26/04/2026
রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেন, জান্নাত ও জাহান্নাম একদিন তাদের রবের কাছে বিতর্কে লিপ্ত হলো। তাদের কথোপকথন ছিল নিম্নরূপ:
জাহান্নাম বলল, "আমাকে (অধিবাসী হিসেবে) বড় বড় অহংকারী ও স্বৈরাচারী প্রতাপশালীদের দেওয়া হয়েছে।"
জান্নাত বলল, "আমার কী হলো যে, কেবল দুর্বল, সাধারণ এবং অবহেলিত মানুষরাই আমার ভেতরে প্রবেশ করছে?" (অন্য বর্ণনায় এসেছে: এবং সেই সব মানুষ যাদের দুনিয়াবাসী গুরুত্বই দিত না)।
তাদের এই বিতর্ক শুনে আল্লাহ তা’আলা জান্নাতকে বললেন:
"তুমি হলে আমার রহমত। তোমার মাধ্যমে আমি আমার বান্দাদের মধ্যে যাকে ইচ্ছা অনুগ্রহ করব।"
জাহান্নামকে বললেন: "তুমি হলে আমার আজাব। তোমার মাধ্যমে আমি আমার বান্দাদের মধ্যে যাকে ইচ্ছা শাস্তি দেব।"
অতঃপর আল্লাহ ঘোষণা করলেন— "তোমাদের উভয়কেই পূর্ণ করা হবে (অর্থাৎ কেউ খালি থাকবে না)।"
উভয় জগত কীভাবে পূর্ণ হবে?
হাদিসের শেষ অংশে এক বিস্ময়কর বর্ণনা রয়েছে:
(জাহান্নামে পাপীদের নিক্ষেপ করার পরও সে চিৎকার করে বলতে থাকবে— "আরও কি আছে?")। যতক্ষণ না মহান আল্লাহ তাঁর পা (কদম) জাহান্নামের ওপর রাখবেন, ততক্ষণ সে শান্ত হবে না।
আল্লাহর কুদরতি পা রাখার সাথে সাথে জাহান্নাম বলবে ”যথেষ্ট হয়েছে, যথেষ্ট হয়েছে, যথেষ্ট হয়েছে। আল্লাহ তাঁর সৃষ্টির কারো ওপর বিন্দুমাত্র জুলুম করবেন না।
(অন্যদিকে জান্নাত এত বিশাল যে, ঈমানদারদের প্রবেশের পরও সেখানে অনেক জায়গা খালি থেকে যাবে। )তখন আল্লাহ তাআলা নতুন এক মাখলুক সৃষ্টি করবেন, যারা জান্নাতের সেই খালি জায়গাগুলো পূর্ণ করবে। (সহীহ বুখারী ও মুসলিম)
জাহান্নাম হলো অহংকারীদের আবাস, আর জান্নাত হলো বিনয়ী ও সরলমনাদের ঠিকানা। দুনিয়াতে যারা নিজেদের খুব ক্ষমতাধর মনে করে, আখেরাতে তাদের পরিণাম অত্যন্ত ভয়াবহ।
আল্লাহ তা’আলা আমাদেরকে জান্নাতিদের অন্তর্ভূক্ত হওয়ার তাওফিক দান করুন, আমিন।