Gaura Chandra's

Gaura Chandra's Hare krishna. chant hare krishna maha mantra and be happy.

☘️ মোহিনী একাদশীর মাহাত্ম্য 🙏 বৈশাখ মাসের শুক্লপক্ষের মোহিনী একাদশী সম্পর্কে যুধিষ্ঠির মহারাজ শ্রীকৃষ্ণকে জিজ্ঞেস করলে ত...
27/04/2026

☘️ মোহিনী একাদশীর মাহাত্ম্য 🙏

বৈশাখ মাসের শুক্লপক্ষের মোহিনী একাদশী সম্পর্কে যুধিষ্ঠির মহারাজ শ্রীকৃষ্ণকে জিজ্ঞেস করলে তিনি বলেন, পূর্বে রামচন্দ্র যখন সীতাদেবীর বিরহজনিত কারণে বশিষ্ঠ মুনির কাছে সর্বদুঃখনাশকারী ও সর্বপাপক্ষয়কারী ব্রত সম্পর্কে জানতে চেয়েছিলেন, তখন তিনিও ঠিক একই কথা বলেছিলেন। এই ব্রতের প্রভাবে মানুষের সকল পাপ, দুঃখ ও মোহজাল অচিরেই বিনষ্ট হয় এবং এই কথা শ্রবণমাত্রই সমস্ত পাপ বিনষ্ট হয়। পবিত্র সরস্বতী নদীর তীরে ভদ্রাবতী নামে এক সুশোভনা নগরী ছিল। চন্দ্রবংশজাত ধৃতিমান নামে এক রাজা সেখানে রাজত্ব করতেন আর সেই নগরীতেই ধনপাল নামে বিষ্ণুভক্তিপরায়ণ ও শান্ত প্রকৃতির এক সমৃদ্ধশালী বৈশ্য বাস করতেন, যিনি নলকূপ, জলাশয়, উদ্যান, মঠ ও গৃহ ইত্যাদি নির্মাণ করে দিতেন। সুমনা, দ্যুতিমান, মেধাবী, সুকৃতি ও ধৃষ্টবুদ্ধি নামে তার পাঁচজন পুত্র ছিল। পঞ্চম পুত্র ধৃষ্টবুদ্ধি ছিল পরস্ত্রী সঙ্গী, বেশ্যাসক্ত, লম্পট ও দ্যুতক্রীড়া প্রভৃতি পাপে অত্যন্ত আসক্ত, দেবতা, ব্রাহ্মণ ও পিতামাতার প্রতি শ্রদ্ধাহীন, দুষ্টস্বভাব ও পিতৃধন ক্ষয়কারক, সবসময় অভক্ষ্য ভক্ষণকারী ও সুরাপানে মত্ত।
পিতা ধনপাল একদিন পথ চলার সময় হঠাৎ দেখলেন ধৃষ্টবুদ্ধি এক বেশ্যার গলায় হাত রেখে নিঃসঙ্কোচে ঘুরে বেড়াচ্ছে। তার নির্লজ্জ পুত্রকে এভাবে চৌরাস্তায় ভ্রমণ করতে দেখে তিনি অত্যন্ত মর্মাহত ও ক্রুদ্ধ হয়ে তাকে গৃহ থেকে বার করে দিলেন। তার আত্মীয়-স্বজনও তাকে পরিত্যাগ করল। সে তখন নিজের অলংকারাদি বিক্রি করে জীবন অতিবাহিত করত। কিছুদিন এইভাবে চলার পর অর্থাভাব দেখা দিল। ধনহীন দেখে সেই বেশ্যাগণও তাকে পরিত্যাগ করল।
অন্নবস্ত্রহীন ধৃষ্টবুদ্ধি ক্ষুধা-তৃষ্ণায় অত্যন্ত কাতর হয়ে পড়ল। অবশেষে নিজের গ্রামে সে চুরি করতে শুরু করলে একদিন রাজপ্রহরী তাকে বন্দী করেও তার পিতার সম্মানার্থে তাকে মুক্ত করে দিল। এভাবে বারকয়েক সে ধরা পড়ে ছাড়া পেয়েও সে চুরি করা বন্ধ না করলে রাজা তাকে কারাগারে আবদ্ধ করে রাখলেন। কারাভোগের পর ধৃষ্টবুদ্ধি বনে প্রবেশ করল। সেখানে সে পশুপাখি বধ করে তাদের মাংস ভক্ষণ করে অতি দুঃখে পাপময় জীবনযাপন করতে লাগল ও দিবারাত্রি দু:খশোকে জর্জরিত হয়ে অনেকদিন অতিবাহিত করল। কোন পুণ্যফলে সহসা একদিন সে কৌণ্ডিন্য ঋষির আশ্রমে উপস্থিত হল। বৈশাখ মাসে ঋষিবর গঙ্গাস্নান করে আশ্রমের দিকে প্রত্যাবর্তন করছিলেন। শোকাকুল ধৃষ্টবুদ্ধি তার সম্মুখে উপস্থিত হলে ঘটনাক্রমে ঋষির বস্ত্র হতে একবিন্দু জল তার গায়ে পড়ে ও সেই জলস্পর্শে তার সমস্ত পাপ দূর হয়ে শুভবুদ্ধির উদয় হল।
ঋষির কাছে করজোড়ে সে তার দুঃখপূর্ণ অবস্থা থেকে মুক্তিলাভের উপায় জিজ্ঞেস করলে ঋষিবর তাকে বৈশাখ মাসের শুক্লপক্ষের মোহিনী একাদশী পালন করতে বলেন, যার প্রভাবে পর্বতসম পাপরাশিও ক্ষয় হয়। কৌণ্ডিন্য ঋষির উপদেশে প্রসন্নচিত্তে ধৃষ্টবুদ্ধি সেই ব্রত পালন করে নিষ্পাপ হয়ে দিব্যদেহ লাভ করল ও গরুড়ে আরোহণ করে সকল প্রকার উপদ্রবহীন অবস্থায় বৈকুণ্ঠধামে গমন করল। ত্রিলোকে মোহিনী ব্রতই শ্রেষ্ঠ ব্রত। যজ্ঞ, তীর্থভ্রমণ, দান ইত্যাদি কোন পুণ্যকর্মই এই ব্রতের সমান নয়। এই ব্রত কথার শ্রবণ কীর্তনে সহস্র গোদানের ফল লাভ হয়।

Address

Sylhet

Website

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when Gaura Chandra's posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Shortcuts

Share

Category