26/02/2026
কওমী ইস্যুতে জামায়াতের মুখোশ উন্মোচন: আদর্শ নয়, নিছক রাজনৈতিক স্বার্থ
-ইরফানা বিনতে হুসাইন
ইসলামিক স্ট্যাডিজ, ৪র্থ বর্ষ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়
সম্প্রতি বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী-এর শীর্ষ পর্যায়ের আলেম মুফতি নুরুজ্জামান নোমানী ও শফিউল্লাহ গংদের থেকে কওমী মাদ্রাসায় যাকাত প্রদান না করার আহ্বান এসেছে। এই ঘোষণা নিছক একটি আর্থিক অবস্থান নয়—এটি একটি রাজনৈতিক অবস্থান। বরং বলা যায়, এটি বহুদিনের অন্তর্লুকানো মনোভাবের প্রকাশ।
জামায়াত কিছুদিন ধরে কওমী ধারাকে কৌশলগতভাবে ব্যবহার করেছে। যখন প্রয়োজন হয়েছে—তখন “ঐক্য”, “উম্মাহ”, “ইসলামী শক্তির সমন্বয়” ইত্যাদি ভাষায় কাছে এসেছে। আর প্রয়োজন ফুরালেই শুরু হয়েছে দূরত্ব তৈরি, প্রশ্ন তোলা, আর্থিকভাবে চাপ সৃষ্টির চেষ্টা।
এটা কি আদর্শিক সততা? নাকি নির্বাচনী অঙ্ক?
কওমী মাদ্রাসা এই দেশের গ্রামগঞ্জের বাস্তবতা। এখানে পড়াশোনা করে অধিকাংশ দরিদ্র, এতিম, নিম্নবিত্ত পরিবারের সন্তানরা। রাষ্ট্রের বড় কোনো অনুদান নেই; জনগণের যাকাত-সদকার টাকাতেই এই প্রতিষ্ঠানগুলো টিকে আছে। সেখানে যাকাত বন্ধের ডাক মানে সরাসরি সেই অসহায় শিক্ষার্থীদের খাদ্য, বাসস্থান ও শিক্ষার ওপর আঘাত।
একটি দল যদি নিজেকে ইসলামী রাজনীতির ধারক-বাহক দাবি করে, তবে তাদের প্রথম দায়বদ্ধতা হওয়া উচিত উম্মাহর দুর্বল অংশের পাশে দাঁড়ানো। কিন্তু এখানে দেখা যাচ্ছে—দলীয় কৌশলই মুখ্য, মানবিক বিবেচনা গৌণ।
আরও বড় প্রশ্ন হলো—যদি জামায়াত কখনো পূর্ণ রাষ্ট্রক্ষমতা পেত, তাহলে কি কওমী ধারার স্বাধীনতা অক্ষুণ্ণ থাকত? অতীতের বক্তব্য, নীতিগত অবস্থান ও সংগঠনগত মনোভাব বিশ্লেষণ করলে আশঙ্কা অমূলক মনে হয় না।
এই দেশে অতীতে প্রশাসনিক চাপ, কড়াকড়ি, নানান ধরনের প্রতিবন্ধকতা সত্ত্বেও কওমী মাদ্রাসাগুলো টিকে আছে। কারণ এগুলো কোনো দলের দান নয়—এগুলো জনগণের ঈমানি চেতনার ফল। রাজনৈতিক ঘোষণায় এই ধারাকে স্তব্ধ করা যাবে—এ ধারণা বাস্তবতা-বিবর্জিত।
রাজনীতিতে মতপার্থক্য থাকবে। সমালোচনাও থাকবে। কিন্তু যাকাতের মতো ফরজ ইবাদতকে দলীয় কৌশলের অস্ত্র বানানো—এটি নৈতিকভাবে দুর্বল অবস্থান।
যে রাজনীতি নিজের সম্ভাব্য মিত্রদের প্রতিপক্ষ বানায়, যে রাজনীতি আদর্শের কথা বলে কিন্তু প্রয়োগে কৌশলগত চাপ সৃষ্টি করে—সে রাজনীতি শেষ পর্যন্ত নিজের ভেতরেই সংকট তৈরি করে।
কওমী মাদ্রাসা কারও দয়ার ওপর নির্ভরশীল নয়। জনগণ সিদ্ধান্ত নেবে তাদের যাকাত কোথায় দেবে। জামায়াতী মোল্লার রাজনৈতিক নির্দেশ দিয়ে জনগণের ঈমানি দায়বদ্ধতা নিয়ন্ত্রণ করা যাবে না।
ইতিহাসের শিক্ষা পরিষ্কার—স্বার্থকেন্দ্রিক রাজনীতি সাময়িক সুবিধা পেতে পারে, কিন্তু নৈতিক উচ্চতা হারালে তার প্রভাব দীর্ঘস্থায়ী হয় না।
#নোয়াখালী_প্রতিদিন