন্থগুলোতে পাওয়া যায়।

[ দারুল উলুম দেওবন্দ, ফতোয়া নং ৬০৪৭২৩ ]

© Roman khan

Address

গ্রাম/হলহলিয়া, থানা/তাহিরপুর, জেলা/সুনাম গঞ্জ
Sylhet

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when Usman posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Shortcuts

Share

Category