20/01/2026
আজ জামায়াতে ইসলামী ৬ টি ক্যাটাগরিতে তাদের পলিসি ঘোষণা করেছে। এর মধ্যে সবচেয়ে দারুণ প্রেজেন্টেশন ছিলো ফিন্যান্স ও ইকোনমি পলিসি।
> প্রথমে জামায়াত বলেছে তারা ট্যাক্স কমিয়ে দেবে, একইসাথে তারা প্রচুর উচ্চাকাঙ্ক্ষী খরচের প্ল্যান করছে। এটা যদিও প্যারাডক্সিক্যাল বা বিপরীতমূখী কথাবার্তা। পরে তারা এই ব্যাপারটা সমাধান করেছে।
> এরপর তারা দেখিয়েছে ভুল অর্থনৈতিক ব্যবস্থাপনা দেশকে ঋণ–ফাঁদে ফেলেছে। ভুল পরিকল্পনার সাথে ভয়াবহ দুর্নীতিকেও তারা দায়ি করেছে।
> যা প্ল্যান করেছে তারা
১. NID-ভিত্তিক Smart Card। এক কার্ডেই সব কাজ হবে এবং সব সেবা পাবে। এর মাধ্যমে মূলত দেশের সবাইকে ট্যাক্সের আওতায় নিয়ে আসা। যারা ট্যাক্সের জন্য এলিজিবল হবে তাদের থেকে ট্যাক্স নেওয়া। ট্যাক্স কমবে কিন্তু ট্যাক্স আদায়ের পরিমাণ অনেক বাড়বে।
২. সর্বোচ্চ আয়কর হার: ১৯% যা এখন আছে ৩০%। যেহেতু আয়করদাতার পরিমাণ অনেক বাড়বে তাই আয়করের পরিমাণ কমালেও সরকারের টোটাল বাড়বে।
৩. ভ্যাট সিলিং (বিভিন্ন পণ্য বা সেবা বিক্রির ওপর ধার্যকৃত কর) কমিয়ে ১০% করা হবে। যা এখন সাধারণভাবে ১৫% আছে।
৪. করমুক্ত আয়সীমা ৬ লক্ষ টাকা। অর্থাৎ কেউ যদি মাসে ৫০ হাজার টাকা বা তার চাইতে কম ইনকাম করে তবে তাকে আয়কর দিতে হবে না। বর্তমানে তা আছে ৩ লক্ষ ৭৫ হাজার টাকা। অর্থাৎ কেউ মাসে ৩১ হাজার টাকা আয় করলে আয়কর দিতে হয়।
৫. শিল্প সংযোগে (গ্যাস–বিদ্যুৎ–পানি) ৩ বছরের moratorium (সাময়িক ছাড়)
নতুন উদ্যোক্তাদের জন্য এটা দারুণ বিষয়। নতুন উদ্যোক্তা যারা সরকারের কাছ থেকে গ্যাস, বিদ্যুৎ ও পানির সংযোগ নিবে তাদের ৩ বছর ছাড় দেওয়া হবে। যখন ভালোভাবে ব্যবসা রান করবে তখন তারা এই চার্জগুলো পেমেন্ট করবে। উদ্যোক্তা ও ব্যবসা বাড়লে ট্যাক্স আদায়ের পরিমাণ বাড়বে বহুগুণ।
এই ৫ পলিসির উদ্দেশ্য ট্যাক্স আদায় বৃদ্ধি করা।
> জনসাধারণের জন্য উচ্চাকাঙ্ক্ষী খরচের প্ল্যান
১. নারীদের উচ্চশিক্ষা বিনামূল্যে করে দেওয়া
২. স্পেসেফিক ফিল্ডে দক্ষতা বৃদ্ধি করার জন্য এলিজিবল ছাত্রদের স্কলারশিপ দেওয়া
৩. যারা ভালো স্টুডেন্ট কিন্তু আর্থিক সাহায্য দরকার এমন ছাত্রদের জন্য বিনাসুদে ঋণের ব্যবস্থা করা। ১ম বছর থেকে প্রায় ১০ হাজার ছাত্র এই সুবিধা পাবে। এই ঋণ তারা চাকুরি পাওয়ার পর পরিশোধ করবে।
৪. ৬০ বছরের ঊর্ধ্বে ও ৫ বছরের নিচে শিশুদের জন্য ফ্রি চিকিৎসা
৫. গর্ভাবস্থা ও শিশুর জন্মের পর ১ বছর পর্যন্ত ফ্রি প্রাইমারি হেলথ কেয়ার।
৬. শিক্ষা অবকাঠামো পুনর্গঠন করা হবে
৭. সারাদেশে ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেট নিশ্চিত করা হবে।
৮. সকল সরকারি সেবা অনলাইনে নিয়ে আসার ব্যবস্থা করা হবে।
৯. ৬৪টি আধুনিক বিশেষায়িত হাসপাতাল করা হবে।
১০. এসবে খরচ হতে পারে ২,২৩,৭৫০ কোটি টাকা।
১১. ট্যাক্স আদায় হতে পারে ২,২১,০০০ – ৩,১৬,০০০ কোটি টাকা।
> এই ট্যাক্স আদায়ের জন্য আরো ৫ টি কাজ জামায়াত করবে
১. Tax loophole বন্ধ ও দুর্নীতি কমানো হবে,
২. বাংলাদেশে ট্যাক্স অ্যাডমিনিস্ট্রেশন বা কর প্রশাসনের দক্ষতা (Efficiency) বৃদ্ধি করা হবে
৩. অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি বাড়াবে
৪. দেশের Debt Restructuring (ঋণ পুনর্গঠন) করা হবে।
৫. রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠানের দক্ষতা বৃদ্ধি করা হবে।
৬. রাষ্ট্রীয় সেবাখাতগুলো লাভজনক করা হবে। (যেমন বন্দর, রেল, এয়ারপোর্ট ইত্যাদি)