22/05/2025
এই ছবিটা দেখে কি মনে হচ্ছে ?
এই মেয়েকে বাসায় দীর্ঘ ছয় মাস আটকে রেখে ধর*ষণ করা হয়েছে ?
ঘটনা শুরু থেকে শেষ অবধি পড়ে ও তাদের ভাবভঙ্গি দেইখা এজাম্পশন করা যায় , এরা লিভ টুগেদার করছিলো।
নোবেল মাদকাসক্ত ছিলো । মাথা হিজবিজবিজ হয়ে গেলে নির্যাতন করতো । শেষমেষ মেয়ে সে সব আর সহ্য করতে পারে নি । পালিয়ে আসতে চাইলো ।
তার কপাল ভালো — বেঁচে ফিরতে পেরেছে । এই মেয়ে নোবেলের হাতে খু*ন হলেও অবাক হওয়ার মতো কিছু ছিলো না।
আমরা যখন কলেজে পড়ি , রেডিওতে একটা অনুষ্ঠান শুনতাম রাতে।
"যাহা বলিবো সত্য বলিবো...... " — কোন এফএম এর অনুষ্ঠান তা মনে নেই । একটা ঘটনা মনে আছে ।
একটা ছেলে নেশার টাকা না পেয়ে পেছন থেকে কোদাল দিয়ে মায়ের মাথায় অথবা পিঠে আঘাত করছিলো । ঐ আঘাতের পর তার মা সম্ভবত মারা যায়।
ছেলেটা যখন এফএমে এই ঘটনা বর্ণনা করছিলো সে তখন হু হু করে কাঁদছিলো । সামহাউ তার বোধ ফিরে এসেছিলো ।
এই ঘটনা কেনো বর্ণনা করলাম ?
এটা বোঝানোর জন্য যে — একজন মাদকাসক্ত মানুষের আসলে এইটুকু বোধও থাকে না , দুনিয়ার কোনটা ভালো — কোনটা খারাপ ।
এরা যতো সহজে একটা মানুষের জীবন নিয়া নেয়, আপনি ততো সহজে একটা মুরগীর জীবনও নিতে পারবেন না ।
নোবেল রিহ্যাবে ছিলো । নোবেল মাদকাসক্ত ।
নোবেল মাইয়াবাজি করে । নোবেলের বউ আছে ।
এই খবর এই মেয়েটা জানতো না?
জানতো ৷ তাও সে নোবেলকেই চয়েজ করেছে ।
জগতে এক ধরনের অদ্ভুত মাইয়া মানুষ আছে যারা—
সুগার ড্যাডির গলা জড়াইয়া ধইরা আহ্লাদ কইরা বলবে , আমি তোমারে ভালোবাসি , তোমার টাকা পয়সারে না ।
নেশাখোর ক্ষমতাধর নেতার বিছানায় থেকে ফিরে আসার সময় বলবে , আমি তোমার সাহসিকতারে ভালোবাসি, তোমার ক্ষমতারে না।
কেনো এই ভন্ডামি?
জাস্ট টু এনজয় এ স্মল মোমেন্ট অফ লাইফ?
এরা আসলে জীবনটাকে এনজয় করতে চায় ভিন্ন ওয়েতে। এরা সবসময় লাইমলাইটে রাখতে চায় নিজেরে, নিজের জীবনরে — হুইচ ওয়ে, ইট টোটালি ডাজনট ম্যাটার ।
পরিবারের শাসনকে এরা তুচ্ছজ্ঞান করে । ধর্মকে এরা গোঁড়ামি ভাবে । নৈতিকতাকে এরা হ*ত্যা করে প্রজন্মের দোহাই দিয়ে—" এই যুগে এসব হয়-ই...
শৃঙ্খলাকে খাঁচার বন্দী টিয়া মনে করে । বেপরোয়া জীবনকে মনে করে প্রিয় স্বাধীনতা ।
বসুন্ধরা গ্রুপের এমডি আনভীর সোবহান ও মুনিয়া কান্ডের কথা মনে আছে ?
মুনিয়া কলেজ ছাত্রী , থাকতো গুলশানে লাখ টাকার ফ্ল্যাট বাসায় । দু'হাতে টাকা উড়াইতো ।
শেষমেষ "লোভে পাপ, পাপে মৃত্যু... এই প্রবাদকে সত্য বানিয়েই মৃত্যু ধরা দিছিলো মুনিয়ার জীবনে ।
এই মেয়েদের ভুলের জীবনটাও আসলে মাদকের এই সুখের মতো ক্ষণস্থায়ী ।
মদ , ইয়াবা , কোকেইন সব ধরনের মাদকেই এমন রাসায়নিক পদার্থ থাকে, যা শুরুতে ডোপামিন নিঃসরণ কইরা আনন্দ দেয় । পরে ধীরে ধীরে মাদকাসক্তকে নিয়ন্ত্রণহীন ও বিষণ্ণ কইরা ফেলে ।
" My Life , my rules , my choice " এই স্লোগানরে নেগেটিভ পথে ব্যবহার করা মেয়েরাও একটা সময় জীবন, জীবনের রুলস আর চয়েজ কিছুই নিয়ন্ত্রণ করতে পারে না ।
শেষটা এতই বিস্বাদ হয় , শুরুর আনন্দের কথা আর কেউই মনে করতে চায় না ।
কেউ আইসা বইলেন না — আপনি নোবেলের বিপক্ষে না বইলা মেয়েটারে কেনো ব্লেইম করতেছেন?
আমি বলি— নোবেল গ্রেফতার হইছে । ও দোষী । ওর বিচার হবে । ও অলরেডি নিজের জীবন নষ্ট করছে ।
কিন্তু এই যে একটা জীবনরে এই ওয়েতে এনজয় করার প্রবণতা ছড়িয়ে , নিজের জীবন নষ্ট করে ,
তার পরিবাররে— সমাজের মোরাল এথিকসগুলারেও ফাঁসিয়ে দিয়ে যায় ,
is this the worth of her life?
প্রশ্নটা মাথার ভেতর আশ্চর্যবোধক চিহ্ন হয়ে ঘোরে ।