05/12/2025
জামিয়া গহরপুর সিলেটে “পথিকৃৎ শিক্ষক সম্মাননা” অনুষ্ঠিত
জামিয়া গহরপুর সিলেটের দু'জন শিক্ষকের নিরবচ্ছিন্ন শিক্ষকতায় পঞ্চাশ বছর পূর্ণ হয়েছে। এ উপলক্ষ্যে গতকাল ৪ ডিসেম্বর বৃহস্পতিবার অনুষ্ঠিত হয়েছে পথিকৃৎ শিক্ষক সম্মাননা।
জামিয়া গহরপুর সিলেটের দু’জন প্রবীন শিক্ষক- মাওলানা মনির উদ্দিন দত্তপুরী ও হাফেজ শামসুল ইসলাম রতনপুরী 'র ধারাবাহিক শিক্ষকতার পাঁচ দশকের সমাপনীতে এ ঐতিহাসিক সম্মাননার আয়োজন করা হয়েছে।
অনুষ্ঠানে জামিয়ার প্রবীন ফাযেল, শিক্ষকবৃন্দ ও এলাকার গুণীজন বক্তব্য রাখেন। বিশেষ মেহমান হিসেবে উপস্থিত ছিলেন আওলাদে রাসুল আল্লামা আযহার মাদানি ও খলিফায়ে গহরপুরী আল্লামা শফিকুল হক সুরইঘাটি।
তাঁরা সকলেই বলেন; আজকের অনুষ্ঠানের মধ্যমণি এই দু'জনেই বিরল ইতিহাসের কিংবদন্তী। এভাবে একই প্রতিষ্ঠানের ছত্রত্ব শেষ করে ধারাবাহিকভাবে শিক্ষকতা জীবনের পাঁচ দশক কাটিয়ে দেওয়ার মতো ঘটনা অন্য কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের আছে বলে আমাদের জানা নেই। সে অর্থে এটা এক বিরল সম্মাননা অনুষ্ঠান।
অনুষ্ঠানে এ দুই কীর্তিমানের জীবনের ওপর নির্মিত ভিজ্যুয়াল স্মারক প্রদর্শন করা হয়। যেখানে তারা নিজেরাই বলছিলেন তাঁদের শৈশব, বাল্যকাল থেকে নিয়ে বার্ধক্যের গল্প ও অভিজ্ঞতা। “পথিকৃৎ শিক্ষক সম্মাননা; পাঁচ দশকের স্মারক” এই ভিজ্যুয়াল চিত্র প্রদর্শনীর পর দর্শক শ্রোতাদের মাঝে ভাবগম্ভীর পরিবেশ বিরাজ করে। চোখ মুছতে মুছতে ভিডিওর শেষ ধারা বর্ণনা দেখছিলেন কেউ কেউ।
জামিয়ার মুহতামিম মাওলানা মুসলেহ উদ্দীন আহমদ গহরপুরী তাঁর বক্তব্যে স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে বলেন, “আমি হুজুরদ্বয়ের ছাত্র। কিন্তু জামিয়ার দায়িত্ব নেওয়ার পর আমার উস্তাদগণ কখনো আমাকে ছোট বা অনুপযুক্ত শব্দে সম্বোধন করেননি। যদিও আমার প্রতি তাঁদের সম্পূর্ণ অধিকার সুনিশ্চিত। তাঁরা ছুটি নেওয়ার জন্য আমার কাছে আসতেন। বিষয়টা আমার জন্য বিব্রতকর মনে হতো। আমি কীভাবে আমার শিক্ষকের ছুটি দেবো! তাই বলে রেখেছিলাম, আপনাদের যে কোনো ছুটির বিষয়ে আপনাদের পূর্ণ এখতিয়ার আছে। যখন প্রয়োজন হবে, চলে যাবেন।
তিনি আরও বলেন, জামিয়ার বয়স প্রায় ৬৯ বছর। এই দীর্ঘ সময়ে এখানে অনেকেই ছিলেন। সম্মান ও সুনামের সাথেই ছিলেন। কিন্তু সবার ভাগ্যে আল্লাহ এই বিশেষ নেয়ামত রাখেননি। আমাদের এ দু'জন শিক্ষক তাঁদের উস্তাদের স্মৃতির বাগান ছেড়ে যেতে পারেননি। তারা আজ পঞ্চাশ বছর অতিক্রম করছেন। এবং তাঁরা চান, এভাবে ইলমের খেদমতে থেকে থেকেই যেনো জীবনের শেষ দিন আসে।”
জামিয়ার পক্ষ থেকে তাঁদের জন্য অমূল্য হাদিয়ার ব্যবস্থা করা হয়। কুরআনুল কারীম, পরিধেয় পোশাক, ব্যবহার্য আসবাবপত্র, সুন্নাহ গিফট, জামিয়া ও ফুযালাদের অর্থায়নে বিশেষ হাদিয়া ও ওমরাহ সমপরিমান খরচ প্রদান করা হয়।
উস্তাদদ্বয়ের মহান হাতে এসব হাদিয়া তোলে দেন আরেক মহাত্মা দরবেশ খলীফায়ে গহরপুরী রহ. আল্লামা শফিকুল হক সুরইঘাটি। জামিয়ার প্রিন্সিপাল বলেন, বড়দের হাতে হাদিয়া তোলে দেওয়ার জন্য খলীফায়ে গহরপুরীর হাতই উপযুক্ত।
অনুষ্ঠানে আসা অনেকের মতেই দেশের ইতিহাসে এক বিরল যুগপথের স্বাক্ষী হলো জামিয়া গহরপুরের মাটি ও মানুষ। তারা বলেন, বাস্তবতা হলো, জামিয়া গহরপুর ইতিহাসে অংশ নেওয়ার চেয়ে ইতিহাস তৈরি করে বেশি। সে হিসেবে ভবিষ্যত প্রজন্ম তাঁদের পদাঙ্কে জীবনের দিশা পাবে।
পরে আল্লামা আযহার মাদানির দোয়ার মাধ্যমে সমাপ্ত হয় পথিকৃৎ শিক্ষক সম্মাননার এই অনন্য আয়োজন।