04/05/2026
মহিলা মাদ্রাসা বন্ধ করা মানে ধর্মীয় শিক্ষার ওপর
সরাসরি আঘাত।
সালিক বিন রফিক
সভাপতি শান্তিগঞ্জ উপজেলা ছাত্র জমিয়ত
তবে একই সাথে এটাও সত্য—মহিলা মাদ্রাসাগুলোতে প্রয়োজনীয় সংস্কার সময়ের দাবি।
যারা মহিলা মাদ্রাসা বন্ধের জন্য উঠেপড়ে লেগেছেন, তাদের প্রতি বিনীতভাবে বলতে চাই—
একটু থেমে নিজের অবস্থান ও চিন্তাধারা পর্যালোচনা করুন।
কারণ, আমাদের সমাজে মা-বোনদের জন্য দ্বীনি শিক্ষার সবচেয়ে নিরাপদ ও গ্রহণযোগ্য প্ল্যাটফর্মগুলোর একটি হলো মহিলা মাদ্রাসা।
এটা শুধু একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান নয়—
এখান থেকেই গড়ে ওঠে একজন আদর্শ মা, একজন সচেতন মুসলিম নারী, যিনি একটি পুরো পরিবারকে দ্বীনের পথে পরিচালিত করতে পারেন।
তবে আমি অন্ধ সমর্থনের পক্ষেও নই।
বিশেষ করে কিছু আবাসিক ব্যবস্থার দুর্বলতা ও অনিয়ম নিয়ে প্রশ্ন তোলাটা অযৌক্তিক নয়।
সংস্কার প্রয়োজন—
শিক্ষা ব্যবস্থায়, তদারকিতে, পরিবেশে—সব জায়গাতেই ইতিবাচক পরিবর্তন দরকার।
কিন্তু একটি বিষয় আমাদের বুঝতে হবে—
সাদা কাপড়ে ছোট্ট একটি দাগ যেমন বেশি চোখে পড়ে,
আর সেই দাগকেই যদি বড় করে দেখিয়ে পুরো কাপড়টাকে বাতিল করে দেওয়া হয়, তাহলে তা হবে চরম অবিচার।
হাজার হাজার প্রতিষ্ঠানের মধ্যে যদি ২-৪টি জায়গায় কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটে, সেটাকে কেন্দ্র করে পুরো ব্যবস্থাকে বন্ধ করার দাবি তোলা কি ন্যায্য?
এই অল্প কিছু ঘটনার অজুহাতে পুরো ব্যবস্থা ধ্বংস করার চেষ্টা করা— তা কোনোভাবেই ন্যায়সংগত নয়।
আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন—
স্কুল, কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয়ে কি এমন ঘটনা ঘটে না?
বাস্তবতা হলো, সেখানেও অসংখ্য অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটে,
কিন্তু সেগুলোর জন্য তো কেউ পুরো শিক্ষাব্যবস্থা বন্ধ করার দাবি তোলে না!
তাহলে কেন শুধু মহিলা মাদ্রাসাকে
ঘিরেই এত কঠোর অবস্থান?
যদি যুক্তির ভিত্তিতে মহিলা মাদ্রাসা বন্ধের কথা বলা হয়,
তাহলে একই যুক্তিতে স্কুল, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়কেও বন্ধ করার দাবি তুলতে হবে—
যা সম্পূর্ণ অযৌক্তিক ও অবাস্তব।
সুতরাং, সমস্যার সমাধান কখনোই “বন্ধ” নয়—
বরং সমাধান হলো সংস্কার, সচেতনতা এবং শক্ত তদারকি।
✔️ শিক্ষার মান উন্নয়ন করতে হবে
✔️ আবাসিক ব্যবস্থাকে নিরাপদ ও স্বচ্ছ করতে হবে
✔️ যোগ্য ও সৎ শিক্ষক নিয়োগ নিশ্চিত করতে হবে
শেষ কথা—
মহিলা মাদ্রাসা ধ্বংস নয়,
বরং সঠিকভাবে গড়ে তোলাই আমাদের দায়িত্ব।
কারণ, একজন শিক্ষিত নারী মানেই একটি শিক্ষিত প্রজন্ম।