11/01/2026
দাবি বাস্তবায়নের অগ্রগতির ফলে কর্মবিরতি স্থগিত; হোটেল-রেস্তোরাঁ শ্রমিকদের সংগ্রাম অব্যাহত
হোটেল-রেস্তোরাঁ শ্রমিকদের দীর্ঘদিনের দাবি- নিম্নতম মজুরি ও শ্রম আইন বাস্তবায়নের প্রশ্নে সরকার ও মালিক পক্ষের ওপর শ্রমিক আন্দোলনের চাপ তীব্রতর হওয়ায় ঢাকা ও কয়েকটি জেলায় তৎপরতা শুরু হয়েছে। এ প্রেক্ষাপটে আগামী ১৪ জানুয়ারি ঘোষিত দেশব্যাপী কর্মবিরতি স্থগিত করে আগামী ৫ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত সময় দেওয়া হয়েছে। গত ৯ জানুয়ারি সন্ধ্যা ৭টায় রাজধানীতে সংগ্রাম পরিষদের কেন্দ্রীয় স্টিয়ারিং কমিটি ও ঢাকা মহানগর সংগ্রাম পরিষদের জরুরি যৌথসভায় এ সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।
কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্তের আলোকে ১০ জানুয়ারি রাত ৯টায় জরুরী সভা করে সিলেট জেলা কমিটি। জেলা কমিটির আহবায়ক আনছার আলীর সভাপতিত্বে এবং যুগ্ন আহবায়ক ইমান আলীর সঞ্চালনায় অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সিলেট বিভাগীয় কমিটির আহবায়ক মো. ছাদেক মিয়া। সভায় বাংলাদেশ ট্রেড ইউনিয়ন সংঘের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
সভায় নেতৃবৃন্দ বলেন- সরকার, মালিক ও শ্রমিকপক্ষ নিয়ে গঠিত উপকমিটির সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে দৃশ্যমান অগ্রগতি না হলে সংগ্রাম আরও বিস্ফোরণধর্মী রূপে সামনে এগিয়ে যাবে। ১২ জানুয়ারি হতে ঢাকা ও কয়েকটি জেলায় কার্যক্রম শুরু হলেও তা দেশব্যাপী বিস্তৃত না হলে সময়ক্ষেপণের দায় মালিক-সরকারকেই বহন করতে হবে। শ্রম আইন ও ঘোষিত মজুরি বাস্তবায়নের তদারকি শুরু করার জন্য সংগ্রাম পরিষদ সিলেট জেলা কমিটির পক্ষ থেকে তালিকা প্রদান করা হবে। তালিকা প্রদানের পরও কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদপ্তর উদ্যোগহীন থাকলে সভা-সমাবেশ, প্রচার, গণসংযোগ ও কর্মসূচি তীব্রতর করার প্রেক্ষিতে সোচ্চার থাকবে সংগঠন।
অতিথি তার বক্তেব্যে বলেন-
“শ্রমিক শ্রেণি একবার জেগে উঠলে সময়, বিলম্ব বা প্রতারণার স্থান থাকে না। নিম্নতম মজুরি বাস্তবায়ন কোনো দয়া-মেহেরবানি নয়, এটি শ্রমিকের অধিকার এবং রাষ্ট্রের ঘোষিত সিদ্ধান্ত। শ্রমিক শক্তি প্রয়োজনে আবার রাস্তায় নামবে, আবার কর্মক্ষেত্র স্তব্ধ করবে।”
তিনি সংগ্রামে জড়িত শ্রমিক ও সংগঠকদের অভিনন্দন জানিয়ে বলেন- “এই আন্দোলন শ্রমিকের, ন্যায়ের, মর্যাদার।
এ সংগ্রাম জারি থাকবে।”