Usman

Usman আকিদায় আশ'আরি, মাতুরিদী।
মাযহাব "ফিক্বহে হানাফি" অনুসারি।

পেজের পক্ষ থেকে আপনাদের জানাচ্ছি আন্তরিক শুভেচ্ছা ও মোবারকবাদ।

দ্বীন প্রচার এবং ইসলাম সম্পর্কে সঠিক ধারনা পৌঁছে দিতে আমি আপনাদের মাঝে ইসলামিক গুরুত্বপূর্ণ সব বিষয় তুলে ধরবো। এর পাশাপাশি, নিয়মিত শেয়ার করবো:

🔰 ওয়াজ
🔰 মাহফিল
🔰 কুরআন তেলাওয়াত
🔰 সুরা
🔰 কেরাত
🔰 ইসলামিক গান
🔰 গজল
🔰 হামদ
🔰 নাথ
🔰 সহ অন্যান্য ইসলামিক সচেতনতামূলক পোস্ট

দ্বীন ইসলাম সম্পর্কে সঠিকভাবে জানতে এবং ইসলামের প্রতি গভীর ধারণা লাভ করতে, পেজটি লাইক ও ফলো দিয়ে আমাদের সাথে থাকুন।

ধন্যবাদ।

30/03/2026

কথিত সালাফি শায়খ মুজাফফার বিন মুহসিনের কথার জবাব দিলেন, আরেক সালাফি শায়খ-

দেখুন ভিডিও

শাইখুল ইসলাম ইবনু আব্দিল বার্র (৪৬৩ হি.) বলেন,ولو كانت الطَّهارةُ والصلاةُ وأعمالُ البرِّ مُكَفِّرةً للكبائر، والمُتطَهّ...
29/03/2026

শাইখুল ইসলাম ইবনু আব্দিল বার্র (৪৬৩ হি.) বলেন,

ولو كانت الطَّهارةُ والصلاةُ وأعمالُ البرِّ مُكَفِّرةً للكبائر، والمُتطَهِّرُ المُصَلِّي غير ذاكرٍ لذنبِه الموبِق، ولا قاصدٍ إليه، ولا حضَره في حينِه ذلك الندمُ عليه، ولا خطَرت خَطيئتُه المُحيطةُ به ببالِه - لما كان لأمرِ الله عزَّ وجلَّ بالتوبةِ معنًى، ولكان كلُّ مَن توضَّأ وصلَّى يُشهَدُ له بالجنة بإثرِ سَلامِه من الصلاة، وإن ارتكَب قبلَها ما شاء من الموبقاتِ الكبائر. وهذا لا يقولُه أحدٌ ممّن له فَهْمٌ صحيحٌ. وقد أجمَع المسلمون أنّ التوبةَ على المُذْنب فرضٌ، والفُروضُ لا يَصِحُّ أداءُ شيءٍ منها إلّا بقَصْدٍ ونيّةٍ واعتقادِ أن لا عَوْدةَ، فَأمّا أنْ يُصلِّيَ وهو غيرُ ذاكِر لما ارْتَكَبَ من الكبائر، ولا نادم على ذلك، فمُحالٌ

পবিত্রতা অর্জন, নামাজ এবং অন্যান্য নেক আমল যদি কবিরা গুনাহের কাফফারা হতো—অথচ অজুকারী ও নামাজি ব্যক্তি তার সেই ধ্বংসাত্মক গুনাহের কথা স্মরণ করছে না, তার প্রতি কোনো ঘৃণা পোষণ করছে না, সেই মুহূর্তে তার মনে কোনো অনুশোচনাও জাগছে না এবং তাকে পরিবেষ্টন করে থাকা সেই অপরাধের কথা তার চিন্তায়ও আসছে না—তবে আল্লাহ তাআলার তওবা করার নির্দেশের আর কোনো অর্থ থাকত না। এমতাবস্থায় যে ব্যক্তিই অজু করে নামাজ পড়ত, নামাজের সালাম ফেরানোর পরপরই তার জান্নাতী হওয়ার সাক্ষ্য দেওয়া যেত; যদিও সে নামাজের আগে যত ইচ্ছা ধ্বংসাত্মক কবিরা গুনাহ করে থাকুক না কেন। সঠিক বুঝসম্পন্ন কেউ এমন কথা বলতে পারেন না। মুসলমানদের ইজমা রয়েছে যে, গুনাহগারের ওপর তওবা করা ফরজ; আর কোনো ফরজ কাজই নিয়ত, সংকল্প এবং পুনরায় গুনাহ না করার দৃঢ় ইচ্ছা ব্যতীত সহিহভাবে আদায় হয় না। সুতরাং কোনো ব্যক্তি তার কৃত কবিরা গুনাহের কথা স্মরণ না করে বা অনুতপ্ত না হয়ে কেবল নামাজ পড়বে আর তার তওবা হয়ে যাবে এটি অসম্ভব। (আত তামহীদ, ইবনু আব্দিল বার্র ৩/১৫৩)

কপি নুর হাবীব

হানাফিরা কেন সারা বছর ফজরের নামাজ দেরি করে আদায় করে এবং রমজানে অন্ধকার থাকতে আদায় করে? সালাফদের ইখতেলাফগত মাসলাগুলোর ম...
27/03/2026

হানাফিরা কেন সারা বছর ফজরের নামাজ দেরি করে আদায় করে এবং রমজানে অন্ধকার থাকতে আদায় করে?

সালাফদের ইখতেলাফগত মাসলাগুলোর মধ্যে একটি মাসলা হলো ফজরের সালাত কখন আদায় করা উত্তম। এই সম্পর্কে সালাফদের মধ্য থেকে যে দুইটা মত পাওয়া যায়, তার মধ্যে ইসফার বিল ফজরের প্রবক্তাগনের মত হলো ফজরের সালাত কে ইসফার করা। অর্থাৎ ভোরের আলো প্রকাশিত হলে ফজরের সালাত আদায় করা উত্তম। আর হানাফী মাযহাবের মত এই ইসফার বিল ফজরের পক্ষে। এই মতের পক্ষে ইসফার বিল ফজরের প্রবক্তাগন একাধিক বিশুদ্ধ হাদিস দলিল স্বরূপ উল্লেখ করেন। তার মাঝে কয়েকটি দলিল হলো—

◾ইসফার বিল ফজরের হাদিস—

▪️১. রাসুল সাঃ এর নির্দেশ।

রফিই ইবনে খরিজ রাদিঃ বলেন—

قَالَ رَسُولَ اللهِ ﷺ أَصْبِحُوا بِالصُّبْحِ فَإِنَّهُ أَعْظَمُ لأُجُورِكُمْ ‏.‏ أَوْ أَعْظَمُ لِلأَجْرِ

অর্থাৎ— রসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন, "ভোরের আলো প্রকাশিত হলে ফাজরের সলাত আদায় করবে। কারণ এতে তোমাদের জন্য অত্যাধিক সওয়াব বা অতি উত্তম বিনিময় রয়েছে।"

[সুনানে আবু দাউদ, হাদিস নং ৪২৪; সুনানে ইবনে মাজা, হাদিস নং ৬৭২; মুসনাদে হুমাইদি, হাদিস নং ৪২২; মুসনাদে ইবনে জাদ, হাদিস নং ২৯৫৭; মুসনাদে শাফেয়ি, হাদিস নং ১৩২; মুসান্নাফ আব্দুর রাজ্জাক, হাদিস নং ২২২৭; মুসান্নাফ ইবনে আবি শাইবা, হাদিস নং ৬৪; মুসনাদে তায়ালিসিন, হাদিস নং ১০০১; সুনানে আদ-দারিমি, হাদিস নং ১২৩৭; মুসনাদে সাকাফি, হাদিস নং ৪৫; মুসনাদে আবু নুয়াইম, হাদিস নং ৩১৪; মুসনাদে আহমদ, হাদিস নং ১৭২৭৯; মুসনাদে ইবনে আবু আসিম, হাদিস নং ২০৯০; জামে আত-তিরমিজি, হাদিস নং ১৫৪ ; সুনানে নাসাই, হাদিস নং ১৭২; সহীহ ইবনু হিব্বান, হাদিস নং ১৪৯০ ইত্যাদি ]

হাদিসটি সহীহ

▪️২. জিব্রাইল আঃ নবী ﷺ যেই সময় ফজরের সালাত আদায় করতে বলেছেন।

আবু সাইদ খুদরি রদিঃ বলেছেন—

قَالَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: " أَمَّنِي جِبْرِيلُ فِي الصَّلَاةِ، فَصَلَّى الظُّهْرَ حِينَ زَالَتِ الشَّمْسُ، وَصَلَّى الْعَصْرَ حِينَ كَانَ الْفَيْءُ قَامَةً، وَصَلَّى الْمَغْرِبَ حِينَ غَابَتِ الشَّمْسُ، وَصَلَّى الْعِشَاءَ حِينَ غَابَ الشَّفَقُ، وَصَلَّى الْفَجْرَ حِينَ طَلَعَ الْفَجْرُ، ثُمَّ جَاءَهُ (٢) الْغَدُ، فَصَلَّى الظُّهْرَ وَفَيْءُ كُلِّ شَيْءٍ مِثْلُهُ، وَصَلَّى الْعَصْرَ وَالظِّلُّ قَامَتَانِ، وَصَلَّى الْمَغْرِبَ حِينَ غَابَتِ الشَّمْسُ، وَصَلَّى الْعِشَاءَ إِلَى ثُلُثِ اللَّيْلِ الْأَوَّلِ، وَصَلَّى الصُّبْحَ حِينَ كَادَتِ الشَّمْسُ تَطْلُعُ، ثُمَّ قَالَ: الصَّلَاةُ فِيمَا بَيْنَ هَذَيْنِ الْوَقْتَيْنِ.

অর্থাৎ— রাসূলুল্লাহ্ ﷺ বলেছেন "জিবরাঈল আঃ আমার সালাতে ইমামত করেছেন। তিনি যুহরের সালাত আদায় করেছেন যখন সূর্য ঢলে পড়েছিল, আসরের সালাত আদায় করেছেন যখন সূর্যের ছায়া এক দেহের সমান হয়; মাগরিবের সালাত আদায় করেছেন যখন সূর্য ডুবে যায়; ইশা'র সালাত আদায় করেছেন যখন ‘শাফাক’ বা সূর্য অস্তমিত হওয়ার পর শেষ লালিমার পরবর্তী শুভ্রতা মিলিয়ে যায়; ফজরের সালাত আদায় করেছেন যখন সুবহে সাদিক উদিত হয়।

তারপর দ্বিতীয় দিন তিনি আমার ইমামত করেছেন। যুহরের সালাত আদায় করেছেন যখন প্রতিটি বস্তুর ছায়া তার সমপরিমাণ হয়, আসরের সালাত আদায় করেছেন যখন প্রতিটি বস্তুর ছায়া তার দ্বিগুণ হয়, মাগরিবের সালাত আদায় করেছেন যখন সূর্য ডুবে যায়; ইশার সালাত আদায় করেছেন যখন রাত্রির প্রথম এক-তৃতীয়াংশ অতিক্রান্ত হল, ফজরের সালাত আদায় করেছেন যখন সূর্য উদয় হওয়ার উপক্রম হল । তারপর বললেনঃ এ দু’য়ের মাঝের ওয়াক্তই হল সালাতের ওয়াক্ত।"

[ মুসনাদে আহমদ, হাদিস নং ১১২৪৯; শরহুল আছার আত-তহাবি, হাদিস নং ৮৩২; মুজমাউল কাবির লি তাবারী, হাদিস নং ৫৪৪৩; সুনানে বায়হাকি, হাদিস নং ১১০০; গয়াতুল মাকসিদি ফি জাওয়াইদিল মুসনাদ, হাদিস নং ৪৮৬ ]

আবু সাইদ খুদরি রদিঃ —এর এই হাদিসটি হাসন সহীহ। হাদিসের সনদে বর্ণিত আব্দুল্লাহ ইবনে লাহিয়া ইবনে উকব ثقه বর্ননাকারি। তিনার কিতাব পুড়িয়ে যাওয়ার পূর্বেই এই হাদিস তিনি তিনার ছাত্র ইসহাক ইবনে ইসার নিকট বর্ননা করেছেন।

ব্যাখ্যা: এই হাদিস থেকে প্রমাণিত হয় যে, ফজরের সালাত ইসফার করে আদায় করাটাই উত্তম। কারন সুবহে সাদিকের পর থেকে সূর্যোদয়ের মাঝ বরাবর সময়টি আকাশ আলোকিত হওয়ার সময়। যেমন ধরুন ২৬শে ফেব্রুয়ারি ফজর শুরু হয় ৫:০৭ মিনিটে আর সূর্যাস্ত ৬:২১ মিনিটে। তাহলে এর মধ্যবর্তী সময় হলো ৫: ৪৪ মিনিট বা এর আশপাশের সময়। আর এই সময় উষার আলো চারিদিকে ছড়িয়ে পড়ে। তাই এই হাদিস তাদের বিপক্ষে জোরালো দলিল যারা বলেন অন্ধকারে সালাত শুরু করে অন্ধকার থাকতেই শেষ করতে হবে।

বিশেষ দ্রষ্টব্য:- এই মর্মে একাধিক সাহাবি থেকে এই হাদিস সহীহ ভাবে বর্ণিত হয়েছে। যেমন আবু হুরায়রা রাদিঃ থেকে নাসায়ীর ৫০২ নং হাদিসে। জাবের ইবনে আব্দুল্লাহ রাদিঃ থেকে নাসায়ীর ৫২৬ নং হাদিসে। আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাদিঃ থেকে আবু দাউদের ৩৯৩ নং হাদিসে।

▪️ ৩. সময়টি কখন তাও রাসুল ﷺ শিখিয়ে দিয়েছেন।

আনাস ইবনে মালেক রাদিঃ বলেন—

أَنَّ رَجُلًا أَتَى إِلَى النَّبِيَّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، فَسَأَلَهُ عَنْ وَقْتِ صَلَاةِ الْغَدَاةِ فَلَمَّا أَصْبَحْنَا مِنَ الْغَدِ أَمَرَ حِينَ انْشَقَّ الْفَجْرُ أَنْ تُقَامَ الصَّلَاةُ فَصَلَّى بِنَا فَلَمَّا كَانَ مِنَ الْغَدِ أَسْفَرَ، ثُمَّ أَمَرَ فَأُقِيمَتِ الصَّلَاةُ فَصَلَّى بِنَا، ثُمَّ قَالَ: أَيْنَ السَّائِلُ عَنْ وَقْتِ الصَّلَاةِ؟، مَا بَيْنَ هَذَيْنِ وَقْتٌ.

অর্থাৎ— এক ব্যাক্তি নবী ﷺ এর নিকট উপস্থিত হয়ে তাঁকে ফজরের সালাতের ওয়াক্ত সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলেন। পরবর্তী দিন প্রভাত হওয়ার পরই তিনি ফজরের প্রথম ওয়াক্তে ইকামত দেয়ার জন্য আদেশ করলেন এবং আমাদের নিয়ে দালাত আদায় করলেন।পরদিন ঊষা ফর্সা হওয়ার পর সালাতের ইকামত বলার জন্য আদেশ করলেন। সালাতের ইকামত বলা হলো এবং তিনি আমাদেরকে নিয়ে সালাত আদায় করলেন। তারপর বললেনঃ "সালাতের সময় সম্পর্কে প্রশ্নকারী কোথায়? এ দুই ওয়াক্তের মধ্যখানেই সালাতের সময়।"

[ সুনানে আন-নাসায়ী, হাদিস নং ৫৪৪; মুসান্নাফ ইবনে আবু ইয়ালা, হাদিস নং ৩৮০১; হাদিস আস-সিরাজি, হাদিস নং ১৩২৭; হাদীসু আলী ইবনু হুজরিন, হাদিস নং ৭৭; মুসনাদে আল-হারিস, হাদিস নং ১১৫; মুসনাদে আহমদ, হাদিস নং ১২২৯ ]

হাদিসটি সহীহ।

বিশেষ দ্রষ্টব্য:— এই মর্মে একাধিক সাহাবি থেকে এই হাদিস সহীহ ভাবে বর্ণিত হয়েছে। যেমন বুরায়দা রাদিঃ থেকে। সহিহ মুসলিমের ১২৭৮ নং হাদিস সহ আরো একাধিক গ্রন্থে।

▪️৪. বিলাল রাদিঃ কে নির্দেশ।

রফিই ইবনে খরিজ রাদিঃ বলেন—

سَمِعت رَسُول الله صلى الله عَلَيْهِ وَسلم يَقُول يَا بِلَال نور بِالْفَجْرِ مَا يرى الْقَوْم مواقع نبلهم

অর্থাৎ— আমি রাসুল ﷺ কে বলতে শুনেছি যে, তিনি বলেন "হে বিলাল, ফজর এমন সময় আদায় করো যখন মানুষ তার নিক্ষিপ্ত তীরের পতিত স্থানটি দেখতে পায়।"

[ হাদিস লাওইন আল-মুসাইসী, হদিস নং ৪; আনসাবুল আশরাফ, হাদিস নং ৪৯২; মাজমুয়াল কাবির তাবারি, হাদিস নং ৪৪১৪; আল-ইলাল লি ইবনে হাতিম, হাদিস নং ৪০০; মুজামাস-সাহাবাহ লিল বাগাবি, হাদিস নং ৭২০; মুসান্নাফ ইবনে আবি শাইবা, হাদিস নং ৮৩; আল-হুজ্জাহ আলা আহলুল মাদিনা, ১/৫ ]

হাদিসটির সনদ সহীহ।

▪️ ৫. রাসুল ﷺ এর আমল।

আনাস ইবনে মালেক রাদিঃ বলেন—

كَانَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يُصَلِّي الظُّهْرَ إِذَا زَالَتِ الشَّمْسُ، وَيُصَلِّي الْعَصْرَ بَيْنَ صَلَاتَيْكُمْ هَاتَيْنِ، وَيُصَلِّي الْمَغْرِبَ إِذَا غَرَبَتِ الشَّمْسُ، وَيُصَلِّي الْعِشَاءَ إِذَا غَابَ الشَّفَقُ، ثُمَّ قَالَ: عَلَى إِثْرِهِ، وَيُصَلِّي الصُّبْحَ إِلَى أَنْ يَنْفَسِحَ الْبَصَرُ.

অর্থাৎ— রাসূলুল্লাহ ﷺ যখন সূর্য ঢলে পড়তো তখন যোহরের সালাত আদায় করতেন এবং আসরের সালাত আদায় করতেন তোমাদের যোহর ও আসর উভয় সালাতের মধ্যবর্তী সময়ে। সূর্যাস্তের পর মাগরিবের সালাত আদায় করতেন। আর ‘ইশার সালাত সূর্যাস্তের পর আকাশের শফক অদৃশ্য হলে আদায় করতেন। এরপর তিনি আবার বললেনঃ আর যখন দৃষ্টি বিস্তৃত হতো তখন ফজরের সালাত আদায় করতেন।

[ সুনানে আন-নাসায়ী, হাদিস নং ৫৫২; মুসনাদে আবু ইয়ালা, হাদিস নং ৪০০৪; মুসনাদে আহমদ, হাদিস নং ১২৩১১; মুসনাদে তায়ালিসি, হাদিস নং ২২৫০; হাদিসুস সিরাজ, হাদিস নং ১৬৩৩; আল-আছামি ওয়াল-কুনা, হাদিস নং ২৭০২; ]

হাদিসটি সহীহ

▪️৬. আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ রাদিঃ বলেন—

قَالَ مَا رَأَيْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم صَلَّى صَلاَةً إِلاَّ لِمِيقَاتِهَا إِلاَّ صَلاَتَيْنِ صَلاَةَ الْمَغْرِبِ وَالْعِشَاءِ بِجَمْعٍ وَصَلَّى الْفَجْرَ يَوْمَئِذٍ قَبْلَ مِيقَاتِهَا

অর্থাৎ— "আমি রসূলুল্লাহ ﷺ কে নির্ধারিত ওয়াক্তেই সলাত আদায় করতে দেখেছি। তবে মুযদালিফায় মাগরিব ও ‘ইশার সলাত আদায় করেছেন এবং রাতের ভোরে ফজরের সলাত নির্ধারিত সময়ের পূর্বে অর্থাৎ ওয়াক্ত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই আদায় করেছে।"

[ সহীহ মুসলিম, হাদীস নং ৩০০৭; সহীহ বুখারী, হাদিস নং ১৬৮২; সুনানে আবু দাউদ, হাদিস নং ১৯৩৪; সুনানে আন-নাসায়ী, হাদিস নং ৬০৮; মুসান্নাফ ইবনে আবি শাইবা, হাদিস নং ৮২৪০; মুসনাদে আহমদ, হাদিস নং ৪০৪৬; মুসনাদে বাজ্জার, হাদিস নং ১৯০৬; মুসান্নাফ আব্দুর রাজ্জাক, হাদিস নং ৪৫৩; মুসনাদে আবু আওয়ানা, হাদিস নং ৩৯৬৭; মুসনাদে আশ-শাশি, হাদিস নং ৪৭৫; হাদিস আস-সিরাজি, হাদিস নং ২৪৬৫; মুসনাদে আবু ইয়ালা, হাদিস নং ৫১৭৬ ]

ব্যাখ্যা:— এই হাদিস থেকে জানা যায় যে, রাসুল ﷺ মুজদালিফায় ফজরের নির্ধারিত সময়ের পূর্বে এবং সুবহে সাদিক শেষ হওয়ার সাথে সাথেই ফজর আদায় করেছেন। তাই এই হাদিস থেকে অনুমান করা যায় যে, রাসূল ﷺ সব সময় ফজর আদায় করতেন আলো প্রকাশিত হওয়ার পর। কিন্তু মুজদালিফায় আলো প্রকাশিত হওয়ার জন্য অপেক্ষা না করেই ফজর হওয়ার সাথে সাথে ফজর আদায় করে নিতেন। এই হাদিসের বিস্তারিত বিবরণ সামনে আসবে ইনশাল্লাহ।

▪️৭. আবু বারজাহ রাদি বলেন—

كَانَ النَّبِيُّ ﷺ يُصَلِّي الصُّبْحَ، وَأَحَدُنَا يَعْرِفُ جَلِيسَهُ، وَيَقْرَأُ فِيهَا مَا بَيْنَ السِّتِّينَ إِلَى الْمِائَةِ،

অর্থাৎ— "নবী ﷺ এমন সময় ফজরের সালাত সম্পূর্ণ করতেন, যখন আমাদের একজন তার পার্শ্ববর্তী অপরজনকে চিনতে পারতো। আর এ সালাতে তিনি ষাট হতে একশ’ আয়াত তিলাওয়াত করতেন।"

[ সহিহ বুখারী, হাদিস নং ৫৪১, ৫৪৭; মুসনাদে শাফেয়ি, হাদিস নং ১২৫; মুসনাদে আহমদ , হাদিস নং ১৯৮১১; মুসান্নাফ ইবনে আবি শাইবা, হাদিস নং ৩২২৩; সুনানে আন-নাসাই, হাদিস নং ৫২৫, ৫৩০; সুনানে আবু দাউদ, হাদিস নং ৩৯৮; সুনানে আদ-দারেমি, হাদিস নং ১৩৩৮; মুসনাদে তায়ালিসিন, হাদিস নং ৯৬২; মুসনাদে আস-সিরাজ, হাদিস নং ১৩৯; মুস্তাখরাজ আবু আওয়ানা, হাদিস নং ১১২৩; মুসনাদে আল-রুয়ানি, হাদিস নং ৭৬৭; মুসনাদে আবু ইয়ালা, হাদিস নং ৭৪২৫; সহীহ ইবনে হিব্বান, হাদিস নং ৬৯১৬; ছালাছা আশার মিন ফাওয়াইদি ইবনে মুকরি, হাদিস নং ১৪১; সুনানে কুবর লি বায়হাকি, হাদিস নং ২১১৮]

ব্যাখ্যা— ইসফার বিল ফজরের প্রবক্তাগন এই হাদিস কে দলিল স্বরূপ উল্লেখ করে বলেন যে, মসজিদে নববীর মত একটি আবদ্ধ ছোট্ট মসজিদের ভিতরে যদি সালাত শেষে একজন আরেকজনকে দেখতে পায়, তাহলে তখন বাহিরে কেমন আলো প্রকাশিত হয়? নির্ঘাত তখন চারদিক আলোয় ভরে যায়। তাই এই দলিল তাগলিস বিল ফজরের বিরুদ্ধে মজবুত দলিল।

▪️৮. আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ রাদিঃ এর আমল।

আব্দুর রহমান ইবনে ইয়াজিদ রহিঃ বলেন—

حَجَجْنَا مَعَ ابْنِ مَسْعُودٍ حَتَّى إِذَا طَلَعَ أَوَّلُ الْفَجْرِ قَامَ فَصَلَّى الْغَدَاةَ، قَالَ: فَقُلْتُ لَهُ: مَا كُنْتَ تُصَلِّي هَذِهِ الصَّلَاةَ هَذِهِ السَّاعَةَ؟ وَكَانَ يُسْفِرُ بِالصَّلَاةِ، قَالَ: «إِنِّي رَأَيْتُ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يُصَلِّي فِي هَذَا الْيَوْمِ، فِي هَذَا الْمَكَانِ يُصَلِّي هَذِهِ السَّاعَةَ» يَعْنِي: بِجَمْعٍ

অর্থাৎ— আমরা আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ রাদিঃ এর সাথে হজ করেছিলাম। যখন ফজরের প্রথম আলো ( সুবহে সাদিক ) উদিত হলো, তখন তিনি উঠে ফজরের সালাত আদায় করলেন। আমি তাকে বললাম, "আপনি তো সচরাচর এই সময় সালাত আদায় করেন না।'" কারণ তিনি ফজরের সালাত একটু ফর্সা করে আদায় করতেন। তখন তিনি বললেন, "আমি মুহাম্মদ ﷺ কে এই দিন এই স্থানে এবং এই সময়ে সালাত আদায় করতে দেখেছি।"

[ মুসনাদে আবু ইয়ালা, হাদিস নং ৫৩৬৭; মুসনাদে আহমদ, হাদিস নং ৩৮৯৩; শরহুল আছার আত-তহাবি, হাদিস নং ১৪৭০]

এই হাদিস সহীহ।

▪️৯. আব্দুর রহমান ইবনে ইয়াজিদ রহিঃ বলেন—

عَبْدُ الرَّزَّاقِ، عَنِ الثَّوْرِيِّ، عَنْ أَبِي إِسْحَاقَ، عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ يَزِيدَ قَالَ: كَانَ عَبْدُ اللَّهِ «يُسْفِرُ بِصَلَاةِ الْغَدَاةِ»

অর্থাৎ— "আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ রাদিঃ ফজরের সালাতকে ফর্সা করে আদায় করতেন।"

[ মুসান্নাফ আব্দুর রাজ্জাক, হাদিস নং ২১৬০; আস-সালাতু লি-আবি নুয়াইমিল ফাদ্‌লু ইবনু দুকাইন, হাদিস নং ৩২১; আল মুজামুল কবির আত-তবারী, হাদিস নং ৯২৮১ ]

হাদিসটি সহীহ

▪️১০. আলী রাদিঃ আদেশ—

আলি ইবনে রবিয়া রহিঃ বলেন—

سَمِعْتُ عَلِيًّا، رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ يَقُولُ: «يَا ابْنَ التَّيَّاحِ، أَسْفِرْ أَسْفِرْ بِالْفَجْرِ

অর্থাৎ— আলি রাদিঃ কে বলতে শুনেছি " হে ইবনে তিহায়, ফর্সা কর, ফজরকে ফর্সা করো।

[ আস-সালাতু লি-আবি নুয়াইমিল ফাদ্‌লু ইবনু দুকাইন, হাদিস নং ৩১৮; মুসান্নাফ ইবনে আবী শাইবা, হাদিস নং ৩২৪৪; মুসান্নাফ আব্দুর রাজ্জাক, ২১৬৭, শরহুল আছার আত-তহাবি, হাদিস নং ১০৭৪ ]

হাদিসটি সহীহ

▪️১১. আলি রাদিঃ এর আমল—

ইয়াজিদ ইবনে আওদি রহিঃ থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন—

كُنْتُ أُصَلِّي وَرَاءَ عَلِيٍّ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ الْغَدَاةَ، ثُمَّ أَلْتَفَتُّ فَيُخَيَّلُ إِلَيَّ أَنَّهُ تَطْلُعُ الشَّمْسُ.

অর্থাৎ— "আমি আলি রদিঃ এর পিছনে ফজরের সালাত আদায় করতাম। অতঃপর যখন ফিরে তাকাতাম তখন মনে হতো যে সূর্যাস্ত হতে যাচ্ছে।"

[ আস-সালাতু লি-আবি নুয়াইমিল ফাদ্‌লু ইবনু দুকাইন, হাদিস নং ৩১৯-২০ ]

সনদ সহীহ

▪️১২. তাবেই ইব্রাহিম নাখাই রহি. বলেন —

مَا اجْتَمَعَ أَصْحَابُ مُحَمَّدٍ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ عَلَى شَيْءٍ مَا اجْتَمَعُوا عَلَى التَّنْوِيرِ.

অর্থাৎ— "রাসূলুল্লাহ ﷺ–এর সাহাবীগণ কোনো বিষয়ে ওতটা ঐক্যমত হননাই, যতটা তিনারা ফজরের তানওয়ির (আলো ফোটার পর সালাত আদায় করার ) বিষয়ে একমত হয়েছিলেন।"

[ কিতাবুল আছার আত-তহাবি, হাদিস নং ১০৯৭; কিতাবুল আছার লি ইমাম আবু ইয়ুসুফ, হাদিস নং ৯৮; মুসান্নাফ ইবনে আবি শাইবা, হাদিস নং ৩২৫৬ ]

সনদ সহীহ

এই হাদীসগুলি সহ আরো একাধিক হাদিস ও আছারের উপর ভিত্তি করে ইসফার বিল ফজরের প্রবক্তাগণ ফজরের সালাত আলো প্রকাশিত হওয়ার পর আদায় করেন। কিন্তু তিনারা রমাদান মাসে ফজরকে তাগলিস করেন। অর্থাৎ ফজরের সালাত অন্ধকারে শুরু করে অন্ধকার থাকতে শেষ করেন। এর পক্ষেও তারা একাধিক বিশুদ্ধ হাদিস উল্লেখ করেন। তার মধ্যে কয়েকটি হাদিস উল্লেখ করা হলো।

◾ রমজান মাসে ফজরকে তাগলিস করা—

▪️১. সাহল ইবনে সাদ রাদিঃ থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন—

كُنْتُ أَتَسَحَّرُ فِي أَهْلِي ثُمَّ تَكُونُ سُرْعَتِي أَنْ أُدْرِكَ السُّجُودَ مَعَ رَسُولِ اللهِ صلى الله عليه وسلم

অর্থাৎ— "আমি আমার পরিবার-পরিজনের মাঝে সাহরী খেতাম। এরপর আল্লাহ্‌র রাসূল ﷺ এর সাথে সালাতে অংশ গ্রহণ করার জন্য জলদি করতাম।"

[ সহীহ বুখারী, হাদিস নং ১৯২০; মুসনাদে রুয়ানি, হাদিস নং ১০২০; মাজমুয়াল কাবির তাবারি, হাদিস নং ৫৮৭১; মুসনাদে আবু ইয়ালা, হাদিস নং ৭৫৩৩; সহীহ ইবনে খুজাইমা, হাদিস নং ১৯৪২ ]

হাদিসটি সহীহ

▪️২. আনাস ইবনে মালেক রাদিঃ থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন—

أَنَّ نَبِيَّ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم وَزَيْدَ بْنَ ثَابِتٍ تَسَحَّرَا، فَلَمَّا فَرَغَا مِنْ سَحُورِهِمَا قَامَ نَبِيُّ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم إِلَى الصَّلاَةِ فَصَلَّى‏.‏ قُلْنَا لأَنَسٍ كَمْ كَانَ بَيْنَ فَرَاغِهِمَا مِنْ سَحُورِهِمَا وَدُخُولِهِمَا فِي الصَّلاَةِ قَالَ قَدْرُ مَا يَقْرَأُ الرَّجُلُ خَمْسِينَ آيَةً‏.‏

অর্থাৎ— আল্লাহর নবী ﷺ ও যায়দ ইবনু সাবিত রাদিঃ একসাথে সাহারী খাচ্ছিলেন, যখন তাঁদের খাওয়া হয়ে গেলো আল্লাহর নবী ﷺ সালাতে দাঁড়িয়ে গেলেন এবং সালাত আদায় করলেন। কাতাদা্ বলেন, আমরা আনাস রাদিঃ কে জিজ্ঞেস করলাম, তাঁদের সাহারী খাওয়া হতে অবসর হয়ে সালাত শুরু করার মধ্যে কতটুকু সময়ের ব্যবধান ছিল? তিনি বললেন, একজন লোক পঞ্চাশ আয়াত তিলাওয়াত করতে পারে এতটুকু সময়।

[ সহীহ বুখারী, হাদিস নং ৫৭৬; সহীহ মুসলিম, হাদিস নং২৪৪২; সুনানে আন-নাসায়ী, হাদিস নং ২১৫৫; জামে আত-তিরমিজি, হাদিস নং ৭০৩; সুনানে ইবনে মাজাহ, হাদিস নং ১৬৯৪; মুসনাদে আহমদ , হাদিস নং ২১৬২০; সুনানে কুবরা লি বায়হাকি, হাদিস নং ৮১২৪; সুনানে আদ-দারেমি, হাদিস নং ১৭৩৭; মাআ'রিফাতুস সাহাবা লি আবু নুয়াইম, হাদিস নং ২৯১৭; মুজমাউল কাবির লি তাবারী, হাদিস নং ৪৭৯৩; মুস্তাখর্রজ আবু আওয়ানা, হাদিস নং ২৯৮৪; মাজমুয়া শায়েখ ইবনে আরাবি, হাদিস নং ৬; মুসনাদে বাজ্জার, হাদিস নং ৭০৭৮ ]

হাদিসটি সহীহ

▪️৩. আতিয়া ইবনে মাতার আশ-শাইবানী রহিঃ থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন—
أَتَيْتُ عَبْدَ اللَّهِ فِي دَارِهِ، فَأَخْرَجَ لَنَا فَضْلَ سَحُورِهِ، فَتَسَحَّرْنَا مَعَهُ، فَأُقِيمَتِ الصَّلَاةُ فَخَرَجْنَا فَصَلَّيْنَا مَعَهُ

অর্থাৎ— "আমি আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ রাদিঃ এর বাড়িতে গেলাম। তখন তিনি আমাদেরকে তিনার সাহরির অবশিষ্ট অংশ আমাদেরকে দিলেন। আমরা তিনার সাথে সাহারি করলাম। এরপর সালাতের জন্য ইকামত দেওয়া হলে, আমরা বের হয়ে তিনার সাথে সালাত আদায় করলাম।"

[ মুসান্নাফ ইবনে আবি শাইবা, হাদিস নং ৮৯৩১; মুসান্নাফ আব্দুর রাজ্জাক, হাদিস নং ৭৬১৯; মুজামুল কবির আত-তবারী, হাদিস নং ৯৫৭৭ ]

হাদিসটি সহীহ

▪️ ৪. আবু আকিল হিব্বান ইবনে হারিস রহি থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন—
تَسَحَّرْتُ مَعَ عَلِيٍّ ثُمَّ أَمَرَ الْمُؤَذِّنَ، أَنْ يُقِيمَ

অর্থাৎ— "আমি আলি রাদিঃ এর সাথে সাহরি করেছিলাম, অতঃপর তিনি মুয়াজ্জিন কে ইকামত দেওয়া আদেশ করেন।"

[ মুসান্নাফ ইবনে আবি শাইবা, হাদিস নং ৮৯৩০; মুসান্নাফ আব্দুর রাজ্জাক, হাদিস নং ৭৬০৯; মুসনাদে শাফেয়ি, হাদিস নং ৭৩৩; তারিখুল কাবির লি বুখারী, হাদিস নং ৩০১; শরহুল আছার আত-তহাবি, হাদিস নং ১০৭২; তাফসির আত-তবারী, হাদিস নং ৩০০৮; আল-মুতালিফ তাকমিলাতুল মুতালিফ ওয়াল-মুখতালিফ, হাদিস নং ১৪২৩; আল-মুহাল্লা বিল আছার ৪/৩৭১; আল-মুখলিসিয়াত ২/৩৩৫ ]

এই হাদিসের সনদ সহীহ

এই বিষয়ে আরও একাধিক বিশুদ্ধ হাদিস আছে।

বিশেষ দ্রষ্টব্য:- হানাফী মাযহাবের মতে সারা বছর ফজরের সালাতকে ফর্সাতে আদায় করাই উত্তম। কিন্তু উপ-ভারতবর্ষের হানাফী ওলামায়ে কেরামদের মত হলো রমজান মাসে মানুষের সুবিধার জন্য রমজান মাসে ফজরকে তাগলিস করা উত্তম। কারন উপ-ভারতবর্ষের লোকেরা সেহরির শেষে সালাতের পরপর একটু বিশ্রাম করে। সেই অবস্থায় ইসফার করলে তাদের জন্য সেটা কষ্টসাধ্য হয়ে যায় এবং জামাত এমনকি সালাতো ছুটে যায়। আর রাসুল ﷺ বলেছেন—

لَوْلاَ أَنْ أَشُقَّ عَلَى أُمَّتِي لأَمَرْتُهُمْ أَنْ يُؤَخِّرُوا الْعِشَاءَ إِلَى ثُلُثِ اللَّيْلِ أَوْ نِصْفِهِ

অর্থাৎ— আমি আমার উম্মাতকে কষ্টে ফেলব একথা যদি মনে না করতাম, তবে আমি তাদেরকে ইশার সালাত রাতের এক তৃতীয়াংশ কিংবা অর্ধ রাত পর্যন্ত দেরী করে আদায়ের নির্দেশ দিতাম।

[ জামে আত-তিরমিজি, হাদিস নং ১৬৭; মুসান্নাফ আব্দুর রাজ্জাক, হাদিস নং ২১০৬; মুসনাদে তায়ালিসিন, হাদিস নং ২৪৪৮; মুসান্নাফ ইবনে আবি শাইবা, হাদিস নং ৩৩৭৮; সুনানে দারাকুতনী, হাদিস নং ৩৯; সহীহ ইবনে হিব্বান, হাদিস নং ৫৬৩২; সুনানে ইবনে মাজা, হাদিস নং ৬৯১; মুসনাদে আহমদ, হাদিস নং ৭৪০৬; মুসনাদে বাজ্জার, হাদিস নং ৮৪৫০; সুনানে কুবরা লি বায়হাকি, হাদিস নং ১৫১ ]

হাদিসটি সহীহ।

দ্বিতীয় ফজরের সালাতে কে ইসফার করার মূল কারণ হলো বড়ো জামায়াত করা। যেহেতু রমজান মাসে সুবহে সাদিকের পর পরই সকল মুসল্লি ফজরের জামাতে অংশগ্রহণ করে ফেলে, তাই তখনই ফজরের জামাত আদায় করা হয়। এতে করে উভয় হাদিসের উপর আমল হয়ে যায়। উপরের আলোচনায় দেখা গেছে ইসফার বিল ফজরের প্রবক্তা আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ রাদিঃ ও আলি রাদিঃ উভয়ে সারা বছর ভোরের আলো ফোটার পরে ফজরের সালাত আদায় করতেন, ঠিক তিনারাই আবার রমাদান মাসে ফজরের সালাত ফজরের প্রথম ওয়াক্তে আদায় করতেন। এই জন্যই আল্লামা আনওয়ার শাহ কাশ্মীরী রহিঃ সাহল ইবনে সাদ রাদিঃ এর হাদিসের আলোচনায় বলেন—

دَلَّ الْحَدِيثُ عَلَى تَغْلِيسِهِ عَلَيْهِ الصَّلَاةُ وَالسَّلَامُ فِي رَمَضَانَ وَهُوَ عَمَلُ أَهْلِ دِيُوبَنْدَ.

অর্থাৎ— "এই হাদীস প্রমাণ করে যে, নবী ﷺ রমযান মাসে ফজরের সালাত কে তাগলীস ( ফজরের প্রথম ওয়াক্তে আদায় ) করতেন। আর এটাই দেওবন্দের আলেমদের আমল।"

[ আল-আরফুশ শাসি ২/১৫৩ ]

দারুল উলুম দেওবন্দ থেকে বলা হয়েছে যে—

رمضان المبارک میں اذان فجر کے پندرہ منٹ بعد جماعت کا وقت طے کرلینا درست ہے۔ اگر مثل دیگر ایام کے تاخیر کی جائے تو بہت سے لوگوں کی جماعت بلکہ نماز بھی فوت ہوجانے کا اندیشہ رہتا ہے، اس لئے اول وقت میں اداء کرلینا رمضان المبارک میں بہتر ہے۔ کتب حدیث و فتاویٰ سے اس کا ثبوت ہے

অর্থাৎ— রমাদান মোবারক মাসে ফজরের আজানের ১৫ মিনিট পর জামাতের সময় নির্ধারিত করা সঠিক। যদি অন্যান্য দিনের মতো দেরি করা হয়, তাহলে অনেক মানুষের জামাত বরং নামাজই ছুটে যাওয়ার আশঙ্কা থাকে। এজন্য রামাযান মুবারকে শুরু সময়েই নামাজ আদায় করে নেওয়া উত্তম। এর প্রমাণ হাদিসের কিতাবসমূহ ও ফতোয়ার গ্রন্থগুলোতে পাওয়া যায়।

[ দারুল উলুম দেওবন্দ, ফতোয়া নং ৬০৪৭২৩ ]

© Roman khan

25/03/2026

সালাফিদের জন্য নামায পড়া ঠিক হবে না, কেননা নামাযের পদ্ধতিতেই এখতেলাফ আছে।
আর এখতেলাফ হলেই তো সেটাকে মানা যাবে না।

সৌদির সাথে মিল রেখে সালাফিদের ঈদের নামায।এই পদ্ধতিটা নামাযের সুন্দর্য নয়। দেখতেই বেহুদার মত লাগে---
23/03/2026

সৌদির সাথে মিল রেখে সালাফিদের ঈদের নামায।

এই পদ্ধতিটা নামাযের সুন্দর্য নয়। দেখতেই বেহুদার মত লাগে---

23/03/2026

পার্কে একটু বিনোদন- এটাতে ওঠে অনেক ডরাইছি-

22/03/2026

জাকির নায়কের আকিদা নিয়ে এখন সালাফিদের ফতোয়া --

এই ফতোয়া দেওয়ার কারণ হলো জাকির নায়েক সাহেব এক আশআরি আলেমের প্রশংসা করেছে, তাই তার বিরুদ্ধে এখন ফতোয়া চলে আসছে।--

হযরত আবু উমামা (রাযিঃ) সূত্রে নবী (ﷺ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ, عَنْ أَبِي أُمَامَةَ عَنْ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم ق...
20/03/2026

হযরত আবু উমামা (রাযিঃ) সূত্রে নবী (ﷺ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ,
عَنْ أَبِي أُمَامَةَ عَنْ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ مَنْ قَامَ لَيْلَتَيْ الْعِيدَيْنِ مُحْتَسِبًا لِلهِ لَمْ يَمُتْ قَلْبُهُ يَوْمَ تَمُوتُ الْقُلُوبُ
অনুবাদ: যে ব্যক্তি দুই ঈদের রাতে আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভের উদ্দেশ্যে 'ইবাদত করবে তার অন্তর ঐদিন মরবে না, যেদিন অন্তর সমূহ মুর্দা হয়ে যাবে। (সুনান ইবনে মাজাহ, হাদীস নং: ১৭৮২) হাদিসের মান : জয়ফ।

হাদিস জয়ফ হলেও কোন সমস্যা নাই কেননা এটা আমল যোগ্য। সুতারাং যার মন চাই এই রাতে আমল করুন, আর যার মন চাই নাক ডেকে ঘুমান। যার যার ব্যক্তিগত বিষয়।

ঈদুল ফিতরের নামাজ দুই রাকাত এবং এটি ওয়াজিব। এই নামাজে অতিরিক্ত ৬টি তাকবির বলতে হয়। নিচে সহজভাবে নামাজের নিয়মটি দেওয়া হলো...
20/03/2026

ঈদুল ফিতরের নামাজ দুই রাকাত এবং এটি ওয়াজিব। এই নামাজে অতিরিক্ত ৬টি তাকবির বলতে হয়। নিচে সহজভাবে নামাজের নিয়মটি দেওয়া হলো:

▫️​প্রথম রাকাত

​১. প্রথমে নামাজের নিয়ত করতে হবে: "আমি কিবলার দিকে মুখ করে ইমামের পেছনে ঈদুল ফিতরের দুই রাকাত ওয়াজিব নামাজ অতিরিক্ত ৬ তাকবিরের সাথে আদায় করছি।" (মনে মনে নিয়ত করলেই হয়)।

২. তাকবিরে তাহরিমা: ইমাম সাহেব 'আল্লাহু আকবার' বলে হাত বাঁধবেন, আপনিও হাত বাঁধবেন। এরপর ছানা (সুবহানাকা...) পড়বেন।

৩. এরপর ইমাম সাহেব ৩টি অতিরিক্ত তাকবির দেবেন। প্রথম দুই তাকবিরে হাত কান পর্যন্ত উঠিয়ে ছেড়ে দেবেন। তৃতীয় তাকবিরের সময় হাত উঠিয়ে আর না ছেড়ে আগের মতো বেঁধে নেবেন।

৪. এরপর ইমাম সাহেব সুরা ফাতিহা ও অন্য একটি সুরা পড়বেন। এরপর সাধারণ নামাজের মতোই রুকু ও সেজদা করে প্রথম রাকাত শেষ করবেন।

▫️​দ্বিতীয় রাকাত

​১. দ্বিতীয় রাকাতের শুরুতে ইমাম সাহেব আগে সুরা ফাতিহা ও অন্য একটি সুরা পড়বেন।

২. সুরা পড়া শেষ হলে রুকুতে যাওয়ার আগে ইমাম সাহেব আরও ৩টি অতিরিক্ত তাকবির দেবেন। এই তিনবারই হাত কান পর্যন্ত উঠিয়ে ছেড়ে দিতে হবে (হাত বাঁধা যাবে না)।

৩. চতুর্থবার যখন ইমাম সাহেব 'আল্লাহু আকবার' বলবেন, তখন আর হাত না উঠিয়ে সরাসরি রুকুতে চলে যেতে হবে।

৪. এরপর বাকি নামাজ অন্য সাধারণ নামাজের মতোই শেষ করে সালাম ফিরাতে হবে।

▫️​একটা জরুরি বিষয়-

​খুতবা: নামাজের পর ইমাম সাহেব খুতবা দেবেন। এটি শোনা ওয়াজিব, তাই নামাজ শেষ করেই উঠে যাওয়া উচিত নয়।

মহিলাদের উপর ঈদের নামায পড়া ওয়াজিব নয়। তাই তারা মসজিদে বা মাঠে যাওয়া উচিত না।

টাকা দিয়ে  #ফেতরা আদায়  #আলবানী পুজারীদের ডাবল স্টান্ডার্ড।আলবানী রহিমাহুল্লাহ বলেন,যখন কোন ব্যক্তি বলে যে, 'আমরা টাকা দ...
18/03/2026

টাকা দিয়ে #ফেতরা আদায় #আলবানী পুজারীদের ডাবল স্টান্ডার্ড।

আলবানী রহিমাহুল্লাহ বলেন,

যখন কোন ব্যক্তি বলে যে, 'আমরা টাকা দিয়ে ফিতরা আদায় করব, এটা গরিবের জন্য অধিক উপকারী' তখন সে দু-দুবার ভুল করে।

◾ প্রথমতঃ সে স্পষ্ট দলিলবিরোধী কাজ করে, অথচ এটি ইবাদতগত ব্যাপার।আর এটা সর্বনিম্ন বক্তব্য।

◾ দ্বিতীয় ভুলটি চরম বিপজ্জনক।
কারণ সে যেন বলতে চায়, আল্লাহ যখন তাঁর সম্মানিত নবীকে এই মর্মে নির্দেশ প্রদান করেন যে, তিনি যেন তার উম্মতের উপরে (ফিতরা হিসেবে) খাদ্যদ্রব্য ফরয করেন, তখন তিনি গরীব ও মিসকিনদের জন্য কল্যাণকর বিষয়টি খেয়াল করেননি! আর তা হল খাদ্য না দিয়ে মূল্য দিয়ে ফিতরা আদায় করা (তাদের জন্য) উত্তম।
কোন মানুষ যদি ইচ্ছাকৃত এ কথা বলে, তাহলে তো তা কুফরি পর্যন্ত পৌঁছে যাবে।

সিলসিলাতুল হুদা ওয়ান্নূর ক্যাসেট নং ২৭৪
অনুবাদ : আব্দুল হামীদ ফাইযী আল-মাদানী

#এবার_দেখুন আলবানী সোনাচান্দের ডিগবাজী!

খাদ্যের পরিবর্তে মূল্য হিসেবে টাকা দিয়ে সাদাকাতুল ফিতর দিলে তা বৈধ হবে কি না প্রশ্নের জবাবে শাইখ আলবানি রাহিমাহুল্লাহ বলেন;

الصواب ما عليه الأحنف من جواز اخراج القيمة فى مثل هذه البيئة. كتاب الحاوى فى فتاوى الالبانى 1:284

‘হ্যাঁ। হানাফিদের অভিমতই বিশুদ্ধ; বর্তমান পরিবেশে মূল্য (টাকা) দিয়ে সাদাকাতুল ফিতর আদায় বৈধ হবে।’
[কিতাব, আল হাভী ফিল ফাতাওয়াল আলবানী খণ্ড ১, পৃষ্ঠা ২৮৪]

আলবানী পুজারীদের আমরা সবসময়ই ভন্ড সালাফী বলি। প্রকৃত সালাফী হচ্ছে চার মাযহাবের অনুসারীরাই।আসুন সালাফরদের ফতোয়া দেখি।সোনাচান্দু আলবানীর ফতোয়ায় আক্রান্ত হয়েছেন যারা!

হাদিস সম্রাট ইমাম সুফিয়ান সাওরী রহঃ বলেন:—

لا يشترط إخراج التمر أو الشعير أو البر في زكاة الفطر بل لو أخرج قيمتها مما هو أنفع للفقير جاز لأن المقصد منها إغناء الفقراء عن المسألة وسد حاجتهم في هذا اليوم

খেজুর, গম বা যব দিয়ে সদকায়ে ফিতির আদায় করা আবশ্যক নয়। বরং যদি এর মূল্য দ্বারা আদায় করা হয়, যা গরীবদের জন্য অধিক উপকারী, তবে তা জায়েজ আছে। কেননা, সদকার দ্বারা মূল মাকসাদ হল, গরীবদের দারিদ্রতা দূর করা এবং তার সেদিনের প্রয়োজন পূর্ণ করা। [মাউসূআতু ফিক্বহি সুফিয়ান সাওরী-৪৭৩]

টাকা দ্বারা সদকায়ে ফিতর আদায়ের মত ব্যক্ত করেছেন, ইমাম আবূ হানীফা রহঃ, ইমাম সুফিয়ান সাওরী রহঃ, উমর বিন আব্দুল আজীজ রহঃ, হযরত হাসান বসরী রহঃ, ইমাম আবু ইউসুফ রহঃ, ইমাম তাহাবী রহঃ, ইমাম ইসহাক বিন রাহুয়াই রহঃ, ইমাম আবু সাউর রহঃ। [যাকাতুল ফিতরি আহকামূহা ওয়া নাওয়াজিলুহা, মুহাম্মদ বিন আব্দুল গাফফার শরীফকৃত-১২৫]

قَالَ بن رَشِيدٍ وَافَقَ الْبُخَارِيُّ فِي هَذِهِ الْمَسْأَلَةِ الْحَنَفِيَّةَ

ইবনে রশীদ বলেন, ইমাম বুখারী রহঃ এ মাসআলায় [টাকা দিয়ে সদকায়ে ফিতির আদায় করা] হানাফীদের সাথে সহমত পোষণ করেছেন। [ফাতহুল বারী লি ইবনে হাজার-৩/৪৯৭]

আহেল হাদিসদের দৃষ্টিতে টাকা দ্বারা সদকায়ে ফিতর দেয়া জায়েয
--------------------------------------------------------------------------------------------

(1)আহলে হাদিসদের অন্যতম আলেম, আবুল হাসানাত আলী মুহাম্মদ সাঈদ রহ. টাকা দ্বারা ফিতরা দেয়ার পক্ষে দু‘টি হাদিসের আলোকে বিস্তার আলোচনা পর সমাধান দিলেন,
غرباء کی ضروریات کو مد نظر رکھ کر ..صدقہ فطرہ میں قیمت دینے کا کوئی حرج نہیں
অর্থ
দরিদ্রদের প্রয়োজনের দিকে দৃষ্টি দিয়ে টাকা দ্বারা সদকায়ে ফিতরা দেয়াতে কোন সমস্যা নেই ৷

اشیاء مذکورہ فی الحدیث کی قیمت دے سکتاہے
অর্থ
(সদকায়ে ফিতরায়) হাদিসে বর্ণিত দ্রব্যাদির মূল্য দেয়া যাবে ৷

(সুত্রঃ- ফতোয়ায়ে উলামায়ে হাদিস, 7/204-206 নং পৃষ্টা)

(2)আহলে হাদিসদের অন্যতম নক্ষত্র শায়খ জুবাইর আলী যাঈ, তিনি লিখেছেন,
امیر المؤمین عمر بن عبد العزیز رحمہ اللہ اور حسن بصری رحمہ اللہ سے مروی ہے کہ وہ جنس کے علاوہ نقدی سے بھی صدقہ فطر کے جواز کے قائل تھے
অর্থ
আমীরুল মু'মিনীন উমর ইবনে আব্দুল আজীজ রহ. এবং হাসান বসরী রহ. সেই জিনিস ছাড়া টাকা দ্বারাও সদকায়ে ফিতরা জায়েযের প্রবক্তা ছিলেন ৷
ان اثار کی وجہ سے صدقہ فطرہ میں روپے وغیرہ دینا جائز ہے
(উপরে বিভিন্ন আসার উল্লেখ করে বলেছেন) এই আসারে কারণে সদকায়ে ফিতরায় টাকা ইত্যাদি দেয়া জায়েয ৷

(সু্ত্রঃ-ফতোয়ায়ে ইলমিয়্যা 2/165নং পৃষ্টা, নাকদী সুরাত মে সাদকায়ে ফিতির আদায় কারনা অধ্যায়)

(3) আহলে হাদিসদের আরেক জন শায়েখ, কিফায়ত উল্লাহ সানাবলী, টাকা দ্বারা সদকায়ে ফিতর বৈধতার পক্ষে একটি সতন্ত্র কিতাব লিখেছেন ৷ কিতাবের নাম,
(صدقہ الفطر میں نقد ورقم دینے کا حکم )
এই কিতাবে তিনি অসংখ্য কিতাবের রেফারেন্স দিয়ে উল্লেখ করেছেন ৷ টাকা দ্বারা ফিতরা দেয়া নিঃসন্দেহে বৈধ ৷

শায়খ ইবনে তাইমিয়াহ রহঃ লিখেছেন,
عند أبى حنيفة يجوز و أحمد رحمه الله قد
منع القيمة فى مواضع و جوزها فى مواضع

অর্থাৎ "আবু হানীফা (রহ.) এর ফাতাওয়ামতে (মুদ্রা দ্বারা ফিতরা) জায়েজ এবং ইমাম আহমদ (রহ.) কতেক স্থানে (পরিবেশ ও পরিস্থিতির বিবেচনায়) নিষেধ করেছেন আর কতেক স্থানে (জনস্বার্থে ও অবস্থার প্রেক্ষিতে) জায়েজ বলেছেন।"

এরপর শায়খ ইবনে তাইমিয়াহ (রহ.) নিজ মতামত ব্যক্ত করে লিখেছেন

و الأظهر فى هذا ان إخراج القيمة لغير حاجة ،لا مصلحة راجحة ، ممنوع منه.......و أما إخراج القيمة للحاجة او المصلحة او العدل، فلا بأس به.
অর্থ- "এ ক্ষেত্রে সুস্পষ্ট বক্তব্য হচ্ছে, নিশ্চয়ই বিনা প্রয়োজনে এবং উপযোগী কল্যাণকর ছাড়া মুদ্রা দ্বারা ফিতরা আদায় নিষেধ,....... তবে প্রয়োজনে এবং জনস্বার্থে কিবা ন্যায়সংগত কারণে হলে তখন (মুদ্রা দ্বারা ফিতরা আদায়ে) কোনো অসুবিধা নেই।"

মাজমু ফাতাওয়া ইবনে তাইমিয়াহ' ২৫/৮২ পৃষ্ঠা।

ইমাম ইবনে তাইমিয়্যার রহঃ বলেনঃ

"وأما إخراج القيمة في الزكاة والكفارة ونحو ذلك، فالمعروف من مذهب مالك والشافعي أنه لا يجوز، وعند أبي حنيفة يجوز، وأحمد ـ رحمه الله ـ قد منع القيمة في مواضع، وجوزها في مواضع، فمن أصحابه من أقر النص، ومنهم من جعلها على روايتين. والأظهر في هذا: أن إخراج القيمة لغير حاجة ولا مصلحة راجحة ممنوع منه... إلى أن قال رحمه الله: "وأما إخراج القيمة للحاجة، أو المصلحة، أو العدل فلا بأس به" أ هـ.
অর্থাৎ,যাকাত কাফফারা ইত্যাদির ব্যাপারে প্রসিদ্ধ মত হলো ইমাম মালেক ও শাফেঈ এর মতে অর্থ দিয়ে আদায় করা জায়েজ নেই। ইমাম আবু হানীফার মতে জায়েয আছে। ইমাম আহমাদ কিছু স্থানে মত দেন নি, কিছু স্থানে মত দিয়েছেন। তার অনুসারীরা সেই কথাই টিকিয়ে রেখেছেন, কেও কেও আবার দুই মত ই গ্রহন করেছেন। বেশি ভালো হলো, কোন প্রয়োজন ছাড়া কিংবা অবস্থার আলোকে ছাড়া টাকায় দিয়ে আদায় করলে তা হবেনা। তবে প্রয়োজন হলে এবং অবস্থার আলোকে কিংবা ইনসাফের জন্য টাকা দিয়ে আদায় করলে জায়েয হবে।

(আলমাজমূ' ২৫/৮২,ইমাম ইবনে তাইমিয়া রহঃ)

এছাড়া,ইবনে তাইমিয়া রহঃনিজেও প্রয়োজনবোধে হাদীসে র্নির্ধারিত খাদ্য ছাড়া অন্য কিছু দ্বারা সদকায়ে ফিতির আদায়ের মত ব্যক্ত করেছেনঃ
سُئِلَ – رَحِمَهُ اللَّهُ -:

عَنْ زَكَاةِ الْفِطْرِ: هَلْ تُخْرَجُ تَمْرًا أَوْ زَبِيبًا أَوْ بُرًّا أَوْ شَعِيرًا أَوْ دَقِيقًا؟ ….. أَوْ يَجُوزُ إعْطَاءُ الْقِيمَةِ؟
فَأَجَابَ:
الْحَمْدُ لِلَّهِ، أَمَّا إذَا كَانَ أَهْلُ الْبَلَدِ يَقْتَاتُونَ أَحَدَ هَذِهِ الْأَصْنَافِ جَازَ الْإِخْرَاجُ مِنْ قُوتِهِمْ بِلَا رَيْبٍ. وَهَلْ لَهُمْ أَنْ يُخْرِجُوا مَا يَقْتَاتُونَ مِنْ غَيْرِهَا؟ مِثْلُ أَنْ يَكُونُوا يَقْتَاتُونَ الْأُرْزَ وَالدُّخْنَ فَهَلْ عَلَيْهِمْ أَنْ يُخْرِجُوا حِنْطَةً أَوْ شَعِيرًا أَوْ يُجْزِئُهُمْ الْأُرْزُ وَالدُّخْنُ وَالذُّرَةُ؟ فِيهِ نِزَاعٌ مَشْهُورٌ. وَهُمَا رِوَايَتَانِ عَنْ أَحْمَد: إحْدَاهُمَا لَا يُخْرِجُ إلَّا الْمَنْصُوصَ. وَالْأُخْرَى: يُخْرِجُ مَا يَقْتَاتُهُ. وَإِنْ لَمْ يَكُنْ مِنْ هَذِهِ الْأَصْنَافِ. وَهُوَ قَوْلُ أَكْثَرِ الْعُلَمَاءِ: كَالشَّافِعِيِّ وَغَيْرِهِ. وَهُوَ أَصَحُّ الْأَقْوَالِ؛
ইবনে তাইমিয়া রহঃ কে সদকায়ে ফিতির সম্পর্কে প্রশ্ন করা হল, খেজুর,কিশমিশ,গম,যব ও আটা দ্বারা আদায় করা যাবে কি? অথবা এর সমমূল্য প্রদান করা যাবে কি?

উত্তর

আলহামদুলিল্লাহ। যদি শহরবাসী উপরোক্ত যেকোন এক প্রকার খাদ্য গ্রহণ করে থাকে, তাহলে সেই খাদ্য দ্বারা সদকায়ে ফিতির আদায় করা যাবে নিঃসন্দেহে।

তবে এছাড়া অন্য খাদ্য দ্বারা আদায় করা যাবে কি না? যেমন লোকেরা খাদ্য গ্রহণ করে চাউল, ভুট্টা দ্বারা। এ শহরে গম, যব বা চাউল, ভুট্টা দ্বারা সদকায়ে ফিতির আদায় করা যাবে?

এ ব্যাপারে ফুক্বাহায়ে কেরামের মধ্যে মতভেদ আছে। ইমাম আহমাদ রহঃ থেকে এ ব্যাপারে দু’টি মত রয়েছে। একটি হল, কুরআন ও হাদীসে বর্ণিত খাদ্য ছাড়া অন্য কিছু দিয়ে আদায় করা যাবে না।

আরেকটি অভিমত হল,শহরে প্রচলিত খাদ্য দ্বারা আদায় করা যাবে। যদিও তা কুরআন ও হাদীসে বর্ণিত খাদ্য না হয়। এটাই অধিকাংশ উলামাগণের মত। যেমন ইমাম শাফেয়ী প্রমূখ। এটাই সবচে’ বিশুদ্ধ বক্তব্য। [মাজমূআ ফাতাওয়া ইবনে তাইমিয়া-১৩/৩৭, দারুল হাদীস কাহেরা প্রকাশনী]

এছাড়া যুক্তিও তাই বলে!



হাদীসে বর্ণিত খাদ্য ছাড়া অন্য কিছু দ্বারা সদকায়ে ফিতির আদায় করা যাবে না মর্মে কোন বর্ণনা নেই।



عَنْ أَسْمَاءَ بِنْتِ أَبِي بَكْرٍ، قَالَتْ: «كُنَّا نُؤَدِّي زَكَاةَ الْفِطْرِ عَلَى [ص:12] عَهْدِ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مُدَّيْنِ مِنَ الْقَمْحِ،

হযরত আসমা বিন আবু বকর রাঃ থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমরা রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের জমানায় দুই মুদ গমের ছাতু দ্বারা সদকায়ে ফিতির আদায় করতাম। [আল মু’জামুল আওসাত লিততাবারানী,হাদীস নং-৮৯৭২]

অথচ ছাতু দ্বারা সদকায়ে ফিতির আদায়ের কথা হাদীসে বর্ণিত হয়নি। সাহাবায়ে কেরামগণের ছাতু দ্বারা ফিতরা আদায় করা প্রমাণ করে, হাদীসে বর্ণিত খাদ্যই নির্দিষ্ট নয়, বরং সমমূল্যের অন্য কিছু দ্বারাও ফিতরা আদায়ের সুযোগ রয়েছে।



হযরত আবূ সাঈদ খুদরী রাঃ থেকে বর্ণিত।

হজরত মুয়াবিয়া রাঃ হজ্ব বা উমরার সময় খুতবায় সদকায়ে ফিতির সম্পর্কে ইরশাদ করেনঃ

قَدِمَ عَلَيْنَا مُعَاوِيَةُ الْمَدِينَةَ حَاجًّا أَوْ مُعْتَمِرًا، فَقَالَ: «إِنِّي أَرَى مُدَّيْنِ مِنْ سَمْرَاءِ الشَّامِ يَعْدِلُ صَاعًا مِنَ التَّمْرِ

এক সা’ খেজুর ও শামের ভূসি মিশ্রিত দুই মুদ আটা সমান। [সুনানে দারেমী-১/৪৩৬-৪৩৭, হাদীস নং-১৬৬৩]

হযরত মুয়াবিয়া রাঃ এক সা’ খেজুরের বদলে শামের ভূসি মিশ্রিত দুই মুদ আটার সমমান সাব্যস্ত করেছেন। যা দ্বারা পরিস্কার বুঝা যায়,হাদীসে বর্ণিত বস্তুর সমমূল্যমানের বস্তু দ্বারাও ফিতরা আদায় করা যাবে।



সদকা দ্বারা মূল মাকসাদ হল, গরীবদের উপকার করা। আর টাকা পয়সা প্রদান করলে গরীব তার ইচ্ছেমত প্রয়োজন অনুপাতে তা ব্যবহার করতে পারে। শুধু খাদ্য দিয়ে আদায় করলে যা সম্ভব নয়।

উপরোক্ত আলোচনার আলোকে আশা করি বিষয়টি দীবালোকের ন্যয় পরিস্কার যে, টাকার মাধ্যমে সদকায়ে ফিতির আদায় করা সম্পূর্ণ শরীয়ত সম্মত। এতে সন্দেহ করার কোন সুযোগ নেই।

Address

গ্রাম/হলহলিয়া, থানা/তাহিরপুর, জেলা/সুনাম গঞ্জ
Sylhet

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when Usman posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Share

Category